BHRC By-lawsBHRC Press ReleaseBHRC By-lawsBHRC ConferenceIHRCIRD ActivitiesLegal StatusBHRC BoardBHRC BranchesElection Monitoring Acid and Trauma VictimsBHRC BrochureBHRC Forms

ContactHOME

 

 

 

Cover January 2016

English Part January 2016

BHRC Branch activities

 

Top

 

Bangla Part

         নারী ও শিশু সংবাদ        পুলিশ ও কারাগার সংবাদ

স্বাস্থ্য সংবাদ          আইন কনিকা

 

বিবিধ সংবাদ

 

                                 

 

বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের মানবাধিকার প্রতিবেদন-২০১৫
জানুয়ারি ১৬ মাসে মোট হত্যাকান্ডের সংখ্যা ১৪৮ জন

 


মানবাধিকার রিপোর্টঃ
বাংলাদেশ মানবাধিকারের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা ও পৌরসভার শাখা থেকে প্রাপ্ত তথ্য এবং বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে কমিশনের ডকুমেন্টেশন বিভাগ অনুসন্ধান কার্য সম্পন্ন করে। জরিপ অনুযায়ী ২০১৬ সালের জুলাই মাসে সারা দেশে মোট হত্যাকান্ড সংঘটিত হয় ১৪৮টি। এ ধরনের হত্যাকান্ড অবশ্যই আইন শ"ংখলা পরিি'তির চরম অবনতি। কমিশন এই হত্যাকান্ডের হার ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। জানুয়ারি মাসে গড়ে প্রতিদিন হত্যাকান্ড ঘটে প্রায় ৫ জন। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও সরকারের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত বিভাগের কর্মকর্তাদের অবশ্যই অধিক দায়িত্ববান হতে হবে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার গতিশীল কার্যক্রমের মাধ্যমে হত্যাকান্ড কমিয়ে শুণ্যের কোঠায় নামিয়ে আনা সম্ভব। বাংলাদেশের গণতন্ত্র ব্যবস্থাপনাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপদান এবং মানবাধিকার সম্মত সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে হলে অবশ্যই সর্বস্তরে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা প্রয়োজন। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই কেবলমাত্র এ ধরণের ক্রমবর্ধমান হত্যাকান্ড হ্রাস করা সম্ভব।
বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের ডকুমেন্টেশন বিভাগের জরিপে দেখা যায়, ২০১৬ সালের জানুয়ারি ১৬ মাসে হত্যাকান্ডের শিকার ১৪৮ জন। এর মধ্যে যৌতুকের কারণে হত্যা ১১ জন, পারিবারিক সহিংসতায় হত্যা ১৬ জন, সামাজিক সহিংসতায় হত্যা ৩২ জন, রাজনৈতিক কারণে হত্যা ৫ জন, আইন শ"ংখলা বাহিনীর হাতে হত্যা ৭জন, বিএসএফ কর্তৃক হত্যা ০৪ জন, চিকিৎসকের অবহেলায় মৃত্যু ৩ জন, গুপ্ত হত্যা ১২ জন, রহস্যজনক মৃত্যু ৫১ জন, ধর্ষণের পর হত্যা ৩ জন, অপহরণ হত্যা ৪ জন।
বিভিন্ন দুর্ঘটনায় নিহতের মধ্যে পরিবহণ দুর্ঘটনায় মৃত্যু ২৪৫ জন, আত্মহত্যা ২২ জন। জানুয়ারি ২০১৬ সালে কতিপয় নির্যতনের উল্লেখযোগ্য ঘটনাবলীর মধ্যে ধর্ষণ ৩৩ জন, যৌন নির্যাতন ৮ জন, এসিড নিপে ২ জন, যৌতুক নির্যাতন ৩ জন।

 

জমা টাকায় সুদ হবে না, উল্টো ব্যাংক টাকা কেটে রাখবে
 

মানবাধিকার রিপোর্টঃ
ব্যাংকে টাকা জমা রাখলে সেখান থেকে সুদ পাওয়া যাবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু জাপান সরকার ঠিক তার উল্টো সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এখন থেকে জাপানে ব্যাংকে অর্থ রাখলে সেখান থেকে অর্থ কাটা যাবে। অর্থাৎ অর্থ রাখার জন্য উল্টো ব্যাংকগুলোকে অর্থ দিতে হবে। যদি অর্থ জমা থাকে, তাহলে জাপানের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে সে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে ০.১ শতাংশ হারে অর্থ নেবে। ব্যাংকগুলো যাতে বেশি করে ঋণ দিতে বাধ্য হয় সেজন্যই এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। পৃথিবীর তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ জাপানে অর্থনৈতিক মন্দা মোকাবিলা করার জন্যই এ পদক্ষেপ নিয়েছে সে দেশের সরকার। এ ধরনের পদক্ষেপ এর আগে ইউরোপিয়ান সেন্ট্রাল ব্যাংকও গ্রহণ করেছে। কিন্তু জাপানে এ ধরনের পদক্ষেপ এই প্রথম। জাপানে বর্তমানে মূল্যস্ফীতির হার খুবই কম। সেজন্য মানুষজন সেই অর্থ খরচ কিংবা বিনিয়োগ না করে ব্যাংকে রাখছে।
সে কারণে ব্যাংকে জমা থাকা অর্থের ওপর যদি সুদ না দিয়ে উল্টো অর্থ কেটে রাখা হয় তাহলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো বেশি করে ঋণ দিতে উৎসাহিত হবে। এর ফলে জনগণ ব্যাংকে অর্থ জমা রা রেখে আরো বেশি খরচ করবে এবং বিনিয়োগও বাড়বে।
জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের লক্ষ্য হচ্ছে মূল্যস্ফীতি ২ শতাংশ রাখা। কিন্তু সে দেশে অর্থ খরচ করার প্রবণতা কমে গেছে। যার ফলে জিনিষপত্রের দামও অনেক কম। এই প্রবণতা অর্থনীতির জন্য ভালো খবর নয়। এই ঋণাত্মক সুদের হার নির্ধারণ কতোটা কাজে দেবে সেটি নিয়ে সন্দেহ আছে।
টোকিওর ফুজিতসু ইন্সটিটিউটের মার্টিন স্কালজ বলেন অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার জন্য ঋণাত্মক সুদের হার হচ্ছে সর্বশেষ পন্থা।
তিনি বলেন, জাপানে যে ঋণের প্রবাহ বাড়ছে না সেজন্য শুধু বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো দায়ী নয়। ঋণ নিয়ে বিনিয়োগ করার মতো কোনো সুযোগ খুঁজে পাচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা। এমন পরিস্থিতিতে জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই উদ্যোগ কতোটা কাজে দেবে সেটি নিয়ে তিনি সন্দিহান।

 

মানবাধিকার কর্মীদের কর্মশালাপত্র
ড. সাইফুল ইসলাম দিলদার

প্রিয় সহকর্মী মানবাধিকার সংগ্রামীবৃন্দ,
আপনারা আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা গ্রহণ করবেন। মানবাধিকার কর্মীদের জন্য আয়োজিত এই ওয়ার্কশপে যারা বক্তব্য রাখবেন এবং যে সকল মানবাধিকার সংগ্রামী ওয়ার্কশপে অংশগ্রহণ করেছেন আমি তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে কতিপয় দিক নির্দেশনা পেশ করছি। প্রথমত আমরা মানবাধিকার কর্মীগণ যে আদর্শে নিবেদিত তা হচ্ছে যে সৎ উপার্জন করেন এবং উপার্জিত একটি অংশ মানবতার সেবায় ব্যয় করেন, নির্যাতিত ও নিপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়ান, আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং সকল মানুষের শান্তির পক্ষে আওয়াজ তোলেন এই মূলমন্ত্রের ভিত্তিতে প্রতিটি মানবাধিকার কর্মী তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। এই মন্ত্রটিই হচ্ছে কে মানবাধিকার কর্মী?
বাংলাদেশের মানবাধিকার প্রতিষ্ঠানগুলো ৮০র দশক থেকে এদেশে মানবাধিকার কার্যক্রম শুরু করে। লিগ্যাল এইড, তদন্ত, শালিসী (মিডিয়েশন), নির্বাচন পর্যবেক্ষণ এবং জাতীয় দুর্যোগের সময় মানবাধিকার কর্মীদের কার্যক্রমের মাধ্যমে মানবাধিকার কর্মকান্ড সীমাবদ্ধ।
লিগ্যাল এইডঃ বাংলাদেশের গ্রাম-গঞ্জে হাজারও নরনারী বেআইনীভাবে নির্যাতিত-নিপীড়িত হচ্ছেন। যারা অর্থনৈতিকভাবে স্বচ্ছল তারা সরাসরি আদালতের দ্বারস্থ হন। অনেকেই স্থানীয় প্রশাসন যথাক্রমে- সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভাগুলোতে কাউন্সিলরদের দ্বারাস্থ হন এবং গ্রামাঞ্চলের অনেকেই ইউনিয়ন পরিষদে অভিযোগ দাখিল করেন। স্থানীয় সরকারের কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় অনেক ক্ষেত্রে নির্যাতিত নারী-পুরুষ সুবিচার পান এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সুবিচার পান না। স্থানীয় নেতৃবৃন্দের বিচার ব্যবস্থায় সন্তুষ্ট না হওয়ার পর অনেকেই আদালতের দ্বারস্থ হন আবার কেউ কেউ কোনরূপ পরবর্তী কার্যক্রমে না গিয়ে নিরবতার ভূমিকা পালন করেন।
বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন নির্যাতিত নারী-পুরুষ বিশেষ করে মহিলাদের অভিযোগগুলো বিশেষ গুরুত্বসহকারে গ্রহণ করে। প্রথমে কমিশনের নিজস্ব অভিযোগ রেজিস্ট্রারে অভযোগকারীর নাম, ঠিকানা এবং অভিযোগের বিষয়ে লিপিবদ্ধ করে রেজিস্ট্রেশন করেন। পরবর্তীতে অভিযোগগুলো গ্রহণ করার পর অভিযুক্তদের লিখিত নোটিশের মাধ্যমে দিন ও সময় ধার্য করা হয়। অভিযুক্তদের সাথে আলাপ আলোচনার পর যদি বিষয়টি মীমাংসা করার যোগ্য থাকে তাহলে তাদের মতামত নিয়ে পরবর্তীতে অভিযোগকারী বা অভিযোগকারীনীর সাথে মানবাধিকার কমিশনের নেতৃবৃন্দ আলোচনায় বসেন। উভয়পক্ষ মীমাংসা হতে সম্মতি জ্ঞাপন করলে দুই পক্ষকে একত্রিত করে (প্রতিপক্ষের সর্বোচ্চ ৫ জনের বেশি সংখ্যা হবে না) দায়ী ব্যক্তিদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান নিশ্চিত করে মীমাংসায় উপনীত হওয়া সম্ভব। এ ধরনের লিগ্যাল এইড কার্যক্রমকে মানবাধিকারের ভাষায় মিডিয়েশন কার্যক্রম বলা হয়। মিডিয়েশন কার্যক্রম এমন একটি বিষয়, যার মাধ্যমে আদালতে যা সম্ভব নয় মিডিয়েশনের মাধ্যমে সেই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের বড় বড় সমস্যা মিডিয়েশনের মাধ্যমে সমাধান হয়ে থাকে।
মিডিয়েশনের মাধ্যমে যে সকল সমস্যা সমাধান করা সম্ভব হয় না, সেক্ষেত্রে মানবাধিকার কমিশন আইনজীবীদের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে অভিযোগকারী বা অভিযোগকারীনির পক্ষে আদালতে মামলা দায়ের করে নির্যাতিতকে আইনের সাহায্য প্রদান করা সম্ভব। যেহেতু বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান, এছাড়া এই প্রতিষ্ঠান কোনরূপ বিদেশী সাহায্য ছাড়াই তার কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। এক্ষেত্রে নির্যাতিত-নিপীড়িত মানুষকে সাহায্য করতে গিয়ে এমন কোন মামলা আদালতে প্রেরণ করা উচিত নয় যাতে অনেক বেশি কোর্ট ফি প্রদান করতে হবে। মানবাধিকার কমিশন যে সকল বিষয়ের উপরে লিগ্যাল এইড বা মিডিয়েশন প্রদান করবে সেগুলো হচ্ছে- ১) নারী নির্যাতন (হত্যা, ধর্ষণ, এসিড নিক্ষেপ ব্যতিত) যেমন- স্বামী বা শ্বশুরবাড়ীর লোকজন কর্তৃক নির্যাতনের শিকার, পিত্রালয়ে পরিবারের সদস্য কর্তৃক শারীরিক বা মানসিক নির্যাতনের শিকার, ইভ টিজিং, দোররা মারা প্রভৃতি নারী নির্যাতন বিষয়ে বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের স্থানীয় শাখাগুলো কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে। হত্যা, নারী ধর্ষণ এবং এসিড নিক্ষেপের ন্যায় গুরুতর অপরাধগুলো মানবাধিকার কমিশনের মাধ্যমে মীমাংসা করার কোন বিধান নেই। এ সকল ক্ষেত্রে নির্যাতিতার পক্ষে আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে আইনী সহায়তা দেয়া যেতে পারে। মানবাধিকার কর্মীগণ হত্যা, ধর্ষণ, ডাকাতি, চুরি, এসিড নিক্ষেপের ন্যায় অপরাধগুলোর তদন্ত পরিচালনা করার প্রয়োজন নেই বলে মনে করে। তবে এ সকল বড় বড় অপরাধ কর্মকান্ডের সাথে সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে পুলিশ যথাযথ তদন্ত করছে কিনা বা অপরাধীদের গ্রেফতার করছে কিনা সে বিষয়ে মানবাধিকার কর্মীগণ নজরদারি করতে পারবেন। পুলিশ উল্লেখিত বড় বড় অপরাধগুলোর বিষয়ে তদন্ত কার্য যথাযথ পরিচালনায় অনীহা প্রকাশ করলে সে বিষয়ে মানবাধিকার কর্মীগণ নিজেরা তদন্ত করে তদন্ত প্রতিবেদন সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরণ করতে পারবেন। বিচারাধীন কোন বিষয়ের উপর তদন্তকার্য পরিচালনা করা যাবে না। বিচারাধীন মামলার বিষয়টি আদালত দেখবেন। মানবাধিকার কমিশনের আইনজীবীগণ সে বিষয়ে পর্যবেক্ষণ করতে পারেন এবং ভিকটিমকে আইনগত সাহায্য প্রদান করতে পারেন। জমিজমা বিষয়ক অভিযোগগুলো মানবাধিকার কমিশনের আওতায় নেয়া যাবে না। জমিজমার মামলা বা অভিযোগ দীর্ঘসময়ে সমাধান হয় না বিধায় এ বিষয়ে মানবাধিকার কর্মীদের সম্পৃক্ত হওয়া উচিত নয়।
বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন অন্যান্য বিষয়গুলোর মধ্যে যেমন- চাকুরীচ্যুত ব্যক্তিদের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পত্র প্রেরণ অথবা তার পক্ষে আদালতে মামলা দায়ের, সন্ত্রাসী কার্যক্রমের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে অবহিতকরণ, দুর্নীতির বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে অবহিতকরণ মানবাধিকার কর্মীদের দায়িত্বের ভিতরে পড়ে। এক্ষেত্রে অবশ্যই সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে, যাতে করে এমন কোন কাজ করা যাবে না যে কাজটি করতে গিয়ে মানবাধিকার কর্মী নিজেই বিপদগ্রস্ত হয়ে পড়ে। যেক্ষেত্রে মানবাধিকার কর্মীদের নিরাপত্তার প্রশ্ন আসবে সেক্ষেত্রে যৌথভাবে একসাথে ৬-১০ জন মানবাধিকার কর্মী পুলিশ স্টেশনে গিয়ে, র‌্যাব অফিসে গিয়ে, পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে গিয়ে, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে, সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যৌথভাবে গিয়ে অভিযোগপত্র দায়ের করা যেতে পারে। মানবাধিকার কর্মীদের লিগ্যাল এইড বা মিডিয়েশনের ক্ষেত্রে ছককৃত নোটিশটি ব্যবহার করতে হবে। কোন কঠোর ভাষায় নোটিশ প্রদান করা যাবে না।
লিগ্যাল এইড কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে মানবাধিকার কর্মীদের বিষয়টি তদন্ত করার প্রয়োজন পড়তে পারে। সেক্ষেত্রে কমপক্ষে ২ জন সর্বোচ্চ ৫ জনের তদন্ত কমিটি যৌথভাবে অভিযোগটি তদন্ত করবেন। তদন্তকালীন অবশ্যই মানবাধিকার কমিশনের মন্ত্রটি অনুসরণ করতে হবে। তদন্তকালীন সময়ে কোন কর্মীকে লোভের বশবর্তী হয়ে প্রকৃত ঘটনা আড়াল করা যাবে না। প্রকৃত ঘটনা আড়ালকারী একজন মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী হিসেবে বিবেচিত হবেন এবং এ ধরনের কর্মীগণ প্রতিষ্ঠানে থাকার যোগ্যতা হারাবেন।
তদন্ত কার্যক্রমঃ বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন ৪টি বিষয়ের উপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেন। তদন্ত সম্পন্ন করার পর তদন্ত প্রতিবেদন কমিশনের সদর দপ্তরে অবশ্যই প্রেরণ করতে হবে। কমিশনের সদর দপ্তর অথবা বিভাগীয় সমন্বয়কারীর অনুমোদন সাপেক্ষে নিজ নিজ তদন্ত প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রেরণ করতে পারবেন। নিুে তদন্ত পরিচালনার নিয়ম দেয়া হলোঃ
মানবাধিকার তদন্ত রিপোর্ট ও নিয়মাবলীঃ
মানবাধিকার তদন্ত বা তথ্যানুসন্ধান বলতে বুঝায় মানবিক দৃষ্টিতে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত। যেহেতু এই তদন্ত সম্পূর্ণ বেসরকারি পর্যায়ে হয়ে থাকে, সেহেতু তা আদালত বা সরকারী পর্যায়ে সরাসরি গ্রহণ করে না, তবে বিবেচনাযোগ্য হতে পারে। মানবাধিকার তদন্ত বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই বাস্তবায়ন হয় বিভিন্ন চাপের মুখে।
নিয়মাবলীঃ মোট চারটি ভাগে মানবাধিকার তদন্ত করা হয় (ক) প্রথম পক্ষ, (খ) দ্বিতীয় পক্ষ, (গ) তৃতীয় পক্ষ এবং (ঘ) চতুর্থ পক্ষ। মানবাধিকার তদন্ত করার সময় প্রত্যেক পক্ষ হতে কমপক্ষে চারজন ব্যক্তির সাক্ষ্য অথবা প্রত্যেকেরই তার আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার নিশ্চত করতে হবে।
(ক) প্রথম পক্ষঃ যে ব্যক্তি বা গোষ্ঠী বেআইনীভাবে নির্যাতন ও জুলুমের শিকার হন অথবা আইনগত ভাষায় যাকে বাদী হিসেবে চিহ্নিত করা হয় তাদেরকেই প্রথম পক্ষ বলা হয়। আবেদনকারী বা বাদীকে প্রথম পক্ষের দলনেতা ধরা হয়। দলনেতার প্রস্তাব মোতাবেক তার সমর্থনকারী ব্যক্তিরা প্রথম পক্ষের সদস্য।
(খ) দ্বিতীয় পক্ষঃ মানবাধিকার তদন্তের দৃষ্টিকোণে কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠী অপর একটি ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর উপর বেআইনীভাবে নির্যাতন বা জুলুম করলে, জুলুমকারী পক্ষকে দ্বিতীয় পক্ষ হিসেবে ধরা হয়। এছাড়া সংবাদ পত্র বা বিশেষ তথ্য সরবরাহকের মাধ্যম ছাড়া কোন গোষ্ঠী যদি নিরপেক্ষ তদন্তের আশায় আবেদন করে, তাহলে তাৎক্ষণিকভাবে সে পক্ষকে প্রথম পক্ষ হিসেবে গণ্য করতে হবে, যদি পরবর্তীতে তার কৃতকর্মে নির্যাতনকারী হিসেবে পরিচয় পাওয়া যায় তবে তাকে দ্বিতীয় পক্ষ হিসেবে ধরতে হবে। সরকারী বা পুলিশের তদন্তের সময় দ্বিতীয় পক্ষ ছাড়াই পুলিশ এক পক্ষ বা বাদীর সাক্ষীর মাধ্যমে চার্জশীট দাখিল করে থাকে। কিন্তু মানবাধিকার তদন্তের বেলায় সম্ভাব্য দ্বিতীয় পক্ষের লোকজনের সাক্ষ্যও অন্তর্ভুক্ত থাকে। আসামীপক্ষ বা দ্বিতীয় পক্ষ নিজ পক্ষের সাক্ষীদের তদন্তকারীদের সামনে হাজির করবে।
(গ) তৃতীয় পক্ষঃ সাধারণ ক্ষেত্রে যাদের নিরপেক্ষ বলা হয়, মানবাধিকার তদন্তে তাদের তৃতীয় পক্ষ বলা হয়। এই পক্ষ ঘটনার বিস্তারিত জানেন। কিন্তু তারা প্রথম পক্ষ বা দ্বিতীয় পক্ষের কারও নিজস্ব লোক বা সমর্থক নন। এই নিরপেক্ষ লোকদের মধ্যে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব মসজিদের ইমাম, হিন্দুদের ঠাকুর, খ্রীষ্টানদের পাদরী এবং বৌদ্ধদের ভিক্ষুদের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তৃতীয় পক্ষ বা নিরপেক্ষ বাছাইয়ের পূর্বে অবশ্যই প্রথম ও দ্বিতীয় পক্ষের নিকট হতে নিরপেক্ষতা যাচাই করে নিতে হবে।
(ঘ) চতুর্থ পক্ষঃ মানবাধিকার তদন্তের ভাষায় সরকারী প্রশাসন পক্ষকেই চতুর্থ পক্ষ ধরা হয়। উপজেলা বা থানা নির্বাহী অফিসার, পুলিশ সুপার এবং জেলা প্রশাসককে স্থানীয়ভাবে চতুর্থ পক্ষ ধরা হয়। এছাড়া ঘটনা সংশ্লিষ্ট দপ্তর বা বিভাগের কর্মকর্তা অথবা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরও অনেক ক্ষেত্রে চতুর্থ পক্ষ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সরকারী কর্মকর্তা বা কর্মচারী কর্তৃক সংগঠিত ঘটনার তদন্তকালে অবশ্যই তৃতীয় পক্ষ এবং চতুর্থ পক্ষ বাছাইয়ের সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। যে কোন অপরাধমূলক ঘটনার তথ্যানুসন্ধানকালে প্রথমেই দেখতে হবে বিষয়টির উপর থানায় বা আদালতে কোন মামলা হয়েছে কিনা। যদি মামলা হয়ে থাকে তবে তার মামলা নম্বর বাদী-বিবাদীর নাম ঠিকানা এবং মামলার সাক্ষীদের নাম ঠিকানা সংগ্রহ আবশ্যক। থানার মামলার ক্ষেত্রে তদন্তকারী পুলিশ অফিসারের নাম, ঠিকানা ও তার সাক্ষাৎ গ্রহণ প্রয়োজন। অভজ্ঞতার আলোকে দেখা যায় অনেক ক্ষেত্রে থানা পর্যায়ে একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনার তদন্তে গেলে থানা পক্ষ হতে তেমন সহযোগিতা পাওয়া যায় না। সেই ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সুপারের সহযোগিতা নেয়া যেতে পারে। তথ্যানুসন্ধানে অবশ্যই লক্ষণীয় যে, ঘটনাটিতে কারা জড়িত এবং কোন বিভাগ সংশ্লিষ্ট। কৃষি বিভাগে ঘটনা শিল্প বিভাগ অবশ্যই সঠিক উত্তর দিতে পারবে না। অপরাধ সংক্রান্ত বিষয় হলে শেষ পর্যায়ে পুলিশের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করতেই হবে।
কোন কোন বিষয়ের উপর মানবাধিকার তথ্যানুসন্ধান হতে পারেঃ
(ক) সরকারী পর্যায়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনঃ সরকারী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য কর্তৃক অথবা সরকারী প্রশাসনের কর্মকর্তা কর্তৃক কোন একটি গোষ্ঠী মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হলে মানবাধিকার তথ্যানুসন্ধান হতে পারে। এছাড়া কোন ব্যক্তি যদি বেআইনীভাবে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয় তবে তাও মানবাধিকার লঙ্ঘনের আওতায় পরে, নির্যাতনের মাধ্যমে প্রাণহানী চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন। লক্ষ্য রাখতে হবে যে, অপরাধ দমন মূলক সংস্থা মানবাধিকার প্রতিষ্ঠান নয়, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্যই মানবাধিকার বিষয়ক প্রতিষ্ঠান। খুন, ডাকাতি, নারী ধর্ষণ, চুরি সহ বিভিন্ন সামাজিক অপরাধসমূহ দমনের জন্য সরকারী আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার বিভিন্ন বাহিনী থানা উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে আদালত প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। থানা, আদালত অথবা সরকারী প্রশাসন যদি অপরাধ দমনে অপারগতা, ব্যর্থতা অথবা অনীহা প্রকাশ করে, তবে ঐ বিষয়ের উপর মানবাধিকার তদন্ত হতে পারে। মানবাধিকার তদন্ত রিপোর্ট সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সামনে উপস্থাপন করা এবং তা বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করা যেতে পারে। মানবাধিকার তথ্যানুসন্ধান অবশ্যই ব্যক্তিগত বিষয়ের চেয়ে গোষ্ঠীগত ও জাতীয় বিষয়ের উপর অগ্রাধিকার দিতে হবে।
(খ) বেসরকারী পর্যায়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনঃ স্থানীয় থানা, উপজেলা, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যরা জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি হলেও তাদের অনেক ক্ষেত্রে সরকারী পক্ষে নেয়া যায় না। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায় এ সকল নির্বাচিত ব্যক্তিরা কোন না কোন পক্ষের সমর্থনে কাজ করে, ফলে তাদের মাধ্যমে কোন মানবাধিকার লঙ্ঘিত হলে তাকে বেসরকারী পর্যায়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনই বলা যায়। এছাড়া বিভিন্ন প্রভাবশালী গোষ্ঠী বা ব্যক্তির মাধ্যমে অপর একটি গোষ্ঠী বা ব্যক্তি নির্যাতনের শিকার হলে আমরা তা বেসরকারী পর্যায়ে মানবাধিকার লঙ্ঘন বলতে পারি। সরকারী প্রশাসন কর্তৃক এ সকল ঘটনা বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিরপেক্ষতার অভাব দেখা দিলে মানবাধিকার তদন্ত হতে পারে। অবশ্যই প্রতিটি তদন্তের পূর্বে একটি ছক আঁকতে হবে। কোন কোন স্থানে যাওয়া প্রয়োজন, কোন কোন ব্যক্তির সাক্ষাৎকার প্রয়োজন, কোন কোন কর্মকর্তার সহিত মিলিত হওয়া প্রয়োজন, কোন কোন কাগজপত্র সংগ্রহের প্রয়োজন এবং কোন কোন স্থান পরিদর্শন করা প্রয়োজন।
বস্তুনিষ্ঠঃ মানবাধিকার তদন্তকারীদের অবশ্যই চিন্তা করতে হবে রিপোর্টটি যেন বস্তুনিষ্ঠ হয়। সংগৃহীত তথ্যের সামান্যটুকু যেন কোন ভুল তথ্য না থাকে। প্রতিটি তদন্ত রিপোর্ট হতে হবে নির্ভুল। যাতে করে একই বিষয়ের উপর অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা রিপোর্ট করলেও সঠিকভাবে মোকাবেলা করা যায়। মানবাধিকার তদন্ত একটি রিপোর্টের প্রেক্ষিতে আরও দশটি রিপোর্ট হতে পারে। কারণ রিপোর্ট তৈরির পর সরকারের ঊর্ধ্বতন প্রশাসনিক কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, স্থানীয় কর্মকর্তা, সংবাদপত্রসমূহ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের নিকট কপি প্রেরণ হয়ে থাকে ফলে রিপোর্টের উপর আরেকটি রিপোর্ট হওয়া স্বাভাবিক।
রিপোর্ট তৈরির ধারাবাহিকতাঃ মানবাধিকার তদন্ত রিপোর্ট তৈরি করতে হলে উল্লেখিত নির্দেশিকার দিকে নজর রাখতে হবে। (ক) সূচনা (খ) ঘটনার বিবরণ (গ) চারপক্ষের মতামত (ঘ) মূল্যায়ন (ঙ) সুপারিশমালা।
সূচনাঃ মানবাধিকার তদন্ত সূচনাতে বুঝতে হবে যে, ঘটনাটি প্রকৃতভাবে মানবাধিকার লংঘিত ঘটনা কিনা। এছাড়া জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বিষয়ক সংশ্লিষ্ট আইনের ধারাগুলো এর মধ্যে সংশ্লিষ্ট থাকতে পারে।
ঘটনার বিবরণঃ যে বিষয়টির উপর মানবাধিকার তথ্যানুসন্ধান করা হলো, তার সংক্ষিপ্ত আলোকপাত করতে হবে। ঘটনার বিবরণে অবশ্যই প্রকৃত ঘটনাকেই উপস্থাপন করতে হবে।
চার পক্ষের মতামতঃ চার পক্ষের মতামতে অবশ্যই লক্ষ্য রাখতে হবে প্রত্যেক পক্ষ হতে চারজনের যেন সাক্ষ্য পাওয়া যায়। অপর দিকে চার পক্ষের সংখ্যায় অভাব দেখা দিলেও সাক্ষীদের বক্তব্যের যেন পরিপূর্ণতা থাকে।
মূল্যায়নঃ মানবাধিকার তদন্ত রিপোর্টের মূল্যায়নই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। মূল্যায়নে তদন্তকারীর নিজস্ব মত থাকবে এবং ঘটনার জন্য দায়ী ও নিরপরাধী ব্যক্তিদের কথা বলা থাকবে। এছাড়া কেন দায়ী, কেন দায়ী নয়, সে বিষয়ে তথ্যমূলক বক্তব্য উপস্থাপন করতে হবে। মানবাধিকার তদন্ত মূল্যায়ন সঠিকভাবে পেশ করতে না পারলে সম্পূর্ণ রিপোর্টই অকার্যকর হয়ে পড়বে।
সুপারিশমালাঃ সমুদয় তদন্তের পর এমন কিছু সুপারিশ পেশ করতে হবে, যা বাস্তবায়ন হলে জাতীয় স্বার্থের ব্যাঘাত ঘটবে না। এছাড়া সুপারিশ বাস্তবায়নের ফলে ঘটনার প্রকৃত অপরাধীদের শাস্তি হবে এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার সহযোগিতার স্বার্থে এক মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।
নির্বাচন পর্যবেক্ষণঃ
বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন মনে করে মানবাধিকারের পূর্বশর্তই গণতন্ত্র। যেখানে গণতন্ত্র নেই সেখানে মানবাধিকারও অনুপস্থিত। মানবাধিকার কমিশন ১৯৮৭ইং সাল থেকে বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচন প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে পর্যবেক্ষণ করে আসছে। বাংলাদেশের যে দুয়েকটি পর্যবেক্ষণ প্রতিষ্ঠান ৮০র দশক থেকে নির্বাচন পর্যক্ষেণ করে আসছে তাদের মধ্যে বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন অন্যতম। নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করার নিয়মাবলী, পর্যক্ষেকদের রেজিষ্ট্রেশন, পর্যবেক্ষকদের পরিচয়পত্র পাওয়ার যোগ্যতা বিষয়ে বিস্তারিত ফরম ও নিয়মকানুন বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের ওয়েব সাইটের পর্যবেক্ষণ অপশনে রয়েছে। আপনি ইচ্ছা করলে পর্যবেক্ষণ অপশনে গিয়ে সকল তথ্যাদি সংগ্রহ করতে পারবেন।
জাতীয় দুর্যোগকালীন সময়ে বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন
বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন যে কোন জাতীয় দুর্যোগ যেমন- ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, বন্যা, খরা, মহামারী, অতি শীত এবং যে কোন বড় ধরনের দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় এগিয়ে আসবে। দুর্যোগকালীন সময়ে শারীরিক পরিশ্রম এবং সরকারী ত্রাণ কর্মকর্তাদের সহায়তা করাও দুর্যোগে সহায়তা করার শামীল। এক্ষেত্রে মানবাধিকার কর্মীগণ স্থানীয়ভাবে দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সহায়তা সংগ্রহ করে তাদের মধ্যে বিতরণ করতে পারবেন।

 

এমন কর্মী হতে হবে যাদের বিদায়ে মৃত্যুতে এ সমাজ কাঁদবে ॥ ড. দিলদার
 

মানবাধিকার রিপোর্টঃ

মানুষ জন্ম হবার পর থেকে তার অধিকারের শুরু হয়, এসব অধিকারের সমষ্টিকে মানবাধিকার বলে। এ অধিকার সব মানুষের জন্য সমান। আমরা যারা মানবাধিকার কর্মী, তাদের সবাইকে আমাদের চারপাশের মানুষের অধিকারের কথা মনে রাখতে হবে। নিজেকে সংযত হতে হবে, অপরের দুঃখে দুঃখী হতে হবে। ১৬ জানুয়ারী ২০১৬ সকালে নগরীর পাঁচলাইশ থানার ষোলশহর এলজিইডি ভবনের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন চট্টগ্রাম উত্তর জেলার সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য এসব কথা বলেন কমিশনের মহাসচিব ড.সাইফুল ইসলাম দিলদার।
তিনি বলেন, এ পৃথিবীতে যে সব মহামানবরা এসেছেন, যেমন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ, হযরত মুহাম্মদ (সাঃ), যীশু খ্রিষ্ট এবং শ্রীময় বুদ্ধদেব, তারা সবাই মানুষের সেবার জন্য এসেছেন। যিনি যে ধর্মের কথাই বলেন না কেন, সবাই মানুষের ভালো চেয়েছেন, সকল মানুষের কল্যাণ চেয়েছেন। তাই মানবাধিকার কর্মীদেরও সব দিক থেকে সবার ভালো চাইতে হবে। এমন কর্মী হতে হবে, যারা এই পৃথিবীতে বেঁচে থাকা অবস্থায় শ্রেষ্ঠ মানুষ ও ভাল মানুষ হিসেবে পরিচয় পান এবং তাদের বিদায়ে (মৃত্যুতে) এ সমাজ কাঁদবে।
তিনি আরো বলেন, সমাজে সবসময় মন্দের একটি ধারা ছিলো। আমাদের মানবাধিকার কর্মীরা তাদের প্রতিরোধ ও প্রতিহত করবে। যারা মানবাধিকার কর্মীর পরিচয়ে অসৎ কাজ করবে, আমাদের কর্মীরা প্রয়োজনে তাদের থানায় দেবে। ইতোমধ্যে এমন অভিযোগে চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির কিছু অসৎ ব্যক্তিকে বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন থেকে ছাঁটাই করা হয়েছে।
সভাপতির বক্তব্য বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন চট্টগ্রাম উত্তর জেলার সভাপতি নিয়াজ মোর্শেদ এলিট বলেন, মানবাধিকার কথাটি অনেক বড়, আমরা ছোট ছোট মানুষদের সেই বড় কাজটি করে যেতে হবে। আজ সমাজের সব স্থরে মানবাধিকার হরণ হচ্ছে। আমরা সব সময় শিশু, নারীদের অধিকারের কথা বলি, তবে আমাদের সমাজে পুরুষরাও কম নির্যাতিত নয়। বিভিন্ন সময় আইনের মারপ্যাঁচে পরে অনেক পুরুষ নির্যাতিত হচ্ছেন। আমাদের তাদের পাশেও দাঁড়াতে হবে।
তিনি আরো বলেন, আমরা নতুন কমিটি দায়িত্ব নিয়েছি খুব বেশি দিন হয়নি। তবে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি উপজেলার কমিটি পুনর্গঠন হয়েছে, বাকি গুলোতে আমাদের অগ্রজরা ভালো কাজ করছেন, তাই তাঁরাই থাকবেন। তবে এর পরেও আরো কিছু কমিটি রি-সাফল করা হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য প্যানেল মেয়র চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী বলেন, জনপ্রতিনিধিরাও প্রতিনিয়ত মানবাধিকার রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে। মানবাধিকার রক্ষায় কোনো কমিটির সদস্য হতে হবে তা নয়, যে কেউ অন্তরে বিষয়টি ধারন করলেই মানুষের অধিকার রক্ষায় কাজ করতে পারে। মানবাধিকার কর্মীদের উচিত সবসময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাথে যোগাযোগ রাখা। এতে করে তাদের কাজ আরো সহজ হবে।
চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব সভাপতি কলিম সরওয়ার বলেন, অনেকে মানবাধিকার সংগঠনের নাম দিয়ে অমানবিক কাজ করছে। কার্ড ব্যবসা করছে, থানায় গিয়ে টাকা নিচ্ছে। তাই এসব অসৎ মানুষরা যাতে মানবাধিকার সংগঠনে থাকতে না পারে সে দিকে সচেতন হতে হবে। না হয় সব মানবাধিকার কর্মীদের উপর অপবাদ আসবে।
সংগঠনের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমন্বয়কারি লায়ন সেতারা গাফ্ফার বলেন, আমি একজন গৃহিনী থেকে এই পথে এসেছি। আমি যেহেতু পেরেছি আপনারাও পারবেন। মনে সৎ সাহস থাকলে মানুষের উপকার করা যায়।
বিশেষ প্রতিনিধি এমএ সোহেল আহমেদ মৃধা বলেন, মানবাধিকার সর্বস্তরে প্রতিষ্ঠা করতে হলে সৎ মানবাধিকার কর্মী ছাড়া সম্ভব নয়। তিনি বলেন, চট্টগ্রামের মানবাধিকার কর্মকান্ড বর্তমানে বেগবান হয়েছে, আগামী দিনে দক্ষ নেতৃত্বে আরও বেগবান হবে।
নগর মানবাধিকার কমিশনের সভাপতি ও জেলা পিপি অ্যাডভোকেট আবুল হাশেম বলেন, কয়েক বছর আগেও এই সংগঠনের সাথে ছিলাম না কিন্তু একসময় ভাবলাম, ভালো মানুষরা যদি এসব সংগঠনে না আসে তাহলে খারাপরা ওই জায়গা গুলো দখল করে ফেলবে। এখন প্রতিটি ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে গিয়ে নিজেকে মানবাধিকার কর্মী বলে জানাই। তবে এ সংগঠনে কোন ভাবেই রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করা যাবে না, কারণ এটি একটি অরাজনৈতিক সংগঠন।
সম্মেলনে মানবাধিকার রক্ষায় বিশেষ অবদানের জন্য সংগঠনের ১০ কর্মীকে ক্রেষ্ট তুলে দেয়া হয়। এছাড়া রাঙ্গুনিয়া উপজেলাকে শ্রেষ্ঠ শাখা ঘোষণা করা হয়। এসময় বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন চট্টগ্রাম উত্তর জেলার জন্য ১০ সদস্যর একটি লিগ্যাল এইড প্যানেল ঘোষণা করা হয়, যারা বিভিন্ন সমস্যায় ভুক্তভোগীদের আইনি সহায়তা দেবেন।
সংগঠনের চট্টগ্রাম উত্তর জেলার সভাপতি নিয়াজ মোর্শেদ এলিটের সভাপতিত্বে ও সাধারন সম্পাদক আবুল বশরের সঞ্চালনায় সম্মেলনে আরো বক্তব্য রাখেন, চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম, কমিশনের চট্টগ্রাম বিভাগের বিশেষ প্রতিনিধি লায়ন সোহেল আহমদ মৃধা, বিশেষ সমন্বয়কারি আবুল হাসনাত চৌধুরী, কমিশনের চট্টগ্রাম মহানগর সাধারন সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম কমু, দক্ষিন জেলার সভাপতি লায়ন অজিত কুমার দাশ, দক্ষিন জেলার সাধারন সম্পাদক ও সাতকানিয়া পৌরসভার নব-নির্বাচিত মেয়র মো. জোবায়ের, এর আগে শনিবার সকাল ১১টায় বেলুন উড়িয়ে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের মহাসচিব ড.সাইফুল ইসলাম দিলদার। সকাল সাড়ে ১১টায় উত্তর জেলা সভাপতি নিয়াজ মোর্শেদ এলিটের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এতে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা প্রায় হাজার খানেক কর্মী যোগ দেন।

 

উন্নয়নের ধারা সুদৃঢ় করতে মানবাধিকার সংগঠনগুলোকে ভূমিকা রাখতে হবে
----------------ড. অনুপম সেন


মানবাধিকার রিপোর্ট
বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন চট্টগ্রাম মহানগর শাখা আয়োজিন মানবাধিকার সম্মেলন গত ১৫ জানুয়ারী ২০১৬ বিকেল ৩টায় চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ মিলনায়তনে কমিশনের চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সভাপতি ও চট্টগ্রামের সাবেক পিপি এডভোকেট আবুল হাশেমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আবু সাদাত মোঃ সায়েম ও রাজিয়া সুলতানার সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম প্রিময়াম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. অনুপম সেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নের ধারা সুদৃঢ় করতে রাষ্ট্রে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর ভূমিকা রাখতে হবে। উদ্বোধক ছিলেন বাংলাদেশ কমিশনের মহাসচিব ড. সাইফুল ইসলাম দিলদার। বিশেষ অতিথি ছিলেন, বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের চট্টগ্রাম বিভাগের বিশেষ প্রতিনিধি এম.এ. সোহেল আহমেদ মৃধা।

সংগঠনের প্রতিবেদন পাঠ করে বক্তব্য রাখেন, সৈয়দ সিরাজুল ইসলাম কমু। আবু হাসনাত চৌধুরীর স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, আবুল বশর, জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, কাউন্সিলর আনজুমান আরা বেগম, আবিদা আজাদ, লায়ন এ.এ. গোলাম ফারুক মামুন, আলহাজ্ব মাঈন উদ্দীন, আলহাজ মনছুর আহাম্মদ, মাসুদ পারভেজসহ ১৬টি থানার সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও মহানগরের নেতৃবৃন্দ।
 

সেনাপ্রধানের সঙ্গে সু চির বৈঠক


মানবাধিকার রিপোর্ট
নতুন সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া নিয়ে সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইংয়ের সঙ্গে বৈঠক করলেন মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চি। আগামী সপ্তাহে অনুষ্ঠেয় পার্লামেন্ট অধিবেসনকে সামনে রেখে এই বৈঠক হয়।
গত নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে সু চির নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) বিপুল বিজয়ের পর সেনাপ্রধানের সঙ্গে এ নিয়ে দ্বিতীয়বার আলোচনা হলো সু চির। ওই নির্বাচনে এনএলডি প্রায় ৮০ শতাংশ আসনে জয়ী হয়। নতুন সরকারের হাতে শিগগিরই ক্ষমতা হস্তান্তর করা হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। নির্বাচনের পর ডিসেম্বরে সেনাপ্রধানের সঙ্গে সু চির প্রথম দফা আলোচনা হয়। সোমবারে দ্বিতীয় দফার প্রায় দুই ঘণ্টার আলোচনায় সেনাপ্রধান ও সু চি ছাড়াও তাঁদের ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা অংশ নেন।
আলোচনা সম্পর্কে মিন অং হ্লাইংয়ের ফেসবুকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে ক্ষমতা হস্তান্তর, শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিয়ে উভয় পক্ষ আন্তরিক আলোচনা করেছে। পার্লামেন্টের বিষয় ও নতুন সরকার গঠন নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

 

দুর্নীতির অভিযোগ থেকে রাজাককে অব্যাহতি


মানবাধিকার রিপোর্ট
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাককে দুর্নীতির অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আপান্দি আলী গতকাল মঙ্গলবার ঘোষণা দেন, নাজিবের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে জমা হওয়া ৬৮ কোটি ১০ লাখ ডলার ছিল সৌদি রাজপরিবারের অনুদান। বিরোধীরা অ্যাটর্নি জেনারেলের এ ঘোষণার নিন্দা জানিয়েছে।
মালয়েশীয় প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে জমা হওয়া এ বিপুল পরিমাণ অর্থের বিষয় গত জুলাইয়ে জনসমক্ষে আসে। এ নিয়ে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়। আর্থিক এ কেলেঙ্কারির সঙ্গে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ওয়ান মালয়েশিয়া ডেভেলপমেন্ট বার্হাডের (ওয়ানএমডিবি) নাম জড়িয়ে যায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে রাজাকের পদত্যাগ দাবি করে আসছিল বিরোধীরা। আধুনিক মালয়েশিয়ার রূপকার হিসেবে খ্যাত সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদও রাজাকের বিরুদ্ধে সরব হন। যদিও রাজাকের পক্ষে বরাবরই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়। মালয়েশিয়ার দুর্নীতি দমন কমিশনও (এমএসিসি) জানায়, এই তহবিল মধ্যপ্রাচ্যের অজ্ঞাত দাতাদের দেওয়া রাজনৈতিক চাঁদা।
প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা ওয়ান আজিজাহ ওয়ান ইসমাইল বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দ্বারা অ্যাটর্নি জেনারেলের নিয়োগের মধ্যেই পারস্পরিক স্বার্থের ব্যাপার জড়িত।
গত বছরের মাঝামাঝি রাজাককে ঘিরে এ আর্থিক কেলেঙ্কারি নিয়ে হইচইয়ের মধ্যে তৎকালীন অ্যাটর্নি জেনারেল আব্দুল গনি পাতাইলকে সরিয়ে তাঁর জায়গায় আপান্দি আলীকে নিয়োগ দেন রাজাক। অ্যাটর্নি জেনারেলের ওপর এই কেলেঙ্কারি তদন্তের দায়িত্ব ছিল। পাতাইল তা শুরুও করেছিলেন।
সাবেক বিচারপতি আপান্দি নাজিবের ক্ষমতাসীন ইউনাইটেড মালয় ন্যাশনাল অর্গানাইজেশন (ইউএমএনও) দলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত।
আপান্দি সংবাদ সম্মেলনে বলেন, তদন্তে যা বেরিয়ে এসেছে তাতে আমি সন্তুষ্ট। তহবিলটির সঙ্গে দুর্নীতি বা ঘুষের কোনো সম্পর্ক নেই। প্রধানমন্ত্রী রাজাকের এসব অর্থ কেন পাঠানো হয়েছিল তার কারণ জানা যায়নি। এটা প্রধানমন্ত্রী ও সৌদি রাজপরিবারের মধ্যকার বিষয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আপান্দি জানান, তহবিল আসার পাঁচ মাস পর ২০১৩ সালের আগস্টে ৬২ কোটি ডলার সৌদি রাজপরিবারের কাছে ফেরতও পাঠানো হয়। অবশ্য এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোনো কারণের কথা জানাননি অ্যাটর্নি জেনারেল।
মালয়েশিয়ার দুর্নীতি দমন কমিশনের দেওয়া তিনটি তদন্ত প্রতিবেদনে নাজিবের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অপরাধের অভিযোগ আনা হয়নি। সুতরাং এ বিষয়ে আর কোনো পদক্ষেপ নেওয়াও হবে না বলে জানান আপান্দি।
প্রসঙ্গত, ৬২ বছর বয়সী রাজাক ২০০৯ সাল থেকে ক্ষমতায় আছেন।
 

জাতিসংঘ সমর্থিত সরকারের বিপক্ষে লিবিয়ার পার্লামেন্ট
 

মানবাধিকার রিপোর্টঃ
লিবিয়ায় জাতিসংঘ সমর্থিত জাতীয় ঐকমত্যের সরকারের বিপক্ষে ভোট দিয়েছে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পার্লামেন্ট। দেশটির চলমান সংকট থেকে উত্তরণের ক্ষেত্রে একে বড় ধরনের বাধা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
২০১১ সালে স্বৈরশাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের পর থেকে রাজনৈতিক সংকট চলছে দেশটিতে। বর্তমানে প্রতিদ্বন্দ্বী দুটি পার্লামেন্ট রয়েছে লিবিয়ায়। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পার্লামেন্টের অবস্থান পূর্বাঞ্চলের তবরুকে। আর মিলিশিয়া সমর্থিতরা দখলে রেখেছে রাজধানী ত্রিপোলি।
এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে গত সপ্তাহে গঠন করা ঐকমত্যের সরকারকে সমর্থন দিতে পার্লামেন্টের প্রতি আহ্বান জানায় জাতিসংঘ ও পশ্চিমা কূটনীতিকরা। তবে ব্যবসায়ী ফয়েজ আল-সরাজের নেতৃত্বাধীন ৩২ সদস্যের মন্ত্রিসভার আকার নিয়ে অসন্তুষ্ট অধিকাংশ এমপি (১০৪ জনের মধ্যে ৮৯ জন) গত সোমবার এ-সংক্রান্ত বিলের বিপক্ষে ভোট দেন।
গত মাসে জাতিসংঘের উদ্যোগে সই হওয়া এক শান্তিচুক্তির অধীনে ওই ঐকমত্যের সরকার গঠন করা হয়। সূত্র : এএফপি।
 

ড. ইউনূসকে কানাডার প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণ


মানবাধিকার রিপোর্টঃ
কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রোডো নোবেলবিজয়ী ড মুহম্মদ ইউনূসকে কানাডায় আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর অটোয়ায় উত্তর আমেরিকার সামাজিক ব্যবসা ফোরাম আলোচনায় প্রফেসর ইউনূস আমন্ত্রিত হয়েছেন। এতে আরো অংশ নিবেন হলিউড অভিনেতা কেভিন স্পেসি। অনুষ্ঠানের এক পর্বে প্রফেসর ইউনূসকে সংবর্ধনা দেয়া হবে। জাস্টিন ট্রোডো ১৯৮৩ সালে তার বাবা পিয়ারে জাস্টিন ট্রোডোর সাথে বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন, আমন্ত্রণকালে সেই কথা উল্লেখ করা হয়। সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য এ সেমিনারে ইউনূস দরিদ্র মহিলাদের জন্য তার বিশ্বনেতা অবদান, বাংলাদেশের মতো কানাডায় ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমের অনুপ্রাণিত করা ইত্যাদি বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন। উল্লেখ্য, আলবাট্রাসহ কানাডার বেশ কটি ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্প রয়েছে। যা ২০০৬ সালে ইউনূস এসে উদ্বোধন করে গিয়েছিলেন।
 

গ্রিসের বিরুদ্ধে মামলা করবে নির্যাতিত বাংলাদেশী শ্রমিকরা


মানবাধিকার রিপোর্টঃ
গ্রিসের বিরুদ্ধে ইউরোপিয়ান কোর্ট অব হিউম্যান রাইটসে মামলা করতে যাচ্ছেন ৪২ বাংলাদেশী শ্রমিক। মানবপাচার ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়ার দায়ে ম্যান্ডোলার স্ট্রবেরি খামারে নির্যাতনের শিকার হওয়া এ শ্রমিকরা দেশটির বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এ খবর দিয়েছে গ্রিস পত্রিকা দ্য গ্রিক রিপোর্টার।
ইউরোপিয়ান কনভেনশন অব হিউম্যান রাইটসের চতুর্থ অনুচ্ছেদ লঙ্ঘণের দায়ে এ প্রথমবারের মতো ইউরোপিয়ান ইউনিয়নভুক্ত গ্রিসের বিরুদ্ধে মামলা হতে যাচ্ছে। ওই অনুচ্ছেদে দাসত্ব ও জোরপূর্বক শ্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
বাংলাদেশের এ শ্রমিকরা গ্রিসের উত্তরাঞ্চলীয় পেলোপনেসের ম্যান্ডোলায় একটি স্ট্রবেরি খামারে কাজ করতেন। ২০১৩ সালের এপ্রিলে তাদের বিষয়টি সর্বপ্রথম জনসম্মুখে আসে। ৩০ জন অভিবাসী শ্রমিক অভিযোগ করেন, ছয় মাস ধরে বেতন না পাওয়ায় স্ট্রবেরি খামারের মালিকের কাছে অভিযোগ জানাতে গেলে, তাদের গুলি করা হয়। এর পর তদন্তে বের হয়ে আসে খামারটিতে অবৈধ অভিবাসীদের নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি।
এ ঘটনা ছাড়াও আরও বিভিন্ন কারণে গ্রিসকে রাষ্ট্র হিসেবে মানব পাচার ঠেকানো ও ভুক্তভোগী শ্রমিকদের নিয়োগকর্তাকে শাস্তি দিতে ব্যর্থ হওয়ার দায়ে অভিযোগ করা হচ্ছিল। এর আগে ২০১৪ সালে গ্রিসের একটি আদালত আসামীদের মানবপাচারের সব অভিযোগ থেকে নিষ্কৃতি দেয়। অবশেষে এবার গ্রিসের বিরুদ্ধে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের মানবাধিকার আদালতেই মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভুক্তভোগী বাংলাদেশী শ্রমিকরা।
দ্য কাউন্সিল অব রিফিউজিস ইন গ্রিস নামে একটি সংগঠন জানিয়েছে, ইউরোপিয়ান মানবাধিকার আদালত ২০ই জানুয়ারির পর মামলাটি গ্রহণ করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।


মশার কয়েল ব্যবহারে ভয়ানক স্বাস্থ্য ঝুঁকি


মানবাধিকার রিপোর্টঃ
অবৈধ ও অনুমোদনহীন মশার কয়েল ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে মশার কয়েল ব্যবহার না করারও পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। গতকাল মঙ্গলবার সিরডাপ মিলনায়তনে আমারহেলথ ডট কম আয়োজিত অনুমোদনহীন মশার কয়েল জনস্বাস্থ্যের বিপর্যয় ডেকে আনছে শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, স্বাস্থ্য রক্ষা করা এবং স্বাস্থ্যহানি রোধ করতে দেশের অবৈধ মশার কয়েল উৎপাদনকারী কারখানাগুলো বন্ধ করতে হবে। তিনি বলেন, মশার উৎপাদনস্থলগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে মশা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। আমরা যেমন ভাবে ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু দমন করেছি তেমনিভাবে সদিচ্ছা থাকলে মশাও নিয়ন্ত্রণ করতে পারবো এবং একটি মশামুক্ত দেশ গড়তে পারবো। তথ্যমন্ত্রী বলেন, মশার কয়েল একটা কীটনাশক, তাই মশার কয়েল উৎপাদন করতে অবশ্যই নিয়ন্ত্রণ সংস্থা বিএসটিআই কিংবা বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদন নিয়ে কয়েল তৈরি করা দরকার। মশা একদিকে যেমন জটিল রোগের কারণ তেমনিভাবে মশা নিধনের কয়েল আবার শিশু ও মায়ের জন্যে অনেক বেশি ক্ষতিকর। প্যারাসাইটোলজি নিপসন এর বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. বে-নজির আহমেদ বলেন, মশার কয়েল নিরাপদ হওয়ার পরও এতে ক্ষতিকর প্রস্তাব রয়েছে। কয়েলের ধোঁয়াতে নাক, গলা, ফুসফুস ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মশার কয়েল ব্যবহারের পরিবর্তে সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে যদি মশা নিধন করা যায়, তাহলে মশার কয়েল ব্যবহার বন্ধ করা সম্ভব হবে।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ন্যাশনাল হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. ওয়ানাইজা। তিনি বলেন, মশা তাড়াতে কয়েল, স্প্রে, ইনসেকটিসাইডস ব্যবহারের বিকল্প নেই। কিন্তু সেই কয়েলে যদি রাসায়নিক ব্যবহারের পরিমাণ বেশি হয়, তাহলে নানা ধরনের রোগ হতে পারে। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার ঘোষিত মাত্রার চেয়ে ভিন্ন বা বেশি মাত্রার এসব কয়েল আমাদের দেশে ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনছে। দীর্ঘদিন এসব কয়েল ব্যবহারের ফলে মানব শরীরে বাসা বাঁধছে ভয়ঙ্কর সব রোগ।
বক্তারা বলেন, অনুমোদনহীন কয়েলে একটিভ ইনগ্রেডিয়েন্ট (ক্যামিকেল) যথেষ্ট ব্যবহারের ফলে ক্যান্সার, শ্বাসনালীতে প্রদাহসহ বিকলঙ্গতার মতো ভয়াবহ রোগ হতে পারে। এমনকি গর্বের শিশুও এসব ক্ষতির শিকার হতে পারে। খাদ্যের ফরমালিন ও পানির আর্সেনিকের প্রভাব যেমন দীর্ঘমেয়াদী, তেমনি এসব কয়েলের বিষাক্ত উপাদান মানুষের শরীরে দীর্ঘ মেয়াদী জটিল রোগের বাসা তৈরি করছে।
আমারহেলথ ডটকমএর সম্পাদক ডা. অপূর্ব পন্ডিতের সভাপতিত্বে সেমিনারে আরো বক্তব্য রাখেন বিএসটিআই এর পরিচালক আখতারুজ্জামান, হেলথ এন্ড হোপ হাসপাতালের স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. বিলকিস বেগম চৌধুরী, মালয়েশিয়ার ইনভায়রনমেন্টাল হেলথ টেকনোলজি সেন্টারের ডিরেক্টর ড. মুনি সেরিটপ্রমুখ।
বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের উদ্দ্যোগে ঈশ্বরদীতে কম্বল বিতরণ
মানবাধিকার রিপোর্টঃ
বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন পাবনা আঞ্চলিক শাখার উদ্দ্যোগে কমিশনের নিজস্ব কার্যালয়ে অসহায়, দুঃস্থাদের ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষের স্বাক্ষীদের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে কম্বল বিতরণ করেন ঈশ্বরদী পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি ও নব নির্বাচিত পৌর মেয়র জনাব আবুল কালাম আজাদ মিন্টু। এ সময় মোবাইলে স্বাক্ষীদের শুভেচ্ছা জানান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুানালের তদন্ত কর্মকর্তা জনাব নূর হোসেন। এছাড়াও এ সময় বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান ফান্টু ও স্থানীয় সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের পাবনা আঞ্চলিক সমন্বয়কারী মানবতাবাদী বীর মুক্তিযোদ্ধা আ.ত.ম শহিদুজ্জানাম নাসিম।
 

পাবনায় প্রথম নারী জেলা প্রশাসক
 

মানবাধিকার রিপোর্টঃ
পাবনায় জেলা প্রশাসক হিসেবে যোগদান করেছেন রেখা রানী বালো। পাবনা জেলার ১৮৮ বছরের ইতিহাসে তিনিই প্রথম নারী জেলা প্রশাসক হিসেবে যোগদান করলেন। তিনি পাবনা জেলার ১৪০তম জেলা প্রশাসক। বৃহস্পতিবার রাতে তিনি পাবনার জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে পাবনায় আসেন এবং আজ থেকে অফিস করবেন বলে জানা গেছে।
পাবনা জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব থেকে রেখা রানী বালোকে পদায়ন করা হয়েছিল নাটোরের জেলা প্রশাসক হিসেবে। আর পাবনার জেলা প্রশাসক হিসেবে পদায়ন করা হয় খলিলুর রহমানকে। তবে তাদের যোগদানের আগেই ওই বদলি আদেশে পরিবর্তন করে খলিলুর রহমানকে নাটোর জেলায় এবং রেখা রানী বালোকে পাবনায় বদলি করে পুনরাদেশ দেয়া হয়। রেখা রানী বালো বিসিএসের ১৫তম ব্যাচের কর্মকর্তা।


 

পুলিশকে জনগণের সেবক হতে হবে :প্রধানমন্ত্রী


মানবাধিকার রিপোর্টঃ

১৯৭৫ সালের ১৫ জানুয়ারি প্রথম পুলিশ সপ্তাহে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেয়া ভাষণের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আপনারা জনগণের পুলিশ। আপনাদের কর্তব্য জনগণের সেবা করা, জনগণকে ভালোবাসা এবং দুর্দিনে জনগণকে সাহায্য করা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি আশা করি পুলিশ বাহিনীর প্রত্যেক সদস্য সর্বোচ্চ দেশপ্রেমের সঙ্গে তাদের দায়িত্ব পালন করবে। সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে তাদের জনগণের সেবক হতে হবে। তাদেরকে অসহায় ও বিপন্ন মানুষের পাশে বিশ্বস্ত বন্ধুর মত দাঁড়াতে হবে, যাতে মানুষ তাদের ওপর নির্ভর করতে পারে।
তিনি ২৬ জানুয়ারী ২৯১৬ রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে পুলিশ সপ্তাহ-২০১৬ উদ্বোধনকালে এ নির্দেশ দিয়ে বলেন, পুলিশ সদস্যদের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি যথাযথভাবে রক্ষার মাধ্যমে দেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে সহায়তা করতে হবে। শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে বাংলাদেশকে সমৃদ্ধ ও উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তোলা। আমি আশা করি, আমাদের লক্ষ্য অর্জন এবং ভিশন-২০২১ ও ভিশন-২০৪১ বাস্তবায়নে আপনারা অবদান রাখবেন।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী একটি খোলা জিপে চড়ে বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন কন্টিনজেন্টের দৃষ্টিনন্দন কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন। তিনি অভিবাদনও গ্রহণ করেন। প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহিদুল হক ও অতিরিক্ত আইজিপি প্যারেড কমিটির প্রেসিডেন্ট মোখলেসুর রহমান তাকে স্বাগত জানান। সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ (এসপি) শামসুন্নাহার প্যারেড পরিচালনা করেন।
পুলিশ বাহিনীকে দেশের শান্তি, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার প্রতীক হিসেবে অভিহিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রত্যেক পুলিশ সদস্য অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ বিএনপি-জামায়াতের ধ্বংসাত্মক ও নাশকতামূলক কার্যকলাপ প্রতিরোধ, জঙ্গিবাদ দমন, যুদ্ধাপরাধের বিচার, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন, চতুর্থ উপজেলা নির্বাচন, তিন সিটি করপোরেশন ও দেশব্যাপী পৌরসভা নির্বাচনসহ সকল জাতীয় প্রয়োজনে প্রশংসনীয় অবদান রেখে চলেছে।
পুলিশ বাহিনীর উন্নয়নে সরকারের গৃহীত কার্যক্রমের বর্ণনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, পুলিশে জনবল বৃদ্ধিতে তার সরকার সময়োপযোগী পদক্ষেপ নেয়ায় বর্তমানে বাংলাদেশ পুলিশের জনবল দেড় লাখ ছাড়িয়ে গেছে।
তিনি বলেন, গত ৭ বছরে আমরা পুলিশের অর্গানোগ্রামে ৭৩৯ ক্যাডার পোস্টসহ ৩২ হাজার ৩১টি পদ সৃষ্টি করেছি। এই বৃদ্ধি সত্ত্বেও দেশের জনসংখ্যার হারের বিবেচনায় এই পুলিশ সদস্য সংখ্যা পর্যাপ্ত নয়, আমরা আরও ৫০ হাজার পদ সৃষ্টির সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২৭৭টি ক্যাডার পোস্টসহ ১৩ হাজার ৫৫৪টি পদে নিয়োগ ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। শিগগিরই অবশিষ্ট জনবল নিয়োগ সম্পন্ন হবে। তিনি বলেন, আরও জনবল নিয়োগের পাশাপাশি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় যানবাহন ও অন্যান্য সরঞ্জাম সরবরাহের বিষয় সরকারের সক্রিয় বিবেচনাধীন রয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকার ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবি আই), টুরিস্ট পুলিশ, রিভার পুলিশ, স্পেশাল সিকিউরিটি এন্ড প্রটেকশন ব্যাটালিয়ন গঠন করেছে। পুলিশ এসব উদ্যোগের ফল পেতে শুরু করেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার জাতির পিতার দেয়া আইজিপি র্যাঙ্ক ব্যাজ পুনরায় চালু করেছে এবং সাব-ইন্সপেক্টর/সার্জেন্ট পদকে দ্বিতীয় শ্রেণিতে ও ইন্সপেক্টর পদকে প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত করেছে।
কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করে শেখ হাসিনা বলেন, শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য অবশ্যই পুলিশ ও জনগণের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা প্রয়োজন।
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দক্ষতা ও পেশাদারিত্ব প্রদর্শনের মাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশ ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেছে একথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে পুলিশের কার্যক্রম আরও গতি সঞ্চারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।
বাংলাদেশ পুলিশ মেডেল (বিপিএম) ও প্রেসিডেন্ট পুলিশ মেডেল (পিপিএম) এ্যাওয়ার্ড প্রাপ্তদের আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়ে শেখ হাসিনা আশা প্রকাশ করেন, এই এ্যাওয়ার্ড ভবিষ্যতে তাদের কাজে আরও উৎসাহিত করবে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী গত এক বছরে পুলিশ সদস্যদের সাহসিকতা ও তাদের সার্ভিসের জন্য ৪টি ক্যাটাগরিতে ১০২ জন পুলিশ সদস্যের মাঝে বাংলাদেশ পুলিশ মেডেল (বিপিএম) ও প্রেসিডেন্ট পুলিশ মেডেল (পিপিএম) হস্তান্তর করেন। ১৯ জন সদস্য বিপিএম এ্যাওয়ার্ড এবং ৪০ জন পিপিএম এ্যাওয়ার্ড এবং ২৩ জন বিপিএম সার্ভিস এ্যাওয়ার্ড ও অপর ৪০ জন পিপিএম সার্ভিস এ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন।

 

বাকশালী জগদ্দল পাথরকে অপসারণ করতে হবে


মানবাধিকার রিপোর্টঃ

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, নব্য বাকশালী জগদ্দল পাথরকে অপসারণ করার লক্ষ্যে জনগণ আজ দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ, আবারও কঠিন লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে চেপেবসা গণতন্ত্র-বিরোধী-শক্তিকে পরাভূত করে আমাদের রক্তস্নাত বহুদলীয় গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনতে হবে।
গণতন্ত্র হত্যা দিবস উপলক্ষে এক বাণীতে একথা বলেন তিনি।
খালেদা জিয়া বলেন, ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারী তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকার চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত করার লক্ষ্যে বহুদলীয় গণতন্ত্রের গলাটিপে হত্যা করে একদলীয় সরকার ব্যবস্থা বাকশাল কায়েম করে।
এই ব্যবস্থা কায়েম করতে গিয়ে তারা জাতীয় সংসদে বিরোধী মতামতকে উপেক্ষা করে এক প্রকার গায়ের জোরেই অমানবিক মধ্যযুগীয় চতুর্থ সংশোধনী আইন পাশ করে।
এই ব্যবস্থার মাধ্যমে তৎকালীন শাসকগোষ্ঠী মানুষের বাক, ব্যক্তি, চলাচল ও সমাবেশের স্বাধীনতাসহ সকল মৌলিক অধিকার হরণ করে। সব সংবাদপত্র বাতিল করে তাদের অনুগত চারটি প্রকাশনা চালু রাখার ফরমান জারি করে। এর ফলে চিরায়ত গণতন্ত্রের প্রাণশক্তিকেই তারা সেদিন নিঃশেষ করে দেয়।
দেশবাসীর দীর্ঘদিনের সংগ্রামের ফলে অর্জিত মানুষের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রকে তারা ভূলুণ্ঠিত করে সমাজে এক ভয়াবহ নৈরাজ্যের ঘন অমানিশা ছড়িয়ে দেয়।
পঞ্চদশ সংশোধনী হচ্ছে মৃত বাকশালের প্রেতাত্মা, যা বর্তমানে ভয়াল দুঃশাসনের আত্মপ্রকাশকে প্রণোদিত করছে।
 

পোশাক শিল্প খাতের প্রতিবন্ধকতা দূর করুন


মানবাধিকার রিপোর্টঃ
দেশীয় অর্থনীতির গতি সঞ্চালনে অন্যতম তৈরি পোশাক শিল্প খাত। রাজনৈতিক চরম অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতেও এ শিল্পটি দেশীয় অর্থনীতিতে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে। সম্ভাবনাময় এই শিল্পটি বেকার সমস্যা সমাধানে যে নবজাগরণের সৃষ্টি করেছে এর তুলনা মেলা ভার। যদিও শ্রমিকদের বেতন-ভাতা নিয়মিত পরিশোধ করার ব্যাপারে অনেক কারখানা মালিকের গাফিলতি, উদাসীনতা লক্ষ্য করা যায়। এছাড়া কারখানার পরিবেশ এবং অন্যান্য বিষয়েও অভিযোগের অন্ত নেই। তবুও জাতীয় জীবনে এই শিল্পটির অবদান অস্বীকার করার উপায় নেই। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) অনুসন্ধানে এই খাতটিতে ১৬ ধরনের অনিয়ম-দুর্নীতির অস্তিত্ব পাওয়ার কথা বলা হয়েছে। কারখানার মালিক, মার্চেন্ডাইজার ও বিদেশি ক্রেতাদের যোগসাজশে কার্যাদেশ পাওয়া থেকে শুরু করে উৎপাদন ও সরবরাহ পর্যায় পর্যন্ত এ ধরনের দুর্নীতি ও অনিয়ম হয়একটি গবেষণা প্রতিবেদনে এমন দাবিই করেছে টিআইবি। ২০১৪ সালের নভেম্বর থেকে ২০১৫ সালের এপ্রিল পর্যন্ত সংগৃহীত তথ্যের সমন্বয়ে গবেষণায় তৈরি পোশাক খাতের সাপ্লাই চেইনে এ ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির অস্তিত্ব পাওয়া গেছে বলে সংস্থাটির উপস্থাপিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ১৪ জানুয়ারি ২০১৬ তারিখে তৈরি পোশাক খাতের সাপ্লাই চেইনে অনিয়ম ও দুর্নীতি মোকাবিলায় অংশীজনের করণীয় শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির পক্ষ থেকে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। ১৫ জানুয়ারি ২০১৬ তারিখ মানবকণ্ঠসহ অন্যান্য সহযোগী দৈনিকে সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে।
কোনো ক্ষেত্রেই অনিয়ম ও দুর্নীতির চর্চা কারো কাম্য নয়। তৈরি পোশাক শিল্পের ক্ষেত্রেও এটি মেনে নেয়া যায় না। কারণ এই শিল্পের সঙ্গে দেশের অর্থনীতির পাশাপাশি অসংখ্য মানুষের ভবিষ্যৎ জড়িত। অনিয়ম কিংবা দুর্নীতির কারণে শিল্পটিকে ঘিরে কোনো ধরনের অনিশ্চয়তা মানেই কর্মক্ষম ও দক্ষ জনশক্তির নতুন করে বেকারত্ব বরণ করা। বেকার যুবসমাজ জীবন-জীবিকার দায়ে অধিকাংশ ক্ষেত্রে নানা ধরনের সামাজিক অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। এর সামগ্রিক কুফল পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকেই বহন করতে হয়। সুতরাং দেশীয় অর্থনীতি এবং জাতীয় স্বার্থেই তৈরি পোশাক শিল্প খাতের সব ধরনের দুর্নীতি রোধ করা জরুরি। এ খাতের অনিয়ম ও দুর্নীতি রোধে ২৭ দফা করণীয় সুপারিশ করেছে টিআইবি।
তৈরি পোশাক শিল্প খাতে সরবরাহকারী কারখানার পক্ষ থেকে যে কোনো ধরনের ঘুষের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান, পূর্বঘোষণা ছাড়াই আকস্মিক কারখানা নিরীক্ষণ ও পরিদর্শন, প্রয়োজনে বায়ার কার্যাদেশ বাতিল ও কারখানার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া, বায়ারদের নৈতিকতা ও ব্যবসায়িক আচরণসংবলিত নৈতিক আচরণবিধি রাখার সুপারিশ এর অন্যতম। বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনাপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট সব মহল আন্তরিক হবেএটাই আমাদের কাম্য।




Top

 

 

সন্ত্রাসীদের বর্বরতায় ভীত হওয়া চলবে না: বান কি মুন

মানবাধিকার রিপোর্টঃ

নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ১৯৩ সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধিগণের উচ্চ পর্যায়ের এক অধিবেশনে চরমপন্থা দমনে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের সুনির্দিষ্ট কর্ম-কৌশল সম্পর্কে নিজের মতামত ব্যক্তকালে মহাসচিব বান কি মুন সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহবান জানান এবং মানবতার শত্রু হিসেবে চিহ্নিতদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। ঠান্ডা মাথায় এবং কমনসেন্স দিয়ে উগ্রপন্থিদের সহিংসতার জবাব দানের আহবান জানিয়ে জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, বিশ্বব্যাপী চরমপন্থা তথা সন্ত্রাসীদের মোকাবিলায় গৃহীত এযাবৎকালের বোধহীন পলিসি প্রকারান্তরে দ্বন্দ্ব-সংঘাতকে বিস্তৃত করেছে। মাঝামাঝি অবস্থানে থাকা বিরাট জনগোষ্ঠীকে শত্রুর শিবিরে ঠেলে দিয়েছে এবং প্রকৃত অর্থে সন্ত্রাসীরাই লাভবান হয়েছে। জাতিসংঘ মহাসচিব এ সমাবেশে উদ্বোধনী বক্তব্যে বলেছেন, এটা আমাদের ভুলে যাওয়া উচিত নয় যে, সন্ত্রাসী গ্রুপগুলো শুধু সহিংসতাকে ভয়াবহ আকারে ছড়িয়ে দিতে চায় না, ওরা আরো বেশি নির্মম প্রতিক্রিয়া প্রত্যাশা করে। এবং আমরা নির্বোধের মতো সে ধরনের কর্মই করে চলেছি সন্ত্রাসীদের বর্বরতার বিরুদ্ধে। আমাদেরকে ওদের বর্বরতায় ভীত হওয়া চলবে না। এবং আরো বেশি নিষ্ঠুরতা চালানো যাবে না, যা থেকে সন্ত্রাসীরাই লাভবান হতে পারে-মন্তব্য মুনের। মহাসচিব বলেন, দেশের জনসাধারণের মধ্যে কোন কারণে ক্ষোভ সৃষ্টি হলে তা খতিয়ে দেখতে হবে এবং মানবাধিকার এবং প্রচলিত রীতি যাতে ব্যাহত না হয় সে ব্যাপারে সজাগ থাকতে হবে। কোনভাবেই যাতে মানুষ আরো বিতশ্রদ্ধ না হয় সে ব্যাপারে বিশেষ সতর্ক থাকা জরুরী রাষ্ট্র পরিচালকদের। অন্যথায় শত্রুরা তথা চরমপন্থিরাই লাভবান হবে।
মহাসচিবের ২২ পৃষ্টার কর্ম-কৌশলের মধ্যে বলা হয়েছে যে, শতাধিক দেশ থেকে চরমপন্থিরা ৩০ হাজার বিদেশী সন্ত্রাসী যোদ্ধা নিয়োগ করেছে সিরিয়া, ইরাক, আফগানিস্তান, লিবিয়া এবং ইয়েমেন সফরের জন্যে। মহাসচিব বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন, চরমপন্থি সন্ত্রাসীরা শুধু একটি ধর্মের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, একটি জাতির মধ্যেও নয়, কিংবা বিশেষ কোন সম্প্রদায়ের মধ্যেও ওরা সীমাবদ্ধ নয়। এবং সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার যারা হচ্ছে তার সিংগভাগই মুসলমান। সন্ত্রাসবাদ দমনে এযাবতকালের গৃহিত পদক্ষেপের সমালোচনা করে মহাসচিব উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতায় এটা প্রমাণিত হয়েছে যে, অদূরদর্শিতা, ব্যর্থ নেতৃত্ব, আনাড়ি প্রস্তাব, এককভাবে শুধুমাত্র নিরাপত্তার ব্যাপারকে প্রাধান্য দিয়ে মানবাধিকারকে পাত্তা না দেয়ায় পরিস্থিতিকে আরো ভয়াবহ করা হয়েছে।
 

Top

তাইওয়ানে প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট সাই ইং ওয়েং


মানবাধিকার রিপোর্টঃ
তাইওয়ানে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন ডেমোক্র্যাটিক প্রগ্রেসিভ পার্টির (ডিপিপি) প্রধান সাই ইং ওয়েং। এর ফলে সাই ইং ওয়েং দেশটির প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হলেন। আর তার দল দীর্ঘদিন ধরে তাইওয়ানের স্বাধীনতার দাবিতে আন্দোলন করে আসছে। এর ফলে চীনের সঙ্গে তাইওয়ানের সম্পর্ক অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট এক বক্তব্যে তাইওয়ানে শান্তি ও স্থিতিশীলতায় সমর্থন দানের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। খবর বিবিসি ও রয়টার্সের।
জয়ের পর সাই ইং ওয়েং এক বক্তব্যে বলেছেন, তিনি চীনের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে চলবেন। তিনি বলেন, আশা করি বেইজিং তাইওয়ানের গণতন্ত্রকে শ্রদ্ধা জানাবে এবং উভয় পক্ষই কোনো ধরনের উস্কানি দেবে না। উল্লেখ্য, চীন তাইওয়ানকে একটি বিচ্ছিন্ন প্রদেশ হিসেবে বিবেচনা করে। দেশটি মনে করে, তাইওয়ান একদিন তাদের সঙ্গে একীভূত হবে। প্রয়োজনে জোর করে তাদের একীভূত করা হবে। সাই ইং ওয়েং বলেন, তাইওয়ানে একটা নতুন যুগের সূচনা ঘটলো। তিনি বড় ইস্যুতে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করবেন। আর চীনের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি নির্ভর করে জনগণের আকাক্সক্ষার ওপর। তিনি চীনে অবস্থান করা তাইওয়ান নাগরিক এবং তার দেশের নাগরিকদের মধ্যে পরস্পরের শ্রদ্ধার ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে তোলার আহবান জানান। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, কোনো ধরনের নিপীড়ন-নির্যাতন করা হবে সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করার নামান্তর। ক্ষমতাসীন দল কুয়োমিনতাংয়ের প্রধান এরিক চু পরাজয় স্বীকার করে সাইকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। এই দলটি গত প্রায় ৭০ বছর ধরে ক্ষমতায় আছে। দলটি চীনের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে চলেছে। তিনি দলের প্রধানের পদ থেকে পদত্যাগেরও ঘোষণা দেন। দেশটির প্রধানমন্ত্রী মাও চি কুও পদত্যাগ করেছেন। নির্বাচনের কয়েক মাস আগে চীন ও তাইওয়ানের ঐতিহাসিক বৈঠক হয়। এর আগে ডিপিপি ২০০০ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত তাইওয়ানের ক্ষমতায় ছিল। ওই সময় চীনের সঙ্গে সম্পর্কটা খুব একটা ভালো যায়নি।
 

ইয়াবা সেবনে নিশ্চিত মৃত্যু


মানবাধিকার রিপোর্টঃ
একসময় ধারণা করা হতো, ইয়াবা সেবন করে বিত্তবানদের সন্তানরা। তবে এখন এই ধারণা পাল্টে গেছে। বস্তির ছেলেমেয়ে থেকে শুরু করে অভিজাত এলাকা সবখানেই ইয়াবার ছড়াছড়ি। রাজধানী থেকে প্রত্যন্ত গ্রাম সবখানেই ইয়াবার ভয়াল ছোবল। আর এই ইয়াবা সেবনে নিশ্চিত মৃত্যু হয়।
মনোরোগ বিজ্ঞানী অধ্যাপক ডা. মোহিত কামাল বলেন, দেশে ইয়াবা ব্যবহার মাত্রাতিরিক্ত হারে বেড়ে চলেছে। আর একারণে সমাজে নিষ্ঠুরতা, নির্মমতা ও হত্যাকা সহ নানা অপরাধ বাড়ছে। তিনি বলেন, ইয়াবা আসক্তরা জন্মদাতা বাবা-মাকে খুন করতেও দ্বিধা করে না। খুনের পর খুন কিংবা অপরাধ করলেও এনিয়ে তাদের ভিতরে কোন অনুশোচনা হয় না। এই মনোবিজ্ঞানী কয়েকটি হত্যাকাে র কথা উল্লেখ করে বলেন, রাজধানীর চামেলীবাগে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের ছাত্রী ইয়াবা আসক্ত ঐশী তার পুলিশ ইন্সপেক্টর পিতা ও মাকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। কারণ ইয়াবা খেতে খেতে এমন অবস্থার সৃষ্টি হয় যে সেবনকারীর পুরো মানসিক পরিবর্তন ঘটে যায়। ভিতরে ভিতরে সে চরম নিষ্ঠুর হয়ে ওঠে। ঐশীর ভেতরে ভেতরে সেই পরিবর্তন ঘটায় সে তার পিতা-মাতাকে হত্যা করে। এছাড়া ইয়াবা আসক্ত স্বামী নির্যাতন করে স্ত্রীর উপর। বিবাহ বিচ্ছেদ বেড়ে যাওয়া, অপরাধ বেড়ে যাওয়া এবং খুনের ঘটনা বেড়ে যাওয়ার পেছনে ইয়াবা দায়ী। ইয়াবা সেবনে নার্ভ ছিড়ে গিয়ে মৃত্যু হতে পারে। যৌন ক্ষমতা হারিয়ে যায়, সংসার ভেঙ্গে যায়। ইয়াবা সেবন করলে প্রথমে একটু ভালো লাগে, পরে শরীর শুকিয়ে যায়। কিডনি এবং ফুসফুসও ক্ষতিগ্রস্থ হয়। চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. কবীর চৌধুরী বলেন, বাঁচতে হলে ইয়াবা ছাড়তে হবে। কেননা ইয়াবা সেবনকারীর ঘুম নষ্ট এবং খাওয়ায় অরুচী হয়। ফলে শরীর আপনা থেকেই ভেঙ্গে যায়। আমার কাছে রোগী যেই হারে আসছে মনে হয় এখন ঘরে ঘরে ইয়াবা আসক্ত লোক রয়েছে।
ইয়াবা আসক্তির তালিকায় বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট, মেডিক্যাল এবং ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল-কলেজ পড়ুয়া কিশোর-তরুণ-তরুণীদের নাম বেশি শোনা যাচ্ছে। এমন কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নেই যেখানে ইয়াবা আসক্ত নেই। এদের সংখ্যা বেশি হলেও মধ্যবিত্তদের সন্তানদেরও এ তালিকা থেকে বাদ দেয়া যাবে না। অনেক মধ্যবিত্ত ঘরের সন্তানরাও এই মরণ নেশায় জড়িয়ে যাচ্ছে। এখন বস্তি থেকে শুরু করে রিকশা চালক, শ্রমিক সবাই ইয়াবায় আসক্ত হয়ে পড়ছে। ছড়িয়ে যাচ্ছে প্রত্যন্ত অঞ্চলেও।
অল্প কথায় বলা যায় ইয়াবা খেলে মনে উত্তেজনা আসে। আবেগে জোয়ার আসে। তৈরি হয় উৎফুল্ল ভাব। এ সময়ে দেহে নানা ধরনের পুলকও বেড়ে যেতে পারে সাময়িকভাবে। প্রাথমিক উদ্দীপনার প্রভাব কেটে গেলে অবসাদ জাগে দেহ-মনে, কর্মক্ষমতা কমে যায়, দেহ নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়, শিথিল হয়ে পড়ে যৌনচেতনা। ইয়াবা গ্রহণ করা যে কোনো তরুণ, নিজের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলতে পারে, অসৎ যৌনাচারে ডুবে যেতে পারে। আর তরুণী হারাতে পরে তার শ্রেষ্ঠ সম্পদ, যথেচ্ছভাবে ব্যবহূত হয়ে যেতে পারে।
ইয়াবা নিলে খিঁচুনি হতে পারে, শরীর বিবর্ণ হয়ে যেতে পারে, ক্ষুধা কমে যেতে পারে, মুখ শুকিয়ে যেতে পারে, অতিরিক্ত ঘাম বেরোতে পারে, চোখের দৃষ্টি অন্যরকম হয়ে যেতে পারে, অন্যদের ভয় লাগতে পারে বিস্ফোরিত চোখ দেখে। ঘুম চলে যেতে পারে, মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলতে পারে অনিন্দ্রায়। মাংসপেশী ক্ষয় হয়ে যেতে পারে, স্নায়ু কোষের ক্ষতি হতে পারে, সংকোচিত হয়ে যেতে পারে মস্তিষ্ক।
চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এম এন হুদা বলেন, ইয়াবা সেবনে প্রথমে যৌন ক্ষমতা বাড়ে। তবে পরে একেবারেই যৌন ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। এটার ফলে অর্থনৈতিকভাবে দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বৈদেশিক মুদ্রা চলে যাচ্ছে। ইয়াবা আসক্ত তরুণ-তরুণীরা বিয়েতে অনাগ্রহ দেখায়। তিনি বলেন, একজন ইয়াবা আসক্ত কেবল নিজেই মরে না, শেষ করে দিয়ে যায় পুরো পরিবারকে।
 

সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নির্মূলে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ


মানবাধিকার রিপোর্টঃ
প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে দশম জাতীয় সংসদের নবম অধিবেশন। বছরের প্রথম অধিবেশন হওয়ায় রেওয়াজ অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট অধিবেশনে বক্তব্য রাখেন। এসময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ বিরোধীদলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত এইচ এম এরশাদ ও স্বতন্ত্র এমপিসহ প্রায় ৩ শ এমপি উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া, অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন প্রধান বিচারপতি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা, তিন বাহিনীর প্রধান ও বেশ কয়েকটি দেশের কূটনীতিকরা। ৪০ মিনিটের বক্তৃতায় প্রেসিডেন্ট বলেন, দেশের মাটি থেকে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নির্মূল করতে বর্তমান সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। বর্তমান সরকার এ লক্ষ্যে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। এর ফলে দেশে নাশকতামূলক কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং জনজীবনে স্বস্তি বিরাজ করছে। অধিবেশন শুরুর আগে বেলা সাড়ে তিনটায় কার্যউপদেষ্টা কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে আগামী ২৯শে ফেব্রয়ারি পর্যন্ত সংসদ অধিবেশন চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। একইসঙ্গে প্রেসিডেন্টের বক্তব্যের ওপর ৪৫ ঘণ্টা আলোচনা করা হবে বলে জানানো হয়। অধিবেশন শুরু হবে প্রতিদিন বিকাল সাড়ে চারটায়। সংসদ সচিবালয় জানিয়েছে, এবারের অধিবেশনে ১২টি বিল পাসের অপেক্ষায় এবং ১৫টি বিল উত্থাপনের অপেক্ষায় আছে। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিসভার সদস্য ও সংসদ সদস্যদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির বিল রয়েছে। চলতি সংসদের যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০১৪ সালের ২৯শে জানুয়ারি। এ পর্যন্ত আটটি অধিবেশনের ১৬৮ কার্যদিবসে ৪৮টি আইন পাস হয়েছে। এদিকে অধিবেশনের প্রথম দিনে আসন পরিবর্তন করা হয়েছে। সাবেক ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর আসনে বসানো হয়েছে যোগাযোগ মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে। আগে তিনি প্রধানমন্ত্রী আসনের লাইনের তৃতীয় সারিতে ছিলেন। তার জায়গায় বসানো হয়েছে সাবেক আইনমন্ত্রী আবদুল মতিন খসরুকে। একই লাইনের তৃতীয় সারি থেকে তাকে আনা হলো দ্বিতীয় সারিতে। এদিকে গতকাল অধিবেশনে প্রায় সব এমপির দৃষ্টি ছিলো বিরোধী দলের আসনগুলোর দিকে। গত কয়েক দিনে জাতীয় পার্টি নিয়ে চলা পরিস্থিতি এর অন্যতম কারণ। অধিবেশন শুরুর কিছু সময় আগে প্রায় একসঙ্গে অধিবেশন কক্ষে আসেন এইচএম এরশাদ ও রওশন এরশাদ। তাদের পেছনে যোগ দেন দলের অন্য এমপিরা। পাশাপাশি বসলেও প্রায় এক ঘণ্টার অধিবেশনে তাদের দুজনের মধ্যে কোনো কথা বলতে দেখা যায়নি। এরশাদের পাশের আসনটি ছিলো ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদের। সংসদে তিনি ছিলেন অনুপস্থিত। আর সবাই ছিলেন উপস্থিত। এদিকে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে অধিবেশনের কার্যক্রম পরিচালনা করতে ৫ সদস্যের সভাপতিম লীর সদস্য নির্বাচিত করা হয়। এ তালিকায় আছেন আবুল কালাম আজাদ, তাজুল ইসলাম, হাবিবুর রহমান মোল্লা, ফখরুল ইমাম ও ডা. দীপু মনি। অধিবেশনকে ঘিরে সংসদ ভবন এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তোলা হয়। সকাল থেকেই চারপাশে অবস্থান নেয় বিপুল সংখ্যক র‌্যাব ও পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। যে কোনো ধরনের অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি এড়াতে জলকামান থেকে শুরু করে সব ধরনের ব্যবস্থা রাখে প্রশাসন। এমনকি সংসদ ভবনে প্রবেশ নিয়েও ছিলো কঠোর কড়াকড়ি।
গ্রযাত্রায় পাশে থাকবে যুক্তরাজ্য
বাংলাদেশের গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় পাশে থাকবে যুক্তরাজ্য। একই সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ উন্নয়নের সবক্ষেত্রে অংশীদার হিসেবে এ দেশের সঙ্গে কাজ করতে চায় ব্রিটিশ সরকার। এমনটাই জানিয়েছেন ঢাকায় নবনিযুক্ত যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার অ্যালিসন ব্লেক। আজ বুধবার সকালে রাজধানীর বারিধারায় অবস্থিত ব্রিটিশ হাইকমিশনারের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনটির আয়োজন করে ঢাকাস্থ ব্রিটিশ হাইকমিশন। অ্যালিসন ব্লেক বলেন, বাংলাদেশের বন্ধু ও বৃহত্তম দ্বিপাক্ষিক দাতা হিসেবে যুক্তরাজ্য এ দেশের ভবিষ্যৎ ও দুই দেশের সম্পর্কে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে থাকে। এ দেশের মানুষ ব্রিটিশ সমাজে অপরিমেয় অবদান রেখেছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা বিশ্বাস করি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় এবং আরও শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ জাতি গঠণে যুক্তরাজ্য অবদান রাখতে পারে। আইনের শাসনের মাধ্যমে সুশীল সমাজের বিকাশ ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা সমৃদ্ধ ও স্থিতিশীল সমাজ বিনির্মানের সবচেয়ে উত্তমপন্থা।
 

Top

 

 


Top


 

নারী ও শিশু সংবাদ


 


 

প্রতিবন্ধী শিশুদের বিনামূল্যে বিনোদন

মানবাধিকার রিপোর্টঃ

মাজের আর আট-দশটি শিশুর মতো প্রতিবন্ধী শিশুরও মন চায় ইট-পাথরের গড়া এই নগরীর চার দেয়ালে ঘেরা বন্দীজীবন থেকে বেরিয়ে এসে বাইরের জগতের সাথে মিশতে। সাধারণ শিশুর মতো তারও মন চায় সবার সাথে হই-হল্লা আর আনন্দ উল্লাস ভাগাভাগি করে নিতে। তারও মন চায় সাধারণ শিশুর স্বজনদের মতো তার স্বজনও তার আনন্দ উপভোগ করবে। হাত নেড়ে তাকেও এগিয়ে চলার উৎসাহ দেবে।
হ্যাঁ, প্রতিবন্ধী শিশুদের মনে জাগা এসব প্রশ্নের বাস্তব উত্তর আমাদের সমাজে একটু হলেও কম মিলছে। তবে সমাজ এ নিয়ে একদমই ভাবছে না, তা কিন্তু নয়। তারই এক প্রতিফলন দেখা মিলবে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার চত্বর ঘুরলে।
প্রতিবন্ধীরা আমাদের বোঝা নন, তারা আমাদেরই সন্তান। সমাজের আর দশটি শিশুর মতো তাদেরও বাঁচার অধিকার আছে। আসুন আমরা সচেতন হই। এমন োগানকে সামনে রেখে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় প্রতিবন্ধী ও ছিন্নমূল শিশুদের জন্য বিনামূল্যে বিনোদনের ব্যবস্থা করছে সাকিরা ফ্যান্টাসি ইমাজিং ওয়ার্ল্ড। মেলার দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে পার্ক সদৃশ একটি জায়গায় প্রতিষ্ঠানটি সাজিয়েছে ট্রেন যাত্রা, টু-ইস্ট, নাগরদোলা, হেলিকপ্টার, প্রাইভেট কার, ঘূর্ণিসহ মোট ২৫টি রাইড। মেলা চলাকালে প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য এখানে বিনামূল্যে বিনোদনের সুযোগ রয়েছে। গতকাল প্রতিষ্ঠানের রাইডগুলো উদ্বোধন করেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি। তিনি ইত্তেফাককে বলেন, আমাদের দেশে নানা ধরনের প্রতিবন্ধী আছে। এদের মধ্যে একটা সময় ছিল মানসিক প্রতিবন্ধীদের সম্পর্কে সচেতনতা ছিল না। তবে বর্তমানে এ চিত্র অনেকাংশে পাল্টে গেছে। এখন মানৃুষ জানতে শিখছে যে, প্রতিবন্ধীরাও স্বাভাবিক জীবন-যাপন করতে পারে। আজ গ্রামের মায়ের মধ্যেও অটিজম নিয়ে সচেতনতা আসছে। আর এ ক্ষেত্রে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। তিনি আরো বলেন, প্রতিবন্ধীদের মধ্যেও নানা ধরনের দক্ষতা আছে। এরাও সমাজের সম্পদ। আমরা এদের গুণগুলোকে কাজে লাগাতে পারি।
প্রতিবন্ধী শিশুদের নিয়ে সমাজে সর্বাধিক সচেতনতার সংকীর্ণতা রয়েছে এমনটাই ভাবছেন মাদক নিরাময় কেন্দ্র ও অটিজম নার্সিং হোমের উপদেষ্টা কবি শামিমরুমি টিটন। শুক্রবার রাতে মেলার এ জায়গাটি ঘুরে তিনি ইত্তেফাককে বলেন, আমরা অটিজমের মানসিক সামাজিক স্বীকৃতি চাই। আর এ জন্য তাদের সক্ষম হয়ে উঠতে আরো নার্সিং হোম এবং প্রশিক্ষণ কেন্দ্র দরকার। এ ক্ষেত্রে ছাত্র সমাজ, ঘরের গৃহিণী, মেডিক্যালের নার্সরাও ভূমিকা রাখতে পারেন।
সাকিরা ফ্যান্টাসি ইমাজিং ওয়ার্ল্ডের স্বত্বাধিকারী মো. মাহাবুবুর রহমান পলাশ বলেন, প্রতিবন্ধী শিশুরা সমাজের বোঝা নন। তাদেরও মন চায় সমাজের সাধারণ শিশুর মতো হাসতে খেলতে, বাণিজ্য মেলা ঘুরে দেখতে। মেলা উপলক্ষে এসব শিশুর জন্য রাইডগুলো বিনামূল্যে উপভোগ করার সুযোগ করে দেয়া হয়েছে। প্রতিদিন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতিবন্ধী শিশু-কিশোররা আসছে এবং বিনোদনের সব রাইড বিনামূল্যে উপভোগ করছে। এমনকি এসব শিশুকে মেলায় নিয়ে আসতে চায় এমন কোনো প্রতিষ্ঠান আমাদের সাথে যোগাযোগ করলে তাদের যাতায়াতের খরচও আমরা বহন করছি। এ ছাড়া দুস্থ এবং অসহায় শিশুদের জন্যও এ সুযোগ রয়েছে।
মেলার এ জায়গাটিতে ঢুকলেই শুনতে পাওয়া যায় শিশুদের চিৎকার আর হই-হুল্লোড়। কেনাকাটার ফাঁকে দর্শনার্থীরা এখানে সময় কাটাচ্ছেন এবং উপভোগ করছেন বিভিন্ন ধরনের রাইড। ট্রেন যাত্রা, টু-ইস্ট, নাগরদোলা, হেলিকপ্টার, প্রাইভেট কার, ঘূর্ণিসহ মোট ২৫টি রাইড। এসব রাইডের মধ্যে ট্রেন, টু-ইস্ট, নাগরদোলা এবং থ্রি-ডি শিশুদের পাশাপাশি বড়দেরও মন কেড়েছে। শিশুদের নিয়ে বড়রাও উপভোগ করছেন এসব।
 

মানবাধিকার কর্মীদের তৎপরতায় রূপগঞ্জে বাল্য বিয়ে বন্ধ


মানবাধিকার রিপোর্টঃ
বাংলাদেশ মানবাধিকার কর্মীদের তৎপরতায় রূপগঞ্জ থানার অন্তর্গত কায়েতপাড়া ইউনিয়নের পীরপাড়ায় ১৩ বছর বয়সী নিঝুম আক্তার নামে এক কিশোরীর বাল্য বিয়ে রোধ করা হয়েছে।
পাড়াগাঁও বাতেনিয়া দাখিল মাদ্রাসার ৭ম শ্রেণির ছাত্রী নিঝুম। ২৯ শে জানুয়ারি শুক্রবার পার্শ্ববর্তী বড়ালু গ্রামের আ. রহমান এর ছেলে আ. কাইয়ুম(৩৪) এর সাথে নিঝুম এর বিয়ের দিন নির্ধারিত হয়। বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের ৬ ও ৭নং ওয়ার্ড শাখার কর্মীরা বিয়ের খবরটি জানতে পেরে রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. লোকমান হোসেনকে বিষয়টি অবগত করান। উপজেলা নির্বাহী অফিসার বাল্য বিয়েটি রোধ করার জন্য মানবাধিকার কর্মীদের উৎসাহ প্রদান করেন। বিয়ের নির্ধারিত তারিখের পূর্বে সোমবার বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন এর রূপগঞ্জ উপজেলা শাখার সহ-সভাপতি আলহাজ্ব আনোয়ার হোসেন, উপজেলা শাখার মানবাধিকার কর্মী সাখাওয়াত হোসেন, কায়েতপাড়া ইউনিয়নের ৬ও৭নং ওয়ার্ডের সভাপতি মো. মুরাদ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক জসীমউদ্দীন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফরহাদ হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, সমাজকল্যান সম্পাদক সাইফুল ইসলাম সহ ৬ ও ৭নং ওয়ার্ডের আরও মানবাধিকার কর্মী নিঝুমের বাবা-মার সাথে বাল্য বিয়ের অসুবিধার কথা তুলে ধরেন এবং বাল্য বিয়ে রোধ করতে সমর্থ হোন।


বৈষম্য আর নিপীড়নের শিকার ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীর নারী-শিশু


মানবাধিকার রিপোর্টঃ
চরম বৈষম্য আর যৌন নিপীড়নে শিকার হয়ে থাকে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নারী ও শিশুরা। গত দুই বছরে দুই শতাধিক নারী ও শিশু ধর্ষণ কিংবা অপরাপর যৌন নির্যাতনের শিকার হলেও এ পর্যন্ত কোনো ঘটনার বিচার হয়নি। এই গোষ্ঠীর ওপর সহিংসতা বৃদ্ধির অন্যতম কারণগুলো হচ্ছে আইনি সহায়তার অভাব এবং পুলিশ কিংবা চিকিৎসকদের অসহযোগিতা। এছাড়া আর্থিকভাবে দুর্বল হওয়ার কারণে তাদের পক্ষে মামলা শেষ পর্যন্ত পরিচালনা করতে চান না আইনজীবীরা। এ সব কারণে অপরাধীরা ধরে নেয় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নারী ও শিশুদের ওপর নির্যাতন চালালে আইনি দন্ড এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।
২০১৪ সালের আগস্ট মাসে একদল দুর্বৃত্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার পার্বতীপুরে বিচিত্রা তির্কি নামের একজন জনপ্রতিনিধির উপর হামলা ও যৌন নিপীড়ন করে। এ ঘটনায় পুলিশ হামলাকারীদের কয়েকজনকে গ্রেফতার করলেও তারা নির্বিঘ্নে জেল থেকে ছাড়া পেয়েছে যায়। একইভাবে ২০১৪ সালে রাজবাড়ি জেলার পাংশা ইউনিয়নে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর এক মা ও তার মেয়ে গণধর্ষণে শিকার হয়। এছাড়া রাঙামাটি জেলায় কাউখালীতে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ধর্ষণ, দিনাজপুরের পাবর্তীপুরে ভূমি দখলকে কেন্দ্র করে এই গোষ্ঠীর নারীদের শ্লীলতাহানী ও খাগড়াছড়িতে প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণের ঘটনা এ প্রসঙ্গে উল্লেখ্যযোগ্য।
বাংলাদেশ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী নারী নেটওয়ার্কের যুগ্ম আহ্বায়ক চৈতালী ত্রিপুরার মতে -পুলিশ, চিকিৎসক ও স্থানীয় প্রশাসনের অসহযোগিতা এই নৃগোষ্ঠীর নারী ও শিশুদের ন্যায়বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে একটি বড় বাধা হিসেবে কাজ করছে। অনেক সময় পুলিশ মামলা নিতে অস্বীকার করে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে মামলা নিলেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হয় না, কিংবা দুর্বল অভিযোগ গঠনের কারণে আসামি ছাড়া পেয়ে যায়।
তথ্য মতে, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মধ্যে ধর্ষণ ও নির্যাতনের শিকার ৫৭ শতাংশই শিশু, যাদের বয়স ৪ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে। ২০১৩ সালে ৬৭ জন নারী নির্যাতনের শিকার হয়। ২০১২ সালে এ গোষ্ঠীর ৭৫ জন নারী-শিশু ধর্ষণ ও নির্যাতনের শিকার হয়। ২০১৫ সালের ২৫ মে পর্যন্ত ৩৬ জন নারী ও শিশু ধর্ষণ কিংবা নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এগুলোর কোনোটারই বিচার হয়নি। ২০১৪ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যৌন ও শারীরিক সহিংসতার শিকার হয়েছে ১২২ নারী ও শিশু। তাদের মধ্যে ধর্ষণের পর ৭ জনকে হত্যা করা হয়েছে।
কাপেং ফাউন্ডেশনের ২০১৪ সালের রিপোর্টের তথ্য অনুযায়ী, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রায় ৫০ জন নারী ও শিশু ধর্ষণ কিংবা ধর্ষণ-চেষ্টা কিংবা গণধর্ষণের শিকার হয়েছে। অপরদিকে মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের ২০১৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৬১৫ জন নারী ও শিশু যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে।
আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং বলেন, এসব গোষ্ঠীর শিশু ও নারীদের যৌন হয়রানি কিংবা ধর্ষণের পর যেসব মামলা হয়, তার কোনোটিতেই দোষী ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়েছে, এমন নজির নেই। ফলে অপরাধীরা সম্পূর্ণভাবে দায়মুক্তি পেয়ে যায়।
 

যৌতুকের দাবীতে গৃহবধুকে নির্যাতনের অভিযোগ
 

মানবাধিকার রিপোর্টঃ
যৌতুক না পেয়ে গাইবান্ধা সদর উপজেলার রামনাথের ভিটা গ্রামের আঞ্জুয়ারা বেগম (৩৫) নামের এক গৃহ বধু স্বামীর নির্যাতনের স্বীকার হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গাইবান্ধা সদর থানার পুলিশ ও গৃহ বধুর পারিবারিক সূত্রে জানা যায় গত ১০ বছর আগে রামনাথের ভিটা গ্রামের মৃত মনছুর আলীর ছেলে এমদাদুল হকের সঙ্গে পলাশবাড়ী উপজেলার হরিণাবাড়ী গ্রামের আলম উদ্দিনের মেয়ে আঞ্জুয়ারার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই এমদাদুল স্ত্রীর কাছে ৩,০০,০০০/- (তিন লক্ষ) টাকা যৌতুক দাবী করে আসছিলেন। উক্ত টাকার জন্য বিভিন্ন সময়ে স্ত্রীর উপর তিনি নির্যাতনও চালাতেন। গত- ০৩ জানুয়ারী ২০১৬ ইং তারিখে এমদাদুল তার স্ত্রীকে বাবার বাড়ী থেকে যৌতুকের টাকা আনতে চাপ দেন। এতে অস্বীকৃতি জানালে দুজনের মধ্যে বাগবিতন্ডা হয়। এরই এক পর্যায়ে এমদাদুল স্ত্রীকে পিটিয়ে গুরুত্বর আহত করে ঘরে আটকে রেখে চলে যান। খবর পেয়ে ঐ দিনই গাইবান্ধা সদর থানার পুলিশ গিয়ে গৃহ বধুকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। এ নিয়ে গৃহ বধুর ছোট ভাই আঃ খালেক বাদী হয়ে এমদাদুল সহ চারজনকে আসামী করে গাইবান্ধা সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আঞ্জুয়ারা বলেন আমার অপরাধ যৌতুকের টাকা দিতে পারি নি। তাই সে আমাকে মেরেছে। তিনি আরও বলেন, এখন আমি কোথায় যাব আমার ৯ বছরের এক মেয়ে আছে। আমি বিচার চাই। এখন পর্যন্ত আসামীরা পালাতক রয়েছে।
 

 

Top
 

 

পুলিশ ও কারাগার সংবাদ

 


 

পুলিশ বাহিনীকে আধুনিক করার শুভ উদ্যোগ


মানবাধিকার রিপোর্টঃ

সরকারের প্রধান অসামরিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা বাংলাদেশ পুলিশ। সমাজে আইন ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরে চুরি-ডাকাতি রোধ, ছিনতাই প্রতিরোধ, দাঙ্গা-হাঙ্গামা ইত্যাদি সমাজবিরোধী কর্মকা প্রতিরোধসহ বিভিন্ন জনসভা, নির্বাচনী দায়িত্বে অংশগ্রহণ করে পুলিশ বাহিনী। শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি অপরাধীকে আইনের কাছে সোপর্দের দায়িত্বও এই বাহিনীর হাতে ন্যস্ত। সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে পুরো পৃথিবীতেই পুলিশের ইতিহাস দীর্ঘ এবং অনেক পুরনো। শিল্প বিপ্লবের কারণে পৃথিবীজুড়ে সামাজিক ব্যবস্থায় অপরাধের মাত্রা বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে সর্বপ্রথম ব্রিটেনে নিয়মতান্ত্রিক পুলিশ বাহিনী গঠিত হয়। অপরাধ দমনে বা প্রতিরোধে এই বাহিনীর সাফল্য ছড়িয়ে পড়ে সারা বিশ্বে। এরই ধারাবাহিকতায় আমাদের দেশেও গঠিত হয় পুলিশ বাহিনী। বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা প্রস্ফুটিত হয় আমাদের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে। সেইসঙ্গে দেশের অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, জনগণের জানমাল ও সম্পদের নিরাপত্তা বিধান, অপরাধ প্রতিরোধ ও দমনে ভূমিকা পালনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ পুলিশ সাফল্যের মুখ দেখলেও নানান বিতর্ক এবং অসম্পূর্ণতা এই বাহিনীর অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করেছে বিভিন্ন সময়ে। একদিকে যেমন এ বাহিনীর অনেক সদস্যের বিরুদ্ধে ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে তেমনিভাবে আধুুনিকতার সঙ্গে পাল্লা দিতে না পারার কারণেও পিছিয়ে পড়তে থাকে পুলিশ বাহিনী এ অভিযোগও অমূলক নয়। পুলিশ বাহিনীর আধুুনিকায়ন এবং সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজনে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসেই বিষয়টির ওপর গুরুত্বারোপ করে। এই বাহিনীর আধুনিকায়নের জন্য সরকার প্রায় ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ২৯টি প্রকল্প গ্রহণ করে। ১০ জানুয়ারি ২০১৬ তারিখে দৈনিক মানবকণ্ঠে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গৃহীত প্রকল্পগুলোর মধ্যে ১০টি প্রকল্পের কাজ চলমান। বাকি ১৯টি প্রকল্প মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের অপেক্ষায়। ওই প্রতিবেদন থেকে আরো জানা যায়, এছাড়াও প্রায় ৫ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায়। বর্তমান সরকারের সময়ে পুলিশ বাহিনীর জনবলও বাড়ানো হচ্ছে। এ সবই ইতিবাচক এবং শুভ উদ্যোগ বলেই আমরা মনে করি। আধুনিক বিশ্বে পুলিশ জনগণের বন্ধু। সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার যে গুরুদায়িত্ব এই বাহিনীর ওপর অর্পিত তা সঠিকভাবে পালনের জন্য পুলিশ বাহিনীর আধুনিকায়নের বিকল্প নেই। তবে একইসঙ্গে আমরা মনে করি পুলিশ বাহিনীর কোনো কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অসহযোগিতামূলক মনোভাব, সেবার বিপরীতে অবস্থানসহ যেসব নেতিবাচক অভিযোগ রয়েছে সেগুলোর সমাধানের পথও খুঁজে বের করতে হবে। গত এক দশকে দেশের ভেতরে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠা জঙ্গিবাদ দমন এবং নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ পুলিশ দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। আমাদের পুলিশের সদস্যরা সীমিত সাধ্যের ভেতরেও তাদের উদ্ভাবনী ক্ষমতা আর পেশাদারিত্ব দিয়ে অপরাধ মোকাবিলায় প্রতিনিয়ত দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। তবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যর্থতার অভিযোগও কম নয়। তবে মুখ্য কথা হলো, তাদের যেসব সাফল্য রয়েছে সেগুলো যেন কোনোভাবেই ঘুষ, দুর্নীতির মতো অভিযোগের আড়ালে হারিয়ে না যায়। আমরা প্রত্যাশা করি নিজেদের দক্ষতা এবং পেশাদারিত্বের মধ্য দিয়ে পুলিশ বাহিনী জনগণের প্রতি অধিকতর দায়িত্ববোধের পরিচয় দিয়ে জনগণের গর্বের বাহিনীতে পরিণত হবে। দক্ষ, গতিশীল, স্বচ্ছ, আধুনিক, দায়বদ্ধ-জবাবদিহিমূলক পুলিশ বাহিনীই আমাদের কাম্য।
 

রাজশাহীতে পুলিশের পিটুনিতে ট্রাকচালক আহত


মানবাধিকার রিপোর্টঃ
রাজশাহীতে পুলিশের মারপিটে এক ট্রাকচালক আহত হয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে নগরীর তালাইমারি এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার প্রতিবাদে ট্রাক চালকরা রাস্তা অবরোধ করে রাখেন। ঘন্টাব্যাপী অবরোধে সড়কের দুইপাশে শতশত গাড়ি আটকা পড়ে। বন্ধ হয়ে যায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এবং রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব যানবাহন। ফলে উভয় প্রতিষ্ঠানের হাজার হাজার শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দুর্ভোগের শিকার হন।
 

তাড়াশে বাল্য বিয়ের আয়োজনে দুইজনের কারাদন্ড


মানবাধিকার রিপোর্টঃ
বাল্য বিয়ের আয়োজন করায় তাড়াশ উপজেলার সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানের স্বামী আছাব আলী ও তার ভাবি বিয়াই সোহরাব আলীকে ৭ দিনের কারাদ প্রদান করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
জানা যায়, তাড়াশ সদর গ্রামে বসবাসরত আছাব আলীর স্কুল পড়ুয়া কন্যাকে গুয়ারাখি গ্রামের সোহরাব আলীর পুত্রের সাথে বিয়ে ঠিক হয়। গত রবিবার রাতে বর পক্ষ কন্যার পিতার বাড়িতে উপস্থিত হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পুলিশসহ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বিয়ে বন্ধ এবং কন্যার পিতা ও বরের পিতাকে আটক করেন। রাতেই ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে উভয়কে ৭ দিনের কারাদন্ড প্রদান করেন।
 

বাগেরহাট জেলে হাজতির মৃত্যু


মানবাধিকার রিপোর্টঃ
বাগেরহাট জেলা কারাগারে থাকা মো. কহিনুর হাওলাদার (৫৫) নামে এক হাজতির মৃত্যু হয়েছে। তিনি হত্যা মামলার আসামি ছিলেন। বাগেরহাট সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
মো. কহিনুর হাওলাদার রামপাল উপজেলার কাটাখালি গ্রামের মো. আব্দুর মালেক হাওলাদারের ছেলে। বাগেরহাট কারাগারের জেল সুপার মো. গোলাম দস্তগীর জানান, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হত্যা মামলার আসামি কহিনুর বুকে ব্যথা অনুভব করলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুরে তার মৃত্যু হয়েছে। চলতি বছরের ১১ জানুয়ারি থেকে তিনি বাগেরহাট জেলা কারাগারে ছিলেন।
 

মুরাদনগরে হত্যার দায়ে ৩ জনের যাবজ্জীবন


মানবাধিকার রিপোর্টঃ
উপজেলার পল্লীতে কৃষক আবদুল মোমিনকে হত্যার দায়ে তিনজনের যাবজ্জীবন কারাদ দিয়েছে আদালত। এ মামলায় খলিল নামে এক জনকে ছয় মাসের কারাদ দেয়া হয়েছে। এছাড়া আরো দুই আসামি লিপি আক্তার এবং নুরজাহানকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে কুমিল্লার অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের বিচারক এ রায় প্রদান করেন।
মামলার বিবরণীতে জানা যায়, ২০০২ সালের ৪ জুন মুরাদনগর উপজেলার কোদালকাটা গ্রামে জমি সংক্রান্ত ও পাওনা টাকা আদায়ের জের ধরে আব্দুল মমিনকে হত্যা করে প্রতিবেশীরা। ওই দিনই মমিনের বাবা কালু মিয়া বাদি হয়ে মুরাদনগর থানায় হত্যা মামলা করেন। দীর্ঘ সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত বৃহস্পতিবার ওই রায় প্রদান করে।
 

কারা কর্তৃপক্ষের গাড়িচাপায় রংপুরে নিহত ৫


মানবাধিকার রিপোর্টঃ
রংপুরে কারা পুলিশের গাড়িচাপায় মা-মেয়েসহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন। সোমবার সন্ধ্যায় রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়কের পাগলাপীর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। রংপুর থেকে আসা কারা পুলিশের গাড়িটি একটি যাত্রীবাহী ভ্যানকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই দুই যাত্রী নিহত হন। এসময় আরও চারজন গুরুতর আহত হন। হাসপাতালে নেয়ার পথে একজন এবং রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির পর দুইজন মারা যান। এদিকে এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ জনতা মহাসড়ক অবরোধ করে গাড়িটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ ঘটনায় তিন কারারক্ষীকে বরখাস্ত করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী আশরাফুল আলম জানান, সদর উপজেলার পাগলাপীর শলেয়াশাহ বাজারের বিপরীত দিক থেকে আসা পুলিশের গাড়িটি একটি যাত্রীবাহী ভ্যানকে চাপা দিলে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী পুলিশের গাড়িটিতে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং মহাসড়ক অবরোধ করে। এতে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
রংপুর সদর উপজেলার শলেয়াশাহ গ্রামের জেসমিন আক্তার ও মেয়ে আনারকলি ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এছাড়া রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে সফুউদ্দিন এবং হাসপাতালে তারাগঞ্জ উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামের আলিম উদ্দিন ও গঙ্গাচড়া উপজেলার চাঁদপুর গ্রামের সঞ্জয় রায় মারা যান।
রংপুর কোতোয়ালি থানার ওসি আবদুল কাদের জিলানী বলেন, ক্ষুব্ধ জনতা রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে এবং কারা পুলিশের গাড়িটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এসময় তারা বিভিন্ন যানবাহন ভাংচুর করে। রংপুর কেন্দ্রীয় জেলখানার ডিআইজি পার্থ গোপাল বণিক বলেন, দুর্ঘটনার পর পুলিশের গাড়িতে থাকা তিন কারারক্ষী রফিকুল ইসলাম, আবদুর রাজ্জাক ও গাড়িচালক মোক্তার হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
রংপুর কারাগারের ডেপুটি জেলার সোহরাব হোসেন বলেন, রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের সুপারিনটেনডেন্ট ও জেলারকে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছে দিয়ে ফেরার পথে গাড়িটি দুর্ঘটনায় পড়ে। এ ঘটনায় তিন কারারক্ষীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।


 

Top



Top
 



 

স্বাস্থ্য সংবাদ


 


৬টি রাগ প্রতিরোধ করবে গাজর!

 

মানবাধিকার হেলথ ডেস্কঃ

ভুলে যান ভিটামিন এ জাতীয় ওষুধগুলোকে। কমলা রঙের এই সবজিতে ভিটামিন এ এবং সাথে অন্যান্য আরও ভিটামিন আছে যা আপনার ত্বকের সৌন্দর্য, ক্যান্সার নিরাময় এবং দ্রুত বয়স্কের ছাপ থেকে আপনাকে বাঁচাবে। এই অসাধারণ সবজি থেকে কিভাবে অধিক উপকারিতা পাওয়া সম্ভব জেনে নিন গাজরের ৬টি স্বাস্থ্য উপকারিতা।
১। দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি
পাশ্চাত্য সংস্কৃতিতে গাজর দৃষ্টিশক্তি উন্নীত করে এ কথাটির সত্যতা আমরাও ঠিকভাবে বুঝে পেয়েছি। গাজর বিটা-ক্যারোটিন সমৃদ্ধ হয় যা যকৃতে ভিটামিন এ হিসেবে কাজ করে। ভিটামিন এ চোখের রেটিনায় একটি রক্তবর্ণ রঞ্জক হিসেবে কাজ করে যা রাতে চোখে দেখতে সাহায্য করে। এছাড়াও বিটা-ক্যারোটিন বার্ধক্যজনিত ছানির হাত থেকে চোখকে রক্ষা করে। যারা বিটা-ক্যারোটিন বেশি খেয়ে থাকে তাদের চোখের দৃষ্টি শক্তি অন্যদের চেয়ে ভালো হয়।
২। ক্যান্সার প্রতিরোধ
গবেষণায় দেখা গেছে গাজর ফুসফুসের ক্যান্সার, স্তন ক্যান্সার এবং মলাশয় কান্সারের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। গবেষকরা অ্যান্টিক্যান্সারের বৈশিষ্ট্য হিসেবে ফেলকেরিনল এবং ফেলকেরিয়ানডল কে আবিষ্কৃত করেছেন। ফেলকেরিনল একটি প্রাকৃতিক কীটনাশক যা গাজর দ্বারা উৎপাদিত হয় যা ছত্রাক রোগ থেকে শিকরকে রক্ষা করে। গাজর এই ক্ষেত্রে শুধুমাত্র একটি সাধারণ সূত্র। একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে যেসব ইঁদুর গাজর খায় তাদের ক্যান্সারের ঝুঁকি কম।
৩। বার্ধক্যের গতি কমাতে সাহায্য করে
উচ্চ পর্যায়ের বিটা ক্যারোটিন অ্যান্টিঅক্সিদডেনট হিসেবে কাজ করে কোষের ক্ষতি রক্ষার্থে যা নিয়মিত শারীরিক বিপাকের মাধ্যমে ঘটে। এটা শরীরের কোষগুলোকে বার্ধক্য হওয়া থেকে সাহায্য করে।
৪। ইনফেকশন প্রতিরোধে সহায়তা করে
হারবালিসটদের কাছে গাজর ইনফেকশন রোধের ওষুধ হিসেবে পরিচিত। কেটে যাওয়া জায়গায় গাজর সিদ্ধ অথবা ভর্তা করে লাগালে তা ইনফেকশন প্রতিরোধ করতে সক্ষম।
৫। স্বাস্থ্যসম্মত ত্বক গড়ে তুলতে সাহায্য করে
ভিটামিন এ এবং অ্যান্টিঅক্সিডেনট সমূহ সূর্যের রশ্মি থেকে ত্বককে রক্ষা করে। ভিটামিন এ এর অভাবে ত্বকের শুষ্কতা, চুলের আদ্রতা ও নখের সমস্যা এ জাতীয় সমস্যাগুলো দেখা দেয়। ভিটামিন এ অকালে চামড়া কুঁচকানো, ব্রণ, শুষ্ক ত্বক এবং অমসৃণতা থেকে ত্বককে রক্ষা করে। গাঁজর এই ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যসম্মত ত্বক গড়ে তুলতে সাহায্য করে।
৬। হৃদরোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে
গবেষণায় দেখা গেছে উচ্চ হৃদরোগের নিম্ন ঝুকির ক্ষেত্রে ক্যারটিনয়েড অনেক উপকারি। গাজরে শুধু বিটা ক্যারোটিনই না, আলফা ক্যারোটিন ও লুটেইন থাকে যা হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক।
 

এলকোহল থেকে মরণব্যাধি ক্যান্সার!


মানবাধিকার হেলথ ডেস্কঃ
এবার বিশেষজ্ঞগণ এলকোহল বা মদ্যপান থেকে মরণব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত হবার একটি বিপজ্জনক তথ্য দিয়েছেন। কানাডার অন্টারিও অঙ্গরাজ্যের ক্যান্সার কেয়ার অন্টারিও নামের একটি সংগঠন গবেষণালব্ধ তথ্য উপস্থাপন করে উল্লেখ করেছে এলকোহল পানের কারণে শুধু অন্টারিওতে বছরে ১ হাজার থেকে ৩ হাজার পর্যন্ত লোক নতুনভাবে ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছে। সংস্থাটির তথ্য মতে অন্তত এক-তৃতীয়াংশ কানাডিয়ান নাগরিক এলকোহল থেকে ক্যান্সার হতে পারে- এমন তথ্য অবগত আছেন। এলকোহল পান থেকে ওরাল ক্যান্সার, গলনালীর ক্যান্সার, লিভার ক্যান্সার, কলোরেকটাল এবং ব্রেস্ট ক্যান্সার পর্যন্ত হতে পারে। আর এই তথ্যটি দিয়েছেন ক্যান্সার কেয়ার অন্টারিওর ক্যান্সার প্রতিরোধ বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. লিন্ডা র্যাবিনেক। আর তথ্য অনুযায়ী অন্টারিওর সকল নতুন আক্রান্ত ক্যান্সার রোগীর শতকরা ৪ ভাগ পর্যন্ত এলকোহল পানজনিত ক্যান্সার। তবে এলকোহলের কার্সিনোজেনিক বা ক্যান্সার সৃষ্টির ক্ষমতা সম্বন্ধে জানার পরও যারা মদ্যপান অব্যাহত রাখতে চান তাদের জন্য দ্য ওয়ার্লড ক্যান্সার রিসার্স ফান্ড এবং আমেরিকান ইনস্টিটিউট ফর ক্যান্সার রিসার্স-এর অভিমত হচ্ছে- পুরুষের ক্ষেত্রে দিনে ২টি ড্রিংকস এলকোহল এবং মহিলাদের ক্ষেত্রে ১টি ড্রিংকস এলকোহলের বেশি পান করা কোনোভাবেই উচিত নয়। আর ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর রিসার্স অন ক্যান্সার এলকোহলকে মানুষের জন্য ক্লাস-ওয়ান কার্সিনোজেন হিসাবে উল্লেখ করেছে। আর মরণব্যাধি ক্যান্সার সৃষ্টির অন্যান্য ক্লাস ওয়ান কার্সিনোজেন বা ক্যান্সার সৃষ্টির এক নম্বর উপাদান হচ্ছে এসবেস্টস, ধূমপান এবং আলট্রাভায়োলেট রেডিয়েশন। তাই বিশেষজ্ঞগণ এলকোহল ও ধূমপান ত্যাগ করে ক্যান্সার প্রতিরোধের আহ্বান জানিয়েছেন।
 

ক্যান্সারের যে ১০টি লক্ষণ সহজেই সনাক্ত করা সম্ভব


মানবাধিকার হেলথ ডেস্কঃ
ক্যান্সারের কিছু লক্ষণ আছে, যা মানুষ নিজের অজান্তেই এড়িয়ে যায়। অথচ রোগবালাই শুরুতে ধরা পড়লে চিকিৎসা অনেক সহজ হয়। তাই আজ জানাবো ক্যান্সারের দশটি লক্ষণের কথা, যেগুলো সহজেই শনাক্ত করা সম্ভব। এই লেখাটি পরিবেশিত হলো ডয়েচ ভেলের সৌজন্যে।
ঘনঘন কাশি মাঝে মাঝে কাশি হলে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই। কিন্তু ঘনঘন কাশি কিংবা কফের সঙ্গে রক্ত বের হলে, উদ্বিগ্ন হওয়ার মতো ব্যাপার বৈকি! বেশিরভাগ কাশি বিপদের না হলেও কিছুক্ষেত্রে তা ফুসফুসে ক্যান্সারের লক্ষণ হতে পারে। তাই এক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।
অন্ত্রের অভ্যাসে ঘনঘন পরিবর্তন আপনার অন্ত্রের মধ্যে নড়াচড়া যদি সহজ না হয় এবং মল স্বাভাবিকের চেয়ে বড় কিংবা কোনোভাবে অস্বাভাবিক মনে হয়, তাহলে তা মলাশয়ে ক্যান্সারের লক্ষণ হতে পারে। তাই এক্ষেত্রেও দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা জরুরি।
মূত্রথলির অভ্যাসে পরিবর্তন যদি কারো মূত্র বা প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত আসে, তাহলে তা মূত্রথলি বা কিডনির ক্যান্সারের লক্ষণ হতে পারেন। আবার মূত্রনালীতে সংক্রমণের কারণেও এটা হতে পারে। তাই সন্দেহ থাকলে চিকিৎসকের কাছে যাওয়াই শ্রেয়।
ঘনঘন অপ্রত্যাশিত ব্যথা অধিকাংশ ব্যথাই ক্যানসারের লক্ষণ নয়, তবে ঘনঘন ব্যথা হলে তা চিন্তার বিষয়। তবে ক্রমাগত মাথাব্যথা হলে আবার এটা ভাবার কারণ নেই যে, কারো বুঝি ব্রেইন ক্যানসার হয়েছে। কিন্তু বুকে ক্রমাগত এবং নিয়মিত ব্যথা ফুসফুসের ক্যান্সার কিংবা তলপেটে ক্রমাগত ব্যথা ডিম্বাশয়ের ক্যান্সারের লক্ষণ হতে পারে।
ক্ষতস্থান না শুকালে আপনার শরীরে কোনো ক্ষত যদি তিন সপ্তাহেও না শুকায়, তাহলে উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ থাকতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে তাই দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
অপ্রত্যাশিত রক্তপাত মাসিকের সময় ছাড়া অন্য সময়ে যোনি থেকে রক্তপাত সার্ভিকাল ক্যান্সারের লক্ষণ হতে পারে? আর মলদ্বার থেকে রক্তপাতও কোনো কোনো ক্ষেত্রে ক্যান্সারের লক্ষণ হতে পারে।
অপ্রত্যাশিতভাবে ওজন কমা অনেকেই ওজন কমানোর জন্য নানারকম চেষ্টা করেন। কিন্তু যদি কোনোরকম চেষ্টা ছাড়াই কারো ওজন ক্রমাগত কমতে থাকে, তাহলে সেটা বিপদের লক্ষণ।
অপ্রত্যাশিত স্ফীতি শরীরের কোথাও কোনো অপ্রত্যাশিত স্ফীতি বা কোনো ফোলা স্থানের আকার পরিবর্তন হতে থাকলে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। মেয়েদের স্তনের মধ্যে কোনো অস্বাভাবিক মাংসপিে র উপস্থিতিও কিন্তু ক্যান্সারের লক্ষণ।
ঘনঘন গিলতে সমস্যা হলে এটা দুধরনের ক্যান্সারের লক্ষণ হতে পারে। ঘাড় এবং খাদ্যনালীর ক্যান্সার? তাই দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যান।
আঁচিল বা তিলের আকৃতিতে পরিবর্তন সব আঁচিল বা তিলের সঙ্গে টিউমারের সম্পর্ক নেই। তবে কোনো আঁচিল বা তিলের আকৃতি ক্রমাগত পরিবর্তন হতে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাওয়াই ভালো।
 

পেইন কিলার ওষুধ সেবনে শিশুদের কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়


মানবাধিকার হেলথ ডেস্কঃ
শিশুদেরও বড়দের মত এখন নানা ধরনের পেইন কিলার বা ব্যথানাশক ওষুধ সেবন করতে দেয়া হয়। অথচ পেইন কিলার শিশুর কিডনির জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে। এমনই একটি উদ্বেগজনক তথ্য দিয়েছেন মার্কিন গবেষকগণ। বিশেষজ্ঞগণ গবেষণায় দেখেছেন শিশুদের ব্যথা নিরাময় ও জ্বরের চিকিৎসায় নন স্টেরয়ডাল এন্টি-ইনফ্লামেটরি ড্রাগ যেমন: আইব্রফেন সেবন করতে দেয়া হয় যা শিশুদের কিডনি বিকল হওয়ার অন্যতম কারণ হতে পারে। জার্নাল অব পেডিয়াট্রিকস-এ প্রকাশিত এক গবেষণা নিবন্ধে ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিনের গবেষক ড. জেসন মিসুর্যাক স্থানীয় একটি শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ২৭ জন শিশু যাদের এনএসএআইডি নামক ব্যথানাশক ওষুধ দেয়া হয়েছে তাদের ৩ ভাগের একিউট কিডনি ফেইলিওর হয়েছে। ড. মিশু র্যাক-এর অভিমত পরিসংখ্যান হয়ত বা ছোট হতে পারে। কিন্তু আক্রান্ত শিশুদের ৪ জনের কিডনি ডায়ালাইসিস-এর প্রয়োজন হয়েছে এবং ৭ জনের স্থায়ী কিডনি অকেজো হয়ে গেছে। শিশুদের সবচেয়ে বেশি ব্যথানাশক দেয়া হয়েছে আইব্রফেন ৬৭ শতাংশ এবং ন্যাপ্রক্সেন ১১ শতাংশ।
মিয়ামি চিলড্রেনস হাসপাতালের শিশু কিডনি বিভাগের পরিচালক ড. ফেলিক্স বামিরেজ সেজাস এর অভিমত নন স্টেরয়ডাল ব্যথানাশক জাতীয় ওষুধের অপব্যবহার এবং অতিরিক্ত ব্যবহার হচ্ছে। আর এর জন্য চিকিৎসক ও অভিভাবকগণ দায়ী। ড. বামিরেজ সেজাস-এর অভিমত, শিশুদের সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ব্যতীত ব্যথানাশক ওষুধ দেয়া উচিত নয় এবং ব্যথানাশক ওষুধ যদি দিতেই হয় তবে অবশ্যই প্রচুর পানি পান করতে হবে।
লেখক : চুলপড়া, এলার্জি, চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ
 

বুকের দুধে নতুন অ্যান্টিবায়োটিক


মানবাধিকার হেলথ ডেস্কঃ
বুকের দুধের প্রোটিন থেকে নতুন অ্যান্টিবায়োটিক উদ্ভাবন করেছেন বিজ্ঞানীরা। যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ফিজিক্যাল ল্যাবরেটরির একদল ব্রিটিশ গবেষক তাদের উদ্ভাবিত এই অ্যান্টিবায়োটিকের উন্নয়নে কাজ করছেন। তারা দাবি করেছেন, এটি অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী হয়ে ওঠা জীবাণুর বিরুদ্ধে কাজ করবে। পাশাপাশি কোষীয় রূপান্তরের কারণে সৃষ্ট রক্তশূন্যতার চিকিৎসায়ও সহায়ক হবে। মায়ের দুধে থাকা ল্যাকটোফেরিন নামক প্রোটিন নবজাতককে বিভিন্ন জীবাণুর সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা দেয়। এটি ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক, এমনকি ভাইরাসকেও ধ্বংস করতে পারে। এ প্রোটিনের মাধ্যমে গবেষকরা একটি ক্যাপসুল তৈরি করেছেন। এই ক্যাপসুল নির্দিষ্ট কিছু ব্যাকটেরিয়াকে চিহ্নিত করে সেগুলো ধ্বংস করতে পারে অন্য কোষের ক্ষতি না করেই।
গবেষকরা দেখতে পান, এ প্রোটিন ক্যাপসুল ব্যাকটেরিয়ার জৈব কাঠামোকে এমনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে, ফলে সেটি আর ওষুধ প্রতিরোধী হয়ে উঠতে পারে না। প্রচলিত অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী হয়ে ওঠা এ ধরনের ব্যাকটেরিয়াকে বলা হচ্ছে সুপার বাগ। প্রতিবছর সুপার বাগের সংক্রমণে পৃথিবীতে সাত লাখ মানুষের মৃত্যু ঘটছে। এর মধ্যে যুক্তরাজ্যেই মৃত্যু হচ্ছে ১০ হাজার মানুষের।
যুক্তরাজ্য সরকারের গঠিত একটি গবেষক প্যানেলের হিসাবে এখনই এসব সুপার বাগ প্রতিরোধের নতুন চিকিৎসা তৈরি না হলে ২০৫০ সালে ওষুধ প্রতিরোধী জীবাণুর কারণে মৃত্যুর সংখ্যা বছরে এক কোটিতে গিয়ে দাঁড়াতে পারে।
ইংল্যান্ডের প্রধান মেডিকেল অফিসার ডেম স্যালি ডেভিস টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, প্রতি দশকে আমাদের এ ধরনের ১০টি নতুন অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োজন। আমি কেবল আমার বৃদ্ধ বয়সের কথা ভাবছি না; আমার স-ানরাও যাতে তাদের বৃদ্ধ বয়সে ব্যবহার করতে পারে।
বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, ল্যাকটোফেরিন থেকে তৈরি নতুন এ অ্যান্টিবায়োটিক সুপার বাগের পাশাপাশি উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া রক্তকণিকার রোগ নির্মূলেও ভালো কাজ করবে।
 

ওষুধ নয়, ভেজ ডায়েটই হূদরোগের সলিউশন


মানবাধিকার হেলথ ডেস্কঃ
হৃদরোগ ও কোলেস্টেরল চিকিৎসায় ওষুধের ব্যবহার চলে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। তবে অনেক বিশেষজ্ঞ এখন হূদরোগ ও কোলেস্টেরলের চিকিৎসায় প্লান্ট বেজড ডায়েট (উদ্ভীজ্জ ডায়েট)-এর ওপর জোর দিচ্ছেন। সাধারণত কোলেস্টেরল কমাতে স্ট্যাটিন জাতীয় ওষুধ দেয়া হয়ে থাকে। কিন্তু কানাডার একদল বিশেষজ্ঞ শুধুমাত্র ডায়েটের মাধ্যমে কোলেস্টেরলের চিকিৎসার ওপর জোর দিচ্ছেন। এ ব্যাপারে কানাডার অন্টারিওর কমিউনিটি কার্ডিওলজিস্ট ড: শেন উইলিয়ামস হূদরোগীদের চিকিৎসায় ভেজ ডায়েট আহারের পরামর্শ দিয়ে আসছেন। আর ভেজ ডায়েট ভোজীরা মাছ, মাংস, পোল্ট্রি, ডিম, ডেয়ারি প্রডাক্টস ও মধু খাননা। ভেজ ডায়েট ভোজীগণ শুধু ফল, সবজি, হোল গ্রেইনস, নাটস, সিডস এবং লেগুমস আহার করেন। ড: উইলিয়ামস একজন কার্ডিওলজিস্ট হওয়া সত্ত্বেও তার বিশ্বাসকে একটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে এভাবে প্রকাশ করেছেন যে, মানুষ খাবারের শক্তি সম্পর্কে জানে না। তিনি বিগত ৪ বছর ধরে রোগীদের প্লান্ট বেজড ডায়েট এবং কাউন্সিলিং-এর ওপর পরামর্শ দিচ্ছেন।
ভেজ ডায়েট সম্পর্কে আরো একধাপ এগিয়ে বলেছেন, আমেরিকান জার্নাল অব কার্ডিওলজির এডিটর খ্যাতনামা কার্ডিওভাসকুলার প্যাথলজিস্ট ড: উইলিয়াম রবার্টস। তিনি মনে করেন ভেজ ডায়েটই হূদরোগীদের অন্যতম সলিউশন। এছাড়া সম্প্রতি এনালস অব ফ্যামিলি মেডিসিন জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণা নিবন্ধে বলা হয় হূদরোগের ঝুঁকির ভয়ে অনেক আমেরিকান এখন স্ট্যাটিন সেবনের মাত্রা কমিয়ে দিচ্ছেন। গবেষণার প্রধান অথার ড: মাইকেল জোহানসেন উল্লেখ করেছেন যারা কোলেস্টেরল কমানোর ওষুধ স্ট্যাটিন সেবনে উপকার পেয়েছেন তাদেরও অনেকে ওষুধটি সেবন ছেড়ে দিচ্ছেন। তবে অপর একজন আমেরিকান চিকিৎসক ড: জন ম্যাকডগাল মনে করেন স্ট্যাটিন হওয়া উচিত শেষ চিকিৎসা, প্রাথমিক চিকিৎসা নয়। তিনি আরো মনে করেন কেবলমাত্র অসুস্থ ব্যক্তিদেরই স্ট্যাটিন খাওয়া উচিত। আর বিশেষজ্ঞদের অভিমত হচ্ছে হূদরোগ প্রতিরোধের সবচেয়ে ভাল পা হচ্ছে প্রচুর পরিমাণ শাক-সবজি, ফলমূল আহার এবং ডিম-মাংস, স্যাসুরেটেড ফ্যাট আহার না করা।
লেখক : চুলপড়া, এলার্জি, চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ



 


Top

 

 

আইন কনিকা


 

সামাজিক বাস্তবতা ও আইনের অপপ্রয়োগ


 


ঘটনা-১ : অনি ও রুহির বিয়ে হয়েছিল পারিবারিকভাবে। পাঁচ বছরের দাম্পত্য জীবনে ভালোবাসার অভাব ছিল না। রুহির কোলজুড়ে আসে একমাত্র সন্তান আয়ান। অনির মা, বাবা, বোনসহ পরিবারের অন্যদের সঙ্গে রুহির পারস্পরিক বোঝাপড়ার অভাব ছিল প্রকট। এক পর্যায়ে বিবাহ বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেন অনি। তালাকের নোটিশ পেয়ে রুহি এক আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি রুহিকে তালাকের নোটিশ গ্রহণ না করে তার আগেই যৌতুক আইনে মামলা করার পরামর্শ দেন। হতাশ, ক্ষুব্ধ ও ক্রোধান্বিত রুহি অনিসহ তাঁর পরিবারের সব সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা করেন। অভিযোগে রুহি উল্লেখ করেন, অনি (এক নম্বর আসামি) তাঁকে যৌতুকের দাবিতে প্রায়ই মারধর করতেন। তাঁর দেবর, শাশুড়ি, ননদ বলেন, যৌতুকের টাকা না আনলে সে যেন আর ঘরে না ফেরে। এক পর্যায়ে অনি তাঁকে মারধর করে ঘর থেকে বের করে দেন। ম্যাজিস্ট্রেট এই অভিযোগ সরাসরি আমলে গ্রহণ করে অনির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং অপরাপর সব অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সমন জারির নির্দেশ দেন।
ঘটনা-২ : ভালোবেসে বিয়ে করেন আহান ও নোরা। বিয়ের পরই নোরা আবিষ্কার করেন আহান মাদকাসক্ত এবং বখে যাওয়া এক যুবক। নোরা আহানকে ফেরানোর অনেক চেষ্টা করেন; কিন্তু ব্যর্থ হন। মদ-গাঁজার টাকার জন্য বারবার নোরাকে চাপ দেন আহান। নোরা বাবার বাড়ি থেকে টাকা এনে দিতে থাকেন। একসময় নোরা আর টাকা দিতে অস্বীকার করেন। ফলে নোরার ওপর নেমে আসে অবর্ণনীয় নির্যাতন। অতিষ্ঠ নোরা এক পর্যায়ে ঘর ছাড়েন এবং আহানের বিরুদ্ধে যৌতুক নিরোধ আইনে মামলা করেন।
ঘটনা-৩ : ১০ লাখ টাকা দেনমোহর ধার্য করে ধুমধামের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল ফারুকী এবং স্বাতীর। এই বিপুল পরিমাণ দেনমোহর পরিশোধ করার ক্ষমতা ফারুকীর কখনোই ছিল না। পাত্রীপক্ষের প্রবল চাপে পাত্রপক্ষ বাধ্য হয়ে সম্মত হয়। বিয়ের ছয় মাসের মধ্যে উভয়ে আবিষ্কার করেন তাঁদের দুইজনের পৃথিবী সম্পূর্ণ আলাদা। স্বাতী ফারুকীর যৌথ পরিবারের ধ্যান-ধারণাকে মেনে নিতে পারেন না। ফারুকীও কখনোই পৃথকভাবে বসবাসে সম্মত হননি। এক পর্যায়ে উভয়ে সিদ্ধান্ত নেন পৃথক হয়ে যাওয়ার; কিন্তু ফারুকীর পক্ষে দেনমোহরের অপরিশোধিত ৯ লাখ টাকা এককালীন পরিশোধ করা সম্ভব নয়। আবার স্বাতীও এক টাকা ছাড় দেবেন না। স্বাতী দেওয়ানি মামলার কথা বললে আইনজীবী বলেন, যা টাকা পাবেন, বছরের পর বছর আদালতের চার দেয়ালে ঘুরতে ঘুরতেই শেষ হয়ে যাবে। তাহলে উপায় আইনজীবীর সহাস্য উত্তর কেন যৌতুক আইনে মামলা একবার শুধু একটা ওয়ারেন্ট আর জেলে ঢুকাতে পারলেই হলো। ওই ব্যাটা ৯ লাখ কেন, আঠারো লাখ টাকা গুনে গুনে বাড়ি এনে দেবে।
যৌতুক নিরোধ আইন-১৯৮০ প্রণীত হয়েছিল বিবাহের সময় বিবাহ বা পরবর্তী সময়ে যৌতুক হিসেবে বিবাহের পণরূপে যেকোনো সম্পত্তি বা মূল্যবান জামানত প্রদান, গ্রহণ অথবা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যৌতুক দাবি নিষিদ্ধ করার উদ্দেশ্যে। পত্রিকার সংবাদগুলোর দিকে দৃষ্টিপাত করলে এর আগ্রাসী রূপ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা মেলে। যৌতুক নামক ব্যাধিটি সমাজের উচ্চতর থেকে নিম্নস্তর পর্যন্ত অবস্থান নিয়েছে। উচ্চবিত্ত, উচ্চ মধ্যবিত্ত এবং মধ্যবিত্ত স্তরে যৌতুক বিষয়টি কনেপক্ষ থেকে উপহার হিসেবে প্রচলিত। এর আগ্রাসী রূপটি এতই প্রবল যে হত্যা, গুরুতরভাবে জখম করা বা শারীরিকভাবে বিকলাঙ্গ করে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটে। মামলা করার সময় যত দৌড়ঝাঁপ করা হয়, মামলার ফলাফল জানতে ফরিয়াদি পক্ষকে একটা পর্যায়ে ততটাই অনাগ্রহী মনে হয়। আসামি খালাস পেলে দোষ চাপিয়ে দেওয়া হয় আদালত বা অদৃশ্য কারো ওপর। কিন্তু প্রশ্ন হলো, একটি সত্য ঘটনার মামলায় আসামি একজন অপরাধী কেন খালাস পাবে কেন সত্যিকারের একজন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিকে বিচার না পেয়ে অশ্রসজল নয়নে বোবা দৃষ্টিতে চেয়ে চেয়ে আদালত থেকে বেরিয়ে যেতে হবে কেন সমাজে উত্তরোত্তর যৌতুক দাবি, গ্রহণ বা প্রদানের ঘটনা মহামারিরূপে বৃদ্ধি পাবে কেন অপরাধী খালাস পেয়ে আবার একই অপরাধ করবে।
বাংলাদেশে প্রচলিত আইনগুলোর মধ্যে সম্ভবত যৌতুক নিরোধ আইনটি বহুল প্রচলিত। আইনটি ছোট হলেও এটি তার ছোট্ট পরিসরেই তার নামের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সব উপাদানই ধারণ করেছে। এই আইনটিতে যৌতুক বলতে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রদত্ত যেকোনো সম্পত্তি বা মূল্যবান জামানত বোঝাবে, যা বিবাহের একপক্ষ অন্যপক্ষকে অথবা বিবাহের কোনো একপক্ষের মা-বাবা বা অন্য কোনো ব্যক্তি কর্তৃক বিবাহের যেকোনো পক্ষকে বা অন্য কোনো ব্যক্তিকে বিবাহ মজলিশে অথবা বিবাহের আগে বা পরে, বিবাহের পণরূপে প্রদান করে বা প্রদান করতে অঙ্গীকারবদ্ধ হয়।
ব্যাখ্যা-১ : সন্দেহ নিরসনকল্পে এতদ্বারা জ্ঞাত করা হলো যে বিবাহের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নন এমন কোনো ব্যক্তি কর্তৃক স্বামী বা স্ত্রী, যেকোনো পক্ষকে অনধিক ৫০০ টাকা মূল্যমানের কোনো জিনিস বিবাহের পণ্য হিসেবে নয়, উপঢৌকনরূপে প্রদান করলে অনুরূপ উপঢৌকন এই ধারামতে যৌতুক হিসেবে গণ্য হবে না।
ব্যাখ্যা-২ : দ বিধির ৩০ ধারায় মূল্যবান জামানত যে অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, এই আইনেও ওই শব্দাবলি একই অর্থ বোঝাবে।
এই সংজ্ঞা থেকে যৌতুক বলতে কী বোঝাবে তার একটি পরিপূর্ণ ধারণা পাওয়া যায়। প্রচলিত ধারণা মতে মনে হতে পারে, এই আইনে শুধু স্ত্রী বা স্ত্রীপক্ষই মামলা করতে পারে। কিন্তু ওপরের সংজ্ঞা থেকে এটি স্পষ্ট যে স্বামী বা স্বামীপক্ষ যদি ক্ষতিগ্রস্ত হয় তবে তারাও এ আইনে মামলা করতে পারে এবং এ ধরনের উদাহরণ বিরল নয়। এ আইনের যাবতীয় অপরাধ আমল অযোগ্য। অর্থাৎ আদালত কর্তৃক পাঠানো কোনো পরোয়ানা ছাড়া এ আইনের অধীনে পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারবে না। এ আইনের সব অপরাধ জামিন অযোগ্য এবং আপসযোগ্য হবে। এ আইনে যৌতুক প্রদানকারী বা গ্রহণকারী বা দাবিকারী বা প্রদান বা গ্রহণে সহায়তাকারীকে সাজা প্রদান করার জন্য ৩ ও ৪ ধারায় দে র বিধান রাখা হয়েছে। ৩ ও ৪ ধারামতে সর্বনিম্ন দ এক বছর কারাদ ও সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদ এবং সঙ্গে জরিমানার বিধানও রয়েছে।
প্রতিটি আইনই করা হয় কিছু সুনির্দিষ্ট বর্তমান বা ভবিষ্যতে উদ্ভব হতে পারে এ ধরনের কিছু বিষয়কে মাথায় রেখে। আইনটির উদ্দেশ্যই থাকে সেই বিষয়গুলোকে পরিপূর্ণভাবে রোধ বা প্রতিবিধানের ব্যবস্থা করার আলোচ্য আইনটিও এর ব্যতিক্রম নয়। এ আইনটি যেমন বহুল ব্যবহৃত, তেমনি এর অপব্যবহারের উদাহরণও কম নয়। এ আইনের অধীনে আইনজীবীরা তাঁদের মক্কেল কর্তৃক সরবরাহকৃত তথ্যমতে প্রস্তুতকৃত বেশির ভাগ অভিযোগই মিথ্যায় ভরপুর থাকে। অহেতুক হয়রানি করার জন্য স্বামীর পরিবারের আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা সবাইকে আসামি করে দেওয়া হয়। মনগড়া যে বক্তব্য বা ঘটনার তারিখ উল্লেখ করা হয়, সাক্ষ্য প্রদানকালে সেটি হয়তো স্বয়ং ফরিয়াদিই ভুলে বসে থাকেন। স্বয়ং অভিযোগকারিণী যদি মামলার ঘটনার তারিখ, সময়, স্থান এবং অভিযুক্তদের ঘটনা সংঘটনে ভূমিকা প্রভৃতি বিষয় স্পষ্টভাবে বলতে না পারেন, তবে অন্য সাক্ষীরা কী বলবেন বা মামলার রায়ে কী হবে সেটি সহজেই অনুমেয়। এক ব্যক্তি তার নিজের সঙ্গে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনাকে যতটা সাবলীল, স্বতঃস্ফূর্তভাবে বর্ণনা করবেন, বানানো বা সাজানো ঘটনার ক্ষেত্রে ঠিক ততটাই মুখস্থ বিদ্যার ওপর নির্ভর করবেন, যা তাঁর বাচনভঙ্গি, আচরণকৃত বক্তব্য এবং জেরার বক্তব্য থেকে স্পষ্টরূপে প্রতিভাত হবে। একজন বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট যদি এ ধরনের সাক্ষীকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেন, তবে সহজেই সাক্ষী বানানো বা মুখস্থ সাক্ষ্য দিচ্ছেন কি না সে বিষয়ে সিদ্ধান্তে আসতে পারেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, পারিবারিক ঝগড়া-বিবাদ, মনোমালিন্যকে পুঁজি করে অন্যপক্ষকে শায়েস্তা বা শিক্ষা দেওয়ার জন্য এ আইনের অধীনে মামলা করা হয়।
একজন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি যখন কোনো আইনি আশায় কোনো আইনজীবীর দ্বারস্থ হন, তখন আইনজীবীর দায়িত্ব হলো ওই ব্যক্তির বক্তব্য গভীরভাবে শোনা এবং ওই বক্তব্যের কতটুকু আইনি কাঠামোয় পড়ে, কতটুকু পড়ে না, সে সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া। অহেতুক আসামির সংখ্যা বৃদ্ধি অভিযোগের সত্যতাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।
প্রথম ঘটনাচিত্রের ক্ষেত্রে বিজ্ঞ কৌঁসুলি রুহিকে তাঁর জিঘাংসা চরিতার্থ করার সুযোগ করে দিয়েছেন। আইনি কাঠামোর মধ্যেই রুহি সে সুযোগ নিয়েছেন। ফলে একটি পরিবারের সব সদস্য আসামি হয়েছেন। ব্যাপারটি এমন নয় যে একটি পরিবারের সব সদস্য অপরাধ করতে পারেন না। কিন্তু মামলার অভিযোগ এবং সামাজিক বাস্তবতা সাক্ষ্য আইনের ১১৪ ধারামতে বিবেচনা করলে অভিযোগের সঙ্গে সব সদস্যের সম্পৃক্ততা বিরল ক্ষেত্র ছাড়া অসার বলে প্রতীয়মান হয়।
দ্বিতীয় ঘটনাচিত্রটি যৌতুক নিরোধ আইন প্রয়োগ হওয়ার মতো একটি উপযুক্ত অভিযোগ। তৃতীয় ঘটনাচিত্রটি এ আইনের অপপ্রয়োগের একটি নমুনা। বিজ্ঞ কৌঁসুলির এই ক্ষেত্রে উচিত ছিল স্বাতীর বক্তব্য অনুসারেই পারিবারিক আদালতে দেনমোহর প্রাপ্তির জন্য মামলা করা। একটি ফৌজদারি আদালত কখনোই দেনমোহর আদায়ের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হতে পারে না। মামলার ফরিয়াদি (স্বাতী) স্পষ্টই আইনটির অপপ্রয়োগ করেছেন এবং বিজ্ঞ কৌঁসুলিই সে সুযোগ করে দিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে বোঝা উচিত, দেওয়ানি আদালতই হলো দেনমোহর প্রাপ্তির উপযুক্ত স্থান। ফৌজদারি আদালত কখনোই স্বাতীকে তাঁর দেনমোহর উদ্ধার করে দিতে পারবে না। ফৌজদারি আদালত অপরাধের বিচার করেন, অন্য কিছুর নয়। মামলার ফরিয়াদি পক্ষ সাধারণত অন্যপক্ষের ওপর চাপ প্রয়োগের অপকৌশল হিসেবে বিষয়টি সম্পূর্ণ দেওয়ানি প্রকৃতির জেনেও ফৌজদারি আদালতে মামলা করে বসেন।
ওই আইনের সব ধারা জামিন অযোগ্য। অনেক সময় আসামিপক্ষের বিজ্ঞ কৌঁসুলি দেনমোহর পরিশোধ করবেন, ঘরে তুলে নেবেন বা আপস করে ফেলবেন বলে জামিন প্রার্থনা করেন। অন্যপক্ষ হয়তো বিরোধিতা করে। অনেক সময় আদালত ওপরের কারণগুলো উল্লেখ করে অন্তর্র্বতীকালীন জামিন মঞ্জুর করেন। পরে আপস না হলে স্বামী বেচারাকে শর্ত পূরণ না করায় জামিন বাতিল করে জেলে পাঠিয়ে দেওয়া হয়, যা সম্পূর্ণ বে আইনি। কী কী কারণে জামিন মঞ্জুর বা নামঞ্জুর করা যায় তার সুনির্দিষ্ট উপাদান আছে, কেস ল রয়েছে, যা অনুসরণ করা যুক্তিযুক্ত। আদালতকেও মনে রাখতে হবে, সাজা হিসেবে কখনো জামিন স্থগিত রাখা যায় না বা জামিনে অযথা অকারণ শর্তারোপ সম্পূর্ণ অবৈধ। অভিযুক্তকে ১৫-৩০ দিন জেলে রেখে আপস করতে বাধ্য করা বা দেনমোহর পরিশোধ করানো কখনোই কোনো ফৌজদারি আদালতের এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে না। এই ধরনের বিষয়গুলো ফৌজদারি আদালতের ক্ষমতার অপব্যবহার বৈ অন্য কিছু নয়। জেলে গিয়ে যদি ফারুকী (তৃতীয় ঘটনাচিত্র) ৯ লাখ টাকা দেনমোহর পরিশোধ করেন তবে স্বার্থসংশ্লিষ্ট অনেকে হয়তো আইনটির বহুবিধ ব্যবহারে চমৎকৃত, উৎসাহিত হবেন। তাতে হয়তো অযথাই যৌতুক দাবিকারী অভিযুক্তের সংখ্যা সমাজে বৃদ্ধি পাবে এবং প্রকৃত অপরাধী সাক্ষ্য, আইন প্রভৃতির অসামঞ্জস্যতার সুযোগ নিয়ে সমাজের মুক্ত হাওয়ায় বিচরণ করবে। আবার হয়তো একই অপরাধ করবে। দুঃখজনক হলেও সত্য, অপপ্রয়োগের কারণে বাস্তবে এগুলো সংঘটিত হচ্ছে।
লেখক : সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট
বর্তমানে গবেষণা কর্মকর্তা
বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট, ঢাকা

Top
 

 


 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 
   

                                                     Copy Right : 2001 BHRC  All rights reserved.