BHRC By-lawsBHRC Press ReleaseBHRC By-lawsBHRC ConferenceIHRCIRD ActivitiesLegal StatusBHRC BoardBHRC BranchesElection Monitoring Acid and Trauma VictimsBHRC BrochureBHRC Forms

ContactHOME

 

 

 

Cover May 2016

English Part May 2016

 

Top

 

Bangla Part

         নারী ও শিশু সংবাদ        পুলিশ ও কারাগার সংবাদ

স্বাস্থ্য সংবাদ          আইন কনিকা

 

বিবিধ সংবাদ

 

নারীর সমঅধিকারের প্রতিবন্ধকতা দূর করব: প্রধানমন্ত্রী

 

 

মানবাধিকার রিপোর্টঃ
সমাজ ও রাষ্ট্রের সব পর্যায়ে নারী-পুরুষের সমতা আনতে সব বাধা দূর করার অঙ্গীকার করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
১৯ মে ২০১৬ বুলগেরিয়ার সোফিয়ায় গ্লোবাল উইমেন লিডারস ফোরামের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্যে তিনি এ অঙ্গীকার করেন।
ইউরোপ সফরে লন্ডন থেকে সোফিয়া গিয়ে বুলগেরিয়ার প্রেসিডেন্ট রোসেন প্লিভনিলিয়েভের সঙ্গে বৈঠকের পর ফোরামের অনুষ্ঠানে যান তিনি।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। জাতিসংঘ সংস্থা ইউনিসেফের মহাপরিচালক ইরিনা বোকোভার বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শুরু হয় এই অনুষ্ঠান।
বাংলাদেশের তিন বারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নারীর ক্ষমতায়নে তার নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে বলেন, নারী ও পুরুষের সমতা প্রতিষ্ঠায় যত প্রতিবন্ধকতা আছে, সব দূর করার অঙ্গীকার রয়েছে আমার।
নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে বাংলাদেশকে দৃষ্টান্ত হিসেবে তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে বাংলাদেশই সম্ভবত একমাত্র দেশ যেখানে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা, সংসদ উপনেতা, বিরোধীদলীয় নেতা ও স্পিকার নারী।
বাংলাদেশের বর্তমান সংসদে ৭০ জন নারী সদস্যের উপস্থিতির কথা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, এ সংখ্যা মোট সংসদ সদস্যের ২০ শতাংশ।
২০২০ সাল নাগাদ বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দলের সব পর্যায়ের কমিটিতে ৩০ শতাংশ নারী সদস্য থাকার বিষয়ে বাধ্যবাধকতা আরোপের বিষয়টিও বৈশ্বিক এই সম্মেলনে তুলে ধরেন তিনি।
এছাড়া স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে নারী ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচন, তৃণমূলে ইউনিয়ন পরিষদে নারীদের জন্য এক তৃতীয়াংশ আসন সংরক্ষণের কথাও বলেন তিনি।

 

 

 সুপ্রীম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়
বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তার করা যাবে না

মানবাধিকার রিপোর্টঃ
৫৪ ধারায় বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতার এবং ১৬৭ ধারায় রিমান্ড আইন সংশোধন সংক্রান্ত হাইকোর্টের নির্দেশনার বিরুদ্ধে সরকারের করা আপিল খারিজ করে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ঐতিহাসিক রায় দিয়েছে। তবে আদালত বলেছেন, হাইকোর্টের রায়ে যেসব নির্দেশনা ও সুপারিশ করা হয়েছিল সেগুলো সংশোধন করে নীতিমালা আকারে প্রকাশ করা হবে। এই নীতিমালা সকলকে অনুসরণ করতে হবে। প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের চার বিচারপতির বেঞ্চ আজ সকালে এই রায় দেন। রায়ের পর সিনিয়র আইনজীবী ড. কামাল হোসেন বলেন, সরকারের আপিল খারিজ করে দেয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছিল, তা সংশোধন করে দেবে আপিল বিভাগ।
এর আগে গত ১৭ মে আপিলের ওপর রাষ্ট্র ও রিটকারীর পক্ষের আইনজীবীদের শুনানি শেষ হয়।
উল্লেখ্য, ১৯৯৮ সালে ডিবি পুলিশ ঢাকার সিদ্ধেশরী এলাকা থেকে ইনডিপেন্ডেন্ট ইউনির্ভাসিটির ছাত্র শামীম রেজা রুবেলকে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার করে। পরে পুলিশ হেফাজতে থাকা অবস্থায় রুবেল মারা যায়। পুলিশ হেফাজতে রুবেলের মৃত্যুর ঘটনায় বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাষ্ট্র (ব্লাষ্ট) সহ কয়েকটি মানবাধিকার সংগঠন রিট আবেদন দায়ের করে।
২০০৩ সালের ৭ এপ্রিল বিচারপতি মো. হামিদুল হকের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেফতার ও রিমান্ড সংক্রান্ত ১৬৭ ধারার বিধান ৬ মাসের মধ্যে সংশোধনে এক যুগান্তকারী রায় দেন। পাশাপাশি উক্ত ধারা সংশোধনের পূর্বে হাইকোর্টের কয়েক দফা নির্দেশনা মেনে চলার জন্য সরকারকে নির্দেশ দেয়া হয়।
হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে ২০০৪ সালে আপিল দায়ের করে চার দলীয় জোট সরকার। তখন আপিল বিভাগ লিভ পিটিশন মঞ্জুর করলেও হাইকোর্টের নির্দেশনাসূমহ স্থগিত করেনি। কিন্তু দীর্ঘ ১৩ বছর ওই আপিল ঝুলে থাকার পর বর্তমান প্রধান বিচারপতি দায়িত্ব গ্রহনের মাধ্যমে কয়েক দফা এটি শুনানিতে আসে।

 

 সর্বস্তরে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে সিলেট বিভাগীয় মানবাধিকার সম্মেলন শেষ হয়েছে
 

মানবাধিকার রিপোর্টঃ
সর্বস্তরে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের সিলেট বিভাগীয় মানবাধিকার সম্মেলন-২০১৬ আগামী ৭ মে ২০১৬ রোজ শনিবার সকাল ৯:৩০টায় সিলেট জেলা পরিষদ মিলনায়তনে শেষ হয়েছে। সিলেট বিভাগীয় সমন্বয়কারী ড. আর.কে. ধর এর সভাপতিত্বে সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফের ড. মোঃ আমিনুল হক ভুইয়া। সম্মেলন উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের কেন্দ্রীয় গভর্ণর জেনারেল/মহাসচিব ড. সাইফুল ইসলাম দিলদার।
সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সংসদ সদস্য এডভোকেট হোসনে আরা লুৎফা ডালিয়া এমপি, এডভোকেট সফুরা বেগম এমপি, এডভোকেট শামসুন্নাহার বেগম এমপি, এডভোকেট দিলারা বেগম এমপি, মানবতাবাদী সিকান্দার আলী জাহিদ, বিশেষ প্রতিনিধি- ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ এবং আক্তারুজ্জামান বাবুল, সভাপতি- ঢাকা মহানগর উত্তর। সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন সিলেট অঞ্চলের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী আলহাজ্ব আতাউর রহমান। বিশেষ আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন এ্যাম্বাসেডর মোহাম্মদ শহীর রহমান, যুক্তরাজ্যের ইস্ট ইংলিয়ানা শাখার সভাপতি তৌফিকুর রহমান লাকি, সিলেট বিভাগীয় বিশেষ প্রতিনিধি মনোরঞ্জন তালুকদার, সিলেট জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সুফিয়া ইকবাল খান, উত্তর বঙ্গের বিশেষ প্রতিনিধি নুরুনব্বী বুলু, টাঙ্গাইল আঞ্চলিক সমন্বয়কারী বীরমুক্তিযোদ্ধা মিজানুর রহমান, কুমিল্লা আঞ্চলিক শাখার সভাপতি মোঃ মাহমুদুল হাসান রুম্মান, মৌলভীবাজার জেলা শাখার সভাপতি এডভোকেট কিশোরী পদ দেব শ্যামল, সাধারণ সম্পাদক মোঃ শাহীন, সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি ফৌজিয়া বেগম শাম্মী, সাধারণ সম্পাদক আল হেলাল, হবিগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি হারুন-অর রশিদ, সাধারণ সম্পাদক এসএম খোকন, ঢাকা মহানগর বৃহত্তর মিরপুর আঞ্চলিক শাখার সাধারণ সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া মোল্লা প্রমুখ।
সম্মেলনে সিলেট জেলা, সিলেট মহানগর হবিগঞ্জ জেলা, সুনামগঞ্জ জেলা এবং মৌলভীবাজার জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও পৌরসভা শাখার সহস্রাধিক মানবাধিকার কর্মী এই সম্মেলনে যোগ দেন।

 

 সাংবাদিক, আইনজীবী ও পুলিশের স্টিকার গাড়িতে ব্যবহার করলেই ব্যবস্থা
 

 

মানবাধিকার রিপোর্টঃ

পুলিশ, আইনজীবী, সাংবাদিক, চিকিৎসক ও সিটি করপোরেশন লেখাসহ যানবাহনে কোনো ধরনের আলগা স্টিকার লাগানো যাবে না। কেউ যদি স্টিকার লাগান তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে প্রতিষ্ঠানের নামাঙ্কিত নির্দিষ্ট স্টিকার লাগানো যাবে বলে জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া। গত ৪ মে ২০১৬ দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, নিরাপত্তার স্বার্থে মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাসসহ সব ধরনের যানবাহনে স্টিকার লাগাতে নিষেধ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আগেই সার্কুলার জারি করা হয়েছে। তারপরও এ আদেশ অনেকে মানছেন না। এখন থেকে এ ধরনের স্টিকার ব্যবহারকারী গাড়ির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া হাইড্রোলিক হর্ন, হুটার বা বিকন লাইটের ব্যবহার এবং উল্টো পথে যানবাহন চলতে দেওয়া হবে না।

 

 সবার জন্য মান বাধিকার ব্যক্ত রংপুর আঞ্চলিক মানবাধিকার সম্মেলন অনুষ্ঠিত
 


মানবাধিকার রিপোর্ট
সবার জন্য মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে গত ১৪ মে ২০১৬ বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের রংপুর আঞ্চলিক মানবাধিকার সম্মেলন-২০১৬ রংপুর টাউন হলে অনুষ্ঠিত হয়। রংপুর অঞ্চলের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী এডভোকেট জিয়াউল হাসান জিয়ার সভাপতিত্বে সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সংসদ সদস্য এডভোকেট হোসনে আরা লুৎফা ডালিয়া। সম্মেলন উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের কেন্দ্রীয় গভর্ণর জেনারেল/মহাসচিব মানবতাবাদী ড. সাইফুল ইসলাম দিলদার।
সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সংসদ সদস্য এডভোকেট সফুরা বেগম। সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন রংপুর জেলা শাখার সভাপতি এডভোকেট দীপক কুমার সাহা। সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন কমিশনের রংপুর মহানগর শাখার সভাপতি এডভোকেট শফিকুল ইসলাম মুকু, সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আতিকুল আলম কল্লোল, নীলফামারী জেলা শাখার সভাপতি মোঃ আব্দুল জলিল, সাধারণ সম্পাদক মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান দুলাল, লালমনিরহাট জেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক হাবিবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক এসএম শফিকুল ইসলাম কানু, কুড়িগ্রাম জেলা শাখার সভাপতি অধ্যক্ষ এসএম আব্রাহাম লিংকন, সাধারণ সম্পাদক মোঃ নজরুল ইসলাম প্রমুখ। সম্মেলনে রংপুর জেলা ও মহানগর, নীলফামারী, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট এবং কুড়িগ্রাম জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও পৌরসভা শাখার পাঁচশতাধিক মানবাধিকার কর্মী এই সম্মেলনে যোগ দেন।
 

স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ প্রত্যাশা জাতিসংঘেরী


মানবাধিকার রিপোর্ট
বাংলাদেশ সরকার সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ সৃষ্টি করবে বলে জাতিসংঘের প্রত্যাশা। গত ১৩ মে ২০১৬ রাতে নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফান ডুজারিচ এ কথা জানান। মানবতাবিরোধী অপরাধে মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসির প্রতিক্রিয়ায় তুরস্ক বাংলাদেশ থেকে রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করে নিয়েছে বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্স যে খবর দিয়েছে সেটিকেও বাংলাদেশ ও তুরস্কের দ্বিপক্ষীয় বিষয় বলে তিনি মন্তব্য করেন। রয়টার্স রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহারের খবর দিলেও তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, প্রত্যাহার নয়, পরামর্শের জন্য রাষ্ট্রদূতকে আঙ্কারায় ডেকে পাঠানো হয়েছে। জাতিসংঘ সদর দপ্তরের ব্রিফিংয়ে একজন সাংবাদিক গত ১৫ মে ২০১৬ বাংলাদেশ নিয়ে নিউ ইয়র্ক টাইমসের বাংলাদেশ অরাজকতার দিকে যাচ্ছে শীর্ষক সম্পাদকীয়র বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, এলজিবিটি সম্পাদক জুলহাজ মান্নান, ব্লগার হত্যা, বিচারবহির্ভূত হত্যা এবং সরকারি হয়রানি চলছেই।
বিশেষ করে, বাংলাদেশে ৮২ বছর বয়সী একজন সম্পাদক, বাংলাদেশ সাংবাদিক ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট কারাগারে আছেন। বাংলাদেশে এসব হচ্ছে। অরাজকতা থেকে বাংলাদেশকে উদ্ধারে কী করা যায়? জবাবে মুখপাত্র বলেন, আমি মনে করি, বাংলাদেশে ব্লগার ও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে যে সুনির্দিষ্ট সহিংসতা আমরা দেখেছি সে বিষয়ে মহাসচিব ও জাতিসংঘের বিভিন্ন মানবাধিকার প্রতিষ্ঠান উদ্বেগ জানিয়েছে।

 

মে দিবস স্মরণে গাজীপুরে মানবাধিকার কমিশনের
বিশাল সমাবেশ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত


মানবাধিকার রিপোর্ট
মহান মে দিবস উপলক্ষে ২৭ মে ২০১৬ বিকেলে বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন ইঐজঈ গাজীপুর আঞ্চলিক শাখার এক বিশাল আলোচনা সভা এবং শ্রমিক সমাবেশে ইঐজঈ'র মহাসচিব ড. সাইফুল ইসলাম দিলদার প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন। সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি ও প্রাক্তন মেয়র এ্যাডভোকেট আজমত উল্লাহ, ইঐজঈ ঢাকা উত্তরের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী প্রকৌশলী মীর আমিরুজ্জামান সন্ধ্যা, ইঐজঈ'র বিশেষ প্রতিনিধি মোঃ মেরাজ উদ্দিন, ঢাকা বিভাগ শ্রমিক লীগ এর সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম, গাজীপুর জেলা আওয়ামী লীগ এর সহ-সভাপতি এডভোকেট শফিকুল ইসলাম বাবুল, গাজীপুর মহানগরের কাউন্সিলর গিয়াস উদ্দিন মোল্লা, কাউন্সিলর দবির উদ্দিন, কাউন্সিলর মাহমুদা আক্তার মুক্তি, কাউন্সিলর পারভীন আক্তার, গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা মীর আসাদুজ্জামান তুলা, মোঃ রেজাউল করিম মন্ডল সহ প্রায় ৫০ জন মানবাধিকার নেতা, শ্রমিক নেতা, আইনজীবি ও পেশাজীবি নেতা বক্তব্য রাখেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. সাইফুল ইসলাম দিলদার বলেন, মানবাধিকার আন্দোলনকে বেগবান করতে হলে শ্রমিক ও পেশাজীবীদের সাথে নিয়ে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তিনি বলেন, ১৮৮৬ সালে ১লা মে শ্রমিকের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে আমেরিকার শিকাগো শহরে শ্রমিকের বলিদানের পর শ্রমজীবী মানুষের ৮ ঘন্টা কর্মসময় রাষ্ট্র এবং প্রতিষ্ঠানের মালিকগণ মেনে নিতে বাধ্য হয়। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রয়ারি বাংলা ভাষার জন্য বাঙালী ছাত্ররা প্রাণ দিয়ে বাংলা ভাষাকে বিশ্বময় স্বীকৃতি লাভ করান। ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে লক্ষ শহীদের জীবনের বিনিময়ে বাংলাদেশ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে রূপ লাভ করে। অধিকার তথা মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার েেত্র মানুষের রক্ত ঝরা ইতিহাস স্মরণীয় হয়ে থাকবে। মানবাধিকার কমিশনের মহাসচিব আরও বলেন, মানবাধিকার প্রতিটি মানুষের যেমন রয়েছে, তেমনি প্রতিটি মানুষকে মানবতার কল্যাণে কাজ করার কথা বলা হয়েছে। প্রতিটি ধর্মেই মানবতার সেবাকে সর্বোচ্চ সেবা বলে বর্ণনা করেছে। সৎ উপার্জন এবং অপরের কল্যাণেই মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা তথা একজন মানবতাবাদী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করা যায়। মৃত্যুর পরেও যেন একজন মানবতাবাদী মানুষ হিসেবে মানুষের চোখের জলে স্মরণ করা হয় এটাই সকলের প্রত্যাশা করা উচিত।
গাজীপুরের কাশিমপুর খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত সমাবেশে তিন সহস্রধিক মানবাধিকার নেতা ও শ্রমিক যোগ দেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় আলোচনা সভা শেষে মধ্যরাত পর্যন্ত এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
 

১৭৯ বছরের বৃদ্ধ

মানবাধিকার রিপোর্টঃ
তাঁর নাতি-নাতনিরাও কেউ এখন আর বেঁচে নেই। অথচ মৃত্যু তাঁকে স্পর্শ করেনি। আক্ষেপ করে ১৭৯ বছরের বৃদ্ধ বলেন, যমে বোধহয় আমাকে নিতে ভুলে গিয়েছে। শুধু ভারত কিংবা বিশ্বেই নয়, সমগ্র মানবজাতিতে ১৭৯ বছরের এই বৃদ্ধই নাকি প্রবীণতম! তাঁর নাম রয়েছে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডেও।
মহাশতা মুরাসির জন্ম ১৮৩৫ সালে, ভারতের বেঙ্গালুরুতে। এমনটাই দাবি ওয়ার্ল্ড নিউজ ডেইলি রিপোর্ট ডট কমের। তবে এ খবরের সত্যতা কতটা, তা তর্কযোগ্য। ওয়েবসাইটির আরও দাবি, মুরেসি নাকি এখন দুঃখ করে বলেন, আমার চোখের সামনে আমার নাতি-নাতনিরা মারা গিয়েছে। কিন্তু আমাকে মৃত্যু গ্রাস করেনি। আমি তাই মরার আশা ছেড়ে দিয়েছি।
 

বিশ্বের প্রধান সমস্যাগুলোর মধ্যে শরণার্থী সমস্যা অন্যতম


মানবাধিকার রিপোর্টঃ
নিজ দেশে ও বিশ্বময় নানাবিধ হানাহানির পরিণতিতে নিজ দেশ ছেড়ে পরদেশে শরণার্থী হওয়ার দুর্বিপাকে পড়ে আছে বিশ্বের ৬০ মিলিয়ন মানুষ। ভাগ্যহত এসব মানুষজন বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই শরণার্থী শিবির নামক অস্থায়ী বাসস্থানে মানবেতর জীবন-যাপনে বাধ্য হচ্ছে। শরণার্থী গ্রহণ-প্রত্যাখ্যান নিয়ে ইদানীং তুলকালাম চলছে নানা দেশে। এমতাবস্থায় শরণার্থী ও শরণার্থী শিবির বিষয়ক বর্তমান উদ্যোগগুলির অবসান ও সম্পূর্ণ নূতন অবস্থান নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান দ্য ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটি (আইআরসি) এর শীর্ষ নির্বাহী ডেভিড মিলিব্যান্ড। সন্দেহ নেই যে, মিলিব্যান্ড যে প্রস্তাব তুলেছেন তা পশ্চিমা বিশ্বে ঝড় তুলবে। তাহার মতে, ধনী দেশগুলির উচিত হবে ৬০ মিলিয়নের মধ্যে সর্বাধিক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা ১০ শতাংশ শরণার্থীকে আশ্রয় দেওয়া। উপরন্তু যেসব দরিদ্র দেশ শরণার্থীদিগকে আশ্রয় দান করছে, সেসব দেশের জন্য অর্থনৈতিক সহায়তা প্রদানের আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি। উল্লেখ্য, অর্থনৈতিকভাবে অনগ্রসর যে সব দেশে শরণার্থী আশ্রয় নিয়েছে, সেসব দেশে ইতোমধ্যে দেখা দিতে শুরু করেছে রাজনৈতিক সংকট। কোনো কোনো দেশের ক্ষমতাসীন দল বিরোধীদের সমালোচনার মুখে শরণার্থীদিগকে নিজ-নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়ে দেবার অঙ্গীকার করেছে। ফেরত পাঠানো হলে শরণার্থীরা আদৌ বেঁচে থাকবেন কিনা, সে প্রশ্নের তোয়াক্কা করা হচ্ছে না। উদাহরণস্বরূপ, কেনিয়ার দাব্বাব শরণার্থী শিবিরে অবস্থানরত প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ সোমালিয় শরণার্থীকে নানা অজুহাতে দেশে ফেরত পাঠিয়ে দিবার আওয়াজ তুলছে কেনিয়া সরকার। দাব্বাব বিশ্বের সর্ববৃহৎ শরণার্থী শিবির। আইআরসি এর মতে শরনার্থীদিগকে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়ার সংস্কৃতিটি পরিস্থিতিকে খারাপ বৈ ভালো কিছু করবে না। বাংলাদেশ প্রায় ৫ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা শরণার্থী রয়েছে। ছোট এই দেশটির বড় সমস্যা হিসাবে দাড়িয়েছে এই রোহিঙ্গা সমস্যাটি।
 

রাগীব আলীর অবৈধ দখল থেকে তারাপুর চা বাগান মুক্ত হল


মানবাধিকার রিপোর্টঃ
সিলেটে রাগীব আলীর অবৈধ দখলে থাকা তারাপুর চা বাগানের ভূমি উদ্ধারে জেলা প্রশাসনের অভিযান -যুগান্তর
জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে সিলেটে কথিত দানবীর রাগীর আলীর অবৈধ দখলে থাকা তারাপুর চা বাগান অবশেষে দখলমুক্ত হল। সুপ্রিমকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী ১৫ মে ২০১৬ সকালে জেলা প্রশাসন তারাপুর চা বাগানের দখল বুঝিয়ে দেয় সেবায়েত পংকজ কুমার গুপ্তকে। তবে প্রথম দফায় উদ্ধার অভিযানে শুধু চা বাগান উদ্ধার করা হয়। পর্যায়ক্রমে চা বাগানে গড়ে উঠা রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজসহ অবৈধ স্থাপনাগুলো আগামী ৬ মাসের মধ্যে অপসারণ করা হবে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।
১৫ মে ২০১৬ সকাল ১০টা থেকে অভিযানে নামে জেলা প্রশাসন। এর আগ থেকে চা বাগান এলাকায় নেয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। অভিযানকালে উপস্থিত ছিলেন সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব), উপজেলা নির্বাহী অফিসার, র‌্যাব ও পুলিশের কর্মকর্তারা। অভিযানকালে শুধু চা বাগান উদ্ধার করা হয়। সিলেট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মীর মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান জানান, সকালে বাগান দখলমুক্ত করতে অভিযানে নামে প্রশাসন। ১৫ মে ২০১৬ শুধু চা বাগান দখলমুক্ত করা হয়। পরে বাগানের সব অবৈধ স্থাপনা অপসারণে অভিযান চালানো হবে। আদালতের বেঁধে দেয়া ৬ মাস সময়সীমার মধ্যেই স্থাপনাগুলো অপসারণ করা হবে বলে জানান তিনি।
চা বাগানের সেবায়েত পংকজ কুমার গুপ্ত বলেন, জেলা প্রশাসন শুধু বাগানের ভূমি সরেজমিন দখল বুঝিয়ে দিয়েছে। কিন্তু এসব ভূমির ওপর অবৈধভাবে বসবাসকারীদের সরানো হয়নি। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী ৬ মাসের মধ্যে রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ সব অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করে বুঝিয়ে দেয়ার কথা রয়েছে।
প্রায় হাজার কোটি টাকার এ দেবোত্তর সম্পত্তি দীর্ঘদিন থেকে রাগীব আলীর দখলে ছিল। সম্প্রতি উচ্চ আদালতের এক রায়ে বলা হয়, রাগীব আলীর প্রতারণার মাধ্যমে এ বাগান দখল করেছেন।
সৌজন্যেঃ দৈনিক যুগান্তর

 


তরুণরাই গড়বে নতুন পৃথিবী
ড. মুহাম্মদ ইউনুস

মানবাধিকার রিপোর্টঃ
নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস, ওয়েলেসলির ঐতিহ্যবাহী ব্যবসন কলেজে সমাবর্তন বক্তৃতা দিয়েছেন। ১৪ মে কলেজের ২০১৬ সালের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে তিনি এই বক্তৃতা দেন। তিনি বলেন, তরুণরাই গড়বে নতুন পৃথিবী। ইউনুস সেন্টার এ তথ্য জানিয়েছে।
শতবর্ষ পুরনো ব্যবসন কলেজের এই অনুষ্ঠানে প্রায় পাঁচ হাজার অতিথি উপস্থিত ছিলেন। অধ্যাপক ইউনূস তার বক্তৃতায় তরুণদের সীমাহীন সৃষ্টিশীলতা নিয়ে কথা বলেন এবং মানুষের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে তাদের ক্ষমতা ব্যবহার করতে তরুণ গ্র্যাজুয়েটদের উদ্বুদ্ধ করেন। তিনি তাদের শুধু নতুন নতুন প্রযুক্তির সুবিধাভোগী হয়ে তৃপ্ত থাকতে নয়, বরং সম্ভাব্য স্বল্পতম সময়ে শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব ও শূন্য নিট কার্বন নিঃসরণ এই তিনটি শূন্যর এক নতুন পৃথিবী গড়ে তুলতে যুগান্তকারী সব প্রযুক্তি উদ্ভাবনের আহ্বান জানান। তিনি সমাজের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে তাদের সৃষ্টিশীল ক্ষমতার প্রায় সবটুকু প্রয়োগ করতে এবং ব্যক্তিগত আরাম-আয়েশের পেছনে এর সামান্য অংশ ব্যয় করতে অনুপ্রাণিত করেন।
 

হত্যার আগে তনুকে গণধর্ষণ করা হয়
ডিএনএ প্রতিবেদনে পাওয়া গেছে আলামত

মানবাধিকার রিপোর্টঃ
হত্যার আগে তনুকে গণধর্ষণ করা হয় ]
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনুর ডিএনএ প্রতিবেদন নিয়ে অবশেষে মুখ খুলেছে তনু হত্যা মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। হত্যার আগে তনুকে গণধর্ষণ করা হয়েছে।
ডিএনএ প্রতিবেদনে তনুর কাপড় ও শরীর থেকে তিন ব্যক্তির আলামত মিলেছে। সোমবার রাত ৮টায় কুমিল্লা সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার ড. নাজমুল করিম খান বিষয়টি নিশ্চিত করে ডিএনএ প্রতিবেদনে থাকা এসব তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি আরও জানান, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের ডিএনএ প্রতিবেদন সরবরাহ করতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
২০ মার্চ ২০১৬ সোহাগী জাহান তনুকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকার একটি জঙ্গলে লাশ ফেলে দেয় ঘাতকরা।
পুলিশ, ডিবির পর বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। ২৮ মার্চ ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের জন্য তনুর লাশের দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের জন্য আদালতে আবেদন করে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। ৩০ মার্চ তনুর লাশের দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়। ৪ এপ্রিল কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগ থেকে দেয়া প্রথম ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে তনুকে হত্যা এবং ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়। কিন্তু ডিএনএ রিপোর্টে তনুকে ধর্ষণের আলামত মিলেছে বলে সোমবার রাতে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার সাংবাদিকদের কাছে এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি আরও জানান, ডিএনএ রিপোর্টে পৃথক তিন ব্যক্তির আলামত পাওয়ার পাশাপাশি যে রক্ত পাওয়া গেছে তা ছিল তনুর রক্ত। সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার আবদুল কাহার আকন্দ যুগান্তরকে বলেন, সিআইডির ফরেনসিক ল্যাবে ডিএনএ টেস্টে তনুকে গণধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে।


পাম্পের গর্তে পড়ে শিশুর প্রাণহানী

মানবাধিকার রিপোর্টঃ
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের হায়দারাবাদ সুকন্দিরবাগ এলাকায় পানির পাম্প স্থাপনের জন্য তৈরি করা গর্তে পড়ে অকালে ঝরে গেল এক শিশু শিক্ষার্থীর প্রাণ। শিশুটির নাম রুমানুল হোসেন (৬) । গতকাল শনিবার সকালে এই ঘটনা ঘটে। ওই গর্তে পড়ে আহত হয়েছে হাসিবুল ইসলাম সানি (৬) নামের আরেক শিশু। তারা উভয়ই স্থানীয় হায়দারাবাদ আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজের নার্সারি শ্রেণির ছাত্র।


 

বজ্রাঘাতে ৫৩ জনের প্রাণহানি


মানবাধিকার রিপোর্টঃ
দেশের বিভিন্ন স্থানে বজ্রাঘাতে ২০ মে ২০১৬ আরো ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছে শিশু, ছাত্র, দিনমজুর ও কৃষক। এর আগের দিন ১৯ মে ২০১৬ দেশের বিভিন্ন স্থানে বজ্রাঘাতে ৩২ জনের মৃত্যু হয়। এ নিয়ে গত দুই দিনে ৫৩ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটল।
১৯ মে ২০১৬ বজ্রাঘাতে জয়পুরহাট, নওগাঁ, ভূঞাপুর, সুনামগঞ্জ, রাজবাড়ী ও কিশোরগঞ্জে দুজন করে মারা গেছে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম, গোয়ালন্দ, নারায়ণগঞ্জ, নোয়াখালী, হবিগঞ্জ, সাভার, মাগুরা, ধামরাই ও যশোরে মারা গেছে একজন করে। বিস্তারিত প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে।
জয়পুরহাট সদর উপজেলার সতীঘাটা ও ক্ষেতলাল উপজেলার হাওয়ার বিল এলাকায় জমিতে ধান কাটতে গিয়ে বজ্রাঘাতে দুই দিনমজুরের মৃত্যু হয়। তাঁরা হলেন কুড়িগ্রামের নাগেশ্বর উপজেলার ঢেকেরপার গ্রামের রফিকুল ইসলাম (৩৫) ও ক্ষেতলাল উপজেলার ঘুগইল গ্রামের মানিক হোসেন (৩৮)।
নওগাঁর পোরশা উপজেলায় বজ্রাঘাতে ইব্রাহীম (১৩) নামের এক শিশু মারা গেছে। সে উপজেলার নিতপুর কপালীর মোড় দীঘিপাড়া গ্রামের গোলজারের ছেলে। এলাকাবাসী জানায়, গত ২০ মে ২০১৬ সকালে বাগানে আম কুড়াচ্ছিল ইব্রাহীম। সেখানে বজ্রাঘাতে তার মৃত্যু হয়। প্রায় একই সময় মহাদেবপুর উপজেলার ধনজইল গ্রামে মৃত্যু হয় কৃষক শচীন মুহুরির (৪৮)। এ সময় তিনি জমিতে কৃষিকাজ করছিলেন।
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার অলোয়া ইউনিয়নের খরক গ্রামে আনিছুর রহমান (১১) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র আনিছুর ক্ষেত থেকে ধান নিয়ে বাড়ি ফেরার সময় বজ্রাঘাতের শিকার হয়। এ ছাড়া একই সময়ে ভূঞাপুর পৌর এলাকার পলশিয়া গ্রামে মারা গেছে মোখলেছুর রহমানের মেয়ে লিমা (১৪)।
রাজবাড়ীর কালুখালীতে বজ্রাঘাতে দুই কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। তাঁরা হলেন রতনদিয়া ইউনিয়নের হরিণবাড়িয়া গ্রামের বিল্লাল ব্যাপারী (৩৩) এবং ভাগলপুর গ্রামের জাহের সেখ। এর মধ্যে বজ্রপাতের সময় বিল্লাল সেখ পাটক্ষেতে সেচ দিচ্ছিলেন আর জাহের মারা যান ধান কাটতে যাওয়ার সময়।
কিশোরগঞ্জে বজ্রাঘাতে আরো দুজনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে তাড়াইল উপজেলার ধলা ইউনিয়নে মৃত্যু হয় আরমান মিয়ার। আর ইটনা উপজেলার শিমুলবাগে মৃত্যু হয়েছে তারু মিয়ার। আরমানের বাড়ি নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার গগড়া মোজাফফরপুর গ্রামে।

 

 নারী কাউন্সিলদের উপর বঞ্চনা
নারী কাউন্সিলরদের উন্নয়সহ আরও ক্ষমতা দিন


মানবাধিকার রিপোর্টঃ

সংরক্ষিত নারী আসনে সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হলেও দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে বঞ্চনার অবসান এখনো হয়নি বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কয়েকজন নারী কাউন্সিলর। সম্প্রতি সিরডাপ মিলনায়তনে শক্তিশালী, কার্যকর সিটি করপোরেশন ও নিরাপদ, নারীবান্ধব ঢাকা মহানগর শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় তারা এসব কথা বলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়শা খানম। অনুষ্ঠানে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হক ও বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী উপস্থিত ছিলেন। নারী সহকর্মীদের এই বঞ্চনার বিষয়ে স্বীকারোক্তি এসেছে সরাসরি ভোটের ওয়ার্ডগুলোয় নির্বাচিত ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের কাছ থেকেও।
নারী কাউন্সিলর শাহনাজ পারভীন নীতু বলেন, সংরক্ষিত নারী আসনে পুরুষের সমান বরাদ্দ নেই। অর্থ বরাদ্দ সমান করার দাবি জানান ভোটে নির্বাচিত এই নারী জনপ্রতিনিধি। সরাসরি ভোটে নারী কাউন্সিলররা নির্বাচিত হওয়ার পরও অবস্থা ও ক্ষমতার পরিবর্তন হয়নি বলে জানান ঢাকা উত্তরের ৩২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান মিজান। উত্তরের ১১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর দেওয়ান আবদুল মান্নান বলেন, গেজেটে কাউন্সিলরদের দাফতরিক কাজ করার নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলরদের দাফতরিক কাজের কোনো নির্দেশনা নেই। নারী কাউন্সিলর শামীমা রহমান ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, মুখে বলি সমান অধিকার কিন্তু কাজের বেলায় কিছুই হচ্ছে না।
 

 

রাষ্ট্রদূত বার্নিকাটের মুখে রবীন্দ্রনাথের কবিতা

 

মানবাধিকার রিপোর্টঃ
যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস ঢাকার ফেসবুক পেজে ফ্যান সংখ্যা ত্রিশ লাখ ছাড়িয়েছে। বিশ্বব্যাপী যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসগুলোর মধ্যে এই প্রথম কোনো দূতাবাসের ফেসবুক পেজ এই মাইলফলক পেরোলো।
গত শুক্রবার ফেসবুক পেজটিতে ত্রিশ লাখতম ফ্যান লাইক দিয়ে সংযুক্ত হন। রোববার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এ উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট বলেন, প্রতিদিন ফেসবুক পেজের মাধ্যমে আমরা হাজারো বাংলাদেশির সঙ্গে নারীর ক্ষমতায়ন, শ্রম ও বাণিজ্য, মানবাধিকার এবং অন্যান্য অনেক বিষয় নিয়ে আলোচনা করি, যা আমাদের দুদেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, বাংলাদেশিরা বিতর্ক এবং আইডিয়া ভাগাভাগি করে নিতে পছন্দ করে। আমি আনন্দিত যে আমাদের ফেসবুক পেজ ফ্যানদের জন্য প্রাণবন্তআলোচনার একটি জায়গা হয়ে উঠেছে এবং সবচেয়ে জনপ্রিয় আন্তর্জাতিক যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস পেজের স্থান লাভ করেছে। আমরাই অপরাজিত চ্যাম্পিয়ান!
ফেসবুক বন্ধুদের সম্মানে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা দূরকে করিলে নিকট, বন্ধু, পরকে করিলে ভাই (ঙষফ ধহফ ঘব)ি কবিতাটি আবৃত্তি করেন রাষ্ট্রদূত বার্নিকাট।
দূতাবাসের ফেসবুক পেজে যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে যাওয়ার সুযোগ-সুবিধা, যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সহযোগিতা এবং ভিসা বিষয়ে কনস্যুলার কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি চ্যাট করার সুযোগ রয়েছে।
ফেসবুক পেজ এখন প্রতিমাসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে লাইভ চ্যাটের সুযোগ দিচ্ছে। এ সব বিষয়ে আরও তথ্যের জন্য ফেসবুক পেজে ঢুঁ মারতে হবে



Top

সাংবাদিক সাদেক খান আর নেই

মানবাধিকার রিপোর্টঃ

সাংবাদিক, কলামিস্ট ও চলচ্চিত্র নির্মাতা সাদেক খান আর নেই ((ইন্নালিল্লাহে.....রাজেউন)। গত ১৬ মে ২০১৬ রাজধানীর বারিধারায় নিজ বাসায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর। বার্ধক্যজনিত কারণে বেশ কিছুদিন যাবত্ তিনি অসুস্থ ছিলেন। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও আতীয়-স্বজনসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
সাদেক খানের গাড়ি চালক নজরুল ইসলাম জানান, বেলা ১১টার দিকে তিনি গোসল করতে বাথরুমে ঢোকেন। এরপর দীর্ঘ সময় সাড়া না পেয়ে বেলা ১২টার দিকে দরজা ভেঙে তাকে বাথরুমের ভেতরে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেননকে খবর দেয়া হলে তিনি এসে বড় ভাই সাদেক খানের মরদেহ ইউনাইটেড হাসপাতালে নিয়ে যান বলে জানান নজরুল। জাতীয় প্রেসক্লাবের স্থায়ী সদস্য ছিলেন সাদেক খান। আজ মঙ্গলবার সকাল ১০ টায় তার লাশ শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য জাতীয় প্রেসক্লাবে আনা হবে। বাদ জোহর গুলশান আজাদ মসজিদে নামাজে জানাজা শেষে তার লাশ বনানী কবরস্থানে দাফন করা হবে।
পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের স্পিকার বিচারপতি আবদুল জব্বার খানের বড় ছেলে সাদেক খান। তিনি বেসরকারি বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, সাবেক সচিব এবং সাবেক কৃষিমন্ত্রী কবি আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ, বিশিষ্ট সাংবাদিক ও সাবেক রাষ্ট্রদূত এনায়েতুল্লাহ খান, ব্যবসায়ী এ এস এম শহীদুল্লাহ খান বাদল এবং বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বেগম সেলিমা রহমানের বড় ভাই।
 

Top

মোবাইলে বিরক্ত করলে আইনি প্রক্রিয়া নিন

মানবাধিকার রিপোর্টঃ
আপনাকে যদি কেউ মোবাইলে বিরক্ত করে তাহলে অপনি তার বিরুদ্ধে চাইলে আইনি ভাবে একশন নিতে পারেন। এই জন্য আপনাকে BTRC তে ফোন করে কমপ্লেইন করতে হবে। ২৪ ঘন্টার মধ্যে তারা একশন নিবে এবং ৩ দিনের মধ্যে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনা হবে। যোগাযোগ ঠিকানা:- Bangladesh Telecommunication Regulatory Commission (BTRC) Phone (PABX): + 880 29611111 Email: btrc@btrc.gov.bd অন্য দিকে বাংলাদেশের প্রচলিত আইন কি বলে এই ব্যপারে? টেলিযোগাযোগ আইনের ৭০ ধারায় বলা হয়েছে, বার বার টেলিফোন করে কাউকে বিরক্ত করা বা অসুবিধার সৃষ্টি করাও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এক্ষেত্রে অপরাধীকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা দিতে হবে। জরিমানার টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হলে তিন মাসের কারাদ দেওয়ারও বিধান করা হয়েছে। বিঃদ্রঃ অনেকের এই সম্পর্কে ধারণা নেই যার কারণে মুখবুঝে সহ্য করতে হচ্ছে অনেক মানসিক, সামাজিক, পারিবারিক ও ব্যক্তিগত নানান অশান্তি। তাই যেই পোষ্টটা পড়বেন কষ্ট করে শেয়ার অথবা কপি করে অপনার আইডি, পেইজ,গ্রুপে পোষ্ট করে অন্য ভাই-বোনদেরকে জানার সুযোগ করে দিবেন প্লিজ।

 

বিশিষ্ট সমাজসেবী প্রকৌশলী আবুল হোসেন ফকিরের ইন্তেকাল


মানবাধিকার রিপোর্টঃ
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের অবসরপ্রাপ্ত প্রকৌশলী এবং বিশিষ্ট সমাজসেবী আলহাজ্ব আবুল হোসেন ফকির গত ৩ মে ২০১৬ দুপুরে ধানমন্ডিস্থ ল্যাব এইড হাসপাতালে শ্বাসকষ্ট জনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না ...... রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর। মরহুমের নামাযে জানাযা ৩ মে ২০১৬ বাদ এশা গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার জামালপুর গ্রামের ফকিরবাড়ী ঈদগাহ মাঠে অনুষ্ঠিত হয় এবং পারিবারিক গোরস্থানে রাতেই দাফন সম্পন্ন হয়। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ৩ ছেলে, ৩ কন্যাসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী ও আত্মীয়স্বজন রেখে যান। আলহাজ্ব আবুল হোসেন ফকির বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের মহাসচিব মানবতাবাদী ড. সাইফুল ইসলাম দিলদার এর ভগ্নিপতি।
আলহাজ্ব আবুল হোসেন ফকিরের মৃত্যুতে বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি একেএম সাদেক এবং মহাসচিব ড. সাইফুল ইসলাম দিলদার গভীর শোক প্রকাশ এবং শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন।


 

বলয় ভেঙেই অর্থ লোপাট : সুইফট


মানবাধিকার রিপোর্টঃ
মার্কিন আবাসন ব্যবসা চীনের দখলে চলে আসছে। দিনে দিনে যুক্তরাষ্ট্রের রিয়েল এস্টেট বাজার চীনের ক্রেতাদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাচ্ছে। গত বছরে এর পরিমাণ রেকর্ড হারে বেড়েছে বলে নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে। এশিয়া সোসাইটি অ্যান্ড রোসেন কনসাল্টিং গ্রুপের গবেষণায় দেখা গেছে, শুধু গত বছরেই পাঁচ বছরের জন্য মার্কিন আবাসিক ও বাণিজ্যিক আবাসন শিল্পে ১১ হাজার কোটি ডলার (১১০ বিলিয়ন) বিনিয়োগ করেছে চীন। ১৬ মে ২০১৬ এ খবর প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা এএফপি। সংস্থাটি বলছে, ২০০৬ সাল থেকে মার্কিন আবাসন খাত দখল করতে শুরু করে চীন। সময়ের ব্যবধানে ২০০৮ সালে অর্থনৈতিক সংকট তরান্বিত করতে সক্ষম হয় বিশ্বের দ্বিতীয় অর্থনীতিক পরাশক্তি চীন। দেশটিতে মন্দার কারণ সৃষ্টি হলেও চলতি দশকের শেষ ভাগের আগেই বিনিয়োগের পরিমাণ দ্বিগুণ হয়ে ২১ হাজার ৮০০ কোটি ডলারে ঠেকবে বলে ধারণা করছে সংস্থাটি।
২০১০ সাল থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের রিয়েল এস্টেট খাতে ১ হাজার ৭০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে চীনের ক্রেতারা। কিন্তু গত বছরেই শুধু ওই পরিমাণের অর্ধেক ব্যয় করেছে দেশটি। ওই বছরেই আবাসন খাত থেকে ৯ হাজার ৩০০ কোটি ডলার ঘরে তুলেছে চীন। এ হিসেবে মার্কিন আবাসন খাত দীর্ঘদিন ধরে শাসন করে আসা কানাডাকে টপকে গেল চীন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক, লসএঞ্জেলেস, সানফ্রান্সিসকো ও সিটল রাজ্যে বিনিয়োগের হার বেশি বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। তবে শিকাগো, মিয়ামি ও লাসভেগাসেও অল্প সংখ্যক বেইজিং ক্রেতাদের আনাগোনা রয়েছে।
এদিকে, প্রায় দুই বছর ধরে চীনের আবাসন বাজার মন্দার মধ্যে থাকলেও এবার তা কাটিয়ে উঠতে পারবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সম্প্রতি দেশটিতে আবাসন ভবন বিক্রি ও তার মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে বলে সোমবার খবর প্রকাশ করেছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।
 

Top

 

মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে ভারত গর্বিত

মানবাধিকার রিপোর্টঃ
ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা বলেছেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের সাহসী সংগ্রাম বিশ্ব ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। নীতি ও মর্যাদার জন্য তাদের সাহসিকতাপূর্ণ লড়াই বাংলাদেশের জনগণের গর্ব। ভারতও এই মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে পেরে গর্বিত। গত ২৪ মে ২০১৬ ঢাকায় মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসার কাজে ব্যবহারের ভারত সরকারের দেওয়া দুঃটি অ্যাম্বুলেন্সের চাবি হস্তান্তরের সময় হাইকমিশনার এসব মন্তব্য করেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরে দেওয়া প্রতিশ্রতি পূরণের অংশ হিসেবে মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে কাজ করা ন্যাশনাল ফ্রিডম ফাইটার্স ফাউন্ডেশন (এনএফএফএফ) এর কাছে একটি অ্যাম্বুলেন্স ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের কাছে আরেকটি অ্যাম্বুলেন্স তুলে দেয়া হয়। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের চত্বরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে চাবি দুটি হস্তান্তর করেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ.ক.ম. মোজাম্মেল হক ও হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা। চাবি বুঝে নেন মেয়র আ.জ.ম. নাছির উদ্দিন ও এনএফএফর চেয়ারম্যান এসএম জাহাঙ্গীর আলম। অ্যাম্বুলেন্স দুটি ঢাকা ও চট্টগ্রামের অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শহরের হাসপাতালে আনা-নেওয়ার কাজে ব্যবহার করা হবে। অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ.ক.ম. মোজাম্মেল হক বলেন, ভারত সবসময় বাংলাদেশের পাশে থেকে সহযোগিতা করছে। তারা মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ১৯৭১ সালে আমাদের এক কোটি শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছিল।

 

রাজপথে মন্ত্রীদের নিয়ে শপথ নিলেন মমতা
 

মানবাধিকার রিপোর্টঃ

টানা দ্বিতীয়বারের জন্য পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে গতকাল শপথ নিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রথা ভেঙে কলকাতার রেড রোডে খোলা আকাশের নিচে মুক্তমঞ্চে দুপুর পৌনে ১টায় রাজ্যটির অষ্টম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তাকে শপথবাক্য পাঠ করান রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠি। ৬১ বছর বয়সী মমতার সঙ্গে শপথ নেন ৪১ জন মন্ত্রী। এর মধ্যে নতুন মুখ ১৮। উল্লেখযোগ্য মন্ত্রীদের মধ্যে রয়েছেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়, সুব্রত মুখার্জি, অমিত মিত্র, ফিরহাদ হাকিম, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়, পূর্ণেন্দু বসু, বাত্য বসু, অবনী জোয়ারদার, ইন্দ"নীল সেন প্রমুখ। শপথ গ্রহণকারীদের ২৯ পূর্ণমন্ত্রী, ৮ প্রতিমন্ত্রী, ৫ স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী।
প্রয়াত মা গায়ত্রীদেবীর ছবি প্রণাম করে কালীঘাটের ৩০ বি হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের বাড়ি থেকে গাড়িতে চেপে শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাড়ির পাশেই তাকে দেখার জন্য দলীয় কর্মী-সমর্থক থেকে শুরু করে কয়েকশ মানুষ দাঁড়ানো ছিল। তারা উলুধ্বনি, শড়খধ্বনি বাজিয়ে শুভেচ্ছা জানান। জবাবে মমতাও তাদের উদ্দেশে হাত নাড়েন। কালীঘাট থেকে রেড রোড পর্যন্ত রাস্তার দুই ধারই মমতার কাটআউট, তৃণমূলের দলীয় পতাকা দিয়ে মুড়ে ফেলা হয়। কলকাতা পুলিশের ব্যান্ডে জাতীয় সংগীত বাজানোর পর বিশুদ্ধ বাংলাতেই শপথ নেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তার মন্ত্রিসভার অধিকাংশ সদস্য। বাংলা ছাড়া অন্যান্য ভাষায়ও শপথ নেন কয়েকজন মন্ত্রী। শপথের সময় মমতার পরনে ছিল সাদা শাড়ি, পায়ে হাওয়াই চটি। মমতা ছাড়াও অন্য নারী বিধায়করা শাড়ি এবং পুরুষ সদস্যদের পরনে ছিল সাদা ধুতি-পাঞ্জাবি কিংবা কুর্তা-পায়জামা। শপথ গ্রহণ শেষে ফের জাতীয় সংগীত বাজানো হয়।
শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠান ঘিরে কলকাতার রেড রোড হয়ে উঠেছিল চাঁদের হাট। কে নেই সেখানে! ছিলেন ভারতের কেন্দ"ীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি, অসামরিক বিমান পরিবহনমন্ত্রী অশোক গণপতি রাজু, নগরোন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল, উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদব, বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতিশকুমার, আরজেডি-প্রধান লালুপ্রসাদ যাদব, জম্মু-কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ন্যাশনাল কনফারেন্স পাটির" প্রধান ফারুক আবদুল্লাহ, দ্রাবিড়া মুনেত্রা কাঝাগাম (ডিএমকে) নেত্রী কানিমোঝি। উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং টোবগে।

 

ইন্টারনেট ব্যবহারে পিছিয়ে বাংলাদেশ
ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন হচ্ছে


মানবাধিকার রিপোর্টঃ
বাংলাদেশে দ্রুত বাড়ছে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার, কিন্তু এর সুফল বা ডিজিটাল ডিভিডেন্ট সে ভাবে আসছে না। বাংলাদেশে মোবাইল ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১৩ কোটি ছাড়িয়ে গেছে। প্রযুক্তির প্রসার হয়েছে ব্যাপক হারে। এর পরেও ইন্টারনেট ব্যবহারে পিছিয়ে রয়েছে এমন ৫ম বৃহৎ্ দেশ হলো বাংলাদেশ। দেশে ১০ কোটি মানুষ এখনও ইন্টারনেট সেবার বাইরে রয়ে গেছে। ওয়ার্ল্ড ডেভেলপমেন্ট রিপোর্ট ২০১৬: ডিজিটাল ডিভিডেন্ড শীর্ষ প্রতিবেদনে এ তথ্য উল্লেখ করেছে বিশ্বব্যাংক। ১৬ মে ২০১৬ রাজধানীর একটি হোটেলে আনুষ্ঠানিক ভাবে এ প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার বাড়িয়ে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করা, আরো কর্মসংস্থানের পাশাপাশি সরকারি সেবার মান উন্নত করার সুযোগ রয়েছে। প্রতিবেদনটি ওয়াশিংটন থেকে গত জানুয়ারি মাসে প্রকাশ করা হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের উদ্যোগে ১৬ মে ২০১৬ এটি বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রকাশ করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্য ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। উপস্থিত ছিলেন বিশ্ব ব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর চিমিয়াও ফান, বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের নির্বাহী পরিচালক এসএম আশরাফুল ইসলাম। প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন বিশ্ব ব্যাংকের রিপোর্ট কো-ডিরেক্টর দীপক মিশারা।
জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন করছে সরকার। শিগগিরিই এ আইন অনুমোদন পাবে। পলক বলেন, একটা সময় শুধু পোশাক রফতানি নিয়ে স্বপ্ন দেখত বাংলাদেশ। এখন আইসিটি রফতানিতেও আমরা অনেক এগিয়ে গেছি। শিগগিরিই রফতানিতে পোশাক শিল্পের পরই আইসিটির অবস্থান থাকবে। ২০২১ সালের মধ্যে আমরা এখাতে ৫ বিলিয়ন ডলার রফতানি আয় করতে চাই। একইসঙ্গে জিডিপিতে প্রযুক্তিখাতের অবদান ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে, সে জন্য ইতোমধ্যে কাজও শুরু হয়েছে। তিনি আরো বলেন, আইসিটিখাতে দক্ষ জনবল তৈরি করা হয়েছে। এরই মধ্যে কয়েক হাজার মানুষকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। আইসিটিখাতের আওতা বাড়ানোর জন্য গাজীপুরের কালিয়াকৈরে হাইটেকপার্ক স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০০৫ সালের পর বিশ্বব্যাপী ইন্টারনেট ব্যবহার বেড়েছে তিনগুণ। এর পরেও ৪শ কোটি মানুষ এখনও ইন্টারনেট সেবার বাইরে রয়ে গেছে। বাংলাদেশে মোবাইলে কথা বলার খরচ তুলনামূলক কম রয়েছে। কিন্তু ইন্টারনেট খরচ অনেক বেশি। এখনও দেশে ১০ কোটি মানুষ ইন্টারনেট সেবার বাইরে। মোট কর্মসংস্থানের মাত্র শূন্য দশমিক ৫ ভাগ হলো তথ্য প্রযুক্তিখাতে। তবে এর বাইরে বাংলাদেশে ফ্রিল্যান্সিং, মোবাইল ব্যাংকিং, ই-কমার্স এবং অন্যান্য সেবায়ও কর্মসংস্থান রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

  কাঠমান্ডুতে ফের মদেশীয় বিক্ষোভে উত্তাপ
 

মানবাধিকার রিপোর্টঃ
নতুন গৃহীত সংবিধান বাতিলের দাবিতে নেপালের মদেশীয় সম্প্রদায়ের লোকজন আবার বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে। দ্বিতীয় দিনের মতো গত ১৬ মে ২০১৬ রাজধানী কাঠমান্ডুতে মদেশীয় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে।
গত ১৬ মে ২০১৬ বিক্ষোভকারীরা নেপালের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ শুরু করে। তারা সরকারবিরোধী স্লোগান দেয়। এ সময় পুলিশের তৈরি ব্যারিকেড ভেঙে ফেলার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে বিক্ষোভ-কারীদের ছত্রভঙ্গ করতে দাঙ্গা পুলিশ এসে লাঠিপেটা করে। তবে কয়েকজন আহত হলেও দুই পক্ষের কেউই গুরুতর জখম হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও অন্যান্য সরকারি দপ্তর সিংহ দরবারের ঢোকার চারটি মূল রাস্তা তারা বন্ধ করে দেয়। সকাল থেকেই এখানে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এর আগের দিনও বিক্ষোভকারীরা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করে। ওই দিন পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হয়।
এবারের বিক্ষোভে শুধু মদেশীয় নয়, আরও কয়েকটি জাতিসত্তার লোকজনও শামিল হয়েছে। সংঘ মহা গাঁটবন্ধন নামে একটি অভিন্ন ব্যানারে মদেশীয়দের পাশাপাশি জনজাতি, দলিত এবং মুসলিম সংখ্যালঘুরাও যোগ দেয়। মদেশীয় অধ্যুষিত এলাকা ভেঙে আলাদা রাজ্য তৈরি করাতেই মূল ক্ষোভ নেপালের অন্যতম বড় এই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের। তারা মদেশীয় অধ্যুষিত এলাকাগুলোকে নিয়ে একটি বৃহৎ রাজ্য দাবি করছে। তাদের দাবি, রাজনৈতিকভাবে অসংগঠিত করতেই মদেশীয় রাজ্যকে ভাগ করা হয়েছে। অন্য সম্প্রদায়গুলো তাদের জন্য আলাদা রাজ্যের আন্দোলন করছে।
 

মৌমাছিবান্ধব ক্যাম্পাস!


মানবাধিকার রিপোর্টঃ
একবার ভাবুন তো, এমন একটা জায়গায় গেছেন আপনি, যেখানে চেনা-অচেনা নানা ফুলের গন্ধ আর মৌমাছির গুঞ্জনে ভরে আছে পুরো এলাকা। এখানে-ওখানে চোখে পড়বে মৌচাকেরও। শহুরে জীবনে এমন দৃশ্য বিরল। তবে যুক্তরাজ্যের কার্ডিফ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এমনটি শিগগিরই দেখা যাবে। দেশটিতে প্রথম মৌমাছিবান্ধব ক্যাম্পাস গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
মৌমাছিবান্ধব হওয়ার অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়টির রেডউড ভবনের চারপাশে পরাগসমৃদ্ধ ফুলের চাষ শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। উদ্যোগ সফল করতে এগিয়ে এসেছেন শিক্ষার্থীরাও। দাতব্য সংস্থা বাগলাইফ দিচ্ছে সহায়তা। রেডউড ভবনের ছাদে এরই মধ্যে তিনটি মৌচাক তৈরি করেছে মৌমাছিরা। এমন আরও মৌচাক তৈরির জন্য ক্যাম্পাসের আরও কয়েকটি স্থান নির্ধারণ করেছে কর্তৃপক্ষ।
হঠাৎ করেই যে কার্ডিফ বিশ্ববিদ্যালয় মৌমাছিবান্ধব হতে শুরু করেছে, তা কিন্তু নয়। বেশ আগে থেকেই এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্কুল অব ফার্মাসি অ্যান্ড ফার্মাসিউটিক্যালস বিভাগ মৌমাছি-সংক্রান্ত কয়েকটি গবেষণা প্রকল্প নিয়ে কাজ করছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো উদ্ভিদজাত ওষুধের সন্ধান।
এ ব্যাপারে কার্ডিফ বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. জেমস ব্লাক্সল্যান্ড বলেন, দিনে দিনে আবাসহীন হয়ে পড়ছে মৌমাছিরা। আমাদের এই উদ্যোগ মৌমাছি রক্ষায় সচেতনতা বাড়াতে সহায়ক হবে। মানুষ জানতে পারবে, কোত্থেকে মধু আসে। এ ছাড়া উদ্যোগটি আমাদের গবেষণায় সহায়ক হবে। বিজ্ঞানীদের গবেষণায় বেশ আগেই প্রমাণিত হয়েছে, মানুষের খাদ্যের এক-তৃতীয়াংশের জোগানে প্রজাপতি, মৌমাছির মতো পতঙ্গদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। মধু আহরণে ফুলে ফুলে ঘুরে বেড়ানোর সময় পরাগায়ন ঘটায় এরা। এ পরাগায়নের ওপরই প্রায় সব উদ্ভিদের ফল উৎপাদন নির্ভর করে। কাজেই প্রজাপতি, মৌমাছিসহ তাদের প্রজাতির পতঙ্গগুলোর বিলুপ্তি ঘটলে ব্যাপক খাদ্যসংকটে পড়বে পৃথিবীবাসী। কিন্তু নগরায়ণ এবং চাষাবাদে রাসায়নিক পদার্থের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় পরাগায়ন ঘটানো এ পতঙ্গরা বিলুপ্তির হুমকিতে পড়েছে বলে জানিয়েছেন বাগলাইফের মাইকেল বেলস।

 

ভিসা ছাড়া বিদেশ ভ্রমণেও বেশি করে ডলার নেওয়া যাবে


মানবাধিকার রিপোর্টঃ

এখন থেকে ভিসা ছাড়া বিদেশ ভ্রমণের জন্যও বাৎসরিক কোটা অনুযায়ী ইউএস ডলার বা সমপরিমাণ বিদেশি মুদ্রা ব্যাংক থেকে এনডোর্স করা বা বদলে নেওয়া যাবে। অর্থাৎ ভিসা ছাড়া ভ্রমণ করা যায় এমন দেশে যেতে আগ্রহী পাসপোর্টধারী একজন বাংলাদেশি নাগরিক সার্কভুক্ত দেশ ভ্রমণের জন্য বছরে পাঁচ হাজার ডলার পর্যন্ত এবং সার্কের বাইরে সাত হাজার ডলার পর্যন্ত (মোট ১২ হাজার ডলার) ব্যাংক থেকে নিতে পারবে। আগে ভিসা ছাড়া ভ্রমণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২০০ ডলার নেওয়া যেত।
গত ১৬ মে ২০১৬ বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ থেকে নতুন এই নির্দেশনা সংবলিত একটি সার্কুলার জারি করে বিদেশি মুদ্রায় লেনদেন করা সব অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়গুলোতে পাঠানো হয়েছে।
সার্কুলারে বলা হয়েছে, বর্তমানে কিছু কিছু দেশে ভ্রমণের ক্ষেত্রে বন্দর থেকে প্রবেশ (পোর্ট এন্ট্রি) বা আগমনের ওপর (অন অ্যারাইভাল) ভিত্তিতে ভিসা দেওয়া হয়ে থাকে। এ কারণে বাংলাদেশ ব্যাংক সিদ্ধান্ত নিয়েছে, অনুমোদিত ডিলার ব্যাংক ভিসা ছাড়া যেসব দেশ বা অঞ্চলে ভ্রমণ করা যায় সেসব দেশে যেতে আগ্রহী কোনো বাংলাদেশি নাগরিকের পাসপোর্টের বিপরীতে অন্যান্য শর্ত পরিপালন সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট দেশ বা অঞ্চলের জন্য প্রযোজ্য অব্যবহৃত বার্ষিক ভ্রমণ কোটার সমপরিমাণ বিদেশি মুদ্রা ছাড় করাতে পারবে। তবে ওই সব দেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে পোর্ট এন্ট্রি বা অন অ্যারাইভাল পদ্ধতিতে ভিসা পাওয়ার বিষয়টি অনুমোদিত ডিলার ব্যাংককে নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করবে গ্রাহক। তবে ভ্রমণ ইচ্ছুক ব্যক্তির পাসপোর্টের কমপক্ষে ছয় মাস মেয়াদ না থাকলে মুদ্রা ছাড় করবে না ব্যাংক।
তা ছাড়া ভিসা ছাড়া ব্যাংক থেকে একবার ডলার এনডোর্স করার পর ওই গ্রাহক পরেরবার যখন বিদেশে যাওয়ার জন্য ডলার এনডোর্স করতে আসবে তখন আগেরবারের নেওয়া ডলার যথাযথভাবে খরচ হয়েছে কি না তা জানতে চাইবে অনুমোদিত ডিলার ব্যাংক।
 


 খালেদা জিয়ার সঙ্গে ব্রিটিশ হাই কমিশনারের বৈঠক
 

মানবাধিকার রিপোর্টঃ
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠক করেছেন ব্রিটিশ হাইকমিশনার এলিসন ব্লেক। গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে গত ১৮ মে ২০১৬ বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে এ বৈঠক শুরু হয়। ঘণ্টাব্যাপী এ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা রিয়াজ রহমান, সাবিহ উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ। খালেদা জিয়ার সঙ্গে এলিসন ব্লেকের এটা প্রথম সাক্ষাত্ এমনটি উল্লেখ করে বৈঠকশেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের সাবিহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, এটা ছিল সৌজন্য সাক্ষাত।
বাংলাদেশে আসার পর এলিসন নানা কাজে ব্যস্ত ছিলেন। তাই খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার সাক্ষাত্ একটু দেরিতে হয়েছে। তিনি বলেন, এটি ছিল মূলত একটি পরিচিতিমুলক সাক্ষাৎপর্ব।


 



সীমান্তে হত্যা বন্ধে যৌথ উদ্যোগ


মানবাধিকার রিপোর্টঃ
রাজধানীর পিলখানায় ছয়দিনব্যাপী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ভারতের বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) ৪২তম মহাপরিচালক পর্যায়ের সীমান্ত সম্মেলন যৌথ দলিল স্বাক্ষরের মধ্য দিয়া শেষ হল গত ১৬ মে ২০১৬। এই সম্মেলনের বড় অর্জন ও সাফল্য হইল, সীমান্তে হত্যা বন্ধে বিজিবি-বিএসএফের যৌথ তদন্তের সিদ্ধান্ত। এইজন্য বিজিবি কর্মকর্তারা প্রয়োজনে ভারতে গিয়ে তদন্ত কাজে যুক্ত হতে পারবেন। তার পর যৌথ সিদ্ধান্ত গ্রহণপূর্বক কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তার মাধ্যমে দুই পক্ষের দুই ধরনের বক্তব্যের অবসান ঘটবে এবং প্রকৃত ঘটনাটি উপলব্ধি করা ও সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা সহজ হবে বলেয়া আশা করা যায়। এছাড়া গত বছরের সম্মেলনে সীমান্তে হত্যা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়, এবারও সেই ব্যাপারে উভয় দেশ একত্রে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।
গত মাসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল প্রশ্নোত্তর পর্বে মহান জাতীয় সংসদকে জানান যে, ২০১২ সাল হ
তে চলতি বসছরের ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত ভারতীয় সীমান্তে ১৪৬ বাংলাদেশিকে হত্যা করা হয়েছে। সীমান্ত হত্যা বন্ধের প্রচেষ্টার অংশ হিসাবে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সর্বোচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত হল ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী প্রাণঘাতী মারণাস্ত্র ব্যবহার করবে না। কিন্তু তাহার পরও সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিক হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটছে যাহা মেনে নেওয়া যায় না।
২০১৫ সাল হতে চলতি বছর পর্যন্ত সীমান্তে ৪৯টি ক্ষেত্রে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের ঘটনা ঘটেছে। তাতে কথার সাথে কাজের সাদৃশ্য তেমন একটা খুঁজে পাওয়া যায় না। সমপ্রতি চুয়াডাঙ্গায় সজল নামে এক বাংলাদেশি কিশোর বিএসএফর হাতে নিহত হয়েছে। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক ও মর্মস্পর্শী। অবশ্য এই ঘটনায় বিএসএফ মহাপরিচালক দুঃখপ্রকাশ করেছেন এবং এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি আর ঘটবে না বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। এই ঘটনাটি যৌথ তদন্তের আওতায় এনে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানা যায়।


সৌদির বিরুদ্ধে মার্কিন সিনেটে বিল পাস


মানবাধিকার রিপোর্টঃ
নিউইয়র্কের ট্যুইন টাওয়ার হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো সৌদি আরবের কাছে ক্ষতিপূরণ চেয়ে মামলা করতে পারবে, এমন অনুমোদন দেওয়া প্রস্তাবিত একটি আইন পাস করেছে মার্কিন সিনেট। জাস্টিস এগেইনস্ট স্পন্সর অব টেরোরিজম অ্যাক্ট বা জেএএসটিএ নামের এই প্রস্তাবিত আইনটি গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের উচ্চকক্ষের সদস্যদের সর্বসম্মত কণ্ঠভোটে পাস হয়। এর আগে সৌদি আরব হুমকি দিয়েছিল এই ধরনের আইন পাস হলে তারা যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিনিয়োগ প্রত্যাহার করবে। খবর রয়টার্সের সিনেটে পাস হওয়া প্রস্তাবিত আইনটি এবার যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের নিম্নকক্ষে যাবে।
সেখানে জুডিশিয়ারি কমিটি প্রস্তাবটির ওপর শুনানির আয়োজন করবে বলে ধারণা প্রকাশ করেছেন কমিটির এক সহযোগী।
প্রস্তাবটি আইনে পরিণত হলে জেএএসটিএ যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে সন্ত্রাসী হামলার সঙ্গে জড়িত বিদেশি রাষ্ট্রের সার্বভৌম ছাড় বিলুপ্ত করে ওই দেশের সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করার বিষয়ে বিদ্যমান বিধিনিষেধ তুলে দিবে। এতে হামলায় নিহতদের পরিবার ও আত্মীয়-স্বজন এবং আহতরা অভিযুক্ত দেশের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করে মামলা করতে পারবে। এই ক্ষেত্রে ওয়ার্ল্ভ্র ট্রেড সেন্টার ও পেন্টাগনে হামলার সঙ্গে সৌদি আরব জড়িত, এটি প্রমাণ করতে নিউইয়র্কের ফেডারেল আদালতে আইনি লড়াই করার অনুমতি পাবেন আইনজীবীরা।
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর সন্ত্রাসী জঙ্গিদের আত্মঘাতী হামলায় ট্যুইন টাওয়ার নামে পরিচিত নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ধ্বংস হয়। ওই হামলায় প্রায় তিন হাজার মানুষ নিহত হয়। এই হামলার সঙ্গে জড়িতরা সবাই ছিল সৌদি নাগরিক। এই হামলার জন্য জঙ্গিগোষ্ঠী আল কায়েদাকে দায়ী করা হয়। সৌদি আরব এই হামলার দায়িত্ব বরাবর অস্বীকার করে আসছে। দেশটি যুক্তরাষ্ট্র সিনেটে পাস হওয়া প্রস্তাবিত আইনটিরও তীব্র বিরোধিতা করছে। এই প্রস্তাবটি আইনে পরিণত হওয়ার আগেই তারা যুক্তরাষ্ট্রে থাকা ৭৫০ বিলিয়ন ডলারের ট্রেজারি সিকিউরিটিজ ও অন্যান্য সম্পদ বিক্রি করে দিতে পারে বলে হুমকি দিয়ে রেখেছে।
সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ক অবনতির আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাও প্রস্তাবিত এই আইনটি ঠেকানোর চেষ্টা করছেন। প্রস্তাবিত আইনটিতে ভেটো প্রয়োগ করে তা ঠেকিয়ে রাখা হবে বলে জানিয়ে রেখেছেন তিনি।


ক্রসফায়ার থেকে বাঁচানোর নামে ১০ লাখ টাকা আদায়
প্রতারক চক্রের হোতা সরকারি কর্মচারী আটক


মনবাধিকার রিপোর্টঃ
প্রতারকদের খপ্পরে পড়ে প্রায়ই সর্বস্ব খোয়াচ্ছে সাধারণ মানুষ। অনেক ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নজর এড়িয়ে তাদের পরিচয় দিয়েই চলছে অভিনব প্রতারণা। মাস তিনেক আগে নিখোঁজ ছাত্রলীগ নেতা মোয়াজ্জেম হোসেন তপুকে ক্রসফায়ার থেকে বাঁচানোর নাম করে এক কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পাঁয়তারা করে একটি প্রতারকচক্র। নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে এরই মধ্যে চক্রটি হাতিয়ে নিয়েছে ১০ লাখ টাকা। একপর্যায়ে সন্দেহ দেখা দেওয়ায় তপুর পরিবার গোয়েন্দা পুলিশকে অবহিত করে বিষয়টি। গোয়েন্দা পুলিশ তদন্ত করে নিশ্চিত হয়েছে, তপুর পরিবার প্রতারকদের খপ্পরে পড়েছে। প্রতারকচক্রের হোতা একটি সরকারি দপ্তরের কর্মচারী। ওই কর্মচারীকে এরই মধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
এ প্রসঙ্গে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সিনিয়র সহকারী কমিশনার মাহমুদা আফরোজ লাকী গত রবিবার কালের কণ্ঠকে বলেন, ঢাকায় নানা ধরনের প্রতারকচক্র সক্রিয় রয়েছে। তারা নিরপরাধ লোকজনকে টার্গেট করে প্রতারণা করে। নিখোঁজ ছাত্রলীগ নেতা তপুর পরিবারকে ব্ল্যাকমেইল করে সম্প্রতি মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে প্রতারকরা। এক কোটি টাকা আদায় করার টার্গেট ছিল তাদের। এ ঘটনায় একটি সরকারি অফিসের এক কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার নিয়ন্ত্রণে আরো সদস্য সক্রিয় আছে বলে আমরা তথ্য পেয়েছি। ধৃত কর্মচারী জিজ্ঞাসাবাদে প্রতারণার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।
 

সন্ত্রাস দমনে সহযোগিতা বাড়াতে ফের ঢাকা আসবেন নিশা দেশাই


মনবাধিকার রিপোর্টঃ
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই বিসওয়াল সন্ত্রাস দমনে সহযোগিতা আরো বাড়াতে আবারও ঢাকায় আসবেন। ২৮ এপ্রিল রাতে টেলিফোন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এমনটাই জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি।
জন কেরির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর ১৬ মিনিট কথা হয়। এ সময় জন কেরি সম্প্রতি কলাবাগানে হত্যাকা-ের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সেই সঙ্গে জুলহাজ মান্নানের হত্যাকারীদের খুঁজে বের করে বিচারের মুখোমুখি করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ জানান। এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও বিচারের বিষয়ে তাকে আশ্বস্ত করেন।
এ পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাথে কাউন্টার টেরোরিজম বিষয়ে আমাদের পারস্পরিক সহযোগিতার সম্পর্ক রয়েছে। এই সহযোগিতার আওতায় ইতোপূর্বে এফবি আই বাংলাদেশে এসেছে। আমি আশা করি কাউন্টার টেরোরিজম বিষয়ক সহযোগিতার ক্ষেত্র অব্যাহত থাকবে। কোনো তথ্য পেলে তা শেয়ার করা হবে।
 

বাংলাদেশ থেকে গমের মহামারি ছড়ানোর শঙ্কা


মনবাধিকার রিপোর্টঃ
গত মার্চে দেশের ছয়টি জেলায় গমখেতে যে ব্লাস্ট রোগ ছড়িয়ে পড়েছিল, তার জীবাণু ব্রাজিল থেকে এসে থাকতে পারে। আর বাংলাদেশ থেকে এটি ভারত, পাকিস্তান ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে ছড়িয়ে পড়তে পারে। বিজ্ঞানবিষয়ক প্রভাবশালী সাময়িকী নেচার-এর চলতি সংখ্যার প্রধান প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে বাংলাদেশসহ এশিয়ার যেসব দেশ ব্রাজিল থেকে গম আমদানি করেছে, তাদের সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। ব্লাস্ট রোগ গমের ফলন ব্যাপকভাবে কমিয়ে দেয়। তবে মানবশরীরে এটার কোনো স্বাস্থ্যঝুঁকি নেই। ব্লাস্ট রোগের জন্য দায়ী ছত্রাকের জিনগত বৈশিষ্ট্য শনাক্তকারী গবেষণা দলের অন্যতম দলনেতা ও যুক্তরাজ্যের সেইন্সবোরি ল্যাবরেটরির বিজ্ঞানী সোফিয়ান কেমাউন লন্ডন থেকে টেলিফোনে বলেন, আমরা বাংলাদেশের আক্রান্ত হওয়া গমের ছত্রাকের জিনগত বৈশিষ্ট্য শনাক্ত করে ওয়েবসাইটে উন্মুক্ত করে দিয়েছি। ওই তথ্য বিশ্লেষণ করে বিশ্বের বেশ কয়েকটি গবেষণা সংস্থা এর সঙ্গে ব্রাজিলের ছত্রাকের মিল পেয়েছে।
 

 


Top


 

নারী ও শিশু সংবাদ


দেশের ৫৭ ভাগ শিশু শ্রমিক মারধরের শিকার


মানবাধিকার রিপোর্টঃ
কর্মক্ষেত্রে বাংলাদেশের ৫৭ ভাগ শিশু শ্রমিক মারধরের শিকার হয়। আর প্রায় ৪৬ ভাগ শিশু শ্রমিকের সঙ্গে তাচ্ছিল্যকর ভাষা ব্যবহার করা হয়। যেসব শিশু গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করছে, তাদের মধ্যে ৬৬ ভাগ মানসিক নির্যাতন এবং ৭ ভাগ হয় ধর্ষণের শিকার।
আজ রোববার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে দ্য নিলসেন কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেড পরিচালিত অসংগঠিত খাতে শিশুশ্রমের অবস্থা শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে আসে।
ঢাকা (উত্তর-দক্ষিণ), চট্টগ্রাম ও খুলনা সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে কর্মরত ৬০০ শিশু শ্রমিক নিয়ে এ গবেষণা প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। গবেষণায় আর্থিক সহায়তা দেয় বাংলাদেশ পরিবার পরিকল্পনা সমিতি ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন।
গবেষণাটি যেসব শিশুর ওপর পরিচালনা করা হয়, তাদের ৫২ ভাগের বয়স ছিল ১৫-১৮ বছর; ৪৪ ভাগের ছিল ১০-১৪ বছর এবং ৪ শতাংশ শিশু শ্রমিকের বয়স ছিল ৫-৯ বছর। গবেষণায় দেখা যায়, ৭৯ ভাগ শিশু শ্রমিক প্রাথমিক শিক্ষা শেষ হওয়ার আগেই ঝরে পড়ে। বিভিন্ন অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে কর্মরত এসব শিশু শ্রমিক দৈনিক ১০ ঘণ্টার ওপরে কাজ করে মাসে আয় করে মাত্র ১ হাজার ৪০০ টাকা থেকে পাঁচ হাজার টাকা। ৮০ ভাগ শিশুর কর্মক্ষেত্রে কোনো ওভারটাইমের সুযোগ নেই। ২২ ভাগ শিশু শ্রমিক বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত আছে। একই সঙ্গে ৩৫ ভাগ শিশু শ্রমিকের জন্য তাদের কর্মক্ষেত্রে কোনো ধরনের খাবার কিংবা সুপেয় পানির ব্যবস্থা থাকে না।
 

পুলিশ দেখে কাজীর পলায়ন


মানবাধিকার রিপোর্টঃ
রাজশাহীতে পুলিশের হানায় ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীর সঙ্গে ২৩ বছরের তরুণের বিয়ে বন্ধ হয়ে গেছে। এ সময় পুলিশ দেখে বিয়ের আসর ছেড়ে পালিয়ে বেঁচেছেন কাজী। একই সময় পালিয়ে গেছেন মেয়ের বাবা ও বরসহ লোকজনও। ১ এপ্রিল ২০১৬ বিকাল সাড়ে ৪টায় নগরীর মাসকাদীঘি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
এলাকাবাসী জানায়, পুঠিয়া উপজেলার বাঁশপুকুর এলাকার শরিফুল ইসলামের (২৩) সঙ্গে পারিবারিকভাবে ১৩ বছরের এক মেয়ের বিয়ে ঠিক হয়। ১ এপ্রিল ২০১৬ দুপুরে বিয়ে করতে আসে শরিফুল ইসলাম। বরপক্ষের দুপুরের খাওয়া-দাওয়া হয়ে গেলে বিকালে বিয়ে পড়াতে বসেন কাজী। এ সময় বাল্যবিয়ের খবর পেয়ে বিয়ে বাড়িতে হানা দেয় পুলিশ। পুলিশ দেখেই মেয়ের বাবা, বর ও কাজী যে যার মতো পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ মেয়ের মাসহ এলাকাবাসীকে ডেকে বলেন, মেয়ের বয়স ১৮ বছর হয়নি। মেয়ের ১৮ বছর হলেই তাদের বিয়ে হবে। নগরীর মতিহার থানার ওসি হুমায়ুন কবির জানান, বাল্যবিয়ের খবর পেয়ে সেখানে পুলিশ যায়। পরে মেয়ের অভিভাবকদের বুঝিয়ে বিয়ে বন্ধ করা হয়েছে।
 

ভয়কে জয় করছেন কামরাঙ্গীরচরের নারীরা


মানবাধিকার রিপোর্টঃ
তাদের বেশির ভাগের বয়স ১৫ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। নির্যাতন চেপে রাখতেন বুকের মধ্যে। কখনও বলতে চাইতেন না। বদনামের ভয় কাজ করতো তাদের মধ্যে। ভয়কে জয় করে নিজেরাই এখন স্বাস্থ্য সেবা নিচ্ছেন কামরাঙ্গীরচরের ক্লিনিক থেকে। বিনামূল্যে সেবা ও কাউন্সেলিং পাচ্ছেন। গোপন থাকছে তাদের তথ্যাদি। দিন দিন তারা সচেতনও হচ্ছেন। আর এতেই বাড়ছে সেবা গ্রহণকারীর সংখ্যাও। ঢাকার কামরাঙ্গীরচরের বস্তিতেই এই চিত্র দেখা গেছে। এমনই তথ্য দিয়েছেন সীমান্তবিহীন চিকিৎসক দল বা ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস (এমএসএফ)। সংস্থাটি জানিয়েছে, ক্লিনিক চালুর পর থেকে স্থানীয়দের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর চেষ্টা করেছে তারা। এতে সাড়াও পাওয়া যাচ্ছে ভালোই।
নারীদের চিকিৎসাসেবা দেয়ার জন্য ২০১৩ সালে কামরাঙ্গীরচরে ক্লিনিক চালু করে এমএসএফ। সংস্থাটি যৌন নিপীড়ন ও জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতার শিকার নারীদের কাউন্সেলিং ও কমিউনিটি ভিত্তিক সেবা দিচ্ছে ক্লিনিকে। ভোক্তভোগীরা কামরাঙ্গীরচরের আলীনগর, ঠোডা এবং ঝাউলাহাটির ক্লিনিকে সেবা নিতে আসছেন প্রতিদিন। সীমান্ত বিহীন চিকিৎক দল বিনামূল্যে ও গোপনীয়তা বজায় রেখে নারীদের চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন সেখানে। গুরুত্বর ঘটনাগুলোর ক্ষেত্রে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের সহযোগিতা নেন চিকিৎসক দল। যৌন নির্যাতনের শিকার নারীদের শারীরিক ও মানসিক এই দুই ধরনের সেবা দিচ্ছে সংস্থাটি। ধর্ষণের শিকার নারী যেমন মারাত্মক আঘাত পেতে পারেন তেমনি সিফিলিস, গনোরিয়া ক্ল্যামিডিয়া, হেপাটাইটিস বি বা এইচআইভির মতো যৌনবাহিতা সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকেন। চিকিৎসক দল আরও বলছে, অবসাদ, অ্যাংজাইটির মতো মানসিক অসুস্থতাও দেখা দেয় যৌন নির্যাতনের কারণে। নিপীড়নের শিকার হওয়ার ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই চিকিৎসক ও মানসিক স্বাস্থ্য টিমের সহায়তা নেয়ার পরামর্শ দেন তারা। তবে, এ সময়ের পর এলেও সর্বাত্মক সহায়তা দেন তারা। কামরাঙ্গীরচর ক্লিনিকে কর্মরত চিকিৎসক মৌরি তার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে মানবজমিনকে বলেন, যৌন বা শারীরিক সহিংসতার শিকার হলেও সহজে মুখ খুলতে চান না কম বয়সী মেয়েরা। এর বড় কারণ বদনামের ভয়। অনেকেই আবার মনে করে তাদের আর কোনো বিকল্প নেই। স্বামী নির্যাতন করলেও তার সঙ্গেই থাকতে হবে। কেউ কেউ আবার এটাকে তাদের নিয়তি বলেই মনে করেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। বেশির ভাগ নারীই সাহায্য নিতে ভয় পান। কিন্তু এখন বাড়ির পাশেই খুব সহজে তারা সেবা পাচ্ছেন, সচেতন হচ্ছেন। ফলে চিকিৎসা নিতে আসা নারীর সংখ্যাও দিন দিন বাড়ছে বলে জানান তিনি। সংস্থাটির কামরাঙ্গীরচরের প্রকল্পের সমন্বয়কারী এমিলি গ্যাসিয়ার মানবজমিনকে বলেন, নারীরা যাতে নিজে চিকিৎসা চাহিদার বিষয়ে নিজেই সিদ্ধান্ত নিতে পারেন তা নিশ্চিত করা জরুরি। আর এমন জায়গা থাকাও গুরুত্বপূর্ণ যেখানে কঠিন সময়গুলোতে তারা মনো-সামাজিক সমর্থন ও গোপনীয়তা রক্ষা করে চিকিৎসা পেতে পারে।
 


শিশু গৃহ শ্রমিকরা আধুনিক যুগের দাস, নীতিমালা প্রয়োগের দাবি


২০১৫ সালে ঢাকার কামরাঙ্গীরচর বস্তিতে যৌন নির্যাতন বা জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতার শিকার হয়ে চিকিৎসা নেয়া নারী ও মেয়ে সংখ্যা অনেক বেড়েছে। নিপীড়নের শিকার হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন এমন নারীর সংখ্যা আগের বছরের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ। ২০১৪ সালে যৌন নির্যাতন ও জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতার শিকার রোগীর সংখ্যা ছিল ৬৮৪ জন, ২০১৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১১৫৪ জনে। তারা সবাই ধর্ষণ, স্বামী বা সঙ্গীর মারধর, যৌন নিপীড়ন কিংবা পারিবারিক সহিংসতার শিকার। গত বছর এমএসএফ ক্লিনিকে সেবা গ্রহণকারী সাত শতাধিক নারী স্বামী বা সঙ্গীর দ্বারা সহিংসতার শিকার হয়েছেন। সব বয়সী নারী ও মেয়েরা ক্লিনিকে আসলেও বেশিরভাগ রোগীর বয়স ১৫ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে।
আট বছর ধরে অন্যের বাসায় কাজ করেছি। এখন আর কাজ করতে পারি না। তাই রোজগার নেই। কোন বেলা খাই, কোন বেলা না খেয়ে থাকি। একটি ছেলে আছে, খারাপ হয়ে গেছে। মাজার হাড় ক্ষয়ে গেছে। কেউ ওষুধ কিনে দিলে খাই। না দিলে অসুখ নিয়ে শুয়ে থাকি।
কথাগুলো গৃহকর্মী জুলেকার। থাকেন জুরাইনে। তিনি এসেছিলেন গৃহকর্মী সুরক্ষা নীতিমালা বাস্তবায়ন সম্পর্কিত একটি গবেষণাপত্র উপস্থাপন অনুষ্ঠানে। সোমবার সকালে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়নে এ গবেষণাপত্র উপস্থাপন করা হয়। এ অনুষ্ঠানে আরো ১০ থেকে ১৫ জন শ্রমিক এসেছিলেন নিজেদের অভাব-অভিযোগের কথা বলতে। সবাই নিজ নিজ সমস্যা তুলে ধরেন। রিফিউজি এন্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্ট রিসার্চ ইউনিট (রামরু) আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শ্রম বিষয়ক সংসদীয় কমিটির সদস্য মো. ইসরাফিল আলম।
তাসনিম সিদ্দিকীর সঞ্চালনায় আরো বক্তব্য রাখেন, শ্রমিক নেতা ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম খান, বিল্স এর যুগ্ম নির্বাহী পরিচালক সুলতান আহমেদ, মানবাধিকার কর্মী ্এ্যাডভোকেট সালমা আলী, এ্যামপ্লয়ার্স এসোসিয়েশনের শ্রম উপদেষ্টা সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।
ইসরাফিল আলম বলেন, শিশু গৃহ শ্রমিকরা আধুনিক যুগের দাস। একই স্থানে নিজের সন্তানকে সব ধরনের সুযোগ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। পাশেই একই বয়সের একটি ছেলে বা মেয়েকে ন্যুনতম মানবিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত।


 

বেড়েই চলছে শিশু হত্যা

মানবাধিকার রিপোর্টঃ


রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে বেড়েই চলছে শিশু হত্যা। তুচ্ছ সব কারণে বলি হতে হচ্ছে শিশুদের। বিশেষ করে বড়দের স্বার্থের বলি হচ্ছে শিশুরা। গত দুই মাসে অর্ধশতাধিক শিশু হত্যাকাে র শিকার হয়েছে। গড়ে প্রায় প্রতিদিন একটি করে শিশু হত্যাকাে র শিকার হচ্ছে। দিনে দিনে বাড়ছে খুনের এই পরিসংখ্যান। নিজের মা-বাবার কোলও শিশুদের জন্য অনিরাপদ হয়ে উঠছে। সমাজবিজ্ঞানী ও অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমাজে ক্রমবর্ধমান অস্থিরতাই শিশুদের ওপর নৃশংস আচরণের জন্য দায়ী। সমাজে অস্থিরতা বিরাজমান থাকলে মানুষের মনে তা প্রভাব পড়ে। সাম্প্রতিক কয়েকটি শিশু হত্যার ঘটনা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, পারিবারিক কলহ, সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ, ব্যক্তিগত লোভ-লালসা চরিতার্থ কিংবা স্বার্থ আদায় করার জন্য টার্গেট করা হচ্ছে শিশুদের। চলছে ধর্ষণ ও অপহরণের ঘটনাও। সবশেষ রাজধানীর বনশ্রীতে দুই ভাইবোন তাদের মায়ের হাতে হত্যাকাে র শিকার হওয়ার ঘটনাটি সারা দেশে আলোড়ন তুলেছে। বেশির ভাগ মানুষই বিশ্বাস করতে চাইছেন না, মা তার আদরের দুই সন্তানকে নিজ হাতে হত্যা করতে পারেন। তবে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মা নিজেই স্বীকার করছেন হত্যাকাে র ঘটনা। বলছেন, সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয়ের কারণেই তাদের হত্যা করেছে। মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি এক ধরনের মানসিক অসুখ। মনোবিজ্ঞানের ভাষায় একে ডিপ্রেসিভ ডিসঅর্ডার বলে। সমাজে অস্থিরতা বিরাজ থাকলে সচ্ছল মানুষের মধ্যেও এ ধরনের রোগের উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এর আগে হবিগঞ্জের বাহুবলে চার শিশুকে একসঙ্গে হত্যার পর বালিচাপা দিয়ে রাখার ঘটনাও সারা দেশে আলোড়ন তোলে। ওই ঘটনার প্রধান আসামি বাচ্চু র‌্যাবর কথিত বন্দুকযুদ্ধে মারা গেছেন। এছাড়া কেরানীগঞ্জের শিশু আবদুল্লাহ হত্যাকাে র ঘটনাতেও প্রধান আসামি র‌্যাবর সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে মারা যায়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রধান আসামিরা কথিত বন্দুকযুদ্ধে মারা গেলেই শিশু হত্যাকা বন্ধ হবে না। শিশু হত্যাকা সহ সকল অপরাধ দমনের জন্য আইনের শাসনের শতভাগ নিশ্চিত করতে হবে। সমাজে দৃষ্টান্ত তৈরি করতে হবে যে অপরাধ করে পার পাওয়ার কোনো উপায় নেই। তাহলেই কেবল সমাজ থেকে এ ধরনের অপরাধ দূর করা সম্ভব। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি বছরের প্রথম দুই মাসেই রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে ৫৪টি শিশু হত্যাকাে র শিকার হয়েছে। জানুয়ারি মাসে ২৯টি শিশু হত্যাকাে র শিকার হয়েছে। আর ফেব্রুয়ারি মাসে এই সংখ্যা ছিল ২৫টি। এই হিসাবে সারা দেশে প্রতিদিনই গড়ে প্রায় একটি করে কোমলমতি শিশুর প্রাণ ঝরে পড়ছে। তবে বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে ৫০টি শিশুকে হত্যা করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, অপরাধীরা নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য নিষ্পাপ শিশুদের সহজ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করছে। এছাড়া সামাজিক ও পারিবারিক অবক্ষয়, বেকারত্ব, অনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা, সংস্কৃতির নেতিবাচক প্রভাব, অনলাইন প্রযুক্তির কু-প্রভাব, পর্নোগ্রাফির প্রসার, অনৈতিক জীবনযাপন, মানবপাচার, বিরোধ বা শত্রুতা, ব্যক্তি স্বার্থপরতা, লোভ, ক্রমাগত সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতা শিশু হত্যাকাে র কারণ মানবাধিকার সংস্থাগুলি বলছে, শিশুহত্যার মতো ঘৃণিত অপরাধে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়ায় শিশু হত্যার ঘটনা বেড়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের তথ্য মতে, গত বছরে সারা দেশে ২৯২টি শিশু হত্যাকাে র শিকার হয়েছে আর ২০১২ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত গত চার বছরে সারা দেশে এক হাজার ৮৫টি শিশু হত্যাকাে র শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ২০১২ সালে ২০৯টি শিশু, ২০১৩ সালে ২১৮টি শিশু ও ২০১৪ সালে ৩৬৬টি শিশু হত্যাকাে র শিকার হয়।
পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মোখলেসুর রহমান বলেন, শিশুরা পরিবারের চোখের মণি এবং এদের সহজেই টার্গেট করা যায় বলে অপরাধীরা শিশুদের টার্গেট করছে। প্রতিটি শিশু হত্যার ঘটনাতেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে অনুসন্ধান ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে থাকে। তিনি বলেন, শিশুদের প্রতি নির্মমতা বন্ধ করতে হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সাধারণ মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। সাধারণ মানুষ সচেতন না হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একার পক্ষে কোনো অপরাধই নির্মূল করা সম্ভব নয়।
অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশু হত্যাকা বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ হলো মানুষের মানবিক গুণাবলী ক্রমশ লোপ পাওয়া। মূল্যবোধের অবক্ষয় ও অসহিষ্ণু মনোভাবের কারণেই অবুঝ শিশুদের প্রতি নির্মম আচরণ করতে পারে। এক্ষেত্রে সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা না হওয়াও অন্যতম কারণ। এছাড়া শিশুরা পরিবারের চোখের মণি হওয়ার কারণে তাদের টার্গেট করে কিছু আদায় করা বা প্রতিশোধ নেয়ার কথা বিবেচনা করে দুর্বৃত্তরা। নানারকম প্রলোভন দেখিয়ে শিশুদের অপহরণ ও হত্যাকা করাও সহজ। কারণ শিশুরা প্রতিরোধ করতে পারে না। মেয়ে শিশুরা সাধারণত বিকৃত মস্তিষ্কের মানুষের লালসার শিকার হয়ে থাকে। ধর্ষণের পর পরিচয় ফাঁস হওয়ার আশঙ্কায় অনেক ক্ষেত্রে মেয়ে শিশুদের নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পুলিশ ও অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম বলেন, শিশুদের টার্গেট করা হলো সবচেয়ে অমানবিক কাজ। এটা সুস্থ মস্তিষ্কের কেউ করতে পারার কথা নয়। ক্রমবর্ধমান সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতা এসব হত্যাকাে র জন্য দায়ী। সমাজে বিচারহীনতার সংস্কৃতি চালু হলে এসব ঘটনা বেড়ে যায়। এজন্য রাষ্ট্রকেই এগিয়ে আসতে হবে। এসব হত্যাকাে র ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিশেষ নজর দিতে হবে। দ্রুত আইনি কার্যক্রম শেষ করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তবেই শিশু হত্যাকা বন্ধ করা সম্ভব।
কয়েকটি ঘটনা: গত ২৯ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর রামপুরায় আলভী ও অরণী নামে দুই ভাইবোন তাদের গর্ভধারিণী মায়ের হাতে নৃশংসভাবে খুন হয়। ঘটনাটি দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে। গত ১২ই ফেব্রুয়ারি হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার সুন্দ্রাটিকি গ্রামের চার শিশু নিখোঁজ হওয়ার পাঁচদিন পর ১৭ই ফেব্রুয়ারি বালিচাপা দেয়া অবস্থায় তাদের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ২৭শে ফেব্রুয়ারি কুমিল্লার দক্ষিণ রসূলপুরে সৎ ভাইয়ের হাতে নির্মমভাবে খুন হয় মেহেদি ও মনি নামে দুই সহোদর। ১৬ই ফেব্রুয়ারি কিশোরগঞ্জে পরকীয়ার জেরে এক মা তার দেড় বছর বয়সী এক শিশুকে হত্যা করে। ১৪ই ফেব্রুয়ারি পাবনায় দুই শিশুকে বিষ খাইয়ে হত্যার পর আত্মহত্যা করে এক নারী। ৩রা ফেব্রুয়ারি বরিশালের গৌরনদীতে কবিতা নামে এক শিশু ও পঞ্চগড়ে আম্বিয়া নামে এক শিশুর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ১লা ফেব্রুয়ারি গোপালগঞ্জে এক শিশুকে হত্যা করে তার মা। ৩১শে জানুয়ারি কেরানীগঞ্জে আবদুল্লাহ নামে এক শিশুকে অপহরণের পর হত্যা করা হয়। তিনদিন পর তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ৩০শে জানুয়ারি মুন্সীগঞ্জ সদরের মালির পাথর এলাকার একটি পরিত্যক্ত ঘর থেকে নীরব (১১) নামের এক মাদ্?রাসা ছাত্রের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিখোঁজ হওয়ার দুই মাস পর ২৮শে জানুয়ারি মিঠাপুকুরের একটি জমির গর্ত খুঁড়ে পুলিশ শিশু রাহিমুল ইসলামের (১১) লাশ উদ্ধার করে। ১৯শে জানুয়ারি কক্সবাজারের রামুর বড়বিল গ্রামের একটি ফলের বাগান থেকে মোহাম্মদ শাকিল (১০) ও মোহাম্মদ কাজল (৯) নামের দুই সহোদরের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ১৬ই জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জে ফাইভ মার্ডারের ঘটনায় শান্ত (৫) ও সুমাইয়া (৫) নামের দুই শিশুও ছিল। গত ৫ই জানুয়ারি একদিনেই দেশে ছয় শিশুকে হত্যা করা হয়। এর মধ্যে গাজীপুরের টঙ্গীতে চোর সন্দেহে মোজাম্মেল হক নামে এক শিশুকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। ঢাকায় রানা নামের এক শিশুকে বিষ খাইয়ে হত্যা করে তার সৎবাবা। আর চট্টগ্রামে ছুরিকাঘাতে নিহত হয় আজিম হোসেন। সিলেট ও যশোরে অপহরণের পর সালমান ও লিমাকে হত্যা করা হয়। ৩রা জানুয়ারি ঝিনাইদহের শৈলকুপায় পারিবারিক কলহের জের ধরে ইকবাল হাসেন নামে এক ব্যক্তি নিজের ভাই ও বোনের তিন সন্তান শিবলু, আমিন ও মাহিনকে পুড়িয়ে হত্যা করে।
 

শিশু শ্রমিকরা পাবে আর্থিক সহায়তা ও প্রশিক্ষণ, অভিভাবকরা পাবেন ঋণ


মানবাধিকার রিপোর্টঃ
শিশুশ্রম নিরসনে সরকার বাংলাদেশে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত শিশুশ্রম নিরসন শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে শ্রমজীবি শিশুদের আর্থিক সহায়তা ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া যে সকল পরিবার ও অভিভাবক তাদের সন্তানদের ঝুঁকিপূর্ণ কাজে দিতে বাধ্য তাদের(পরিবার/অভিভাবক) বিকল্প কর্মসংস্থানের জন্য ক্ষুদ্র ঋণ দেওয়া হচ্ছে।
আজ সোমবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক এ তথ্য জানানো হয়েছে। কমিটির সভাপতি মন্নুজান সুফিয়ানের সভাপতিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কমিটির সদস্য শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. মুজিবুল হক, আনোয়ারুল আবেদীন খান, ছবি বিশ্বাস, শিরীন আখতার, মো. রুহুল আমিন, রেজাউল হক চৌধুরী ও রোকসানা ইয়াসমিন ছুটি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব এ বি এম সিরাজুল ইসলাম স্বাক্ষরিত প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত শিশুশ্রম নিরসন শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ইতিমধ্যে ৯০ হাজার শিশু শ্রমিককে ১৮ মাসব্যাপী উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। নতুন করে আরো ৬০ হাজার শিশু শ্রমিককে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হচ্ছে। আরো বলা হয়েছে, সরকার ৩৮টি কাজকে শিশুদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ কাজ হিসেবে ঘোষণা করেছে।
ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম নিরুৎসাহিত করার লক্ষ্যে সরকারের গৃহীত কার্যক্রমের মাধ্যমে ইতিমধ্যে গার্মেন্টস সেক্টরে শিশুশ্রম নিরসন হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬ অনুযায়ী শ্রম আদালতে ২০১৫ সালে ৪০টি ও চলতি বছর ৬টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। বৈঠকে সরকারের গৃহীত প্রকল্প দ্রুততার সঙ্গে বাস্তবায়নের তাগিদ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম নিরুৎসাহিত করতে অভিভাবক ও জনপ্রতিনিধিসহ সকল পর্যায়ে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।
আশঙ্কাজনক ভাবে বাড়ছে শিশু ও নারী নির্যাতন
মানবাধিকার রিপোর্টঃ
সারাদেশে শিশু ও নারী নির্যাতন বাড়ায় উদ্বিগ্ন সাধারণ মানুষ। মানবাধিকার কর্মীদের মতে, পারিবারিক মূল্যবোধ আর সম্পর্কের টানাপোড়েনের কারণে দিন দিন বাড়ছে এ ধরণের অপরাধ। তবে আইন-শৃঙ্খলা বহিনী বলছে, উৎকন্ঠার কিছু নেই অপরাধ স্বাভাবিক পর্যায়েই আছে।
গত ফেব্রয়ারি মাসে লক্ষ্মীপুরের কমল নগরে যৌতুকের দাবিতে ফাতেমা আক্তার সীমা নামের এক গৃহবধূকে স্বামী রোকন হোসেন পিটিয়ে হত্যা করে। একই মাসে চর গজারিয়ায় ধর্ষণের শিকার হয় তৃতীয় শ্রেণীর এক ছাত্রী। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী ২০১৫ সালে যৌতুকের দাবিতে এই জেলাতেই খুন হয়েছেন ৭ জন নারী, শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৬৪ জন। ধর্ষণ, যৌন হয়রানি ও অপহরণের ঘটনা ঘটেছে ১৫৭ টি। কুমিল্লায় গত ৩ মাসে পারিবারিক কলহে খুন হয়েছে ৬ জন শিশু। এমন আশঙ্কাজনক হারে শিশু হত্যার ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে পুলিশ।
মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, সামাজিক অবক্ষয়ের কারণেই বাড়ছে নারী ও শিশু হত্যা। তাদের মতে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়ায় নারী এবং শিশু নির্যাতনের ঘটনা বাড়ছে।


নারীর নিরাপত্তা বাড়ে ক্ষমতায়নে


মানবাধিকার রিপোর্টঃ
ঘরে-বাইরে সব জায়গায়ই নারী অনিরাপদ। প্রতিনিয়ত নানাভাবে নির‌্যাতনেরর শিকার হচ্ছে তারা। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এ অবস্থার উত্তরণ ঘটাতে হলে নারীর ক্ষমতায়ন দরকার। ক্ষমতায়ন ও নারীর সম-অধিকার নিশ্চিত করতে পারলে নিরাপত্তাহীনতাও কেটে যাবে। তাঁদের মতে, কোনো সমাজে মানুষ নৈতিকতা বিবর্জিত হলে নারীর অনিরাপদ থাকা স্বাভাবিক। তাই নারীকে সুরক্ষা দিতে হলে বিদ্যমান আইন বাস্তবায়নের পাশাপাশি সমাজের সচেতনতা ও নৈতিক মূল্যবোধের উন্নয়ন ঘটাতে হবে। পরিবার থেকেই শুরু করতে হবে নারীর প্রতি সম্মান প্রদর্শনের শিক্ষা।
নারীর অনিরাপত্তার বহিঃপ্রকাশ ঘটে নির‌্যাতনের মাধ্যমে। সেই নির্যাতন হতে পারে মানসিক বা শারীরিক। তিনি বলেন, যেসব নারী তাদের নিজ পরিবারে নির্যাতনের শিকার হয়, সেগুলো তারা প্রকাশ না করা পর্যন্ত কেউ জানতে পারে না। ফলে কোনো সংগঠনই এই নির্যাতনের চিত্র সঠিকভাবে তুলে ধরতে পারে না।
পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সমাজে নানা ক্ষেত্রে অগ্রগতি ঘটলে একই হারে নারী নির্যাাতনের ঘটনা ঘটছে। নারী নির্যাতনের বেশির ভাগ ঘটনাই অপ্রকাশিত থাকে। ২০১২ সালের তথ্য অনুযায়ী সারা দেশে নানাভাবে হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছে এক হাজার ৩৪২ জন, ধর্ষণের শিকার হয়েছে ১৫৭ জন, এসিড সন্ত্রাসের শিকার ৬৬ জন ও পুলিশি নির্যাাতনের শিকার হয়েছে ৫৯ জন। ২০১৩ সালে এক হাজার ২০০ নারী হত্যাকান্ডের শিকার, ধর্ষণের শিকার ৬৯৬ জন, এসিড সন্ত্রাসের শিকার ৪৬ জন এবং পুলিশের নির্যাতনের শিকার হয়েছে ৩৭ জন। ২০১৪ সালে এক হাজার ২৭২ জন নারী নানাভাবে হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছে, ধর্ষণের শিকার হয়েছে ১৭৪ জন, এসিড সন্ত্রাসের শিকার হয়েছে ৪১ জন ও পুলিশের নির্যাতনের শিকার হয়েছে ৫৩ জন নারী। ২০১৫ সালে এক হাজার ৩০০ নারী হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছে, ধর্ষণের শিকার হয়েছে ৮০৮ জন, এসিড সন্ত্রাসের শিকার হয়েছে ৩৭ জন এবং পুলিশের নির্যাতনের শিকার হয়েছে ৪০ জন।
এসব নির্যাতন থেকে নারীকে বাঁচাতে হলে শুধু আইন করেই হবে না, নৈতিকতাবোধের উন্নয়ন ঘটাতে হবে। আমাদের দেশের ৭৬ শতাংশ নারীই অর্থনৈতিকভাবে অনিরাপদ। নারীকে অর্থনৈতিকভাবে নিরাপদ করতে পারলেও অনেকাংশে কমে যাবে নারীর নিরাপত্তাহীনতা।
নারীর অনিরাপত্তা শুরু হয় তার নিজের ঘর থেকে। একজন নারীকে যখন তার পরিবার অর্থনৈতিকভাবে স্বাধীনতা দিতে পারে না; সেখান থেকেই ওই নারীর অনিরাপত্তার শুরু। আবার আমাদের সমাজে একজন নারী স্বাধীনভাবে চলতে পারে না। এটি হলো অনিরাপত্তার আরেক ধাপ। পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার পরিবর্তনের পাশাপাশি নারীকে সাহসী ও প্রতিবাদী হতে হবে।
 

Top
 

 

পুলিশ ও কারাগার সংবাদ

 


 

যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার যেন অনিয়ম-দুর্নীতির আখড়া


মানবাধিকার রিপোর্টঃ

হাসপাতালের ওষুধ বাইরে পাচার * রান্না ঘরে চলে মিনি ক্যান্টিন ব্যবসা * চুক্তিতে মেলে মাছ, মাংস ও ডিম হ বসে জুয়া ও মাদকের আসর * বিকাশে ঘুষ লেনদেন
যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে চলছে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতি। কারা হাসপাতাল, বন্দিদের খাবার সরবরাহ, ক্যান্টিন ব্যবসা, জুয়ার আসর ও মাদকের ব্যবসার অভিযোগ উঠেছে জোরালোভাবে। কিছু কর্মকর্তার সহযোগিতায় দেদারসে চলছে এসব অবৈধ কর্মকা । অভিযোগ রয়েছে, দিনের পর দিন কারাগারে এমন অনিয়ম-দুর্নীতি হলেও সেসব বন্ধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করেই চলছে অনিয়ম-দুর্নীতি। এতে কারা অভ্যন্তরের বন্দিরা প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। কয়েকজন বন্দি অনিয়ম-দুর্নীতির চিরকুট লিখেছেন কারা অভ্যন্তরে বসে। সেই চিরকুটে তুলে ধরা হয়েছে কারাগারের অনিয়ম-দুর্নীতির চিত্র। ১০-১২টি চিরকুট যুগান্তরের হাতে এসে পৌঁছেছে।
কারা বন্দিদের অভিযোগ, যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের বন্দিদের সুচিকিৎসার জন্য তিন তলাবিশিষ্ট একটি কারা হাসপাতাল আছে। হাসপাতালের ফার্মাসিস্টের বিরুদ্ধে রয়েছে নানা অভিযোগ। হাসপাতালের ওষুধ বিক্রি করে দেয়া ও বন্দিদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করার অভিযোগ নিত্যদিনের। কারা হাসপাতালে প্রকৃত কারাবন্দিদের চিকিৎসা হয় না। অর্থনৈতিকভাবে স্বচ্ছল বন্দিরা মাসিক ২-৩ হাজার টাকা করে কারা চিকিৎসককে দিয়ে আবাসিক হোটেলের মতো বসবাস করছে। বিকাশের মাধ্যমে ভর্তিকৃত বিত্তবান বন্দির স্বজনদের কাছ থেকে টাকা নেয়ারও অভিযোগ রয়েছে। প্রকৃতপক্ষে যারা অসুস্থ রোগী তাদের হাতপাতালের মেঝেতে ফেলে রাখা হয়। কারা হাতপাতালে বিনা চিকিৎসা ও অবহেলায় প্রায়ই বন্দির মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। মেডিকেল রান্না ঘরে চলে মিনি ক্যান্টিন ব্যবসা। ৪-৫ জন কয়েদি সাপ্তাহিক চুক্তিতে টাকা দিয়ে রান্না করছে। রান্না করা মাছ, মাংস, ডিম ও সবজি বিক্রি করা হচ্ছে। কারা ক্যান্টিনে ন্যায্যমূল্যে দ্রব্যাদি বিক্রির নিয়ম থাকলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে চড়া মূল্য নেয়া হয়। দ্বিগুণ দামে পণ্য ক্রয় করতে বন্দিদের বাধ্য করা হয়। কারা রোস্টারে জমাকৃত বন্দিদের অর্থে বর্তমানে কারা কর্তৃপক্ষ কারা ক্যান্টিন নামক অমানবিক ব্যবসা করছে। কারা ক্যান্টিনে প্রাণ ও আকিজের পানি ছাড়া অন্য কোনো কোম্পানির পণ্য বিক্রি করতে পারবে না বলে বাধ্যতামূলক নিয়ম বেঁধে দিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ রয়েছে, ওই দুই কোম্পানির কাছ থেকে মোটা অংকের ঘুষ খেয়েছেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
 

মুখোমুখি পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ের দুই কর্মকর্তাা


মানবাধিকার রিপোর্টঃ
পুলিশের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ এনেছেন তারই অধস্তন আরেক কর্মকর্তা। অধস্তন এই কর্মকর্তা হলেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার থেকে সদ্য র‌্যাবে যোগ দেয়া ডিআইজি আবদুল জলিল। অভিযোগে তিনি বলেন, সরকারি দায়িত্বের বাইরে গিয়ে বিশেষ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ নিয়েছিলেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। তিনি আরও বলেন, ঊর্ধ্বতন ওই কর্মকর্তা তার প্রভাব খাটিয়ে অবৈধ মালামাল জব্দ সংক্রান্ত একটি মামলার তদন্ত প্রভাবিত করেছিলেন। মামলার তদন্ত আইনানুগভাবে শেষ না করেই তদন্ত কর্মকর্তাকে জোর করে তিনি চূড়ান্ত রিপোর্ট দাখিল করতে বাধ্য করেন।
উল্লেখ্য, এই মামলার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশনা না শোনার কারণে পুলিশ সদর দফতর থেকে আবদুল জলিল ম লের বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃংখলা ও আপিল) বিধিমালা ১৯৮৫ অনুযায়ী অসদাচরণের অভিযোগ আনা হয়। আর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলায় জলিল ম লের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলাও দায়ের হয়। মঙ্গলবার বিকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ওই মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দফতরের একাধিক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ঊর্ধ্বতন ওই কর্মকর্তার নির্দেশ না মানায় সম্প্রতি সিএমপির কমিশনার আবদুল জলিল ম লকে এলিট ফোর্স র‌্যাবে বদলি করা হয়। সোমবার তিনি র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) পদে যোগ দিয়েছেন। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মঙ্গলবার ডিআইজি আবদুল জলিল ম ল যুগান্তরকে বলেন, অভিযোগের লিখিত জবাবই আমার বক্তব্য। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে শুনানির বিষয়টি স্বীকার করলেও এর বাইরে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মো. মোজাম্মেল হক খান যুগান্তরকে বলেন, শুনানি হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
জানতে চাইলে পুলিশ সদর দফতরের ঊর্ধ্বতন ওই কর্মকর্তা (যার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে) বলেন, পুলিশ একটি সুশৃংখল বাহিনী। এখানে চেইন অব কমান্ড ভাঙার কোনো সুযোগ নেই। এছাড়া সরকারি কর্মচারী (শৃংখলা ও আপিল) বিধিমালা ১৯৮৫ অনুযায়ী এটি অসদাচরণের পর্যায়ে পড়ে। এ ব্যাপারে মন্ত্রণালয় যথাযথ ব্যবস্থা নেবে বলে আশা করি।
 

কাশিমপুর কারাফটকে সাবেক কারারক্ষী খুন


মানবাধিকার রিপোর্টঃ
মোটরসাইকেলে এসে সন্ত্রাসীরা রুস্তম আলীকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। বুকে ও মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে লুটিয়ে পড়ে মাটিতে। সন্ত্রাসীরা নির্বিঘ্নে সেই মোটরসাইকেলে পালিয়ে যায়। গতকাল দুপুরে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে এ ঘটনায় হতবাক সবাই। দিনদুপুরে শ শ মানুষের সামনে সন্ত্রাসীদের এমন আক্রমণে খোদ প্রশাসনও স্তম্ভিত। সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন অবসরকালীন ছুটিতে থাকা সাবেক কারারক্ষী ও কারা সার্জেন্ট ইন্সট্রাকটর রুস্তম আলী। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাইফুল ইসলাম নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। কারা পরিদর্শক, জেলা প্রশাসক এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সুপারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। হাসপাতাল মর্গে নিহতের স্ত্রী, ভাই-বোনসহ স্বজনদের আহাজারিতে শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। রুস্তম আলীকে খুনের পর কাশিমপুর কারাগারসহ দেশের সব কারাগারে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে নির্দেশ দিয়েছেন কারা প্রশাসন। গুলি করে তাকে খুন করার পর ওই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং শতাধিক দোকানপাট বন্ধ করে ব্যবসায়ীরা সরে যান।

 

পরিকল্পিত হত্যাকান্ড প্রতিরোধ ও তদন্তে ব্যর্থতা পুলিশে


মানবাধিকার রিপোর্টঃ
দেশে একের পর এক চাঞ্চল্যকর হত্যাকা ঘটলেও ঘাতকদের গ্রেপ্তার করা তো দূরের কথা, তাদের শনাক্তও করতে পারছে না আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এমন অবনতিতে চরম ক্ষুব্ধ সরকারের নীতিনির্ধারকরা। প্রধানমন্ত্রী নিজেও এতে নাখোশ। অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পুলিশপ্রধানকে তলব করে বিভিন্ন দিকনির্দেশনাও দিয়েছেন সরকারপ্রধান। এরই পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে শতাধিক পুলিশ কর্মকর্তাকে বদলি করার লক্ষ্যে একটি তালিকা তৈরি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এর সারসংক্ষেপ পাঠানো হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
সূত্র মতে, বদলির ওই তালিকায় আছেন উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক থেকে শুরু করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পর্যায়ের কর্মকর্তারা। তিনটি মেট্রোপলিটন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না থাকায় সংশ্লিষ্ট পুলিশ কমিশনারদেরও বদলি করা হতে পারে। মেট্রোপলিটন এলাকার একাধিক ডিভিশনের উপ-পুলিশ কমিশনার এবং বেশ কয়েকটি থানার ওসিও দ্রুত বদল করা হবে বলে একটি সূত্রে জানা গেছে। একই সূত্রের দাবি, পুলিশের শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি পদেও পরিবর্তন আসতে পারে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক যুগ্ম সচিব নাম প্রকাশ না করার শর্তে গত ২৮ এপ্রিল জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে কিছু দিকনির্দেশনা এসেছে। যোগ্য পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দিষ্ট স্থানে নিয়োগ দিয়ে পরিস্থিতির উন্নতি করতে বলা হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পুলিশে একটি বদলির তালিকা করা হয়েছে। এরই মধ্যে তাদের সারসংক্ষেপ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।
 

 

Top



Top
 



 

স্বাস্থ্য সংবাদ


 


অর্শ বা পাইলস থেকে চিরতরে মুক্তি পেতে করণীয়

মানবাধিকার হেলথ ডেস্কঃ


মানবাধিকার হেলথ ডেস্কঃ
পাইলস অতি পরিচিত একটি রোগ এটাকে বলা হয় সভ্যতার রোগ। অর্থাৎ এই রোগটি উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশের শহরে জীবনযাপনে অভ্যস্ত লোকদের মাঝেই বেশি দেখা যায়। তার প্রধান কারণ তাদের জীবনযাপন পদ্ধতি যেমন কমপানি, কম শাক সবজি, বেশি চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়া এবং সময়মত মলত্যাগ না করা। উপরের উল্লেখিত জীবনযাপনের কারণে কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা যায় এবং মলত্যাগের সময় অতিরিক্ত প্রেসার দিতে হয়।
ফলে মলদ্বারের চারিদিকে রক্তনালী ও মাংসপি- ফুলে গিয়ে পাইলস সৃষ্টি করে। পাইলসের উৎসর্গ (১) গর্ভাবস্থায় এই রোগের প্রকোপ বাড়ে। (২) পায়খানার সময় বিশেষ করে কষা পায়খানার সময় পাইলসের রক্তনালী ছিড়ে যায় এবং রক্তক্ষরণ হয়। (৩) পায়খানার সময় ব্যথামুক্ত, টাটকা রক্তক্ষরণই পাইলসের প্রধান ও প্রাথমিক লক্ষণ।
তবে ধীরে ধীরে চিকিৎসার অভাবে এই রোগ জটিল আকার ও অন্যান্য উপস্বর্গ দেখা দিতে পারে। যেমন : ক) পাইলস মলদ্বারের বাহিরে বের হয়ে আসা, খ) বাহির হওয়ার পর ভেতরে প্রবেশ না করাগ) ব্যথা ও ইনফেকশন দেখা দেওয়া ইত্যাদি।পাইলস হইলে চিকিৎসার প্রয়োজন আছে কি?৪০ বছর বয়সের উপরে ৬০% লোকের মলদ্বারা পরীক্ষা করলেই পাইলস দেখা যাবে।
সৌভাগ্যের বিষয় সবারই চিকিৎসার প্রয়োজন হয় না। কোন উপস্বর্গ বা জটিলতা দেখা না দিলে চিকিৎসার প্রয়োজন নেই। কখন এবং কি চিকিৎসা করবেন?উপস্বর্গ বা জটিলতা দেখা দিলে চিকিৎসা অতীব জরুরি।প্রাথমিক পর্যায় অর্থাৎ শুধুমাত্র শক্ত পায়খানার সময় ব্যথামুক্ত রক্তক্ষরণ হলে- পায়খানা নরম বা নিয়মিত রাখুন- প্রয়োজন হলে ইসুবগুলোর ভুষি বা লেকজেটিভ খান। প্রচুর পানি ও শাকসবজি খান, চর্বিযুক্ত খাবার পরিহার করুন।
-নিয়মিত মলত্যাগ করুন। * জটিলতর আকার ধারণ করলে অর্থাৎ পাইলস বেরিয়ে আসলে এবং উপরোক্ত চিকিৎসা যদি কাজ না করে তবে- * ইনজেকশন * ব্যান্ড লাইগেশন * অপারেশন ইত্যাদির যে কোন ১টি করে নিতে হবে। জটিল পাইলসের ক্ষেত্রে ব্যান্ড লাইগেশন ও ইনজেকশন একটি কার্যকর সফল চিকিৎসা পদ্ধতি।
এটা ব্যথামুক্ত এবং রোগী ভর্তির প্রয়োজন হয় না। * পাইলসের কখন এবং কি অপারেশন করা হয় :পাইলস যখন মলদ্বারের বাহিরে অবস্থান করে অর্থাৎ মলত্যাগের পর পাইলস আপনা আপনি ভেতরে প্রবেশ না করে অথবা ভেতরে প্রবেশ করানোর পরও বাহির হইয়া আসে তখন অপারেশনই হচ্ছে একমাত্র সঠিক চিকিৎসা।
দুই পদ্ধতিতে অপারেশন করা যায়-১) পুরানো পদ্ধতি ও ২) নতুন পদ্ধতি ১) পুরানো পদ্ধতিতে রোগীকে অনেক দিন হাসপাতালে থাকতে হয় বলে এখন উন্নত বিশ্বে এই পদ্ধতিতে চিকিৎসা করা হয় না। ২) নতুন পদ্ধতি-২ প্রকার- ক) লংগু ও খ) ডায়াথারমি পদ্ধতি লংগু অত্যন্ত ব্যয়বহুল পদ্ধতি ৫০-৬০ হাজার টাকার খরচ পড়ে এবং ডায়াথারমি স্বল্প খরচ পদ্ধতি।
উভয় পদ্ধতি উন্নত বিশ্বে বর্তমানে প্রচলিত। এই নতুন পদ্ধতি রোগীর একদিনের বেশি হাসপাতালে থাকতে হয় না। উভয় পদ্ধতিই ব্যথামুক্ত ও অত্যন্ত কার্যকর। * পাইলস চিকিৎসার পর আবার দেখা দিতে পারে কি?সঠিকভাবে চিকিৎসা করা হলে এ রোগ আবার দেখা দেয়ার সম্ভাবনা কম। উপদেশ : পাঠকগণ এই রোগটির রোগীরা সবচেয়ে বেশি অপচিকিৎসা বা ভুল চিকিৎসার শিকার হয়। কারণ বেশির ভাগ রোগীরা হাতুড়ে চিকিৎসকের দ্বারা এসিড জাতীয় অত্যন্ত ক্ষতিকারক জিনিস দিয়ে চিকিৎসা করে থাকেন।
যার ফলে পরবর্তীতে বিভিন্ন প্রকার জটিলতা নিয়ে রোগীরা আমাদের দ্বারস্থ হয়। যেমন- পায়খানার রাস্তায় ঘাঁ হওয়া।- মলদ্বার চিকন হয়ে যাওযায় মলত্যাগে প্রচ- ব্যথা হওয়া। মলদ্বারে ক্যান্সার হওয়া।- মলদ্বারের ক্যান্সারকে পাইলস মনে করে ভুল চিকিৎসা করা ইত্যাদি। অতএব পাইলস সন্দেহ হলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন।


কানে পানি ঢুকে যন্ত্রণায় কাতর? নিন ম্যাজিকাল সমাধান !


মানবাধিকার হেলথ ডেস্কঃ
জেনে রাখুন, শরীরচর্চা, স্বাস্থ্য ও সৌন্দর্য
নদী, পুকুর বা সুইমিংপুলে সাঁতার কেটে গোসল করতে কে না ভালোবাসে? কিন্তু অনেকের ক্ষেত্রে সেখানেই ঘটে যায় বিপত্তি। ডুব দিতেই কানের মধ্যে সুড়ুৎ করে পানি ঢুকে যায়। অসাবধানে শাওয়ারে গোসলেও ঘটতে পারে একই ঘটনা। কারো কান থেকে কিছু সময় পরে এমনিই পানি বের হয়ে আসে, আবার কারো কানে পানি জমে আঠালো রক্তের মতো বের হয়।
কানের যন্ত্রণায় কাতর করে রাখে কিছুদিন। এ বিষয়ে পরামর্শ দিচ্ছেন স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডা: মো: আব্দুল হাফিজ শাফি, নাক-কান-গলা বিভাগ। এছাড়াও টপ টেন হোম রেমিডি উইকি হাউ থেকে এই সমস্যার সমাধানে নিচের অংশে সময়ের কণ্ঠস্বরের পাঠকদের জন্য থাকছে দারুণ কিছু পরামর্শ
কানে পানি ঢোকা রোগে বড়দের সঙ্গে সাধারনত ছোট ছেলেমেয়েরাই বেশি আক্রান্ত হয়। শিশুদের গলার ভেতরে শ্বাস ও খাদ্যনালীর মুখে অবস্থিত লসিকাগ্রন্থি বড় হওয়া, গলা ও মধ্যকর্ণের সংযোগনালীর (শ্রুতিনালী) কাজে সমস্যা থাকা, এলার্জি, ভাইরাসের আক্রমণ এবং মধ্যকর্ণে যন্ত্রণার কারণে এই সমস্যা হতে পারে। বায়ুর চাপ কমে চারপাশের রক্তনালী হতে তরল পদার্থ মধ্যকর্ণে জমা হয়।
বর্তমান বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশে পরিসংখ্যানগত বিশ্লেষণে কানে পানি জমা রোগের হার খুবই বেশি।
মধ্যকর্ণে তরল পদার্থ শিশুর শ্রবনশক্তি হ্রাসের অন্যতম কারণ। ভাষাশিক্ষা বিঘ্নিত হয়, বুদ্ধিবৃদ্ধি ও মানসিক বিকাশ ব্যহত হয়, স্কুলে দক্ষতা কমে যায় এবং সঙ্গে শিশুর ব্যবহারের পরিবর্তনও লক্ষ্য করা যায়। শিশুর বয়স ৪ থেকে ৫ বছরে এই সমস্যা সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। আক্রান্ত শিশুর ৯৫% পর্যন্ত এমনিতেই সেরে যায় তবে ৫% এর ক্ষেত্রে এক বছরের বেশি সময় স্থায়ী হয়। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে এ রোগের প্রকোপ কমে যেতে থাকে। তবে বড়দের ক্ষেত্রে সঠিক চিকিৎসার অভাবে রোগটি স্থায়ী হয়ে যেতে পারে।
রোগের কারণ
* সর্দি-কাশি-নাক বন্ধ হয়ে ঘন ঘন শ্বাসনালীর সংক্রমন।
* প্রায়ই এলার্জি জনিত নাকের প্রদাহ।
* ক্রনিক টনসিলের ইনফেকশন।
* শিশুদের ক্ষেত্রে নাকের পিছনে এডিনয়েড নামক লসিকাগ্রন্থি বড় হয়ে যাওয়া।
* নাকের হাড় বাকা বা ক্রনিক সাইনোসাইটিস এর সমস্যা।
* ভাইরাল ইনফেকশন।
এই রোগে কানের মধ্যে ভোঁ ভোঁ শব্দ হয়। কানে কম শোনা যায়। সংক্রমণ বেশি তীব্র হলে কানের পর্দা ফুটো হয়ে কান বেয়ে রক্ত মিশ্রিত পানি বের হতে পারে। এ রকম জটিলতার আগেই একজন নাক-কান-গলার চিকিৎসকের শরনাপন্ন হওয়া উচিত।
এ ধরণের রোগে চিকিৎসক কান পরীক্ষার মাধ্যমে সাধারণত এন্টি-হিস্টামিন, বয়স উপযোগী নাকের ড্রপ, প্রয়োজনে অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে চিকিৎসা করে থাকেন। ব্যথা কমাতে প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ খেতে পারেন। কানে পানি ঢুকে কান বন্ধ হয়ে যাওয়ার চাইতে বিব্রতকর সমস্যা আর কিছুই হতে পারে না। খুবই বিচিত্র একটা অনুভব, সেটা কাউকে ব্যাখ্যা করা অসম্ভব। অন্যদিকে কানে পানি রয়ে গেলে কান পাকা ও তীব্র ব্যথা সহ নানান রকমের শারীরিক সমস্যা হতে পারে। অনেকেই কানে পানি ঢুকলে কটন বাড দিয়ে পরিষ্কার করার চেষ্টা করেন। এই কাজটি একেবারেই ভুল! বরং জেনে নিন কান থেকে পানি বের করার ৬টি সঠিক উপায়।
 

কিডনি অকার্যকর হওয়ার আট লক্ষণ


মানবাধিকার হেলথ ডেস্কঃ
কিডনি অকার্যকর হতে থাকলে শরীর ফুলে যায়। ছবি : সংগৃহীত
শরীরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ কিডনি। কিডনি অকার্যকর হলে জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। কিডনি ভালো রাখতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ ও পুষ্টিকর খাবার খান। কিডনি অকার্যকর হওয়ার আট লক্ষণের কথা জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিষয়ক ওয়েবসাইট হেলদি ফুড টিম। এসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যান। ১. ফোলা অকার্যকর কিডনি শরীর থেকে বাড়তি তরল বের করতে পারে না। এতে মুখ, হাত, পায়ের পাতা, পা, হাঁটু ফুলে যায়। হঠাৎ করে এ রকম হওয়া কিডনি অকার্যকর হওয়ার লক্ষণ।
২. প্রস্রাবে পরিবর্তন কিডনি অকার্যকর হলে প্রস্রাবে কিছু পরিবর্তন আসে।
ক্স প্রস্রাব হতে কষ্ট হয় বা চাপ বোধ হয়। ক্স প্রস্রাবের সাথে রক্ত যেতে পারে। ক্স প্রস্রাবের রং গাঢ় হয়ে যায়। ক্স প্রস্রাব কমে যায় এবং গন্ধ হয়। ক্স ফেনার মতো প্রস্রাব হয়।
৩. ত্বকে র?্যাশ হওয়া কিডনি অকার্যকর
হয়ে পড়লে শরীরে বিষাক্ত পদার্থ জমতে থাকে। এই বিষাক্ত পদার্থ ত্বককে শুষ্ক ও ইরিটেটেড করে তোলে।
৪. অবসন্নতা স্বাস্থ্যকর কিডনি ইরিথ্রোপয়েটিন বা ইপিও হরমোন উৎপন্ন করে। এটি লোহিত রক্তকনিকা তৈরিতে কাজ করে। কিডনি অর্কাযকর হলে, লোহিত রক্তকনিকা কমে যায়। এটি শরীরে অক্সিজেন পরিবহন বন্ধ করে দেয়। এতে রক্ত স্বল্পতা হয় এবং পেশি অবসন্ন লাগে।
৫. ছোট শ্বাস কিডনির ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার আরেকটি লক্ষণ হলো ছোট শ্বাস। লোহিত রক্তকনিকা কমে যায় বলে শরীরে অক্সিজেন পরিবহন কম হয়। এতে ছোট শ্বাসের সমস্যা হয়; ফুসফুসে বাড়তি পানি জমে।
৬. মুখে দুর্গন্ধ হয় কিডনি অকার্যকর হলে শরীরে বিষাক্ত পদার্থ বাড়তে থাকে। এতে মুখ দুর্গন্ধ তৈরি হয়। যদি মুখে দুর্গন্ধ কমানোর চিকিৎসা করার পরও এমনটা হতেই থাকে, তবে কিডনি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
৭. ব্যথা কিডনি অকার্যকর হলে অনেক সময় পিঠের নিচে অথবা পাশে ব্যথা করে। কিডনিতে পাথর হলে বা সংক্রমণ হলেও তীব্র ব্যথা হয়।
৮. মনোযোগের অভাব ও ঘুম ঘুম ভাব কিডনি অকার্যকর হলে মস্তিস্কে অক্সিজেনের অভাব হয়। এতে মনোযোগের অভাব হয়। ঘুম ঘুম ভাব হয় এবং স্মৃতিতে সমস্যা হয়।
 

 ক্যান্সার নিয়ন্ত্রণে ১০ হাজার গুণ শক্তিশালী ফল এখন নীলফামারীতে!


মানবাধিকার হেলথ ডেস্কঃ

বন্দর খড়িবাড়ী গ্রামে এ্যানোনা মিউরিকাটা গোত্রের ক্যান্সার প্রতিরোধক ফল করোসল (corossol) ধরেছে। এই ফলের গাছ সংগ্রহ করা হয়েছিল আইভরিকোস্ট থেকে। সংগ্রহ করা ছয়টি গাছের মধ্যে একটি গাছে ফল ধরেছে। যা প্রচার পাওয়ায় ওই ফলটি এক নজর দেখতে ভিড় করছে মানুষজন। দুই একর জমির ওই বাগানে মানবদেহের জন্য উপকারী এমন দুই শতাধিক ঔষধি ও ফলজ গাছ রয়েছে। করোসল অনেক দেশেই ক্যান্সার প্রতিরোধক ফল হিসেবে পরিচিত। নীলফামারীর খড়িবাড়ী গ্রামের ঔষধি ও ফলজ বাগানের মালিক বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল আলমাস রাইসুল গনি। বিভিন্ন দেশ ঘুরে চারা সংগ্রহ করে নিয়ে এসে তিনি বাগানটি তৈরি করেছেন।
গ্রাভিওলা একটি ফলের নাম। যার অন্য নাম করোসেল (corossol), সাওয়ারসপ (Soursop), গুয়ানাবা( Guanaba), গুয়ানাভানা (Guanavana), ব্রাজিলিয়ান পাও পাও (Brazilian paw paw)ি ইত্যাদি। এই ফলটি পৃথিবীকে আশ্চর্য করে দিয়েছে। ক্যান্সার নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধে এই ফলটি কেমোথেরাপির চেয়ে হাজারগুণ বেশী কাজ করে। এবং এটিতে শরীরের শক্তিও জোগাড় হয়। গ্রাভিওলা ফলের স্বাস্থ্য উপকারিতা নিয়ে বহু প্রবন্ধ, নিবন্ধ লেখা হচ্ছে। এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রাভিওলা গাছ দক্ষিণ আমেরিকা , কিউবা, মেক্সিকো, সেন্ট্রাল আমেরিকা, বিশেষ করে, আমাজান নদী অববাহিকায় দেখা যায়। এটি ১৫ থেকে ৩০ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়। আর এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পুষ্টি উপাদান।
গ্রাভিওলা ফলে রয়েছে বেশ উপকারিতা। এর পাতা, বাকর, রস, বীজ ভিন্ন ভিন্ন উপকারে আসে। তবে এর বাকল ও পাতায় রয়েছে সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্য উপকারিতা। হাজার বছর ধরে লিভার সমস্যা, বাত থেকে প্যারাসাইট এর মতো রোগ নিরাময়ে ঔষধ হিসেবে গ্রাভিওলার পাতা ও বাকল খেয়ে আসছে আমাজানের বাসিন্দারা।
ললগ্রাভিওলা আম্লিক ফল হিসেবেও পরিচিত। বলা হচ্ছে- ক্যান্সার সেলের মৃত্যু ঘটাতে কেমোথেরাপির চেয়ে এটি ১০ হাজার গুণ বেশি শক্তিশালী। বিশেষ করে স্তন ক্যান্সার, ফুসফুস ক্যান্সার, প্যানক্রিয়াটিক ক্যান্সার, লিভার ক্যান্সার, প্রসটেট ক্যান্সারে এটা বেশী কার্যকর।
কিভাবে এটি কাজ করে?
করোসেল গাছের পাতা, বাকল ও বীজের নির্যাসে রয়েছে আনোনাসিয়াস এসেটোজেনিন (Annonaceous acetogenin) নামক এক ধরনের যৌগ, যা কিনা ক্যান্সার কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধিতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। এটি ক্যান্সার কোষে শক্তি সরবরাহ বন্ধ করে দেয় এবং রক্ত প্রবাহ আটকে দেয়। ফলে ক্যান্সার কোষ আর অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে পারেনা। তবে এ নিয়ে সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। তারা গ্রাভিওলার অন্য উপকারিতার উপর বেশী জোর দিয়েছেন। তারা বলছেন, গ্রাভিওলা গোটা রোগ প্রতিরোধ বাবস্থাকে সমর্থন করে। শরীরে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখে। অল্প বয়সে বার্ধক্য প্রতিরোধ করে। এছাড়াও এই ফলের নির্যাস আথ্রাইটিস পেইন, জয়েন্ট পেইন, নাকের প্রদাহ, আক্সিমা প্রতিরোধে ব্যবহার করা হয়।
এখন দেখার বিষয় নীলফামারীর এই মহা উপকারী ফল কিভাবে রোগ নিরাময়ের জন্য ব্যবহার করা হয়।
নিজ উদ্যোগে শতাধিক ঔষধি গাছের পাশাপাশি করোসলের ফলনে কর্নেল আলমাস রাইসুল গনির বাগানটি বাংলাদেশের মডেল বাগান হিসেবে বিশেষ ভূমিকা রাখবে এটাই সবার প্রত্যাশা।


বিষন্নতা কমাতে দিনে দুটি কলা!


মানবাধিকার হেলথ ডেস্কঃ
শরীর ভালো রাখতে স্বাস্থ্যকর খাবার তো খেতেই হবে। এ জন্য ফাস্টফুডের বদলে খুঁজে নিতে পারেন সহজ প্রাকৃতিক খাবার। এর মধ্যে কলা অন্যতম। কলা পুষ্টিগুণে ভরপুর একটি খাবার। আর এটি স্বাদেও ভালো।
পুষ্টিবিদরা বলেন, বিষণ্ণতা কমাতে দিনে দুটি কলা খাওয়া বেশ উপকারী। তবে এর জন্য ছোট কলা বেছে নেয়া ভালো। আর যদি টানা এক মাস আপনি দিনে দুটি করে কলা খান তাহলে ফল পাবেন জলদি। হেলদি ফুড টিমে প্রকাশিত হয়েছে এসংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন।
 



 


Top

 

 

আইন কনিকা


 

 সুপ্রীম কোর্টের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত অবসরের পর রায় লেখা যাবে না


মানবাধিকার রিপোর্টঃ
বিচারপতিদের অবসরের পর রায় লেখা বন্ধ করে দিয়ে ঐতিহাসিক কাজ করেছেন প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা। এর মধ্য দিয়ে সর্বোচ্চ আদালতের বিচারের ইতিহাসে নতুন যুগের সূচনা হলো। গত ২৮ এপ্রিল ২০১৬ দুজন বিচারপতির লেখা ১৬৮টি রায় নতুন করে শুনানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। এর মধ্য দিয়ে অবসরের পর রায় লেখার খারাপ নজিরের ইতি ঘটল। একইসঙ্গে বিচারপ্রার্থীদের বিলম্বে রায় পাওয়ার ক্ষেত্রে যে দুর্ভোগ তারও অবসান ঘটল। আর কার্যকর হলো ৫২ বছর আগে দেয়া সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়। স্বাধীনতার পর যে রায়কে না মানার প্রথা চালু হয়েছিলো আমাদের বিচারাঙ্গনে।
প্রধান বিচারপতি হিসেবে এসকে সিনহা দায়িত্ব গ্রহণের পর অবসরের পর রায় লেখা নিয়ে সাংবিধানিক বিতর্ক তৈরি হয়। খোদ জাতীয় সংসদ ছাড়াও বর্তমান ও সাবেক বিচারপতি এবং আইনমন্ত্রী বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন। প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা দৃঢ়ভাবে ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, অবসরের পর রায় লেখা সংবিধানসম্মত নয়। তিনি আরো বলেছিলেন, ভারত ও পাকিস্তানে অবসরের পর রায় লেখা যায় না। অন্যদিকে আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক জানিয়েছেন, অবসরের পর রায় লিখতে সাংবিধানিক বাধা নেই। তার ভাষ্যমতে, সংবিধানের কোথাও লেখা নেই অবসরের পর বিচারপতিরা রায় লিখতে পারবেন না।
সাংবিধানিক পদাধিকারীদের নিয়োগ কার্যকর হয় শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে এবং পদত্যাগ ও অবসরের মধ্য দিয়ে নিয়োগের অবসান ঘটে। এ কারণে সংবিধান বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, অবসরের পরে রায় লেখা সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদের পরিপন্থী। কেননা অবসরের পর বিচারপতির শপথ বহাল থাকে না এবং তিনি একজন সাধারণ নাগরিকে পরিণত হন। সুপ্রিম কোর্টের রুলসে অবসরের পর রায় লেখা যাবে কি যাবে না এ বিষয়ে স্পষ্ট কিছু উল্লেখ নেই। এ প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এম আসাদুজ্জামান বলেন, রায় তো বিচারপতিরা দেন, কিন্তু অবসরের পর সাধারণ নাগরিকে পরিণত হওয়া ব্যক্তি আদালতের নথি স্পর্শ করবেন কোন অধিকারে?
অবসরের পর রায় লেখার বিতর্কটি মূলত জোর পায় এই কারণে যে, স্বাধীনতার পর থেকেই অবসরের পর দীর্ঘকাল রায় না লিখে ফেলে রাখার খারাপ নজির চালু হয়েছিলো। যদিও আজ থেকে ৫২ বছর আগে এ রকম একটি বিতর্কের অবসান করেছিলো তৎকালীন সুপ্রিম কোর্ট। ১৯৬৪ সালে কাজী মেহারদিন বনাম মুরাদ বেগম মামলায় বিষয়টি নিয়ে বিতর্কের তৈরি হয়েছিলো। অবসরের পর হাইকোর্টের একজন বিচারক একটি রায় লেখেন এবং তাতে স্বাক্ষর করেন। এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করলে সুপ্রিম কোর্টের তৎকালীন প্রধান বিচারপতি এ আর কর্নেলিয়াসের নেতৃত্বে পাঁচজন বিচারক এক রায় দেন। রায়ে বলা হয়, অবসর পরবর্তী সময়ে কোনো বিচারপতির লিখিত ও স্বাক্ষরকৃত রায় কোনো রায় নয়। এই রায় এখনো বলবৎ আছে। কেননা উচ্চ আদালতের অন্য কোনো রায় দ্বারা এই রায় এখনো খ ানো হয়নি।
আমাদের সংবিধানের ১১১ অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে, আপিল বিভাগ কর্তৃক ঘোষিত আইন হাইকোর্ট বিভাগের জন্য এবং সুপ্রিম কোর্টের যে কোনো বিভাগ কর্তৃক ঘোষিত আইন অধস্তন সকল আদালতের জন্য অবশ্য পালনীয় হবে। অর্থাৎ সুপ্রিম কোর্টের কোনো আদেশ ও নির্দেশ, রায়, ডিক্রি ইত্যাদি মান্য করা সকল আদালতের বিচারকদের জন্য বাধ্যতামূলক। পাকিস্তান আমলে উচ্চ আদালতের দেয়া রায়ের ধারাবাহিকতা স্বাধীন দেশেও বহাল ছিলো (ক্ষেত্র বিশেষ ছাড়া)। অবসরের পর রায় দেয়া বেআইনি এই নির্দেশনা দেশ স্বাধীন হওয়ার আগে পর্যন্ত মান্য করা হয়েছে। কিন্তু স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে অবসরের পরেও বিচারকরা রায় লিখতে থাকেন।
সম্প্রতি রাষ্ট্র বনাম শাহিদুর রহমান মামলায় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ এক ঐতিহাসিক রায় দেয়। রায়টি লিখেছেন প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা। রায়ে বলা হয়েছে, মামলা নিষ্পত্তির ৬ মাসের মধ্যে রায় লিখতে হবে। বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেন প্রধান বিচারপতির পদ থেকে অবসর নিয়েছেন পনের মাস আগে এবং বিচারপতি শামসুদ্দিন নিয়েছেন প্রায় সাত মাস আগে। তাদের লেখা ১৬৮টি রায় নতুন করে শুনানি গ্রহণ করে পুনরায় রায় দেবে আপিল বিভাগ। আপিল বিভাগের এই সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে অবসরের পর রায় লেখার খারাপ নজিরের সমাপ্তি ঘটল।
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার এম মাহবুবউদ্দিন এই সিদ্ধান্তকে যুগান্তকারী ও ঐতিহাসিক বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, মামলা নিষ্পত্তির পরেও বিচারপ্রার্থীদের বছরের পর বছর রায়ের জন্য অপেক্ষা করতে হত। এই সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে বিচারপ্রার্থীদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটবে।

Top
 

 


 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 
   

                                                     Copy Right : 2001 BHRC  All rights reserved.