BHRC By-lawsBHRC Press ReleaseBHRC By-lawsBHRC ConferenceIHRCIRD ActivitiesLegal StatusBHRC BoardBHRC BranchesElection Monitoring Acid and Trauma VictimsBHRC BrochureBHRC Forms

ContactHOME

 

 

Cover August 2020

English Part August 2020

1Top

 

Bangla Part

         নারী ও শিশু সংবাদ        পুলিশ ও কারাগার সংবাদ

স্বাস্থ্য সংবাদ          আইন কনিকা

 

বিবিধ সংবাদ

 

                                 


বন্যা দীর্ঘ হলে তা মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকুন: প্রধানমন্ত্রী

 

 

মানবাধিকার রিপোর্টঃ
 

দেশের বন্যা দীর্ঘ হলে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার জন্য দলীয় নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। রোববার বিকেলে ধানমন্ডির আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকদের সমন্বয় সভায় ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী এই নির্দেশ দেন। দেশের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে জরুরি এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে গণভবন থেকে জাহাঙ্গীর কবির নানকের মোবাইল ফোনে ভিডিও কলে যুক্ত হন শেখ হাসিনা।
শেখ হাসিনা বলেন, এবারের বন্যা সম্ভবত দীর্ঘ হতে পারে। ১৯৯৮ সালের বন্যা দীর্ঘস্থায়ী ৬৯ দিন ছিল, অন্যদিকে ১৯৮৮ সালের বন্যা ছিল দুই সপ্তাহ।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, এবারের বন্যা যদি ১৯৯৮ সালের মতো দীর্ঘ হয়, তবে আমাদের কী করণীয়, সে ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে হবে।
শেখ হাসিনা ১৯৯৮ সালে বন্যা মোকাবিলার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, ওই সময় অনেকেই বলেছিল যে দুই কোটি মানুষ না খেয়ে মারা যাবে। আমরা ব্যবস্থা নিয়েছিলাম। আল্লাহর রহমতে কোনো মানুষ না খেয়ে মারা যায়নি। তিনি অতীতে বন্যার সময় দুর্যোগকবলিত এলাকায় কীভাবে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, সে বিষয়েও স্মৃতিচারণা করেন। এ সময় তিনি নিজ হাতে রুটি বানানোর কথা, খাবার বিতরণের কথা, খাবার পানি, স্যালাইন তৈরিসহ ওষুধ বিতরণের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন।
শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি ও ব্যবস্থা যথেষ্ট রয়েছে। তারপরও আমাদের সেভাবেই তৈরি থাকতে হবে। তিনি আরও বলেন, যেসব এলাকায় বন্যা, সেসব এলাকার স্থানীয় সংগঠনগুলোকে সক্রিয় করে বন্যার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দিতে হবে। এদিকে আবার করোনাভাইরাস, এটা নিয়েও সতর্ক থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বন্যার্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। আমাদের সকলকে কাজ করতে হবে।


 সব দেশের জনসংখ্যা বাড়লেও কমছে পর্তুগালে

মানবাধিকার রিপোর্টঃ
১১ জুলাই বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস। প্রতিবছর আন্তর্জাতিক জনসংখ্যা দিবস পালন করা হয় মূলত একটি জনসচেতনতা হিসেবে। প্রজনন স্বাস্থ্য তথা পৃথিবীর জন্য একটি ভারসাম্যপূর্ণ যোগ্য জনসংখ্যা তৈরি করা।
পৃথিবীর মোট জনসংখ্যা যেখানে ৭৮০ কোটি। ইউরোপের অন্যতম দেশ পর্তুগাল ২০০৯ সাল থেকে খেয়াল করলে দেখা যাবে প্রতিবছরই জনসংখ্যা কমতির দিকে। তবে কিছুটা ব্যতিক্রম দেখা গেছে ২০১৯ সালে।
৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত পর্তুগালের মোট জনসংখ্যা ১,০২,৯৫,৯০৯ জন, যা গত বছরের তুলনায় ১৯,২৯২ জন বেশি। শতকরা হিসেবে শূন্য দশমিক ১৯ শতাংশ। তবে ২০০৯ সাল থেকে -২.৬২ শতাংশ কম। তবে পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার সঙ্গে তুলনা করলে ৭৮০ ভাগের প্রায় এক ভাগ।
২০১৯ সালে সর্বমোট জনসংখ্যা ৮৬ হাজার ৫৭৯ এবং মৃত্যুর সংখ্যা ১ লক্ষ ১১ হাজার ৭৯৩ এবং নীট প্রবাসী ৪৪ হাজার ৫০৬ জন। তবে যদি প্রবাসীদেরকে বাদ দেওয়া হয় তাহলে গত বছরের তুলনায় ২৫ হাজার ২১৪ জন কম শতকরা হিসেবে -০.২৫ শতাংশ কম।
এখানে পুরুষের তুলনায় মহিলাদের সংখ্যা বেশি। ২০১৯ সালের জনসংখ্যা অনুযায়ী ৪৮,৫৯,৯৭৭ জন পুরুষ এবং ৫৪,৩৫,৯৩২ জন মহিলা। আনুপাতিক হারে ৮৯.৪ পুরুষ এর বিপরীতে ১০০ জন মহিলা। অথচ ২০০৯ সালে যা ছিল পুরুষ ৯১.৯ অনুপাত মহিলা ১০০ জন। পুরুষের মৃত্যুর হার বেশি এবং জন্মহার কম হওয়ায় এ পার্থক্য দেখা যাচ্ছে।
দেশের মোট জনসংখ্যার ৩৪ দশমিক ৭৪ শতাংশ (৩৫,৭৫,৩৩৮) নর্থ এরিয়াতে, ২৭ দশমিক ৮ শতাংশ (২৮,৬৩,২৭২) লিসবন মেট্রোপলিটন এরিয়াতে এবং ২১ দশমিক ৫ শতাংশ (২২,১৭,২৮৫) দেশের মধ্যাঞ্চলে বসবাস করে।
মোট গড় আয়ু ৮০.৯৩ বছর তবে কিছু ক্ষেত্রে পুরুষের গড় আয়ু ৭৭.৯৫ বছর এবং মহিলাদের গড় আয়ু ৮৩.৫১ বছর। তবে মোট জনগোষ্ঠীর ২১ শতাংশ ১৫ বছরের কম বয়সী।
সার্বিক বিচারে ২০০৯ সাল থেকে পর্তুগালের জনসংখ্যা সামান্য কম-বেশির মধ্য দিয়ে স্থির হয়ে আছে বলা যায়। তাদের এই জনসংখ্যার ঘাটতি পূরণের জন্য ইউরোপের দেশ হওয়া সত্ত্বেও মাইগ্রেশন প্রক্রিয়া সহজতর করা হয়েছে।
 

BHRC মুগদা থানা শাখা করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত দরিদ্রদের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ
 


মানবাধিকার রিপোর্ট
১১ জুলাই ২০২০ বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন-BHRC মুগদা থানার উদ্যোগে সমাজের অসহায় দরিদ্র জনগণের পাশে থেকে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
স্থান ৬ ও ৭২ ওয়ার্ড উত্তর মুগদা খালপার ও সুখনগর খাদ্য সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানের উদ্ভোধন করেন ও প্রধান অতিথি ছিলেন জনাব গোলাম কিবরিয়া খান রাজা, BHRC মুগদা থানার প্রধান পৃষ্ঠপোষক গোলাম কিবরিয়া খান রাজা।
বিশেষ অতিথি ছিলেন জনাব সৈয়দ আজমুল হক,ডেপুটি গভর্ণর BHRC সদর দপ্তর। মুগদা থানার সভাপতি ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ এর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ নাসির উদ্দিন সরকার এর সঞ্চলনায় আরো উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক মোঃ মাহাবুব আলম রিজন, সিনিয়র সহ সভাপতি মোঃ জাকির হো সেন, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ হাফিজুর রহমান,যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ আকরাম মজুমদার জুয়েল, সহ সাধারণ সম্পাদক মোঃ রবিউল ইসলাম রবি ও দপ্তর সম্পাদক আরফান সরকার সহ আরো অনেকে। খাদ্যসামগ্রী বিতরণ কর্মসূচী সফলভাবে সম্পূর্ণ করার জন্য সংগঠনের সকলকে ধন্যবাদ জানান গোলাম কিবরিয়া খান রাজা।
সৈয়দ আজমুল হক ইঐজঈ মুগদা থানার কার্যক্রম সময় উপযোগী প্রশংসনীয় উদ্যোগ বলেন।
মোঃ নাসির উদ্দিন সরকার সফলভাবে সম্পূর্ণ কার্যক্রম সম্পূর্ণ করতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করেন পাশাপাশি সংগঠনের সকল নেতাদের ধন্যবাদ জানান।

 

  সিঙ্গাপুরের ক্ষমতায় আবারও লি পরিবার
    


মানবাধিকার রিপোর্ট
সিঙ্গাপুরের জাতীয় নির্বাচনে আবারও নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেল ক্ষমতাসীন পিপলস অ্যাকশন পার্টি (পিএপি)। এ বিজয়ের মধ্য দিয়ে চতুর্থ বারের মতো রাষ্ট্র ক্ষমতায় এলেন দেশটির বর্তমান প্রধানমন্ত্রী লি সেইন লুং।
পিএপি ১৯৫৯ সাল থেকে প্রায় ৬০ বছর ধরে দেশটির রাজনীতিতে কর্তৃত্ব বজায় রেখে আসছে লি পরিবার। লি সেইন লুং-এর বাবা লি কিউয়ান ইয়ুকে বলা হয় সিঙ্গাপুরের জাতির জনক। দেশটির প্রথম প্রধানমন্ত্রীও ছিলেন তিনি।
১০ জুলাই ২০২০ অনুষ্ঠিত ১৩তম পার্লামেন্ট নির্বাচনে ক্ষমতাসীন পিএপি ৯৩টি আসন পেয়েছে। আসনের হিসেবে ৮৯ শতাংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। তবে দলটির পপুলার ভোট কমেছে ৬১ শতাংশ।
আর দেশটির একমাত্র বিরোধী দল ওয়ার্কার্স পার্টি (ডব্লিউপি) পেয়েছে ১০টি আসন। কম আসন পেলেও এটাকে ঐতিহাসিক অগ্রগতি বলছেন স্থানীয় রাজনীতিক বিশেষজ্ঞরা।
২০১৬ সালের নির্বাচনে দলটি ৬টি আসন পেয়েছিল। স্বাধীনতার পর দলটি এবারই সবচেয়ে বেশি আসনে জয় লাভ করল।
ভোটগণনা শেষে প্রধানমন্ত্রী লি সেইন লুং বলেন, আমরা নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছি। জনগণের সমর্থন পেয়েছি। যদিও পপুলার ভোটের শতাংশ খুব একটা বেশি না।
এর আগে করোনা পরিস্থিতির মধ্যেই দেশটির জনগণ উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে ভোট দিয়েছেন। কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে, ভোটাররা গ্লাভস ও মাস্ক পরে, নির্দিষ্ট করে দেয়া সময়ে ভোটের স্লটে ভোট দেন।
সন্ধ্যা পর্যন্তও বিভিন্ন কেন্দ্রের বাইরে ভোটারদের ভিড় ছিল। সে কারণে ভোট দেয়ার সময় দুই ঘণ্টা বাড়ানো হয়, যা দেশটির নির্বাচনের ইতিহাসে প্রথম ঘটল। রাত ১০টায় শেষ হয় ভোটগ্রহণ।

এই নির্বাচনকে সিঙ্গাপুরে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে সরকারের পদক্ষেপের বিষয়ে গণভোট হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল।
সংবাদ সম্মেলনে লি বলেন, আমি যেমনটি প্রত্যাশা করছিলাম তেমন শক্তিশালী ম্যান্ডেট পাইনি। তবে এটি ভালো ফল। এই ফল চলমান সংকটে সিঙ্গাপুরের মানুষের বেদনা ও অনিশ্চয়তার প্রকাশ।
আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্য অনুসারে, সিঙ্গাপুরে এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৪৫ হাজার ৬১৩ জন। দেশটিতে আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২৬ জনের এবং সুস্থ হয়েছেন ৪১ হাজার ৭৮০ জন।


 

 

চিংড়িতেও ধড়া পড়ল করোনা!


মানবাধিকার রিপোর্টঃ

হিমায়িত চিংড়িতে করোনা শনাক্তের পর ইকুয়েডরের তিনটি প্রতিষ্ঠান থেকে আমদানির ওপর সাময়িক স্থগিতাদেশ দিয়েছে চীন। দেশটি থেকে সম্প্রতি চালানে এসব চিংড়ি আসে। এরপরই এই ব্যবস্থা নেয় বেইজিং।
১০ জুলাই ২০২০ কাস্টমসের মহাপ্রশাসকের কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়েছে।
তিনটি কোম্পানির চালান থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এতে ছয়টিতে করোনাভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। তবে প্যাকেটে থাকা চিংড়িতে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই করোনা নেগেটিভ হয়ে গেছে।
ওইসব কোম্পানি থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
বিশ্লেষণের পর ওই তিনটি কোম্পানির কন্টেইনারের পরিবেশ ও বাইরের প্যাকেটজাত পণ্যে করোনার ঝুঁকি রয়েছে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, চীনে হিমায়িত খাদ্য আমদানি পণ্যে পরীক্ষা শুরুর ঘোষণার পর প্রথম করোনা পজিটিভের ঘটনা এটি।

 


 

 ঢাকায় ভারতীয় নতুন হাইকমিশনার হচ্ছেন বিক্রম দোরাইস্বামী

 

মানবাধিকার রিপোর্টঃ
ঢাকায় নতুন ভারতের হাইকমিশনার হচ্ছেন বিক্রম দোরাইস্বামী। তিনি বর্তমান হাইকমিশনার রীভা গাঙ্গুলি দাশের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন। তিনি সেপ্টেম্বরে দায়িত্ব নেবেন। ১১ জুলাই হিন্দুস্তান টাইমস এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
বিক্রম দোরাইস্বামী ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ভারতের পররাষ্ট্র ক্যাডারের ১৯৯২ ব্যাচের কর্মকর্তা।
এদিকে রীভা গাঙ্গুলি দাশ ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পূর্ব বিভাগের সচিব হিসেবে যোগ দেবেন।
গত বছর ১ মার্চ ঢাকায় আসেন রীভা গাঙ্গুলি দাশ। তার আগে ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা।
রীভা গাঙ্গুলি দাশ ঢাকায় আসার আগে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক সম্পর্ক কাউন্সিলের (আইসিসিআর) মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

 

করোনা: ভাইরাসের চেয়ে বেশি মানুষ

মারা যেতে পারে ক্ষুধায়


মানবাধিকার রিপোর্টঃ
করোনা ভাইরাস (কভিড-১৯) মহামারিতে চলতি বছর ভাইরাসের চেয়ে বেশি মানুষ মারা যেতে পারে ক্ষুধায়। ৯ জুলাই প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমনটা জানিয়েছে দাতব্য সংস্থা অক্সফাম। প্রতিবেদন অনুসারে, এই মহামারি বিশ্বের আনুমানিক ১২ কোটি ২০ লাখ অতিদরিদ্র মানুষকে তীব্র ক্ষুধা ও গভীর দরিদ্রতার মুখে ঠেলে দিতে পারে। এর ফলে প্রতিদিন মৃত্যু হতে পারে ১২ হাজার অতিরিক্ত মানুষের। এখন অবধি বিশ্বজুড়ে করোনায় একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর হার দেখা গেছে গত এপ্রিলে। সেসময় প্রতিদিন গড়ে ১০ হাজার মানুষ মারা গেছে। এ খবর দিয়েছে দ্য টেলিগ্রাফ।
খবরে বলা হয়, মহামারি ও লকডাউনের মাঝে বেড়েছে বেকাররত্বের হার, কমেছে আয়, বাধাগ্রস্ত হয়েছে খাদ্য উৎপাদন ও মানবিক সহায়তা। গত বছর ৮২ কোটি ১০ লাখ মানুষ খাদ্য অনিশ্চয়তায় ভুগেছে।
এর মধ্যে ১৪ কোটি ৯০ লাখ মানুষ চরম মাত্রার ক্ষুধার সংকটের সম্মুখীন ছিল।
 


করোনা এলাকায় বিতরণের লক্ষ্যে BHRC চট্টগ্রাম মহানগর (উত্তর) গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ বন্দর শাখার কাছে সুরক্ষা সামগ্রী হস্তান্তর


মানবাধিকার রিপোর্টঃ
গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ বন্দর থানা শাখার তত্ত্বাবধানে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত মৃত ব্যক্তির গোসল, দাফন-কাফন ও জানাযা সম্পন্নকারী কর্মীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ব্যবহারের জন্য পিপিই, সার্জিক্যাল মাস্ক, হ্যান্ড গ্লাভস প্রদান করেছে বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন চট্টগ্রাম মহানগর উত্তর। ৭ জুলাই ২০২০ সকালে বন্দর ৩নং ফকিরহাটে বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন চট্টগ্রাম মহানগর উত্তর এর সহ-সভাপতি লায়ন নবাব হেসেন মুন্নার নেতৃত্বে সংগঠনের একটি টিম গাউসিয়া কমিটি বন্দর থানা শাখাকে হস্তান্তর করেন। গাউসিয়া কমিটি বন্দর থানা শাখার পক্ষে সুরক্ষা সামগ্রী গ্রহণ করেন সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাজী মুহাম্মদ হাসান ও সহ-সভাপতি আলহাজ্ব জাহাঙ্গীর আলম রাজু। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন মানবাধিকার কমিশন চট্টগ্রাম মহানগর উত্তরের যুগ্ম সম্পাদক হাজী মোহাম্মদ বাবর আলী, আলমগীর বাদশাহ্, নির্বাহী সদস্য আল মুজিবুল বশর আরজু, মোঃ দিদারুল আলম, বন্দর থানা গাউসিয়া কমিটির ৩৮নং ওয়ার্ড সহ-সাধারণ সম্পাদক হাজী জোবের আলম, থানা সমাজসেবা সম্পাদক হাজী জাহেদ হোসেন, সাহিত্য ও সাংস্কৃতি সম্পাদক মোঃ কাইছার হামিদ বাপ্পি, ৩৬নং ওয়ার্ড সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ সাইফুল চৌধুরী জুভেল, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ নূর ফয়সাল রামী প্রমুখ।

 

অনেক বছর মার্কিনিদের মাস্ক পরতে হবে  

 

মানবাধিকার রিপোর্টঃ
করোনা ভাইরাস মহামারির কারণে মার্কিনিদের অনেক বছর মাস্ক পরতে হবে। এমন সতর্কতা দিয়েছেন জনস হপকিন্স সেন্টার ফর হেলথ সিকিউরিটির সিনিয়র বিশেষজ্ঞ এরিক টোনার। অনেক বছর ধরে করোনা ভাইরাসের মতো একটি প্রাদুর্ভাব ঘটবে বলে আশঙ্কা করছিলেন তিনি এবং সে মতো প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন। তাদের এই প্রস্তুতি ছিল প্রোটোকল বিষয়ক, জনস্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষজ্ঞদের সতর্ক করার লক্ষ্যে এবং নীতি নির্ধারকদের একটি মহামারি সম্পর্কে চিত্র ফুটিয়ে তোলার লক্ষ্যে। এমনই একটি উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল ২০১৯ সালের অক্টোবরে। তখন টোনার ও তার টিম নিউ ইয়র্কে করোনাভাইরাস মহামারি বিষয়ক একটি চিত্র তুলে ধরেন। এমন হুমকিতে কিভাবে বসবাসকারী, সরকারগুলো এবং বেসরকারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিক্রিয়া জানাবে তারও বিভিন্ন রকম দৃশ্যায়ন করা হয়েছিল। তার মধ্যে ভাইরাসের বিস্তার থেকে নিজেকে রক্ষা করার গুরুত্বপূর্ণ একটি উদ্যোগ ছিল মুখ ঢেকে রাখা বা মাস্ক পরা।
টোনার মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রাজ্য আস্তে আস্তে খুলে দেয়া হলেও করোনা ভাইরাসের বিস্তার কমবে না। তিনি বলেন, গ্রীষ্মে এই ভাইরাসের সংক্রমণ কমে যাবে বলে মনে করার কিছু নেই। শরতেই আবার বড় আকারে আঘাত করবে এই ভাইরাস। এটা পরিষ্কার যে গ্রীষ্মেই উল্লেখযোগ্য হারে এই ভাইরাসের বিস্তার ঘটবে। তা আরো বিকট হতে পারে। সব কিছু আবার লকডাউন না করা পর্যন্ত তা চলতেই থাকবে। জনস হপকিনস ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিনের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে করোনা ভাইরাসে মারা গেছেন কমপক্ষে এক লাখ ৩০ হাজার মানুষ। টোনার মনে করেন, মৌসুমী ইফ্লুয়েঞ্জার মতো নয় করোনা ভাইরাস। যতদিন এই ভাইরাসের টীকা না আসবে ততদিন নিজেদেরকে সুরক্ষিত রাখার উত্তম উপায় হলো সামাজিক দূরত্ব রক্ষা করা এবং মাস্ক পরা। তার মতে, এটা অনেক বছর ব্যবহার করতে হবে সুস্থভাবে বাঁচতে হলে। তিনি মনে করেন, দুজন মানুষ যখন সাক্ষাত করে তখন যদি তাদের মুখে মাস্ক থাকে তাহলে সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি অনেক কমে যায়। ওদিকে যুক্তরাষ্ট্রের করোনা বিষয়ক টাস্কফোসের শীর্ষ কর্মকর্তা এবং মহামারি বিশেষজ্ঞ ড. অ্যান্থনি ফসি আশা প্রকাশ করেছেন, আগামী বছরের মধ্যে করোনা ভাইরাসের টীকা চলে আসবে।

 

 
৩ কারণে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা


মানবাধিকার রিপোর্টঃ
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।
অনেক মানুষ মাস্ক পরতে তেমন আগ্রহ দেখান না। অথচ এই মাস্ক এ ভাইরাস থেকে আপনাকে সুরক্ষিত রাখবে।
সম্প্রতি বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, বাতাসে ভেসে থাকা ক্ষুদ্র কণার মাধ্যমে করোনাভাইরাস ছড়াতে পারে বলে স্বীকার করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। এ বিষয়ে নাকি প্রাথমিক প্রমাণও পেয়েছেন তারা।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক কর্মকর্তা বলছেন, মানুষের ভিড়, বন্ধ ঘর, যেখানে বাতাস চলাচলের ভালো ব্যবস্থা নেই, সেসব জায়গায় বাতাসের মাধ্যমে এই ভাইরাস সংক্রমণের আশঙ্কা রয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, বাতাসের মাধ্যমে এই ভাইরাস ছড়ানোর তথ্যপ্রমাণ এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে আছে। এ বিষয়ে আরও পর্যালোচনার প্রয়োজন বলেও মনে করছেন তারা।
গত বৃহস্পতিবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে জানানো হয়, জনসমাগমযুক্ত স্থানে বাতাসে লম্বা সময় ধরে থাকতে পারে এই ভাইরাস।
বিজ্ঞানীদের সাম্প্রতিক তথ্যানুসারে, এই ভাইরাস বাতাসের মাধ্যমে এবং করোনায় আক্রান্ত ও লক্ষণবিহীন মানুষের মাধ্যমে ছড়াবে সবচাইতে বেশি।
তাই লম্বা সময়ের জন্য মাস্ক পরে থাকা বিরক্তিকর হলেও সামগ্রিকভাবে মাস্ক পরা ভীষণ জরুরি।
সাম্প্রতিক সময়ের একটি গবেষণার পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, যেসব দেশে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক, সেসব দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা কম।
আরও দেখা গেছে, মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক নয় এমন দেশে করোনাভাইরাসে মৃত্যুর হার প্রতি সপ্তাহে ৪৩ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
অন্যদিকে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক এমন সব দেশে করোনায় মৃত্যুর হার সর্বোচ্চ বেড়েছে ২.৮ শতাংশ পর্যন্ত।
মাস্ক যেভাবে সংক্রমণ রোধ করবে
বিবিসির তথ্যানুসারে, অর্ধেক সংখ্যক মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন এমন মানুষের কাছ থেকেই, যাদের মাঝে করোনায় আক্রান্তের কোনো লক্ষণ দেখা যায় না।
তাই করোনায় আক্রান্ত হয়েও লক্ষণ প্রকাশ না পাওয়া ব্যক্তিদের বলা হচ্ছে অ্যাসিমটোম্যাটিক পিপল।
গবেষকরা বলছেন, এমন মানুষ আমাদের আশপাশেই রয়েছে। তাই নিজেকে সুস্থ রাখতে মাস্ক ব্যবহার আবশ্যক।


   করোনার ফলে এক কোটি শিশু আর স্কুলে ফিরবে না


মানবাধিকার রিপোর্টঃ
করোনার ফলে বিশ্বজুঁড়ে প্রায় ৯৭ লাখ শিশু আর কখনও স্কুলে ফিরবে না। বৃটেনভিত্তিক এনজিও সেভ দ্য চিকিড্রেনের সাম্প্রতিক রিপোর্ট তাই বলছে। করোনা পরিস্থিতি সামলাতে বিশ্বের গরিব দেশগুলি শিক্ষাখাতে খরচ কমাবে। সেই অর্থ খরচ করা হবে বাকি জায়গায়। তার ফলে প্রায় ৯৭ লাখ বাচ্চা আর কখনও স্কুলের মুখ দেখবে না। একইসঙ্গে নয় থেকে ১২ কোটি শিশুর পরিবার গরিব হবে। সেভ দ্য চিলড্রেনের মতে, শিক্ষাক্ষেত্রে অভূতপূর্ব জরুরি অবস্থা আসতে চলেছে। এ খবর দিয়েছে ডয়েচে ভেলে।
বাকি গরিব বা মাঝারি আয়ের দেশের অবস্থাও ভাল নয়। সংগঠনটির হিসেব অনুযায়ী, করোনার ফলে দেশগুলি শিক্ষাখাতে ৭ হাজার ৭০০ কোটি ডলার কাটছাঁট করবে। তার প্রভাব পড়বে প্রায় এক কোটি শিশুর ওপর। তাদের জীবন থেকে স্কুল হারিয়ে যাবে। যে ১২টি দেশের অবস্থা সব চেয়ে খারাপ, সেই তালিকায় আছে, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, নাইজার, নাইজেরিয়া, সেনেগাল, আইভরি কোস্ট, ইয়েমেন, গিনি, মরিটেনিয়া, লাইবেরিয়া, চাদ।
ইউনেস্কোর তথ্য উদ্ধৃত করে সংগঠনটি জানিয়েছে, গত এপ্রিলে মোট ১৬০ কোটি তরুণ-তরুণীর স্কুল, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের দরজা বন্ধ হয়ে সেছে। অর্থাৎ, প্রায় ৯০ শতাংশ ছাত্র-ছাত্রী করোনার ফলে প্রভাবিত হয়েছে। অনেক দেশে এটা সাময়িক বন্ধ হওয়া। করোনা পরিস্থিতি ভালো হলে তা আবার খুলবে। কিছু দেশে খুলতেও শুরু করেছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, মানুষের ইতিহাসে এই প্রথম বিশ্বজুড়ে শিশুদের পুরো প্রজন্মের শিক্ষা ব্যবস্থায় আঘাত লেসেছে। তাই সংগঠনের রিপোর্টের শিরোনাম হলো 'আমাদের শিক্ষা বাঁচাও'। রিপোর্ট বলছে, নয় থেকে ১১ কোটি ৭০ লাখ বাচ্চা আরও গরিব হয়ে যাবে। ফলে তারা আর স্কুলে থাকবে না। তারা বাধ্য হয়ে পরিবারকে সাহায্য করার জন্য কাজ করবে। দরিদ্র হয়ে যাওয়ার কারণে মেয়েদের তাড়াতাড়ি বিয়ে দিয়ে দেয়ার প্রবণতা বাড়বে। সেই পরিবারে শিশুদের পড়াশুনা করানোর ক্ষমতাও থাকবে না। ফলে প্রায় এক কোটি শিশু আর স্কুলের মুখ দেখবে না।
রিপোর্ট অনুসারে, ছেলেদের থেকে মেয়েদের অবস্থা আরও খারাপ হতে পারে। লিঙ্গ বৈষম্য বাড়বে। মেয়েদের শিশু অবস্থায় বিয়ে দেয়ার প্রবণতা বাড়বে। ফলে তারা বাধ্য হবে কম বয়সে গর্ভবতী হতে। এতে পূর্বেকার মতো মাতৃমৃত্যুহার বেড়ে যাবে। সেভ দ্য চিলড্রেনের রিপোর্টে বলা হয়েছে, এখন থেকে ২০২১-এর শেষ পর্যন্ত কম ও মাঝারি আয়ের দেশগুলি শিক্ষাখাতে সাত হাজার ৭০০ কোটি টাকা কমাবে।
 


সোলাইমানির হত্যাকাণ্ড বেআইনি ছিল: জাতিসংঘ

মানবাধিকার রিপোর্টঃ
ইরানের শীর্ষ জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে বেআইনিভাবে হত্যা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তার বিরুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের আনা অভিযোগের কোনো প্রমাণ মেলেনি। ৮ জুলাই ২০২০ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমনটা জানিয়েছেন জাতিসংঘের বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বিষয়ক বিশেষ র‌্যাপোর্টার অ্যাগনেস ক্যালামার্ড। এ খবর দিয়েছে আল-জাজিরা।
খবরে বলা হয়, চলতি বছরের শুরুতে, ৩রা জানুয়ারি ইরাকে এক ড্রোন হামলা চালিয়ে সোলাইমানিকে হত্যা করে মার্কিন বাহিনী। তিনি ইরানের রেভ্যুলুশনারি গার্ডস কর্পসের কুদস ফোর্সের প্রধান ছিলেন। ড্রোন হামলায় তার সঙ্গে ইরাকি মিলিশিয়া কমান্ডার আবু মাহদি আল-মুহান্দিসও মারা যান। সেসময় সোলাইমানিকে বিশ্বের শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন ট্রাম্প। বলেছিলেন, আরো আগেই তাকে হত্যা করা উচিত ছিল।
তবে মঙ্গলবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে ক্যালামার্ড উপসংহার টেনেছেন যে, এটি একটি বিধিবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ছিল। এতে জাতিসংঘের সনদ লঙ্ঘিত হয়েছে।
ক্যালামার্ড বলেন, আজ অবধি যুক্তরাষ্ট্র যে প্রমাণ সরবরাহ করেছে, তার আলোকে জেনারেল সোলাইমানি ও তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের মৃত্যু একটি বিধিবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের আওতায় এই হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী যুক্তরাষ্ট্র।
উল্লেখ্য, সোলাইমানির হত্যাকাণ্ডকে আত্মরক্ষা হিসেবে দাবি করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। অভিযোগ এনেছিল, ওই অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন বাহিনীর ওপর তাৎক্ষণিক হামলার পরিকল্পনা করছিলেন তিনি। তবে ক্যালামার্ড জানান, নিজেদের দাবির স্বপক্ষে এখন অবধি কোনো প্রমাণ সরবরাহ করেনি যুক্তরাষ্ট্র।
ক্যালামার্ড তার প্রতিবেদনে লিখেন, জেনারেল সোলাইমানি মার্কিন স্বার্থের বিরুদ্ধে, বিশেষ করে ইরাকে, তাৎক্ষণিকভাবে হামলার পরিকল্পনা করছিলেন এমন কোনো প্রমাণ সরবরাহ করা হয়নি। জাতিসংঘের বিশেষ র‌্যাপোর্টার তার প্রতিবেদনে লিখেন, মেজর জেনারেল সোলাইমানি সিরিয়া ও ইরাকে ইরানের সামরিক কৌশল ও কার্যক্রমের দায়িত্বে ছিলেন। কিন্তু তার কার্যক্রমে প্রাণনাশের তাৎক্ষণিক কোনো সত্যিকারের হুমকি না থাকায়, যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ বেআইনি ছিল।
প্রসঙ্গত, ক্যালামার্ডের প্রতিবেদনটি আজ বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের সামনে উপস্থাপনের কথা রয়েছে। ২০১৮ সালে এই পরিষদ থেকে বেরিয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্র।
 

মানুষের আয়ু বৃদ্ধির ওষুধ আবিষ্কার দাবি যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানীদের

মানবাধিকার রিপোর্টঃ
এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে জার্নাল অব জেরোনটোলজি : বায়োলজিক্যাল সায়েন্সেস শীর্ষক গবেষণা পত্রে। গবেষণা দলের প্রধান টাওয়ার ডেভিড স্টুয়ার্ট বলেন, ল্যাবরেটরিতে দুটি ভিন্ন ভিন্ন প্রজাতির জীবের আয়ু বাড়াতে সক্ষম হয়েছে মিফপ্রিস্টন নামে নতুন উদ্ভাবিত একটি ওষুধ। এই আবিষ্কার মানুষ ও অন্যান্য প্রজাতির প্রাণীর ক্ষেত্রে যুগান্তকারী সাফল্য আনতে পারে। কখনও ক্যান্সার নিরাময়ের কাজেও এই ওষুধ ব্যবহার করা হয়।
সায়েন্স ডেইলি যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ার ডর্নসাইফ কলেজ অব লেটারস, আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সেসের গবেষকরা এ বিষয়ক একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
টাওয়ার ও তার দল ল্যাবরেটরিতে দেখেছেন, স্ত্রী ড্রসফিলা মাছিকে মিফপ্রিস্টন নামে ওষুধটি খাওয়ানোর পর প্রজননে অংশ নেয়া স্ত্রী মাছির সেক্স পেপটাইড পদার্থটি নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়। এর ফলে মাছি আরও স্বাস্থ্যবান হয়ে ওঠে এবং অপেক্ষাকৃত দীর্ঘদিন বেঁচে থাকে।
বহু প্রাণীর ওপরই একই রকমের প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে মিফপ্রিস্টন। ফলে এবার মানব শরীর নিয়ে আশা করতে শুরু করেছেন বিজ্ঞানীরা। যদিও এখনও বহু গবেষণা বাকি রয়েছে।
যে দেশে নারীদের নাম বলতে মানা!
মানবাধিকার রিপোর্টঃ
বিশ্বে সম্ভবত আফগানিস্তানই একমাত্র দেশ যেখানে নারীরা নিজের নামটি পর্যন্ত কাউকে বলার স্বাধীনতা নেই।
এমনকি চিকিৎসকের কাছে গেলেও তাদের বলতে হয়- কবিরের (ছদ্ম নাম) মা, সাকিলের বোন বা জাফরের স্ত্রী।
এভাবেই দেশটিতে পুরুষ সদস্যদের পরিচয়ে নারীদের পরিচয় দিতে হয়। রাবেয়া নামে এক নারীর প্রেস্কিপশনে তার নাম দেখতে পেয়ে স্বামী তাকে নির্যাতন পর্যন্ত করেছেন।
আফগানিস্তানের নারীরা এবার নিজের নাম প্রকাশের অধিকার নিয়ে সোচ্চার হয়েছেন। আফগান নারী: আমার নাম কোথায়? - এই হ্যাশট্যাগে তারা আন্দোলন শুরু করেছেন।
রাবেয়া থাকেন পশ্চিম আফগানিস্তানে। অনেক জ্বর নিয়ে তিনি গেছেন চিকিৎকের কাছে।ডাক্তার তার কোভিড-১৯ শনাক্ত করেছেন।
রাবেয়ার অনেক জ্বর, সারা শরীরে ব্যথা। বাসায় ফিরে তার স্বামীর হাতে পেসক্রিপশনটা দিলেন, যাতে স্বামী তার জন্য ওষুধগুলো কিনে আনতে পারেন।
স্বামীর চোখে পড়াল প্রেসক্রিপশনে রাবেয়ার নাম লেখা। ক্রোধে উন্মাদ হয়ে গেলেন স্বামী।বাইরের 'একজন অপরিচিত পুরুষের কাছে' তার নাম প্রকাশ করার জন্য তাকে পেটাতে লাগলেন। আফগানিস্তানের সমাজে এটাই দস্তুর। 'বাইরের অপরিচিত' মানুষের কাছে মেয়েরা তাদের নাম গোপন রাখতে বাধ্য হন পরিবারের চাপে।এমনকি ডাক্তারের কাছেও নাম বলা যাবে না। কিন্তু এখন কিছু কিছু নারী এখন এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন।সমস্যার শুরু হয় একজন কন্যা সন্তানের জন্মের সময় থেকেই। বহু বছর পর্যন্ত তার কোন নামই থাকে না।তাকে নাম দিতেই গড়িয়ে যায় বছরের পর বছর। একটি মেয়ের যখন বিয়ে হয়, বিয়ের আমন্ত্রণপত্রে কোথাও তার নাম উল্লেখ করা হয় না। সে অসুস্থ হলে চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশনেও প্রায়শই তার নাম উল্লেখ করা হয় না।
সে যখন মারা যায়, তখন তার মৃত্যু সনদেও তার নাম লেখা হয় না। এমনকি কবরের স্মৃতিফলকেও সে নামহীনই থেকে যায়।
সে কারণেই আন্দোলনে নেমেছেন কিছু নারী। তারা চাইছেন তাদের নাম প্রকাশের স্বাধীনতা। তাদের আন্দোলনের নাম তারা দিয়েছেন 'হোয়্যার ইজ মাই নেম?' - আমার নাম কোথায়? সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং পোস্টারে এই হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করছেন আন্দোলনকারী নারীরা।
এসব ঘটনা অবাক করার মত, কিন্তু এটাই আফগানিস্তানে নারীদের স্বাভাবিক চিত্র। মেয়েরা তাদের নিজেদের নাম ব্যবহার করলে সমাজ তাকে ভ্রূকুটি করে। এমনকি আফগানিস্তানের অনেক জায়গায় মেয়েদের নাম ব্যবহার করাকে পরিবারের জন্য অপমানজনক মনে করা হয়। বহু আফগান পুরুষ তাদের বোন, স্ত্রী বা মায়ের নাম প্রকাশ্যে উচ্চারণ করেন না, কারণ বাইরে তাদের নাম বলা লজ্জার এবং অসম্মানজনক।
নারীদের সাধারণত পরিচয় দেয়া হয় পরিবারের সবচেয়ে বয়স্ক পুরুষের সাথে তার সম্পর্কের সূত্র ধরে - যেমন অমুকের মা, অমুকের বোন বা অমুকের মেয়ে। আফগান আইন অনুযায়ী শিশুর জন্ম সনদে শুধু বাবার নাম নথিভূক্ত করার বিধান আছে।
 

 

৮০ বছরে বাংলাদেশের জনসংখ্যা অর্ধেক কমে যাবে!


মানবাধিকার রিপোর্টঃ
আগামী ৮০ বছরে বাংলাদেশের জনসংখ্যা অর্ধেক কমে যাবে। অর্থাৎ ২১০০ সালে এ দেশের জনসংখ্যা ৮ কোটি ১৩ লাখে নেমে আসবে। আর ২০৩০ সালের মধ্যে জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হলে এই সংখ্যা আরও কমে ৭ কোটি ৪১ লাখে গিয়ে দাঁড়াবে।
১৫ জুলাই দ্য ল্যানসেট সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২১০০ সালের মধ্যে বিশ্বের জনসংখ্যা ৮৮০ কোটিতে পৌঁছাবে। অবশ্য জাতিসংঘের পূর্বানুমানের চেয়ে এই সংখ্যা ২০০ কোটি কম। জন্মহার হ্রাস এবং প্রবীণদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশ্বে ক্ষমতার নতুন মেরুকরণ ঘটবে। ওই গবেষণায় প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, ২০১৭ সালে বাংলাদেশের জনসংখ্যা ছিল ১৫ কোটি ৬৯ লাখ। ২১০০ সালে এই সংখ্যা কমে ৮ কোটি ১৩ লাখে পৌঁছাতে পারে। অবশ্য ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করলে তা আরও কমে হবে ৭ কোটি ৪১ লাখ। ২০৩৯ সালে বাংলাদেশের জনসংখ্যা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। ওই সময় মোট জনসংখ্যা হতে পারে প্রায় ১৭ কোটি ৩৪ লাখ। তালিকায় ৮০ বছরে জন্ম হার প্রায় অর্ধেক কমার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালে বাংলাদেশে জন্মহার ছিল প্রায় ২ শতাংশ। ২১০০ সালে এটি হতে পারে ১ দশমিক ১৯ শতাংশ। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রাগুলো অর্জন হলে তা আরও কমে ১ দশমিক ১৭ শতাংশ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।


 

যে ১২ দেশ এখনও করোনামুক্ত


মানবাধিকার রিপোর্টঃ
পুরো বিশ্বে যখন করোনার কালো ছায়া ছেয়ে গেছে। তখন এর ছোবল থেকে মুক্ত রয়েছে অন্তত ১২টি দেশ। এখন পর্যন্ত প্রশান্ত মহাসাগরের দ্বীপঘেরা ১২টি দেশে পৌঁছাতে পারেনি করোনা। এপ্রিলের ১৩ তারিখ পর্যন্ত এ তালিকায় ছিল ১৬টি দেশ। তার মধ্যে চারটি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে করোনাভাইরাস।
১৭ জুলাই পর্যন্ত সরকারি বা বেসরকারিভাবে সংক্রমণের কোনো খবর পাওয়া যায়নি এসব দেশে। দেশগুলোর বেশির ভাগই ওশেনিয়া মহাদেশে অবস্থিত।
করোনা ছুঁতে পারেনি যে দেশগুলোকে তা হল- উত্তর কোরিয়া, তুর্কমেনিস্তান, সলোমান আইল্যান্ড, ভানুয়াতু, সামোয়া, কিরিবাতি, মাইক্রোনেশিয়া, টোঙ্গা, মার্শাল আইল্যান্ড, পালাউ, ট্যুভালু ও নাউরু। করোনামুক্ত রয়েছে ভারতের লাক্ষাদ্বীপও। ৩৬টি দ্বীপ ও ৭০ লাখ বাসিন্দা নিয়ে গঠিত আরব সাগরের এই দ্বীপপুঞ্জটিতে আজও পর্যন্ত একজনও শনাক্ত হয়নি। বিশ্বে দুই শতাধিক দেশ ও আন্তর্জাতিক অঞ্চল রয়েছে। এর মধ্যে জাতিসংঘ স্বীকৃত দেশ ১৯৩টি। ডব্লিউএইচওর তথ্য মতে, ছয় মাসে ভাইরাসটি ১৮৮টি দেশে হানা দিয়েছে। সবশেষ করোনা ছড়িয়ে পড়া দেশের তালিকায় রয়েছে। কমোরস, লেসোথো, সাও টোমে অ্যান্ড প্রিন্সিপে ও তাজিকিস্তান। তবে অদূরভবিষ্যতে বাকি দেশগুলোতেও সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকেই।
 



Top

 বিচার পাওয়া নাগরিক অধিকার
 

মানবাধিকার রিপোর্টঃ
অপরাধ যেখানেই হোক আর যে দেশেই হোক, মানুষ যেন বিচার প্রক্রিয়ার আশ্রয় নিতে পারে সেই ধারণাকে প্রতিষ্ঠিত করতে পালন করা হয় আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার দিবস।
১৭ জুলাই আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার দিবস। মানবতাবিরোধী অপরাধসহ যে কোনো ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে এবং ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে দেশে দেশে দিবসটি পালিত হচ্ছে। একটি স্বাধীন দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হওয়া জরুরি।
দেশের প্রত্যেক মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়া তার নাগরিক অধিকার। এ অধিকার নিশ্চিত করাই এ দিবস পালনের উদ্দেশ্য।
বিশ্বের নানা স্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধগুলোকে যেন বিচার প্রক্রিয়ার সম্মুখীন করা যায় সে জন্য প্রতিষ্ঠা করা হয় আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালত। ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠা পাওয়া এই বিশেষ আদালতটির সদর দফতর নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগ শহরে।
তবে যে কোনো দেশেই এই আদালতের বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে পারে। বিশ্বব্যাপী সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধগুলোর বিচার প্রক্রিয়া সুনিশ্চিত করতে অনেক দেশেই বিচ্ছিন্নভাবে নানা আন্দোলন হয়েছে।
তবে এ ধরনের বিচার প্রক্রিয়ার আন্তর্জাতিক কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা মোটেই সহজ ছিল না। এর ধারণা আর প্রেক্ষাপটও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরপরই আন্দোলনের রূপ নিয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত এ রকম একটি আদালত প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়েছে।
১৯৪৮ সালে জাতিসংঘের জেনোসাইড কনভেনশন স্বাক্ষরিত হয়। ফলে পরবর্তী সময়ে নুরেমবার্গ ও টোকিওতে সংঘটিত হওয়া অপরাধের বিচারকাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়। এসব ঐতিহাসিক ঘটনা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ন্যায়বিচার পাওয়ার গুরুত্ব বাড়িয়ে দেয়। গণমানুষের প্রত্যাশাকে আশার আলো দেখিয়ে দিতে সাহায্য করে।
এসব ঘটনা ও সাফল্য রোম সংবিধির মতো চুক্তি প্রতিষ্ঠার পটভূমি তৈরিতে সাহায্য করে। শুরুতে ১২০টি দেশ ভোটের মাধ্যমে রোম সংবিধি অনুমোদন করে। প্রক্রিয়ার বেশ কয়েকটি দেশ এই চুক্তির সঙ্গে একাত্ম হয়েছে। তার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। ১৯৯৯ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ রোম সংবিধির সঙ্গে একাত্ম হয়। এই চুক্তি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী।
কারণ রোম সংবিধির ওপর ভিত্তি করেই আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালত প্রতিষ্ঠিত হয়। একাত্তরের গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধগুলোর চলমান বিচার প্রক্রিয়া এই চুক্তির সঙ্গে সম্পর্কিত।
বাংলাদেশের মুক্তযুদ্ধ চলাকালে সংঘটিত আন্তর্জাতিক অপরাধগুলোর বিচারের জন্য গঠিত হয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। যুদ্ধাপরাধ, গণহত্যা, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ এবং শান্তির বিরুদ্ধে অপরাধের বিচার করা এর উদ্দেশ্য। স্বাধীনতা লাভের ৩৯ বছর পর যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্তদের বিচারের জন্য ২০১০ সালে ২৫ মার্চ ট্রাইব্যুনাল আইনজীবী প্যানেল এবং তদন্ত সংস্থা গঠন করা হয়। এর আওতায় ইতোমধ্যে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধে যারা অপরাধ সংঘটনের মাধ্যমে দেশের অপূরণীয় ক্ষতি করেছে, তাদের বিচার করে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করেছে বাংলাদেশ।
ন্যায়বিচারের একটা বড় উদাহরণ বাংলাদেশ-মিয়ানমার এবং বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে সমুদ্রসীমা বিরোধের নিষ্পত্তি। দ্য হেগের সালিশি আদালতের রায়ের মাধ্যমে মিয়ানমার ও ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা নির্ধারিত হয়। এই রায়ে বাংলাদেশ ন্যায্য প্রাপ্য বুঝে পায়।
সুব্রত বিশ্বাস : কাউন্সিলর, ট্রান্সফিউশন মেডিসিন বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়

 

Top

গার্মেন্টেসের সুদিন আবার ফিরছে


মানবাধিকার রিপোর্টঃ
দেশের তৈরি পোশাক খাতে আবারও সুসংবাদ। গত মার্চ-এপ্রিলে বাতিল ও স্থগিত হওয়া রপ্তানি আদেশের ৮০ শতাংশই আবার ফিরে এসেছে। বিদেশি ক্রেতারা রপ্তানি আদেশ দিচ্ছেন। একইসঙ্গে বকেয়া পরিশোধেও এগিয়ে আসছেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, এর ফলে করোনাভাইরাস মহামারীর ধাক্কা কাটিয়ে আবার ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে দেশের তৈরি পোশাক খাত। এ প্রসঙ্গে বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আনোয়ার উল আলম চৌধুরী পারভেজ বলেন, এটা অবশ্যই আমাদের জন্য একটা স্বস্তির সংবাদ। ফলে দেশের সামগ্রিক রপ্তানি খাত আবারও ঘুরে দাঁড়াবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ-বিসিআই সভাপতি আনোয়ার উল আলম চৌধুরী পারভেজ গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, মহামারী করোনাভাইরাসের প্রেক্ষাপটে দেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাকশিল্পে ভবিষ্যতে অবিশ্বাস্য প্রবৃদ্ধি হবে। বড়দিন সামনে রেখে আন্তর্জাতিক ক্রেতারা আশাবাদের জাগান দিচ্ছেন। ভীতি দূর হলে পোশাকপণ্যের বিক্রি বাড়বে। আন্তর্জাতিক ক্রেতাপ্রতিষ্ঠানগুলো বাতিল ও স্থগিত হওয়া ক্রয়াদেশ নতুন করে দিচ্ছে। বড়দিন সামনে রেখে বিক্রির আগ্রহ দেখিয়ে ক্রেতারা পণ্যও নিচ্ছেন। এটা আমাদের জন্য অবশ্যই ইতিবাচক। জানা গেছে, প্রায় চার মাস পর বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের সংক্রমণ কমার সঙ্গে জনমনে আতঙ্কও কমেছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে খুলতে শুরু করেছে শিল্পকারখানা। ব্যবসা-বাণিজ্য সচল করার চেষ্টা করছে বিশ্ববাসী। বন্ধ আকাশপথ ফের খুলতে শুরু করেছে। ইউরোপ ও আমেরিকার দেশগুলোয় ধীরে ধীরে বাংলাদেশের রপ্তানির বাজার স্বাভাবিক হচ্ছে। করোনার প্রভাবে শুরুতে স্থগিত ও বাতিল হওয়া ক্রয়াদেশের বেশির ভাগই তারা আবার গ্রহণ করতে শুরু করেছন। শুধু তাই নয়, ক্রেতাদের কাছে যেসব পাওনা বকেয়া রয়েছে তা পরিশোধেও তারা এগিয়ে আসছেন। যদিও এ ক্ষেত্রে তারা কিছু শর্ত জুড়ে দিচ্ছেন। তাদের সঙ্গে অবশ্য আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। সূত্র জানান, মার্চ-এপ্রিল সময়ে বাতিল বা স্থগিত হওয়া রপ্তানি আদেশের ৮০ শতাংশই এরই মধ্যে ফিরে এসেছে। বিজিএমইএর পক্ষ থেকেও ক্রেতাদের সঙ্গে আলোচনা কিংবা মধ্যস্থতা করা হচ্ছে। অবশ্য ক্রয়াদেশ ফিরলেও অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রে শর্ত জুড়ে দিচ্ছেন ক্রেতারা। অনেক ক্ষেত্রেই তারা ছয় মাস কিংবা এক বছরের মতো লম্বা সময় নিচ্ছেন। আবার কেউ কেউ ডিসকাউন্ট দিতে বাধ্য করছেন। বিজিএমইএ বলছে, আমরাও তাদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। যেহেতু সময়টা বেশ চ্যালেঞ্জের। তাই আমরাও চাই ক্রেতারাও টিকে থাকুক। বিক্রেতা বা উৎপাদানকারীরাও ব্যবসা টিকিয়ে রাখার জন্য রীতিমতো লড়াই করছেন। ক্রেতারা রপ্তানি আদেশ দিলেও লম্বা সময়ে চাচ্ছেন। এ বছর আদেশ দিলেও তারা কোনো পণ্য নেবেন না। পণ্য নেবেন আগামী বছর। এটাকেও বর্তমান পরিস্থিতিতে রপ্তানি খাতের জন্য ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, মহামারী করোনাভাইরাস সংকট উত্তরণে বিশ্ব একটু ঘুরে দাঁড়ালেই বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাকশিল্পে বিশাল সম্ভাবনা দেখছি। করোনার চেয়ে আতঙ্ক আমাদের বেশি ক্ষতি করেছে। এ ক্ষতিও আমরা পুষিয়ে উঠতে পারব। করোনার আতঙ্ক এখনো পুরোপুরি দূর হয়নি। তবে বাংলাদেশি পোশাকপণ্যের আন্তর্জাতিক ক্রেতাপ্রতিষ্ঠানগুলো তাদের দোকানপাট খোলা শুরু করেছে। ওয়ালমার্টের মতো ক্রেতাপ্রতিষ্ঠানগুলো খুলছে। কিন্তু এইচঅ্যান্ডএম ও জেসি পেনির মতো পোশাক বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান খোলেনি।

 


নারীদের আলাদা বাসা নিয়ে থাকার অনুমোদন দিলো সৌদি আদালত
 

মানবাধিকার রিপোর্টঃ
নারী স্বাধীনতা নিশ্চিতের পথে আরো এক ধাপ এগিয়ে গেলো সৌদি আরব। দেশটির আদালত এক ঐতিহাসিক রায়ে জানিয়েছে, এখন থেকে দেশটির নারীরা কোনো পুরুষ অভিবাবকত্ব ছাড়াই দেশের যে কোনো স্থানে ভ্রমণ করতে পারবে। একইসঙ্গে এখন থেকে সৌদি নারীরা একা থাকার অনুমতি পেয়েছে। এরফলে দেশটির নারীরা চাইলে এখন একা বাসা নিয়েও থাকতে পারবে। এ খবর দিয়েছে মিডল ইস্ট মনিটর।
সম্প্রতি সৌদি আরবের এক নারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন সেখানকার এক সরকারি কর্মকর্তা। ঐ নারী নিজে একা একটি বাড়ি নিয়ে থাকতেন। একইসঙ্গে তিনি একা একা কারো অনুমতি না নিয়েই রিয়াদে সফর করতেন। এটি দেখে একাই আগ বাড়িয়ে ওই কর্মকর্তা আদালতে ওই নারীর বিরুদ্ধে মামলা করে দেন।
তবে আদালত ওই মামলা খারিজ করে দেন। ওই নারীর আইনজীবী আব্দুল-রহমান আল-লাহিম এ কথা জানিয়েছেন। আদালত জানিয়েছে ওই নারী যা করেছেন তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হতে পারে না।
এই রায়কে ধরা হচ্ছে সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের আরেকটি মাইলস্টোন। কট্টোর রক্ষণশীল দেশটিকে তিনি ধাপে ধাপে আধুনিক সভ্যতার সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ লক্ষ্যে গত কয়েক বছরে বেশ কিছু উদারিকরণ পদক্ষেপ হাতে নিয়েছেন ও বাস্তবায়ন করেছেন ক্রাউন প্রিন্স বিন সালমান। এর আগে নারীদের গাড়ি চালানোর সুযোগ, অনুমতি ছাড়াই বিদেশ সফরের সুযোগসহ বেশ কিছু ক্ষেত্রে নারী বান্ধব আইন করেছেন তিনি।
রায়ে আদালত জানিয়েছে, একজন নারী যিনি কিনা প্রাপ্ত বয়স্কা তিনি চাইলেই সিদ্ধান্ত নিতে পারেন তিনি কোথায় থাকবেন বা কোথায় যাবেন। আল-লাহিম এ রায়ের পর একটি টুইট করেন। এতে তিনি বলেন, আজ সৌদি আরব এক ঐতিহাসিক রায় দিয়েছে। আজকের পর থেকে এখানে আর কোনো নারীর একা বাসা নিয়ে থাকা অপরাধ নয়। আমি আজ অনেক আনন্দিত। কারণ, সৌদি নারীদের এক বেদনাময় অধ্যায় শেষ হতে চলেছে।
 


জমি ও ফ্লাটের নিবন্ধন ফি কমলো
 

মানবাধিকার রিপোর্টঃ
জমি ও ফ্ল্যাটের রেজিস্ট্রেশন ফি কমিয়েছে সরকার। দলিলে লেখা দামের ২ শতাংশ থেকে ১ শতাংশে কমিয়ে আনা হয়েছে। ৪ জুলাই ২০২০ এই সংশোধন এনে আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, দলিলে লেখা মূল্য ১০ হাজার টাকার বেশি না হলে জমির দামের ১ শতাংশ নিবন্ধন ফি দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১০০ টাকা। দলিলে লেখা মূল্য ১০ হাজার টাকার বেশি হলেও নিবন্ধন ফি এক শতাংশই থাকবে। তবে সে ক্ষেত্রে কোনো ন্যূনতম ফি নির্ধারণ করা হয়নি।
এত দিন দলিলের মূল্যের ২ শতাংশ হারে নিবন্ধন ফি দিতে হতো। তবে দলিলে লেখা মূল্য পাঁচ হাজার টাকার বেশি না হলে সর্বনিম্ন ফি ছিল ১০০ টাকা।
জমি ও ফ্ল্যাট নিবন্ধনের ক্ষেত্রে স্ট্যাম্প ডিউটি ৩ শতাংশ, মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ৩ শতাংশ ও স্থানীয় সরকার কর হিসেবে ২ শতাংশ অর্থ পরিশোধ করতে হত। গত ডিসেম্বরে স্ট্যাম্প ডিউটি ৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়।

 

রোগিকে হাঁটতে বলার প্রেসক্রিপশনে চিকিৎসকরা পাবেন ৪০ লাখ পাউন্ড
 

মানবাধিকার রিপোর্টঃ

এ তহবিল ব্রিটিশ সরকার দিচ্ছে। চিকিৎকদের রোগিদের প্রকৃতির কাছাকাছি যেয়ে হাটতে বলতে হবে। ব্রিটিশ পরিবেশমন্ত্রী জর্জ ইউসটিস একে গ্রিন প্রেসক্রাইবিং বলে অভিহিত করেছেন। এতে রোগিরা মানসিক ও শারীরিকভাবে আরো চাঙ্গা বোধ করবেন। ডেইলি মেইল
ব্রিটেনের পরিবেশ মন্ত্রণালয় বলছে এ তহবিলের ব্যবহার ও চিকিৎসকদের দেয়া পরামর্শ নাগরিকরা মেনে চললে ন্যাশনাল পার্ক সহ বিভিন্ন পার্ক পুর্ণব্যবহার করা সম্ভব হবে। এর ফলে স্বাস্থ্যবিভাগের ওপর চাপ কমে আসবে বরাদ্দের সাশ্রয় হবে।
বিশেষত যারা কোভিড থেকে সেরে উঠেছেন তাদের জন্যে প্রকৃতির কাছাকাছি যাওয়া খুবই প্রয়োজন। ব্রিটেনের নয়াভিরাম ও নিসর্গের সঙ্গেও তাদের পরিচিতি খুব প্রয়োজন। বিশেষ করে স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থীদের মাথাপিছু আড়াইশ পাউন্ড অতিরিক্ত দেয়ার বিষয়টি এ প্রকল্পে রাখা হয়েছে।

 মোহাম্মদ শাহীন ইকবাল নৌবাহিনীর নতুন প্রধান


মানবাধিকার রিপোর্টঃ
রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ শাহীন ইকবালকে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রধান পদে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। তাঁকে ভাইস অ্যাডমিরাল পদে পদোন্নতি দিয়ে নৌপ্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
১৮ জুলাই ২০২০ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব আব্দুল আলীম খান স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। পরে একই তথ্য জানিয়ে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।
বর্তমান নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল আবু মোজাফফর মহিউদ্দিন মোহাম্মদ আওরঙ্গজেব চৌধুরীর স্থলাভিষিক্ত হবেন মোহাম্মদ শাহীন ইকবাল।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ শাহীন ইকবালকে ২৫ জুলাই অপরাহ্ন থেকে ভাইস অ্যাডমিরাল পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে।
ওই সময় থেকে প্রতিরক্ষা বাহিনীগুলোর প্রধানদের আইন-২০১৮ অনুযায়ী আগামী ২০২৩ সালের ২৪ জুলাই অপরাহ্ন পর্যন্ত, তিন বছরের জন্য বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধান পদে নিয়োগ প্রদান করা হলো।

 


সর্বনাশা ডায়াগনস্টিক সেন্টার

মানবাধিকার রিপোর্টঃ
সরকারি অনুমোদন ছাড়াই দেশজুড়ে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে ডায়াগনস্টিক সেন্টার-প্যাথলজি বাণিজ্য। বিশেষ করে রাজধানীর অলিগলি সর্বত্র রোগ নির্ণয়ের নামে সাইনবোর্ডসর্বস্ব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ব্যাপক ছড়াছড়ি। বেশির ভাগ ডায়াগনস্টিক ও প্যাথলজি সেন্টারই গড়ে উঠেছে সরকারি অনুমোদন ছাড়া। ইচ্ছামতো নিয়ম-কানুন তৈরি করে বছরের পর বছর রমরমা বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে এরা। নেওয়া হচ্ছে ইচ্ছামাফিক ফি। হাতুড়ে টেকনিশিয়ানরা অনেক ক্ষেত্রেই দিচ্ছেন মনগড়া রিপোর্ট।
জানা যায়, চিকিৎসাবিদ্যায় অভিজ্ঞতাহীন পিয়াজ, আলু, ঢেউটিন ব্যবসায়ীদের গড়ে তোলা ডায়াগনস্টিক ও প্যাথলজি সেন্টারে হাতুড়ে টেকনিশিয়ান দিয়েই চলে রোগ নির্ণয়ের সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা। তারা মনগড়া রিপোর্ট তৈরি করে অহরহ ঠকাচ্ছেন নিরীহ মানুষকে। একই রোগ পরীক্ষায় একেকটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে একেক রকম রিপোর্ট দেওয়ারও অসংখ্য নজির রয়েছে। পুরুষের রিপোর্টে তুলে ধরা হয় মেয়েলি রোগের বিবরণ, উল্টো চিত্রও আছে। আবার একই ধরনের প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষার জন্য একেক প্রতিষ্ঠানে ধার্য আছে একেক ধরনের ফি। এসব রিপোর্ট নিয়ে রোগী ও স্বজনরা চরম বিভ্রান্তিতে পড়েন। তা সত্ত্বেও ডাক্তাররা নির্দিষ্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সরবরাহকৃত স্লিপে টিক মার্ক দিয়ে টেস্ট করাতে রোগী পাঠিয়ে থাকেন। তারা সামান্য জ্বর, ঠান্ডা, কাশির জন্যও ডজন ডজন পরীক্ষা-নিরীক্ষার কথা লিখে দিচ্ছেন। আবার রোগী নিজের পছন্দের ডায়াগনস্টিক সেন্টারে টেস্ট করালে ডাক্তার সে রিপোর্ট গ্রহণ করেন না। ডাক্তার তার নির্ধারিত সেন্টার থেকে রোগীকে আবার একই টেস্ট করিয়ে আনতে বাধ্য করেন। বেশি টাকা দিয়ে নির্ধারিত ডায়াগনস্টিক সেন্টারে টেস্ট করিয়েও সঠিক রোগ নির্ণয়ের নিশ্চয়তা পান না ভুক্তভোগীরা। কিন্তু ওই সেন্টারগুলো থেকে টেস্ট বাবদ দেওয়া কমিশন নিশ্চিত করার পরই ডাক্তার চিকিৎসাসেবা দিয়ে থাকেন। এভাবেই সরকারি হাসপাতালের রোগী জিম্মিকারী একশ্রেণির ডাক্তারের সহায়তায় ডায়াগনস্টিক সেন্টার মালিকদের যথেচ্ছ টেস্ট বাণিজ্য চলছে বছরের পর বছর। অভিযোগ তুলেও এসবের প্রতিকার মিলছে না।
হাতুড়ে টেকনিশিয়ানদের মনগড়া রিপোর্ট : প্রতিষ্ঠানের সামনে সুপরিচিত ডাক্তার বিশেষজ্ঞদের দীর্ঘ তালিকাযুক্ত বিরাট মাপের সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়া হলেও সরেজমিন গিয়ে কাউকে পাওয়া যায় না। জানা যায়, রোগী আকর্ষণের জন্যই শুধু বিশেষজ্ঞদের নাম সাইনবোর্ডে লেখা হয় এবং নাম ব্যবহার বাবদ মাসিক ফি দেওয়া হয় তাদের। সেসব ক্লিনিকে গিয়ে সাইনবোর্ডে লিপিবদ্ধ কাউকে পাওয়া যায়নি। বেশির ভাগ ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সরকারি অনুমোদনপ্রাপ্ত সার্টিফিকেটধারী দক্ষ টেকনিশিয়ান পর্যন্ত নেই। সেবার উদ্দেশ্য ছাড়াই নিছক বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে এসব ডায়াগনস্টিক সেন্টারে মনগড়া রিপোর্ট তৈরির মাধ্যমে নিরীহ মানুষকে প্রতারিত করা হচ্ছে অহরহ। অদক্ষ টেকনিশিয়ানের মাধ্যমেই ডায়াগনস্টিক রিপোর্ট তৈরি হচ্ছে আর ভুলভ্রান্তিও ঘটছে প্রায়ই। ফলে রোগীর জীবন বিপন্নের পাশাপাশি প্রায়ই রোগী মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। ভুল রিপোর্ট প্রদানের কারণে রোগী মৃত্যুর ঘটনায়ও কোনো ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক, কর্মকর্তা বা টেকনিশিয়ানকে কখনো শাস্তি দেওয়ার বিন্দুমাত্র নজির নেই। এ কারণে দিন দিন তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন।
নিয়ন্ত্রণহীন সেবা ফি : বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোয় রোগীদের থেকে মাত্রাতিরিক্ত ফি আদায় কোনোভাবেই থামানো যাচ্ছে না। রোগ নির্ণয়ের নানা পরীক্ষার নামে বিভিন্ন কৌশলে রোগী ও স্বজনদের পকেট খালি করেও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ ক্ষান্ত হয় না, উপরন্তু রোগীকে বন্দী রেখে বা লাশ জিম্মি করেও লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। অনেক ক্ষেত্রে টেস্টের টাকা পরিশোধ করে সর্বস্বান্ত হয়ে চিকিৎসা না নিয়েই বাসায় ফিরতে বাধ্য হন মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত শ্রেণির রোগীরা। স্বাস্থ্য অধিদফতরের দেওয়া রেট চার্ট মানে না রাজধানীর কোনো ডায়াগনস্টিক সেন্টারই। এর বদলে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব রেট চার্ট রয়েছে। নিয়ন্ত্রণহীন এসব সেবামূল্য আদায়ে রোগীদের জিম্মি করাসহ নানা মাত্রার হয়রানি-অত্যাচার সুদখোর মহাজনদেরও হার মানাচ্ছে। বেসরকারি ক্লিনিক, হাসপাতাল, ল্যাবরেটরি ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে স্বাস্থ্য পরীক্ষার মূল্য তালিকা জনসমাগমস্থলে (পাবলিক প্লেস) প্রদর্শনের ব্যাপারে উচ্চ আদালতের কড়া নির্দেশ রয়েছে। কিন্তু সরেজমিন রাজধানীর কোনো ডায়াগনস্টিক সেন্টারেই মূল্য তালিকা টানানো দেখা যায়নি।
 

সরকারের পদত্যাগ দাবিতে থাইল্যান্ডে বিক্ষোভ

 

মানবাধিকার রিপোর্টঃ
করোনা ভাইরাসের কারণে সমাবেশের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে থাইল্যান্ডে সরকার বিরোধী বিক্ষোভ হয়েছে। ১৮ জুলাই ২০২০ রাতে অনুষ্ঠিত এই বিক্ষোভ থেকে সরকারের পদত্যাগ এবং পার্লামেন্ট বিলুপ্ত করার দাবি তোলা হয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা। ২০১৪ সালের ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পরে এটাই সেখানে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ। শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে এ বিক্ষোভে অংশ নেন প্রায় আড়াই হাজার মানুষ। তারা ব্যাংককের ডেমোক্রেসি মনুমেন্টে গিয়ে ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী ও সাবেক সেনা প্রধান প্রায়ুথ চান-ওচার বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ তুলে ধরেন। এ সময় তারা তিন দফা দাবি তুলে ধরেন। সেগুলো হলো- ১. পার্লামেন্ট ভেঙে দিতে হবে।
২. সরকারের সমালোচকদের হয়রান বন্ধ করতে হবে এবং ৩. সেনাবাহিনী লিখিত সংবিধান সংশোধন করতে হবে। সমালোচকরা বলেন, এই সংবিধানের কারণেই প্রায়ুথ চান-ওচা গত নির্বাচনে বিজয়ী হতে পেরেছেন। শনিবার রাতের বিক্ষোভ থেকে ছাত্রনেতা তাত্তেপ রুয়াংপ্রাপাইকিত বলেছেন, দেশে গণতন্ত্র নেই। এভাবে গণতন্ত্রহীন কিভাবে আমরা ভাল থাকবো?
বিক্ষোভ থেকে শক্তিধর থাই রাজতন্ত্রের দিকে কিছু পাবলিক রেফারেন্স তুলে ধরা হয়, যদিও থাইল্যান্ডে আইন করে রাজার সমালোচনা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এমন রেফারেন্স এর আগে সেখানে অচিন্তনীয় ব্যাপার ছিল। রাতে বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশ ছিল স্থির। তারা বিক্ষোভ থামানোর কোনো চেষ্টা করেনি।



 

 ডানা না ঝাপটে ১৬০কি.মি উড়তে পারে পাখিটি


মানবাধিকার রিপোর্টঃ
একটি গবেষণায় সামনে এসেছে বিশ্বের বৃহত্তম উড়ন্ত পাখির কথা। যা বাতাসের কারেন্টকে কাজে লাগিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আকাশে উড়তে পারে ডানা একবারও না ঝাপটে।
অ্যান্ডিয়ান কনডোর পাখির ডানা ১০ ফুট পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে এবং তার ওজন প্রায় ৩৩ পাউন্ড। বর্তমানে এটিই বিশ্বের একমাত্র জীবিত সবচেয়ে ভারী পাখি।
এই প্রথম এক দল বিজ্ঞানী আটটি কনডোর পাখির শরীরে রেকর্ডিং যন্ত্র লাগিয়ে দিয়েছিলেন প্যাটাগোনিয়ায়। ২৫০ ঘণ্টার ফ্লাইট টাইমে পাখিদের উইংবিট ধরতেই এই যন্ত্রের ব্যবহার করেছিলেন বিজ্ঞানীরা। সামনে এসেছে অবাক করে দেয়ার মতোই তথ্য। আটটির মধ্যে একটি পাখি টানা পাঁচ ঘণ্টার উড়ানে ১৬০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করেছিল একবারও ডানা না ঝাপটে।
ওয়েলস-এর সোয়ানসি বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োলজিস্ট এবং এই গবেষণার কো-অথার এমিলি শেপার্ড জানিয়েছেন, কনডোর পাখি এক্সপার্ট পাইলট এটা জানা ছিলো, কিন্তু তাদের দক্ষতাও যে আকাশছোঁয়া সেটা বুঝতে পারিনি।
এই গবেষণার ফল প্রকাশিত হয়েছে সোমবার প্রসিডিংস অফ দ্য ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অফ সায়েন্সেস-এর একটি জার্নালে।

 
 

প্রেসিডেন্ট হলে ট্রাম্পের মুসলিম নিষিদ্ধ আইন বাতিল করব

 

মানবাধিকার রিপোর্টঃ
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে যদি বিজয়ী হতে পারি তাহলে অত্যন্ত গৌরববোধ করব এবং দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই ট্রাম্পের মুসলমান নিষিদ্ধ করার সব নির্দেশ বাতিল করব। মুসলিম-বিদ্বেষমূলক কোনো কিছুর চিহ্ন রাখব না হোয়াইট হাউস এবং ফেডারেল প্রশাসনে।
২০ জুলাই এক ভার্চুয়াল কনফারেন্সে এ সংকল্পের পুনর্ব্যক্ত করেছেন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট প্রার্থী জো বাইডেন। যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম-আমেরিকানদের বৃহত্তম পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটির সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে বাইডেন বলেছেন, আমাদের সংবিধান সব জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্রের মানুষের অধিকার সুসংহত করেছে। সেই চেতনাকে সমুন্নত রাখতে সব সময়ই আমরা অঙ্গীকারাবদ্ধ। মিলিয়ন মুসলিম ভোট সামিট শিরোনামের এই ভিডিও কনফারেন্সে জানানো হয়, গত এপ্রিলেই আনুষ্ঠানিকভাবে বাইডেনকে সমর্থন দিয়েছে মুসলিম আমেরিকানরা। উল্লেখ্য, ইরান, লিবিয়া, সোমালিয়া, নর্থ কোরিয়া, সিরিয়া, ভেনেজুয়েলা এবং ইয়েমেনের নাগরিকদের ভিসা নিষিদ্ধের বিশেষ নির্বাহী আদেশ জারি করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে অর্থাৎ ২০ জানুয়ারি শপথ গ্রহণের পরই। বাইডেন এ সময় আরও উল্লেখ করেছেন, একটি বিষয় আমার মনে হয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ, আর তা হচ্ছে আমাদের স্কুলে ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে বিস্তারিত পড়ানো হয় না। সেটি গুরুত্বের সঙ্গে করার পদক্ষেপ নেব। বাইডেন ট্রাম্পের ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক কর্মকান্ডের কঠোর সমালোচনা করে বলেছেন যে, তিনি বিদ্বেষের বিষবাষ্প ছড়িয়েছেন সমগ্র আমেরিকায়। ট্রাম্প প্রশাসনের আমলে কা-জ্ঞানহীনভাবে ইসলামিক ফোবিয়ার নগ্ন প্রকাশ ঘটেছে। স্কুলেও কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীরা আক্রান্ত হয়েছে বিদ্বেষমূলক ভাবে। কমিউনিটিতে হেইট ক্রাইম বেড়েছে। ইসলাম ধর্মকে ঘৃণা করেন এবং মুসলমানদের সহ্য করতে পারেন না এমন কিছু অ-আমেরিকানকে ট্রাম্পের মন্ত্রিপরিষদে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

 

Top

যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম নিষিদ্ধের বিরুদ্ধে প্রতিনিধি পরিষদে বিল পাশ


মানবাধিকার রিপোর্টঃ
মুসলিম অধ্যুষিত দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশাধিকার (ভিসা) হরণে ফের যাতে কেউ বিশেষ নির্বাহী আদেশ জারি করতে না পারেন সেজন্য যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে একটি বিল পাশ হয়েছে।নো ব্যান অ্যাক্ট বিলটি ২২ জুলাই ২০২০ প্রতিনিধি পরিষদে ২৩৩-১৮৩ ভোটে পাশ হয়। বিডি নিউজ
এই বিলের অন্যতম উদ্যোক্তা ছিলেন নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশিদের বন্ধু হিসেবে পরিচিত কংগ্রেসওম্যান গ্রেস মেং। কংগ্রেসের উচ্চকক্ষেও বিলটি পাশ করার জন্য সেনেট সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
এটি সেনেটেও পাশ হলে পাঠানো হবে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরের জন্য। তবে তা সম্ভব হবে না বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। সেক্ষেত্রে পুনরায় দুই তৃতীয়াংশ ভোটে বিলটি পাশ করতে হবে কংগ্রেসকে। তাহলেই ট্রাম্পের ভেটো অকার্যকর হয়ে বিলটি আইনে পরিণত হতে পারবে।
সকল ডেমক্র্যাটের ভোটে এটি পাশের পর এক বিবৃতিতে কংগ্রেসওম্যান গ্রেস মেং বলেছেন, মুসলমানদের নিষিদ্ধ করে ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ জারির পর থেকেই আমি আন্দোলনকারিদের পক্ষে রয়েছি। আমি কংগ্রেসে দাবি উঠিয়েছিলাম ঐ বিধি কার্যকর করার জন্যে বরাদ্দকৃত অর্থ বাতিলের জন্যে। এরই ধারাবাহিকতায় নো ব্যান এ্যাক্ট পাশ হওয়ায় আমি সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

 

এবার দশ ভাষায় হজের খুতবা : আছে বাংলা ভাষাও

 

মানবাধিকার রিপোর্টঃ

আরাফার ময়দানে প্রতি বছরের ৯ জ্বিলহজ সাধারণত আরবি ভাষায় পবিত্র হজের খুতবা দেয়া হয়। গত বছর ৫টি ভাষায় এই খুতবা অনুবাদ করা প্রচারিত হয়েছিলো । সৌদি গণমাধ্যম সৌদি গেজেট ও গালফ নিউজ জানায়, এবছর আরও ৫টি ভাষায় প্রচারিত হবে। প্রচারিত মোট ১০ টি ভাষার মধ্যে এবার স্থান পেয়েছে বাংলা।
গ্র্যান্ড মসজিদ ও মসজিদে নববীর চেয়ারম্যান অব জেনারেল অ্যাফেয়ার্সের চেয়ারম্যান ড. আব্দুল রহমান বিন আব্দুলাজিজ আল সুদাইস এই তথ্য জানিয়েছেন। আরবির বাইরে যে ১০টি ভাষায় হজ খুতবা দেয়া হবে সেগুলো হলো; বাংলা, ইংরেজি, মালয়, উর্দু, ফার্সি, ফেঞ্চ, ম্যান্দারিন, তুর্কি, রুশ ও হাবশি।
এবার ২২ জুলাই জিলহজ মাসের প্রথমদিন এ বছরের হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। এতে সৌদি আরবে বসবাসরত বিভিন্ন দেশের ১০ হাজার মুসল্লি অংশ নিতে পারবেন। মহামারি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণরোধে সৌদি আরবের সিদ্ধান্তে এ বছর সীমিত আকারে হজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
ইতিমধ্যে সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে যেসকল স্থানে হাজিরা অবস্থান নেন, সে সব জায়গা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সৌদি সরকার অনলাইনে নিবন্ধনের মাধ্যমে এ বছরে হজের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন।

ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরামের দূত হলেন

সায়মা ওয়াজেদ পুতুলি

মানবাধিকার রিপোর্টঃ

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর সংগঠন ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরামের (সিভিএফ) বিষয়ভিত্তিক দূত হিসেবে মনোনীত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ হোসেন পুতুল।
২২ জুলাই ২০২০ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। সিভিএফের চারজন দূত মনোনীত হয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন সায়মা ওয়াজেদ হোসেন পুতুল। তিনি বাংলাদেশের অটিজম বিষয়ক জাতীয় কমিটির চেয়ারপারসন হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের পাশাপাশি অন্য তিনজন দূত হলেন মালদ্বীপের সাবেক প্রেসিডেন্ট নাশিদ কামাল, ফিলিপাইনের ডেপুটি স্পিকার লরেন লেগ্রেডা ও কঙ্গোর জলবায়ু বিশেষজ্ঞ তোসি মাপ্নু।

 

ভুয়া ডাক্তারের ছড়াছড়ি


মানবাধিকার রিপোর্টঃ
করোনাভাইরাস মহামারীতে জনগণের পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে গিয়ে এমনিতেই হিমশিম খাচ্ছে সরকার। এর মধ্যেই উঠে এলো এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। ভুয়া ডিগ্রিধারী ডাক্তারের ছড়াছড়ি এখন আশঙ্কাজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে, বাড়ছে তাদের সীমাহীন দৌরাত্ম্য।
বিভিন্ন বিষয়ে ডিগ্রি ব্যবহার করে চকচকে সাইনবোর্ড সাঁটিয়ে নিরীহ রোগীদের প্রতারিত করে আসছে তারা। ফলে চিকিৎসাসেবায় চরম অরাজকতা বিরাজ করছে, ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে রোগীদের জীবন। বছরের পর বছর ভুয়া ডাক্তারকেন্দ্রিক নানা অরাজকতায় দেশের চিকিৎসাব্যবস্থা প্রশ্নবিদ্ধ হলেও সরকারের দায়িত্বশীল বিএমডিসি, স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগ, স্বাস্থ্য অধিদফতর, বিএমএসহ ডাক্তারদের পেশাদার সংগঠনগুলো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না- এমন অভিযোগ উঠেছে। জাল সনদ ও নবায়নহীন লাইসেন্স পুঁজি করেই ভুয়ারা রাজধানীসহ দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলা সদরে অভিজাত চেম্বার সাজিয়ে অহরহ রোগীদের প্রতারণা করে চলছে। ভুয়াদের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার নজির নেই বললেই চলে। র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালতের নিয়মিত অভিযানে একাধিকবার ভুয়া ডাক্তার ও ভুয়া বিশেষজ্ঞ আটক হয়েছে। তারা এমবিবিএস ডিগ্রির আগে-পিছে দেশ-বিদেশের ভুয়া, নকল, মনগড়া উচ্চতর সব ডিগ্রি ব্যবহার করে বছরের পর বছর রোগী দেখছে, হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অঙ্কের ফি। চিকিৎসা সেক্টরে ভুয়া ডাক্তার ও অপচিকিৎসা বছরের পর বছর ধরে দুরারোগ্য ক্যান্সারের মতোই চেপে আছে। বাণিজ্যের লক্ষ্যে ভুয়া ডাক্তাররা নামের পেছনে এফআরএসএইচ, এমএসিপি, এফএসিপি, পিজিটি, এমডি ও এফসিপিএস (ইনকোর্স) ও পার্ট-১ অথবা পার্ট-২সহ বিভিন্ন ডিগ্রি উল্লেখ করে থাকে। এ কারণে সাধারণ রোগীরা এসব ডাক্তারকে বিদেশি ডিগ্রিপ্রাপ্ত বলে মনে করেন। দেশজুড়ে ১৪ হাজার ভুয়া এমবিবিএস ডাক্তার ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানা গেছে।


ট্রাম্প না চাইলেও তাকে হোয়াইট হাউজ ছাড়তে বাধ্য করা হবে: পেলোসি


মানবাধিকার রিপোর্টঃ
ট্রাম্প এখনো জানুক বা না জানুক তাকে হোয়াইট হাউজ ছাড়তে হবে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি। এর আগে ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফল মেনে নেয়া নিয়ে অস্পষ্ট বক্তব্য দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। এর ভিত্তিতেই পেলোসি বলেন, এখানে একটি নিয়ম আছে। হোয়াইট হাউজের একজন বাসিন্দার (ট্রাম্প) চাওয়ার ওপর কিছু নির্ভর করছে না, প্রয়োজনে তাকে বের করে আনা হবে। এ খবর দিয়েছে ডেলি মেইল।
এর আগে ফক্স নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মুখোমুখি হন সাংবাদিক ক্রিস ওয়ালেসের। এসময় ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হয়, তিনি কি আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফল মেনে নেবেন কিনা প্রসঙ্গে। উত্তরে ট্রাম্প জানান, তিনি এখনো নিশ্চিত নন। তিনি বলেন, দেখুন- আমাকে ভাবতে হবে।
আমি এখনি "হ্যা" বলে দিতে পারছি না। আমি "না" ও বলছি না।
এই একই সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, মেইলে ভোটের মাধ্যমে নির্বাচনে কারচুপি করা হবে। তবে এমন দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ তুলে ধরেননি তিনি। সম্প্রতি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে বাঁচতে মেইলে ভোট দেয়ার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে যুক্তরাষ্ট্রে। ট্রাম্প দাবি করেন, ফক্স জনমত জরিপসহ যেসব জরিপে দেখানো হচ্ছে তার থেকে ডেমোক্রেট প্রার্থী জো বাইডেন বেশি জনপ্রিয় সেগুলো আসলে "মিথ্যা"।
ওই সাক্ষাৎকারে প্রেক্ষিতে পেলোসি বলেন, ভোটাররা ও যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান জানুয়ারিতেই ট্রাম্পকে হোয়াইট হাউজ ছাড়তে বাধ্য করবে। তিনি মনে মনে এটা মানুক বা স্বেচ্ছায় হোয়াইট হাউজ ছাড়তে না চাক তাতে কিছু যায় আসে না। তিনি হোয়াইট হাউজ ছাড়তে চান না মানে এই নয় যে আমরা নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের উৎসব করব না! তিনি আরো বলেন, প্রেসিডেন্সিতো প্রেসিডেন্সিই হয়। এটা কোনো ভৌগলিক অবস্থান নয়।


সৌদি প্রবাসীদের রিএন্ট্রি ও ভিসা এক্সটেনশন নিয়ে নতুন খবর


মানবাধিকার রিপোর্টঃ
মরণ থাবা করোনার কারণে যে সকল সৌদি প্রবাসীরা নিজ নিজ দেশে অবস্থান করছেন বা যাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে আসছে ধীরে ধীরে। এই সকল প্রবাসীদের রিএন্ট্রি ও ভিসা এক্সটেনশন সম্পূর্ণ করলো সৌদি পাসপোর্ট বিভাগ জাওয়াজাত।
জাওয়াজাত নিশ্চিত করেছে যে এই মুহূর্তে সৌদি আরবের বাহিরে অবস্থানরত সকল সৌদি প্রবাসীর ৩ মাসের জন্য রিএন্ট্রি ভিসা ও ভিসা এক্সটেনশন ফ্রিতে সম্পূর্ণ হয়েছে।
টুইটারে একটি টুইটের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে জাওয়াজাত। তারা জানিয়েছে করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে সকল আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধ হয়ে পড়ায় যারা নিজ নিজ দেশে আটকা পড়েছে, সৌদি আরব ফিরতে পারছে না এবং যাদের ভিসা এক্সটেনশন ও রিএন্ট্রি ভিসার মেয়াদ ফুরিয়ে গেছে তাদের সকলেরই আপনাআপনি এই প্রক্রিয়ায় রিএন্ট্রি ভিসা ও তিন মাসের ভিসা এক্টটেনশন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সম্পূর্ণ হয়েছে।
অন্যদিকে সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আবসার অ্যাপ ঘোষণা করেছে যে এই রি এন্ট্রি ও ভিসা এক্সটেনশনের মেয়াদ ঐ সৌদি প্রবাসীর পরিবারের সকল সদস্য ও গৃহকর্মী যারা সৌদি আরবে বসবাস করেন তাদের জন্যও প্রযোজ্য হবে।
তবে এক্ষেত্রে সেই প্রবাসীকে অবশ্যই সৌদি আরবের বাহিরে থাকতে হবে এবং বাহিরের থাকার সময়টায় অবশ্যই তাঁর ইকামার মেয়াদ থাকতে হবে যেন তা ঐ বর্ধিত মেয়াদকাল পর্যন্ত বজায় থাকে।
অর্থাৎ যে তিনমাসের জন্য জাজাওয়াত রিএন্ট্রি ভিসা ও ভিসার মেয়াদবৃদ্ধি করছে ঐ তিন মাস যেন অতি অবশ্যই ইকামা বজায় থাকে।
আরেকটি কন্ডিশন হল যে এক্ষেত্রে যাদের এক্সিট ও রিএন্ট্রি ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ৬০ দিন পার হয়ে গেছে তারা জাজাওয়াতের এই সেবার অন্তর্ভুক্ত হবেন না।


ফের ক্ষমতায় এলে সারা জীবন রাজ্যের মানুষকে বিনামূল্যে রেশন
 

মানবাধিকার রিপোর্টঃ
পশ্চিমবঙ্গে ২১ আগস্ট ২০২০ ছিল ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস দলের শহীদ দিবস। দিবসটি উপলক্ষে গতকাল কালীঘাট থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে দলের কর্মীদের উদ্দেশে বার্তা দিতে গিয়ে মমতা বলেন, তৃণমূল কংগ্রেসকে ভরসা রাখুন, বিশ্বাস ও আস্থা রাখুন। একুশে তৃণমূলই কমবেশি সরকার গড়বে। তিনি আরও বলেন, আগামী নির্বাচনে তৃণমূল সরকারে এলে সারা জীবন রাজ্যের মানুষকে বিনামূল্যে রেশন, স্বাস্থ্য পরিষেবা সহজ করা হবে বলেও আগাম ঘোষণা দেন মমতা ব্যানার্জি।
আগামী বছর পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে তৃণমূলের এটাই শেষ শহীদ দিবস পালন। আর সেদিকে তাকিয়ে এদিন কার্যত নির্বাচনের দামামা বাজিয়ে দিলেন তৃণমূলনেত্রী। মমতা বলেন, সিপিআইএমের রাজত্বে মারতে মারতে আমার সারা শরীর ক্ষতবিক্ষত করে দিয়েছে।

কুয়েতের সেনা কর্মকর্তা পাপুল কাণ্ডে গ্রেফতার


মানবাধিকার রিপোর্টঃ
মানবপাচারের অভিযোগে কুয়েতে গ্রেফতার লক্ষ্মীপুর-২ আসনের এমপি কাজী শহিদ ইসলাম পাপুলের সঙ্গে সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন ও ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে কুয়েতের এক সেনা কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
আরবি ভাষার পত্রিকা আল কাবাসের বরাত দিয়ে গালফ নিউজ জানিয়েছে, দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অ্যাসিসট্যান্ট আন্ডার সেক্রেটারি মেজর জেনারেল মাজেন আল-জারাহকে গ্রেফতার করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
খবরে বলা হয়, ঘুষের বিনিময়ে পাপুলের বেশ কিছু কাজ দ্রুত অনুমোদন করিয়ে দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে মেজর জেনারেল মাজেন আল-জারাহ । তিনি কুয়েতের নাগরিকত্ব, পাসপোর্ট ও বসবাসের অনুমতি বিষয়ক দপ্তরের অ্যাসিসট্যান্ট আন্ডার সেক্রেটারি ছিলেন।
বাংলাদেশি এমপি পাপুল রিমান্ডে যাদের নাম বলেছেন তাদের মধ্যে মাজেন আল-জারাহ অন্যতম। ২৩ হাজারের বেশি কর্মীর এন্ট্রি ভিসার অনুমোদনের জন্য ঘুষ দেওয়ার কথা রিমান্ডে জানিয়েছেন এমপি পাপুল।
এক পর্যায়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অ্যাসিসট্যান্ট আন্ডার সেক্রেটারির পদে থাকা মেজর জেনারেল মাজেন আল-জারাহকে জুনের শেষ দিকে বরখাস্তের আদেশ দেন কুয়েতের উপ-প্রধানমন্ত্রী আনাস আল-সালেহ।
এরপর গত বৃহস্পতিবার এই সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে কুয়েতের পাবলিক প্রসিকিউশন। ওই পরোয়ানার ভিত্তিতেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য পাপুলকে গত ৬ জুন রাতে কুয়েতের মুশরিফ এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। মারাফি কুয়েতিয়া কোম্পানির অন্যতম মালিক পাপুলের সেখানে বসবাসের অনুমতি রয়েছে।
পাচারের শিকার ৫ বাংলাদেশির অভিযোগের ভিত্তিতে পাপুলের বিরুদ্ধে মানবপাচার, অর্থপাচার ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের শোষণের অভিযোগ এনেছে কুয়েতি প্রসিকিউশন। ১৭ দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর এখন তাকে রাখা হয়েছে কুয়েতের কেন্দ্রীয় কারাগারে।

 

অপরাধ দুর্নীতি করলেই শাস্তি
 

মানবাধিকার রিপোর্টঃ
করোনাকালের দুই আলোচিত চরিত্র মো. সাহেদ বা সাহেদ করিম এবং চিকিৎসক সাবরিনা আরিফ চৌধুরী বা সাবরিনা শারমিন হোসেইন। এদের একজন ছিলেন টকশো নায়ক, অপরজন তারকা উপস্থাপক। নানা উপায়ে ক্ষমতার বলয়ে ঢুকে অবৈধভাবে অর্থবিত্তের মালিক হতে চাওয়ার সাম্প্রতিক উদাহরণ এই দুই চরিত্র। তবে তাদের শেষ রক্ষা হয়নি। দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কঠোর অবস্থান থাকায় তারা গ্রেফতার হয়েছেন। এরই মধ্যে তাদের প্রতিষ্ঠানগুলো সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে।
সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে কথা বলে জানা গেছে, কেবল সাহেদ বা সাবরিনাই নন, আওয়ামী লীগ ও সরকারের নাম ভাঙিয়ে অনিয়ম-দুর্নীতি বা অপরাধ করার চেষ্টা করলে কাউকেই রেহাই দেওয়া হবে না। প্রত্যেককেই শাস্তির আওতায় আনা হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহিষ্ণুতা নীতি নিয়েছেন। এরই মধ্যে সংশ্লিষ্টদের তিনি নিজের অবস্থান জানিয়ে দিয়েছেন।
গত ৯ জুলাই জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশনের সমাপনী বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, দুর্নীতিবাজ যে-ই হোক ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে। কে কোন দলের তা বড় কথা নয়, দুর্নীতি ও অনিয়মে জড়িতদের আমরা ধরে যাচ্ছি। আগের দিন ৮ জুলাই প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদে অপর এক বক্তৃতায় রাজধানীর রিজেন্ট হাসপাতাল নিয়ে বলেন, ওই (রিজেন্ট) হাসপাতালের এই তথ্য আগে কেউ দেয়নি, জানাতে পারেনি। সরকারের পক্ষ থেকেই খুঁজে বের করেছি, ব্যবস্থা নিয়েছি। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অপরাধ ও দুর্নীতি যার যার তার তার। দল বা সরকার কারও অপরাধের দায় নেবে না। এক্ষেত্রে কেউ দল বা সরকারের ভিতর বা বাইরের হতে পারেন। কাউকে ছাড় দেবেন না প্রধানমন্ত্রী। কোনোমতেই আইনের স্বাভাবিক গতিপথ বাধাগ্রস্ত করতে দেবেন না তিনি। সরকারের শীর্ষ পর্যায় মনে করে, ক্ষমতার টানা তিন মেয়াদে একটি সুবিধাবাদী শ্রেণি নানা ফটক দিয়ে আওয়ামী লীগে ঢুকে পড়েছে। তারা দলের নাম ভাঙিয়ে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টায় আছে। তাদের কর্মকান্ড দৃশ্যমান হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকার বা দলের কোনো বড় নেতা বা কর্মকর্তা তাদের রক্ষা করতে পারবেন না। এখানে প্রধানমন্ত্রীর অবস্থান কঠোর ও অনমনীয়।
জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব মো. ইহসানুল করিম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, অপরাধ ও দুর্নীতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর আপস নেই। যারা যেখানে উল্টাপাল্টা কিছু করছে তাৎক্ষণিক তাদের ধরা হচ্ছে। সে যেই হোক, দুর্নীতি করে কেউ পার পাবে না। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত কঠোর।
কয়েকটি ঘটনা পর্যালোচনায় দেখা যায়, একাদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুর্নীতির বিরুদ্ধে এক রকম যুদ্ধ ঘোষণা করেন। এক্ষেত্রে তিনি নিজের ঘর থেকেই শুদ্ধি অভিযান পরিচালনা শুরু করেন। এ অভিযানে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের অনেক প্রভাবশালী নেতাকে প্রধানমন্ত্রী সংগঠন থেকে ছুড়ে ফেলে দেন।
 

বাংলাদেশের মেরিনা তাবাসসুম বিশ্বের শীর্ষ

৫০ বুদ্ধিজীবির তালিকায়
 

মানবাধিকার রিপোর্টঃ
বাংলাদেশের মেরিনা তাবাসসুমের নাম ওঠে এসেছে বিশ্বের শীর্ষ ৫০ বুদ্ধিজীবির তালিকায়।ব্রিটেনভিত্তিক ম্যাগাজিন প্রসপেক্ট চলতি বছরের জন্য বিশ্বের শীর্ষ ৫০ বুদ্ধিজীবির তালিকাটি প্রকাশ করেছে। গতকাল ইউটিউব চ্যানেল বিডিনেট এ উপলক্ষ্যে বিশেষ বুলেটিন প্রচার করে।
তিনি আগা খান , কমনওয়েলথ, ব্রিটেনের স্মিথ এওয়ার্ডসহ বিভিন্ন পুরষ্কার পেয়েছেন। তাকে নিয়ে এ মাসেই বিবিসি, গার্ডিয়ান, এনডিটিভি বিশেষ স্টোরি করেছে। বুলেটিনে বলা হয়, প্রাকৃতিক পরিবেশের সঙ্গে মিল রেখে ভবন নির্মাণ এবং পরিবেশের দ্বারা উদ্ভূত চ্যালেঞ্জগুলো গ্রহণ করে নকশা তৈরি করার ক্ষেত্রে মেরিনা দারুণ অবদান রেখেছেন। এই অবদানই তাকে স্বীকৃতিটি এনে দিয়েছে।
মেরিনা ঢাকার বায়তুর রউফ মসজিদের নকশা করেছেন যা টেরাকোটা ইট দিয়ে নির্মিত। মসজিদের নকশা রীতিমতো সুলতানি আমলের কথা মনে করিয়ে দেয়। এ ছাড়া আরেক স্থপতি কাশেফ মাহবুব চৌধুরীর সঙ্গে যুগ্মভাবে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বাধীনতাস্তম্ভ ও স্বাধীনতা জাদুঘরের নকশা করেছেন মেরিনা।
২০১৫ সাল থেকে নিজস্ব স্থাপত্য প্রতিষ্ঠান মেরিনা তাবাসসুম আর্কিটেক্টস (এমটিএ) পরিচালনা করছেন তিনি এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভুমিকম্পের ঝুঁকিতে কি ধরণের ভবন রয়েছে এ নিয়ে গবেষণা করে প্রশংসিত হয়েছেন। তিনি কাউন্টার পাঞ্চ ও থট জার্নালের নিয়মিত লেখক।

 

 


 

নারী ও শিশু সংবাদ


 

শিশু নির্যাতনকারী শাবি শিক্ষিকা স্বামীসহ জেল হাজতে

মানবাধিকার রিপোর্টঃ
সিলেটে শিশু গৃহকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবি) লোক প্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সাবিনা বেগম ও তার স্বামী মাহমুদুল কাদেরকে জেলা হাজতে পাঠিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার রাতে শিশুটির বাবার দায়ের করা মামলায় শুক্রবার তাদের আদালতে নেয়া হলে মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট ২য় আদালতের বিচারক সাইফুর রহমান তাদের জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।
বৃহস্পতিবার সুরমা আবাসিক এলাকার একটি বাসায় শিশুটির ওপর নির্যাতন হচ্ছে এমন খবর ৯৯৯ কল করে জানায় স্থানীয়রা।
পরে কোতোয়ালী থানার পুলিশ সেখানে গিয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।
এ ঘটনায় গৃহকর্তী শাহ জালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ব বিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সাবিনা ইয়াসমিন ও তার স্বামী মাহমুদুল কাদেরকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ।
খবর পেয়ে শিশুটির বাবা আবুল কাসেম রাতেই কিশোরগঞ্জ থেকে সিলেটে এসে অভিযুক্ত দুইজনের নামে কোতোয়ালী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা দায়ের করেন।
প্রায় এক বছর ধরে শিশুটির ওপর নির্যাতন চালাচ্ছিলেন ওই দম্পতি। ৩০ জুলাই ২০২০ নির্যাতন করে তার একটি হাত ভেঙ্গে দেন তারা। এছাড়া শিশুটির সারা শরিরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
 


 পথশিশুরা দিশেহারা

 


মানবাধিকার রিপোর্টঃ
মিসরে করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে কঠিন বিপদে পড়েছে দেশটির হাজার হাজার গৃহহীন মানুষ ও ছিন্নমূল শিশু।
করোনা লকডাউনের কারণে ঘরবন্দি মানুষ। রাস্তায় গাড়ি-ঘোড়া না থাকায় এখন আর আগের মতো কাজ নেই।
বন্ধ হয়ে গেছে ফুল বিক্রি আর গাড়ি ধোয়ার মতো কাজও। ফলে ঠিকমতো দুবেলা দুমুঠো খেতেও পাচ্ছে না পথের আয়ে চলা এসব ছিন্নমূল শিশুরা। বেঁচে থাকতে রীতিমতো সংগ্রাম করছে রাস্তার মানুষগুলা। এএফপির এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
দারিদ্র্য এখনও মিসরের অন্যতম বড় সামাজিক সমস্যা। ১০ কোটি জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশই দরিদ্র। এর মধ্যে প্রায় এক কোটি মানুষই গৃহহীনতার সমস্যায় ভুগছে। রাস্তাতেই বাস করে হাজার হাজার মানুষ। স্বাভাবিক সময়ে কোনো প্রকারে চালিয়ে নিলেও করোনার মধ্যে কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়েছে তারা।
করোনার প্রাদুর্ভাবের আগে মিসরের রাজধানী কায়রোর জনাকীর্ণ রাস্তায় ঘুরে ঘুরে ফুল বিক্রি করতেন জয়নব। এই ফুল বিক্রি করেই চলত তার সংসার।
কিন্তু করোনা মহামারী জয়নবকে আরও ভয়াবহ বাস্তবতার সামনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। প্রায় তিন মাস ধরে কোনো কাজ নেই। তাই খেয়ে না খেয়েই দিন কাটছে তাদের। এক সন্তানের মা জয়নব গৃহহীন। জয়নব একা নয, তার মতো এমন হাজার হাজার নারী কায়রো শহরে বাস করে।
কায়রোর নিকটবর্তী একটি দরিদ্র জনপদ আব্বাসিয়ার একটি অস্থায়ী আশ্রয়শিবিরে থাকেন জয়নব। এএফপিকে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, রাস্তায় মানুষ কম থাকায় আমাদের কাজ কমে গেছে। আয়-রোজগারও আগের চেয়ে অনেক কম। এ সময় তরুণী এই মায়ের পাশেই খেলা করছিল তার এক বছর বয়সী ছেলে আবদুল্লাহ।
মিসরের সরকারের হিসাব মতে, ২০১৪ সালেই দেশটিতে পথশিশুর সংখ্যা ছিল ১৬ হাজার। তবে জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ জানিয়েছে, মিসরে পথশিশুদের সংখ্যা সবসময় কম করে দেখানো হয়।
সংস্থাটির এক হিসেবে, শুধু আলেক্সান্দিয়া ও কায়রো শহরেই থাকে প্রায় ১০ লাখ শিশু-কিশোর। সাধারণত ফুল বিক্রি, গাড়ি ধোয়া ও ভিক্ষাবৃত্তির মতো কাজ করে জীবীকা নির্বাহ করে এরা। কিন্তু এখন পুরোই বেকার সময় কাটছে তাদের। কায়রোয় পথশিশুদের নিয়ে কাজ করে এমন একটি সংগঠন ফ্রান্সের সামুসোসাল ইন্টারন্যাশনালের পরিচালক ইউসেফ বাস্তাওরাস বলেন, এরা একেবারেই অবাঞ্ছিত হয়ে পড়েছে।
করোনার কারণে শহরের মানুষ এখন তাদের এড়িয়ে চলে। এর ফলে তাদের অল্প আয়ও এখন প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। করোনার কারণে শিক্ষা ও চিকিৎসার মতো মৌলিক অধিকার থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে পথশিশুরা।


বাঘারপাড়ায় বাল্যবিয়ের অভিযোগে মেয়ের মাসহ চার জনের জেল


মানবাধিকার রিপোর্টঃ
যশোরের বাঘারপাড়ায় বাল্যবিয়ে দেওয়ার অভিযোগে কনের মাসহ চারজনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলার আগড়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে এ সাজা দেয়া হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানিয়া আফরোজ।
[৩] ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিকেলে খবর আসে মাগুরা জেলার শালিখা উপজেলার নুর ইসলামের ছেলে রাজুর সাথে বাঘারপাড়া উপজেলার ধলগ্রাম ইউনিয়নের আগড়া গ্রামের এক শিক্ষার্থীর বাল্যবিয়ের আয়োজন চলছে। এমন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নিবার্হী ম্যাজিস্ট্রেট তানিয়া আফরোজ সেখানে উপস্থিত হয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। তবে ভ্রাম্যমাণ আদালত ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই স্থানীয়দের সহায়তায় সেখান থেকে বর-বউকে সরিয়ে ফেলে হয়। এ সময় বাল্যবিয়েতে সহায়তার অভিযোগে মেয়ের মাকে ১৫ দিন, মেয়ের ফুফু ও চাচীকে পাচঁদিন করে এবং হুমায়ূন কবির নামে প্রতিবেশী এক যুবককে সাতদিনের জেল দেওয়া হয়।
[৪] উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নিবার্হী ম্যাজিস্ট্রেট তানিয়া আফরোজ বলেন, ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই বিয়ে সম্পন্ন করে তাদের সরিয়ে দেয়া হয়। তবে বাল্যবিয়ে দেয়ার অভিযোগে কনের মাসহ চারজনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয়েছে। রাস্তার নিমার্ণ কাজ চলায় ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে দেরি হয়। এই সুযোগে স্থানীয়দের সহায়তায় ছেলে-মেয়েকে দূরে পাঠিয়ে দেয়া হয়। অবস্থা দেখে মনে হয়েছে সেখানে শতাধিক লোকের আয়োজন চলছিল। দায়িত্বশীলরা সচেতন না হলে এ কর্মকান্ড রোধ করা সম্ভব নয় বলেও উল্লেখ করেন উপজেলার এই শীর্ষ কর্মকর্তা।

 

৬৯ ফিলিস্তিনি নারী-শিশু আটক


মানবাধিকার রিপোর্টঃ
চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ৬৯ জন ফিলিস্তিনি নারী ও কন্যাশিশুকে আটক করেছে ইসরাইল। ফিলিস্তিনের বন্দি বিষয়ক রিসার্চ সেন্টারের মুখপাত্র রিয়াদ আল-আশকার এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি শনিবার জর্দান নদীর পশ্চিম তীরে এক বক্তব্যে বলেন, ফিলিস্তিনি নারীদের আটক করার সময় কোনও বাছ-বিচার করে না ইসরাইলি সেনারা; এমনকি তারা বৃদ্ধা এবং অসুস্থ নারীদের ধরে নিয়ে যেতেও দ্বিধা করে না। আল-আশকার বলেন, ফিলিস্তিনি নারীরা যাতে কোনও ধরনের ইসরাইলবিরোধী প্রতিরোধ সংগ্রামে অংশ না নেন সেজন্য তাদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টির লক্ষ্যে এসব নারীকে ধরে নিয়ে যাচ্ছে তেল আবিব। এমনকি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইসরাইলবিরোধী পোস্ট দেওয়ার দায়েও ফিলিস্তিনি নারীদের ধরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ফিলিস্তিনের বন্দি বিষয়ক রিসার্চ সেন্টারের মুখপাত্র বলেন, বর্তমানে ইসরাইলি কারাগারে ৪১ ফিলিস্তিনি নারী বন্দি রয়েছেন। এদের মধ্যে ২৫ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়েছে এবং বাকি ১৬ জন বিনা বিচারে আটক রয়েছেন।আল-আশকার জানান, ইসরাইলি কারাগারগুলোতে বর্তমানে চার হাজার ৮০০ ফিলিস্তিনি বন্দি রয়েছেন, যাদের মধ্যে ১৭০ জন শিশু ও বৃদ্ধ রয়েছেন।


সৌদির মানবাধিকার সংস্কারে ৭০ উদ্যোগ
 

মানবাধিকার রিপোর্টঃ
সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মুহাম্মদ বিন সালমানের বিরুদ্ধে দেশটির সাংবাদিক জামাল খাশোগিকে হত্যার প্রধান হুকুমদাতার অভিযোগ ওঠায় মানবাধিকার পুনরুদ্ধারে ৭০ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মুহাম্মদ বিন সালমানের বিরুদ্ধে দেশটির সাংবাদিক জামাল খাশোগিকে হত্যার প্রধান হুকুমদাতার অভিযোগ ওঠায় মানবাধিকার পুনরুদ্ধারে ৭০ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
সৌদি হিউম্যান রাইটস কমিশনের (এইচআরসি) চেয়ারম্যান আওয়াদ আল আওয়াদ সংস্কারের উদ্যোগ নিয়ে আন্তর্জাতিক বিশ্বে তার দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে চাচ্ছেন।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক বৃদ্ধি, আলোচনা ও সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে রিয়াদ।
সৌদি এইচআরসি কিছু আন্তর্জাতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। সৌদির তরুণ মানবাধিকার কর্মীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করছে দেশটি।

 


 

 

 


 


 

 

Top
 

 

পুলিশ ও কারাগার সংবাদ

 


 

পুলিশে কোনো দুর্নীতি দেখতে চাই না


মানবাধিকার রিপোর্টঃ
পুলিশ ফোর্সের কর্মক্ষমতার সর্বোচ্চ ও উপযুক্ত ব্যবহারের মাধ্যমে জনগণকে সর্বোত্তম সেবা প্রদানের জন্য পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদ। গতকাল সোমবার পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স থেকে খুলনা রেঞ্জ এবং রেঞ্জের অধীন জেলাসমূহের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে বক্তব্যে এ নির্দেশনা দেন আইজিপি।
ড. বেনজীর আহমেদ বলেন, আমরা পুলিশকে দুর্নীতিমুক্ত, মাদকমুক্ত দেখতে চাই। মাদকের ব্যাপারে কঠোর বার্তা দিয়ে আইজিপি ইউনিট প্রধানদের উদ্দেশে বলেন, আপনার এলাকায় হয় আপনি থাকবেন অথবা মাদক থাকবে। মাদক থাকলে আপনি থাকতে পারবেন না, আপনি থাকলে মাদক থাকবে না। পুলিশের ভেতরে এবং বাইরে কোনো দুর্নীতি থাকতে পারবে না। পুলিশে কোনো ধরনের দুর্নীতি আমরা দেখতে চাই না। প্রথাগত পুলিশিং থেকে বেরিয়ে প্রযুক্তিভিত্তিক ইনোভেটিভ পুলিশিংয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, পুলিশ কর্মকর্তাদের নিয়মিত জ্ঞান চর্চা করতে হবে। পুলিশ সংক্রান্ত আইন-কানুন, বিধি-বিধান সম্পর্কে জ্ঞান অন্বেষণের মাধ্যমে পেশাগত দক্ষতার উন্মেষ ঘটাতে হবে। পেশাগত জ্ঞান চর্চার বিষয়ে সবসময় আপ টু ডেট থাকতে হবে।
তিনি বলেন, ইউনিট কমান্ডারদের তাদের অধীন ফোর্সকে সঠিকভাবে গাইড করতে হবে, তাদের সক্ষমতাকে কাজে লাগাতে হবে। ফোর্সের ডিসিপ্লিনের ব্যাপারে কঠোর হতে হবে। এক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় বা শৈথিল্য দেখানো যাবে না। আবার ফোর্সের সার্বিক কল্যাণও নিশ্চিত করতে হবে অত্যন্ত উদারভাবে। খুলনা রেঞ্জ এলাকায় যুগোপযোগী ও মানসম্মত পুলিশি সেবা নিশ্চিত করতে এবং মানবিক পুলিশিংয়ের বর্তমান ধারাকে আরও সুসংহত করতে খুলনা অঞ্চলের স্থায়ী ও অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্পসমূহের কার্যক্রম রিভিউ করতে নির্দেশ দেন আইজিপি। আইজিপি বলেন, পুলিশিং সেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় নিয়ে যেতে বিট পুলিশিং কার্যক্রম বাস্তবায়ন ও বেগবান করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

 

ভার্চুয়াল কোর্ট থেকে জামিন পেল ৬০ হাজার হাজতি


মানবাধিকার রিপোর্টঃ
নিম্ন আদালতের ভার্চুয়াল কোর্ট থেকে গত ৪৫ কার্যদিবসে জামিন পেয়েছেন ৬০ হাজার ৪০৭ জন হাজতি আসামি। রবিবার সুপ্রিম কোর্ট থেকে পাঠানো বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।
জামিনপ্রাপ্তরা হত্যা, ধর্ষণ, ডাকাতি, চুরি, মাদকসহ বিভিন্ন প্রকৃতির ফৌজদারি মামলার আসামি। এদিকে গত দশ কার্যদিবসে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন ৪০ হাজার ৯৮৬ জন আসামি। ১১ হাজার ৯০৭টি মামলায় এসব আসামিরা আত্মসমর্পণ করে জামিন চান। শুনানি নিয়ে চীফ জুডিশিয়াল ও চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারকরা তাদের জামিন মঞ্জুর করেন। এ সময়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে ১ হাজার ১৭৪ জনকে।
গত ৫ জুলাই সুপ্রিম কোর্ট এক বিজ্ঞপ্তিতে ফৌজদারি মামলার আসামিদের ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সশরীরে হাজির হয়ে আত্মসমর্পণের সুযোগ দেয়। করোনার কারণে দীর্ঘ চার মাস ধরে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাওয়ার সুযোগ বন্ধ ছিলো। বিচার প্রার্থীদের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে প্রধান বিচারপতি এই সুযোগ দেন। এরপরই গত ১০ কার্যদিবসে প্রায় সাড়ে ৪১ হাজার আসামি আত্মসমর্পণ করে নিয়মিত আদালত থেকে জামিন পান।
এদিকে সুপ্রিম কোর্ট থেকে প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, আটটি বিভাগের জেলা ও দায়রা জজ, মহানগর দায়রা জজ, চীফ জুডিশিয়াল ও চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে গত ৪৫ কার্যদিবসে এক লাখ ২০ হাজার ৯০৪টি জামিনের আবেদন দাখিল হয়েছে। দাখিলকৃত এসব আবেদন নিষ্পত্তি করে জামিন দেওয়া হয়েছে ৬০ হাজার ৪০৭ জন আসামিকে। জামিন প্রাপ্তদের অধিকাংশই কারামুক্তি পেয়েছেন।
এদিকে একইসময়ে ভার্চুয়াল আদালতের মাধ্যমে জামিন প্রাপ্ত শিশুর সংখ্যা ৬৯৮ জন। জামিন প্রাপ্তদের মধ্য থেকে ৬৮৫ শিশুকে অভিভাবকের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। এসময়ে বিভিন্ন অপরাধের মামলায় ৪০৩ শিশুকে উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে তিন কেন্দ্রে অবস্থান করছে ৮৪০ জন শিশু।


 

করোনায় মারা গেলেন সিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার


মানবাধিকার হেলথ ডেস্কঃ
করোনায় আক্রান্ত চট্টগ্রাম নগর পুলিশের গোয়েন্দা (দক্ষিণ) বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মিজানুর রহমান মারা গেছেন।
১৩ জুলাই ভোররাত পৌনে ৪টার দিকে রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।
নগর গোয়েন্দা বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার আবু বকর সিদ্দিক মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি গত ২৮ জুন থেকে রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। সেখানে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। আইসিইউতে থাকা অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এছাড়া সিএমপির জনসংযোগ কর্মকর্তা মির্জা সায়েমের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ার পর ২৮ জুন ঢাকার রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে পঠিয়ে দেয়া হয় মিজানুর রহমানকে। তার স্ত্রী ও সন্তানও এই ভাইরাসে আক্রান্ত।
২২তম বিসিএসের মাধ্যমে পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেয়া মিজানুর রহমানই প্রথম এসপি পদমর্যাদার কর্মকর্তা, যিনি করোনাভাইরাসে মারা গেলেন।
প্লাজমা দিতে কুমিল্লা থেকে ঢাকায় ৫৬ পুলিশ সদস্য
মানবাধিকার রিপোর্টঃ
করোনাজয়ী পুলিশের প্লাজমায় বাঁচুক অন্যের জীবন, জাগ্রত মানবতায় দৃঢ় হোক পুলিশ জনতার বন্ধন। এই স্লোগান নিয়ে কুমিল্লা জেলা পুলিশের আরও ৫৬ জন করোনাজয়ী সদস্য ঢাকায় এসেছেন। শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে পুলিশের একটি বাসযোগে তারা ঢাকার উদ্দেশ্যে কুমিল্লা পুলিশ লাইন্স ত্যাগ করেন।
এ উপলক্ষে আয়োজিত সভায় বক্তব্য দেন কুমিল্লার পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম। পরে তাদের সবাইকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান পুলিশ সুপার।
এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) তানভীর সালেহীন ইমন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) আজিম-উল-আহসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুপার নাজমুল হাসান, জেলা ডি আই-১ মো. মাইন উদ্দিনসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে পৃলিশ সুপার বলেন, স্বাধীনতার শুরু থেকে আজ পর্যন্ত দেশের প্রতিটি ক্রান্তিকালে প্রজাতন্ত্রের অতন্দ্রপ্রহরী হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে পুলিশ বাহিনী। পুলিশ সরকারের একটি অনুগত বাহিনী হিসেবে করোনাযুদ্ধে বিগত ৪ মাসে জেলার প্রতিটি সাধারণ জনতার পাশে থেকেছে। অত্যন্ত সাহসের সঙ্গে মহামারি করোনাকে মোকাবেলা করে জনতার আস্থা অর্জন করেছে কুমিল্লা জেলা পুলিশ। এতে আমি একজন পুলিশ সুপার হিসেবে সত্যিই গর্ববোধ করছি।
তিনি আরও বলেন, যেখানে করোনায় মারা যাওয়া বাবা-মায়ের দাফন-কাফনে সন্তান কিংবা আত্মীয় স্বজন এগিয়ে আসেনি, সেখানে পুলিশ এগিয়ে এসে মৃত ব্যক্তির দাফন-কাফন সম্পন্ন করেছে। এমনকি বিদেশফেরত প্রবাসীদের হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করেছে। নিজের পরিবারের কথা চিন্তা না করে দিনরাত করোনা মহামারিতে কাজ করেছে পুলিশ। এতে করোনা আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকতে হয়েছে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ২য় পর্যায়ে প্লাজমা দিতে যাওয়া করোনাজয়ী ৫৬ পুলিশ সদস্যের মধ্যে দুইজন পরিদর্শক, এসআই ১২ জন, এএসআই ১৫ জন ও কনস্টেবল ২৭ জন রয়েছেন। এর আগে গত ৯ জুলাই ২৭ জন পুলিশ সদস্য প্লাজমা ডোনেট করেন। দেশের মধ্যে এ জেলা থেকেই কুমিল্লা পুলিশের সর্বোচ্চ সংখ্যক মোট ৮৩ জন প্লাজমা ডোনেট করতে ঢাকায় যান। করোনাকালে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কুমিল্লা জেলায় এ পর্যন্ত ২০৮ জন পুলিশ সদস্য আক্রান্ত হয়েছেন।
 

দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে পুলিশকে ঢেলে সাজাতে হবে


মানবাধিকার রিপোর্টঃ
পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল (আইজি) ড. বেনজীর আহমেদ বলেছেন, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের এক বা একাধিক লক্ষ্য থাকে। লক্ষ্যবিহীন কোনো প্রতিষ্ঠান সম্মুখে এগিয়ে যেতে পারে না। আমরা বর্তমানে ২০২০ সালে আছি। আগামী ৫, ১০, ৫০ ও ১০০ বছর পরে পুলিশিং কেমন হতে পারে, তা বিবেচনায় রেখে পুলিশকে ঢেলে সাজাতে হবে। এসব বিষয় মাথায় নিয়েই বিগত একশত দি?নে বিভিন্ন স্বল্প এবং দীর্ঘমেয়দি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে তা বাস্তবায়নের নানামুখী উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
শনিবার দুপুরে আইজিপির শততম দিনে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের কৃষ্ণচূড়া সম্মেলন কক্ষে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বক্তব্য প্রদানকালে আইজিপি এ কথা বলেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত আইজি, ঢাকাস্থ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের প্রধান ও পুলিশ সদর দফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।


 


 


 


 

Top



Top
 



 

স্বাস্থ্য সংবাদ


 


ফল না ফলের রস-কোনটি খাবেন


মানবাধিকার হেলথ ডেস্কঃ
ফল বেশি পুষ্টিকর না ফলের রস- এ নিয়ে নানা তর্ক রয়েছে। ব্যায়ামের পর , খেলার সময় কিংবা খুব বেশি ব্যস্ততা থাকলে অনেকে ফলের রস খেয়ে নেন। তবে পুষ্টিবিদদের মতে,স্বাস্থ্যগুণ বজায় রাখতে রস নয়, অবশ্যই গোটা ফল খাওয়া উচিত। কোনো কোনো ফল খোসাসহ খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। পুষ্টিবিদরা বলছেন, এমন অনেক ফল আছে যেগুলোর খোসায় গোটা ফলের চেয়ে পুষ্টিগুণ বেশি। খোসা ছাডি য়ে রস করে খেলে পুষ্টিগুণ কমে যায় অনেকটাই। জেনে নেওয়া যাক ফল আর ফলের রসে কী ধরনের পুষ্টিগুণের পার্থক্য থাকে।
ফলের খোসা : আপেল, আঙুর, পেয়ারা, শশা, স্ট্রবেরি জাতীয় ফলগুলো খোসাসহই খাওয়া যায়। ফলের খোসা সরাসরি সূর্যের আলো পায়। এ কারণে এগুলি স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী। আঙুরের খোসা ক্যানসার প্রতিরোধেও সাহায্য করে। ফলের রস বের করার সময় বেশির ভাগ সময়ই খোসা ফেলে দেওয়া হয়। এ কারণে শরীর খোসার পুষ্টিগুণ থেকে বঞ্চিত হয়।
ফলের শাঁস : ফলের শাঁসের মধ্যে প্রয়োজনীয় ফাইবার পাওয়া যায়। কমলার শাঁসের মধ্যে প্রচুর পরিমাণ ফ্লাভোনয়েডস রয়েছে। সেই সঙ্গে ভিটামিন সিও থাকে। এই দুটিই শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। কমলার রস করার সময় উপকারী ফ্লাভোনয়েডস বেরিয়ে যায়।
ফাইবার : রস বের করে নিলে ফাইবার নষ্ট হয়ে যায়। যেমন- আপেলের মধ্যে ৩ দশমিক ৭৫ গ্রাম ডায়েটারি ফাইবার থাকে। আট আউন্স আপেলের রস তৈরি করতে লাগে তিন থেকে চারটে আপেল। সেই হিসেবে আপেলের রসে ১২ থেকে ১৫ গ্রাম ফাইবার থাকার কথা। অথচ অ্যাপল জুসে ফাইবার প্রায় থাকে না বললেই চলে।
ক্যালরি : ফলের রস খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা অনেক বেডে যায়। ফল খেলে অতটা বাডে না। পরীক্ষায় দেখা গেছে ,পরিমাণ মতো আপেল খেলে শরীর ১২০ ক্যালরি শক্তি পায়, সেই পরিমাণ আপেলে ২৪ গ্রাম চিনি থাকে। অন্যদিকে, যে পরিমাণ অ্যাপল জুস থেকে শরীর ১২০ ক্যালরি শক্তি পায়, সে পরিমাণ জুসে চিনির পরিমাণ থাকে প্রায় ৩০ গ্রাম। বাজারেরে অধিকাংশ ফ্রুট জুসেই ফলের রসের পরিমাণ কম থাকে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এসব জুসে কৃত্রিম সুইটেনার যোগ করা থাকে।


ওষুধ ছাড়া রক্তচাপ কমানোর উপায়
 


মানবাধিকার হেলথ ডেস্কঃ
উচ্চ রক্তচাপ গোটা বিশ্বেই একটি সাধারণ শারীরিক সমস্যা। যতশীল না হলে এই সমস্যার কারণে মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে। কিন্তু খুবই সাধারণ কিছু নিয়ম-কানুন মেনে চললে সহজেই এই সমস্যা এড়ানো সম্ভব। যুক্তরাষ্ট্রের মেয়োক্লিনিক মেডিকেল সেন্টারের ওয়েবসাইটে এমন কয়েকটি অভ্যাসের কথা তুলে ধরেছেন বিশেষজ্ঞরা। মানবজমিনের পাঠকের জন্য সেগুলো তুলে ধরা হলো-
ওজন কমান: মানুষের ওজন যত বাড়ে, উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকিও একই সঙ্গে বাড়তে থাকে। এর কারণে শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত সমস্যার পাশাপাশি ঘুমেরও ব্যাঘাত ঘটতে পারে। অথচ নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রমের মাধ্যমে খুব সহজেই মানুষ নিজের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে। একই সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকিও এড়িয়ে চলতে পারে।
নিয়মিত ব্যায়াম: নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম বা পরিশ্রমের কারণে রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকে।
প্রতি সপ্তাহে কমপক্ষে ১৫০ মিনিট ব্যায়াম বা শারীরিক পরিশ্রমের চেষ্টা করুন। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট শারীরিক পরিশ্রম উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা অনেকাংশেই কমিয়ে দেয়।
স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ: চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ করুন। এমন খাবার গ্রহণ করুন, যেন শরীর সব ধরনের পুষ্টি পরিমিতভাবে পায়।
লবণ কম খান: অধিক লবণ খাওয়া হার্টের জন্য ক্ষতিকর। দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় লবণের পরিমাণ কমানোর চেষ্টা করুন। এতে আপনার হার্ট ভালো থাকবে। একই সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা থাকলে তা কমে আসবে।
মদ্যপান কমান: অ্যালকোহল শরীরের জন্য ভালো ও খারাপ উভয়ই। পরিমিত অ্যালকোহল রক্তচাপ কমাতে সহায়তা করে। কিন্তু একই অ্যালকোহল যখন অতিরিক্ত পরিমাণে গ্রহণ করা হয়, তা রক্তচাপ অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে দেয়। এমনকি অনেক সময় অতিরিক্ত অ্যালকোহল শরীরের ওষুধের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়।
ধূমপান ত্যাগ করুন: প্রতিটি সিগারেট পরবর্তী কয়েক মিনিটের জন্য শরীরের রক্তপ্রবাহ অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে দেয়। অধিক ধূমপান রক্তচাপকে ঝুঁকিপূর্ণ পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে। ধূমপান এড়িয়ে চলুন। এতে হার্ট ও রক্তচাপসহ সার্বিক স্বাস্থ্য স্বাভাবিক থাকে।
কফি কম খান: শরীরে কফির প্রভাব নিয়ে বিতর্ক আছে। অনিয়মিত কফি খাওয়ার ফলে রক্তচাপ অস্বাভাবিক বেড়ে যেতে পারে। কিন্তু যারা নিয়মিত কফি খায়, তাদের রক্তচাপে কফি কোনো প্রভাব ফেলে না। তবে দীর্ঘমেয়াদে সুফল পাওয়ার জন্য কফি কম খাওয়া ভালো।


করোনা ঠেকাতে কার্যকর যেসব ভিটামিন


মানবাধিকার হেলথ ডেস্কঃ
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি হলে যে কোনও অসুখের মোকাবিলা করা যায়। করোনা ঠেকাতেও এই পদ্ধতি সবচেয়ে কার্যকর। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, নিউইয়র্কের একটি হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত রোগীর শরীরে ভিটামিন সি ইনজেকশন দেওয়ায় আশাব্যঞ্জক ফল মিলেছে। এ কারণে চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদরা খাবারে ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন। সেই সঙ্গে তারা ভিটামিন ই-ও যোগ করতে বলছেন। তাদের ভাষায়, এই দুই ভিটামিন মিলে শরীরে প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শরীর এক দিকে যেমন কাজ করার শক্তি দেয় তেমনি নিজেকে সুস্থ রাখতেও শরীর নিজেই কাজ করে। আর শরীরকে সুস্থ রাখতে যে সব পুষ্টিকর উপাদানের প্রয়োজন, তার মধ্যে অন্যতম ভিটামিন। বিশেষ করে ভিটামিন সি ও ই। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখতে প্রয়োজন অ্যান্টিবডি উৎপাদন । এই কাজটি সম্পন্ন করতে ভূমিকা রাখে ভিটামিন সি এবং ই। জেনে নিন, শরীরে এ দুটি ভিটামিনের ঘাটতি হলে কি হয় ও কীভাবে এই ঘাটতি পূরণ করবেন ।
১. প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় মৌসুমি ফল রাখতে পারেন। বিশেষ করে মুসাম্বি, পেয়ারা, আনারস জাতীয় ফল খেতে পারেন। সেই সঙ্গে কলাও খেতে হবে।
২. নিয়মিত লেবুর রস খেতে হবে। তবে গরম পানিতে নয়। মনে রাখতে হবে, উচ্চ তাপমাত্রায় ভিটামিন সি নষ্ট হয়ে যায়। তাই রুম তাপমাত্রায় রেখেই তা খাওয়া ভালো।
৩ নিয়মিত খাদ্যতালিকায় আমলকি রাখতে পারেন। আমলকি কাঁচা চিবিয়ে খেতে পারলে সবচেয়ে ভালো। এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি থাকে।
৪. ভিটামিন সি ও ই কো-এনজাইমের কাজও করে। তাই খাবার পরিপাকেও এদের ভূমিকা অনস্বীকার্য।
৫. ভিটামিন ই-র অভাবে রোগ প্রতিরোধ কমে যাওয়ার সঙ্গেই শ্রবণশক্তি কমে যাওয়ার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে। অন্য দিকে অ্যালঝাইমার্সের মতো রোগ সারাতেও ভিটামিন ই কার্যকর।
৫. গর্ভাবস্থায় পরিমাণ মতো ভিটামিন ই গ্রহণ না করলে গর্ভপাত পর্যন্ত হতে পারে। আর গর্ভাবস্থায় মায়ের যদি ভিটামিন ই-র অভাব থাকে, তা হলে সেই সন্তানের অ্যানিমিয়া হওয়ার প্রবণতা দেখা দেয়।
৬. ভিটামিন সি শরীরে অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টসের জোগান দেয়। মানসিক চাপ থেকে শরীরকে দূরে রাখতে সাহায্য করে এই ভিটামিন। অন্য দিকে ভিটামিন সি-র এই কাজকে ত্বরান্বিত করে ভিটামিন-ই। এই দুই ভিটামিন মিলে কোষের স্বাস্থ্য সুরক্ষিত হয়। তখন শুধু করোনাই নয়, বাইরের কোনও ভাইরাসই সহজে শরীরকে আক্রমণ করতে পারে না।
৭.ভিটামিন সি খুব শরীর পরিষ্কারে ভূমিকা রাখে। যেহেতু এই ভিটামিনে অ্যাসকরবিক অ্যাসিড থাকে, তাই শরীরের টক্সিন বার করে দেয় সহজেই। কোষ্ঠকাঠিন্য সারাতেও এই ভিটামিন বেশ উপকারী। তা ছাড়া ভিটামিন সি প্রয়োজনের চেয়ে বেশি হয়ে গেলেও সমস্যা নেই। শরীরে এই ভিটামিন সঞ্চিত হয় না। বরং অতিরিক্ত ভিটামিন বেরিয়ে যায়।
পুষ্টিবিদরা বলছেন, প্রতিদিন ৭০-১০০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি শরীরের জন্য জরুরি। খাবারের মাধ্যমেই এই ভিটামিনের চাহিদা পূরণ হয়ে যায়। না হলে ভিটামিন সির সাপ্লিমেন্ট নিলেও অনেকটা কাজ হয়। কিন্তু সাপ্লিমেন্টের মাধ্যমে ভিটামিন ই পরিমাণমতো পাওয়া যায় না। প্রত্যেক দিন একজন প্রাপ্তবয়স্কের ১৫ মিলিগ্রাম ও একজন শিশুর ৭ মিলিগ্রাম ভিটামিন ই-র প্রয়োজন। এজন্য খাবারের তালিকায় সূর্যমুখীর বীজ, অলিভ অয়েল, আমন্ড, চীনাবাদাম, আখরোট, ডিম রাখতে হবে। তবে বাদাম পানিতে ভিজিয়ে খেলে উপকার পাওয়া যাবে। এছাড়া ব্রকলি, বাঁধাকপি জাতীয় সবজিতেও প্রচুর ভিটামিন ই থাকে।


কিডনির পাথর থেকে বাঁচতে হলে শুধু ২টি কাজ করবেন


মানবাধিকার হেলথ ডেস্কঃ
আমাদের দেহের রক্ত পরিশোধনের অঙ্গ কিডনি। এছাড়াও শরীরে জমে থাকা অনেক রকম বর্জ্যও পরিশোধিত হয় কিডনির মাধ্যমে। কিডনির নানা সমস্যার মধ্যে সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে কিডনিতে পাথর হওয়া।
কিন্তু ঠিক কি কি কারণে কিডনিতে পাথর হওয়া রোধ করতে পারবেন, জানেন কি? আসুন জেনে নেয়া যাক কিডনিতে পাথর হওয়ার কারণগুলো সম্পর্কে, যা হয়তো আপনার জানা নেই। কাচা লবন খাবেন না অনেকেই খাবারে লবণ খান যা স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর। কারণ লবণের সোডিয়াম খুব সহজে কিডনি দূর করতে পারে না এবং তা জমা হতে থাকে কিডনিতে। এছাড়াও অতিরিক্ত সোডিয়াম সমৃদ্ধ খাবারের কারণেও কিডনিতে পাথর জমার সম্ভাবনা বাড়ে।
পানি পান করুন কিডনির কাজ হচ্ছে দেহের বর্জ্য ছেঁকে দেহকে টক্সিনমুক্ত করা। আর এই কাজটি কিডনি করে পানির সহায়তায়। যদি আপনি পানি পরিমিত পান না করেন তাহলে কিডনি সঠিকভাবে দেহের বর্জ্য দূর করতে পারে না যা কিডনিতে জমা হতে থাকে পাথর হিসেবে। সুতরাং পরিমিত পানি পান করুন।

 

৫টি উপায়ে শরীর রাখুন বিষমুক্ত


মানবাধিকার হেলথ ডেস্ক
শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকার জন্য শরীর বিষমুক্ত রাখা একান্ত প্রয়োজন। নিয মিত সহজলভ্য কিছু খাবার গ্রহণের মাধ্যমে আমরা আমাদের শরীর থেকে এই বিষাক্ত উপাদানগুলো দূর করতে পারি।
তিতা খাবার
তিতা খাবার আমাদের শরীর থেকে বিষাক্ত উপাদান বের করে দিতে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখতে পারে। এ ক্ষেত্রে চিরতার পানি অথবা করলা কিংবা নিমপাতার রসের জুড়ি নেই।
লেবু
লেবুতে আছে একগুচ্ছ ডিটক্স ডাইট যা টক্সিন নামক বিশেষ প্রকার জৈব, যা বিষ নির্মূলে সহায়তা করে। এছাড়া লেবুতে রয়েছে ভিটামিন সি, যা দাঁত ও ত্বকের জন্য বিশেষ উপকারী। তাছাড া লেবুর ক্ষারীয প্রভাব আপনার শরীরে অম্লতার ভারসাম্য ফিরিযে আনে। প্রতিদিন এক ফালি লেবুর সাথে গরম পানি আপনার শরীর থেকে বিষ নির্মূল করবে।
রসুন
আমরা সবাই জানি হৃৎপিণ্ডের সুস্থতার জন্য সবচেযে উপকারী খাদ্য রসুন। এতে রয়েছে এলিসিন নামক রাসায নিক উপাদান যা রক্তে শ্বেত রক্তকণিকা উৎপাদন ও টক্সিন নির্মূলে সাহায্য করে। রসুন কাচা খাওয া সবচেযে উপকারী।
গ্রিন টি
শরীর থেকে বিষাক্ত জৈব রাসায নিক নির্মূলে গ্রিন-টির কোনো বিকল্প নেই। তরল এই খাবার আমাদের শরীরের বিভিন্ন অংশের কর্মক্ষমতা বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। এটি শুধু চা নয , একে ওজন কমানোর ঔষুধও বলা চলে। এতে রয়েছে উচ্চমাত্রার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট।
টাটকা ফল
তাজা ফলে আছে ভিটামিন, খনিজ, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ফাইবার ও কম ক্যালোরি যা শরীর থেকে বিষাক্ত উপাদানগুলো নির্মূলে সাহায্য করে। সেই সঙ্গে চোখ ও ত্বককে উজ্জ্বল করে এবং হজম শক্তি বাড়ায়।

 

চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়ার পর যে পানীয় খেলে বাড়বে না ওজন


মানবাধিকার হেলথ রিপোর্টঃ
এগরোল, ফুচকা, তন্দুরি, বিরিয়ানি, পোলাও মাংস খাচ্ছেন। এসব খাবার দ্রুত ওজন বাড়ায় তা আমরা অনেকে জানি। তবে এসব খাবার খাওয়ার পরও একটি পানীয় খেয়ে আপনি ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন।
চর্বিজাতীয় খাবার শরীরে ফ্যাট বাদ দিলেও পেটের গোলমাল, গ্যাস, অম্বলের সমস্যা তো থেকেই যায়। এসব সমস্যা সরিয়ে শরীরকে সারিয়ে তুলতে ডিটক্স ডায়েট খুব ভালো কাজে দেয়।
ডিটক্স ডায়েট কী?
শরীরের অতিরিক্ত টক্সিন বা বর্জ্য পদার্থ ফ্লাশ আউট করার প্রক্রিয়াই ডিটক্সিফিকেশন। আসলে হজমে সহায়ক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে বিশ্রাম দিয়ে শরীরের টক্সিন বার করাই এই ডায়েটের মূল লক্ষ্য।
পানি, ফলের রসজাতীয় খাবারই বেশি থাকে এই ডায়েটে। বেশি পরিমাণে পানি খেলে এমনিতেই শরীরের বর্জ্য সহজে বেরিয়ে যায়। তবে অনেকেই ডিটক্স ডায়েটে তিন-চার ঘণ্টা ফাস্টিং করেন।
ডায়াটিশিয়ান সুবর্ণা রায় চৌধুরী জানান, না খেয়ে থাকাটা একদম ঠিক নয়। বরং অল্প ফলের রস, আনাজপাতিতে ভরসা রাখা যেতে পারে। শর্করা ও ফ্যাটজাতীয় খাবার খাওয়া বন্ধ করে স্বাস্থ্যকর খাবার পরিমাণে বাড়াতে হবে।
আর তিন থেকে পাঁচ দিন মতো এই ডায়েট ফলো করলেই ফল পাবেন। তবে টানা বেশি দিন এই ডায়েট শরীরের জন্য ঠিক নয়।
যে পানীয় ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখবে
রাতে এক লিটার পানিতে ২ চা চামচ আদা কুচি, একটি শসা কুচি, ২ ইঞ্চি দারুচিনি, একটি পাতিলেবুর রস ও অল্প মধু মিশিয়ে রাখুন। পরের দিন সকালে উঠে এই পানীয় ছেঁকে আরও তিন লিটার পানি মিশিয়ে সারা দিনের পানীয় তৈরি রাখুন। এই পানীয় পুরো দিন খেলে উপকার পাবেন।
যেসব ফল খেতে পারেন
১. আপেল, পেয়ারা, নাশপাতি, তরমুজ, বেদানা, আনারস, মুসাম্বি জাতীয় ফল খান। একটা করে ডাব খেতে পারেন রোজ।
২. আনাজের মধ্যে লাউ, গাজর, পেঁপে রাখবেন। লাউয়ের রস কিন্তু খুব ভালো ডিটক্স। তাই সকালে ঘুম থেকে উঠে লাউয়ের রসও খেতে পারেন।
৩. একটি পাত্রে লাউ কুরিয়ে তা চেপে রস করে নিন। এর মধ্যে পাতিলেবুর রস ও এক চিমটি লবণ মিশিয়ে খেয়ে নিন। পালংশাক, লেটুস রাখতে পারেন ডায়েটে।
 



 


Top

 

 

আইন কনিকা


 

মহামারি করোনাকালে ভার্চ্যুয়ালি ৬৯৮ শিশুর জামিন

 

মানবাধিকার হেলথ ডেস্কঃ
মহামারি করোনাকালে ভার্চ্যুয়াল শুনানি গ্রহণ করে ৪৫ কার্যদিবসে ৬৯৮ জন শিশুকে জামিন দিয়েছেন আদালত।
সুপ্রিম কোর্টের মুখপাত্র ও হাইকোর্ট বিভাগের স্পেশাল অফিসার সাইফুর রহমান জানান, ১১ মে থেকে ১৬ জুলাই পর্যন্ত মোট ৪৫ কার্যদিবসে ভার্চ্যুয়াল শুনানিতে জামিন প্রাপ্ত শিশুর সংখ্যা ৬৯৮।
এর মধ্যে অভিভাবকের নিকট বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে ৬৮৫ জনকে। বর্তমানে ৩টি কেন্দ্রে অবস্থান করছে ৮৪০ জন শিশু। ১২ মে ১৬ জুলাই পর্যন্ত কেন্দ্রে নতুন এসেছে ৪০৩ জন।
গত ৯ মে ভার্চ্যুয়াল কোর্টে শুনানির জন্য অধ্যাদেশ জারি করা হয়। পরদিন ১০ মে উচ্চ আদালতের সব বিচারপতিকে নিয়ে ভিডিও কনফারেন্সে ফুলকোর্ট সভা করেন প্রধান বিচারপতি। ওইদিনই নিম্ন আদালতের ভার্চ্যুয়াল কোর্টে শুধু জামিন শুনানি করতে নির্দেশ দেন সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন। এরপর থেকে নিম্ন আদালতে ভার্চ্যুয়াল কোর্টে জামিন শুনানি শুরু হয়। ১১ মে প্রথমবারের মতো কুমিল্লার আদালতে এক আসামির জামিন হয়।
করোনাকালে ২৬ মার্চের পর দফায় দফায় সাধারণ ছুটিরও মেয়াদ বাড়ানো হয়। সর্বশেষ গত ১৬ মে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে সাধারণ ছুটির মেয়াদ ৩০ মে পর্যন্ত বাড়ানো হয়। তবে সরকার ৩০ মে মাসের পর সাধারণ ছুটি আর না বাড়ালেও আদালত অঙ্গণে নিয়মিত কার্যক্রমের পরিবর্তে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ভার্চ্যুয়াল বিচার কাজ অব্যাহত থাকবে বলে বিজ্ঞপ্তি জারি করেন সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন।
এক সপ্তাহে ১৭৫৯০ আসামির জামিন
মানবাধিকার ল ডেস্ক
গত এক সপ্তাহে দেশের নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করে বিভিন্ন মামলার ১৭ হাজার ৫৯০ জন আসামি জামিন পেয়েছেন। এছাড়া ১ হাজার ১৭৪ জন আসামির জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আজ সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১২ই জুলাই থেকে ১৬ই জুলাই পর্যন্ত সারাদেশের অধস্তন আদালতে ৫ হাজার ৩১৯টি মামলায় আত্মসমর্পণ করে ১৭ হাজার ৫৯০ জন আসামি জামিন পেয়েছেন এবং ১ হাজার ১৭৪ জন আসামির জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

 

বিয়ে করেছেন বা করবেন, আইন-কানুন জেনে নিন


মানবাধিকার হেলথ ডেস্কঃ
বিয়ে আমাদের জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। বিয়ের মাধ্যমে দুটি জীবন এক হয়ে গড়ে তোলে স্বপ্নের মতো সুন্দর এক সংসার। বিয়ে আসলে একটি সামাজিক চুক্তিই আর সব ধর্মেই বিয়ের মাধ্যমেই স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে নারী-পুরুষের যৌথ জীবন উপভোগের।
বিয়ে করার জন্য বর ও কনে পক্ষের জন্য দেশে প্রচলিত আইনের যে বিষয়গুলো জানা গুরুত্বপূর্ণ:
- বিয়ের সময় আইনে বর্ণিত উপযুক্ত বয়স পাত্রের ২১ এবং কনের ১৮ বছর হতে হবে।
- এর কম বয়স হলে 'বাল্যবিয়ে' বলে ধরা হবে, যা বেআইনি
- বিয়ের এক পক্ষ বিয়ের প্রস্তাব দেবে, অন্য পক্ষকে তা গ্রহণ করতে হবে
- বিয়েতে দুজন সাক্ষী থাকতে হবে
- বিয়ের সময় পাত্র ও পাত্রীর মুখে উচ্চারিত 'কবুল' শব্দটি স্পষ্ট হতে হবে এবং উভয়ে কোনো রকম চাপ বা প্ররোচনা ছাড়াই তা স্বেচ্ছায় বলবে
- একই বৈঠকে বিয়ের প্রস্তাব দিতে হবে এবং গ্রহণ করতে হবে
- মুসলিম আইনে কোনো পক্ষেরই বিয়ের জন্য কোনো ধর্মীয় কিংবা সামাজিক অনুষ্ঠান বাধ্যতামূলক নয়
- কাবিননামায় স্বামী-স্ত্রীর দাম্পত্য জীবনে পালনের শর্তগুলো থাকবে
- স্বামী-স্ত্রী উভয়কেই তালাকের অধিকার উল্লেখ রাখা
- পাত্র-পাত্রীর সামাজিক ও শিক্ষাগত মর্যাদা ও আর্থিক সঙ্গতি বিবেচনা করে দেনমোহরের পরিমাণ নির্ধারণ করতে হবে
- বিয়ের প্রমাণ কাগজ-কলমে লিখে রাখাই হলো রেজিস্ট্রেশন। এটি সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ফরমে লিখিত বিয়েসংক্রান্ত দলিল, যা কাজি অফিসে সংরক্ষিত থাকে
- মুসলিম বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন আইন, ১৯৭৪-এর ধারা-৫(৪) অনুসারে, বিয়ে নিবন্ধন না করলে এর জন্য দুই বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা ৩ হাজার টাকা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা যায়।
- অনেক সময় দেখা যায় ছেলে-মেয়েরা একে অন্যকে ভালোবেসে কোর্ট ম্যারেজ করে। কিন্তু আইনে কোর্ট ম্যারেজ বলে কোনো শব্দ নেই। তাই এমন বিয়ের বৈধতাও নেই, এটি বিয়ের ঘোষণা মাত্র।
 

রিমান্ড কি মানবাধিকার পরিপন্থী?


মানবাধিকার ল ডেস্ক
কোনও আসামিকে গ্রেফতার করার পর তথ্য উদঘাটনের জন্য পুলিশ ওই আসামিকে ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত নিজ হেফাজতে রাখতে পারেন। তারপর আইন অনুযায়ী তাকে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করতে হয়। ওই সময়ের মধ্যে মামলা সম্পর্কে তথ্য উদঘাটন সম্ভব না হলে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আবেদন জানিয়ে আসামিকে রিমান্ডে নেয়া যায়।
এ রিমান্ডের আবেদন মঞ্জুর করা না করা এবং করলে কয়দিনের জন্য তা ম্যাজিস্ট্রেটের বিবেচনামূলক ক্ষমতার ওপর নির্ভর করে। একাধিকবারও পুলিশ আসামিকে রিমান্ডে নিতে পারেন। তবে সর্বসাকুল্যে একটি ঘটনার জন্য ১৫ দিনের বেশি রিমান্ডে রাখা যায় না।
আসামির রিমান্ড মঞ্জুরের আগে ম্যাজিস্ট্রেটকে অবশ্যই পুলিশ ডায়েরি (সিডি) দেখতে হবে, যাতে আসামির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ এবং প্রাপ্ত সাক্ষ্য সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়। এছাড়া রিমান্ডের আবেদন যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে দায়ের করা হয়েছে কিনা, আসামি শারীরিকভাবে সুস্থ কিনা এসব বিষয় ম্যাজিস্ট্রেটকে দেখতে হবে। ম্যাজিস্ট্রেট রিমান্ড মঞ্জুর করলে ওই আদেশ উপরস্থ ম্যাজিস্ট্রেট এবং এসপিকে (পুলিশ সুপার) জানানোর নির্দেশ দেবেন। রিমান্ড মঞ্জুর করলে অর্ডার শিটে যথাযথ কারণ লিপিবদ্ধ করবেন। এছাড়া রিমান্ড মঞ্জুরের সময় আসামিকে হাজির করা হয়েছে কিনা সে বিষয়টিও ম্যাজিস্ট্রেটকে দেখতে হবে। চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, প্রথম শ্রেণীর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এবং সরকার কর্তৃক বিশেষ ক্ষমতাপ্রাপ্ত দ্বিতীয় শ্রেণীর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের এ রিমান্ড মঞ্জুর করার ক্ষমতা রয়েছে।
বর্তমানে এ রিমান্ড রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহত হচ্ছে। মানুষ পেটানোর হাতিয়ার এই রিমান্ড। মানুষকে রিমান্ডে নিয়ে পিটিয়ে তথ্য আদায় করা হয়। এর ফলে রিমান্ডকে মানবাধিকারের পরিপন্থী বলে দাবি করেন মানবাধিকারকর্মীরা।

 

যৌতুকের মিথ্যা মামলার শাস্তি ৫ বছর রেখে আইন পাস



যৌতুক দেওয়া-নেওয়া এবং যৌতুক নিয়ে মিথ্যা মামলার ক্ষেত্রে পাঁচ বছরের জেল ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রেখে সংসদে যৌতুক নিরোধ বিল-২০১৮ পাস হয়েছে। ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮ মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি জাতীয় সংসদে বিলটি পাসের প্রস্তাব করলে কণ্ঠভোটে তা পাস হয়।
কারও ক্ষতি করার জন্য যৌতুকের মামলা বা অভিযোগ করলে পাঁচ বছরের জেল অথবা ৫০ হাজার টাকা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রাখা হয়েছে পাস হওয়া বিলে। আগের আইনে যৌতুক নিয়ে মিথ্যা মামলার জন্য কোনও দণ্ডের বিধান ছিল না।
বিলে বলা হয়েছে, যদি কোনও এক পক্ষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অন্য পক্ষের কাছে যৌতুক দাবি করে তবে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কিন্তু সর্বনিম্ন এক বছরের জেল বা ৫০ হাজার টাকার জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। যৌতুক গ্রহণ বা প্রদান করলেও একই ধরনের সাজা হবে।
এতে বলা হয়েছে, এই আইনের অধীন সংঘটিত অপরাধ আমলযোগ্য ও জামিন অযোগ্য হবে। তবে আপসযোগ্য হবে।
এর আগে বিলের ওপর দেওয়া জনমত যাচাই, বাছাই কমিটিতে পাঠানো এবং সংশোধনী প্রস্তাবগুলোর নিষ্পত্তি হয়। গত ২৫ জুন বিলটি সংসদে তোলার পর তা পরীক্ষা করে সংসদে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।
১৯৮০ সালের এ সংক্রান্ত আইন বাতিল করে নতুন করে আইন করতে বিলটি তোলা হয়েছে সংসদে। ১৯৮০ সালের ওই আইন ১৯৮২, ১৯৮৪ ও ১৯৮৬ সালে অধ্যাদেশের মাধ্যমে সংশোধন করা হয়।

 

Top
 

 


 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 
   

                                                     Copy Right : 2001 BHRC  All rights reserved.