BHRC By-lawsBHRC Press ReleaseBHRC By-lawsBHRC ConferenceIHRCIRD ActivitiesLegal StatusBHRC BoardBHRC BranchesElection Monitoring Acid and Trauma VictimsBHRC BrochureBHRC Forms

ContactHOME

 

 

 

Cover February 2016

English Part February 2016

 

Top

 

Bangla Part

         নারী ও শিশু সংবাদ        পুলিশ ও কারাগার সংবাদ

স্বাস্থ্য সংবাদ          আইন কনিকা

 

বিবিধ সংবাদ

 

                                 

 

বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের মানবাধিকার প্রতিবেদন-২০১
জানুয়ারি ১৬ মাসে মোট হত্যাকান্ডের সংখ্যা ১৪৮ জন

 


মানবাধিকার রিপোর্টঃ
বাংলাদেশ মানবাধিকারের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা ও পৌরসভার শাখা থেকে প্রাপ্ত তথ্য এবং বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে কমিশনের ডকুমেন্টেশন বিভাগ অনুসন্ধান কার্য সম্পন্ন করে। জরিপ অনুযায়ী ২০১৬ সালের জানুয়ারী মাসে সারা দেশে মোট হত্যাকান্ড সংঘটিত হয় ১৪৮টি। এ ধরনের হত্যাকান্ড অবশ্যই আইন শৃংখলা পরিস্থিতির চরম অবনতি। কমিশন এই হত্যাকান্ডের হার ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। জানুয়ারি মাসে গড়ে প্রতিদিন হত্যাকান্ড ঘটে প্রায় ৫ জন। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও সরকারের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত বিভাগের কর্মকর্তাদের অবশ্যই অধিক দায়িত্ববান হতে হবে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার গতিশীল কার্যক্রমের মাধ্যমে হত্যাকান্ড কমিয়ে শুণ্যের কোঠায় নামিয়ে আনা সম্ভব। বাংলাদেশের গণতন্ত্র ব্যবস্থাপনাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপদান এবং মানবাধিকার সম্মত সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে হলে অবশ্যই সর্বস্তরে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা প্রয়োজন। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই কেবলমাত্র এ ধরণের ক্রমবর্ধমান হত্যাকান্ড হ্রাস করা সম্ভব।
বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের ডকুমেন্টেশন বিভাগের জরিপে দেখা যায়, ২০১৬ সালের জানুয়ারি ১৬ মাসে হত্যাকান্ডের শিকার ১৪৮ জন। এর মধ্যে যৌতুকের কারণে হত্যা ১১ জন, পারিবারিক সহিংসতায় হত্যা ১৬ জন, সামাজিক সহিংসতায় হত্যা ৩২ জন, রাজনৈতিক কারণে হত্যা ৫ জন, আইন শৃংখলা বাহিনীর হাতে হত্যা ৭জন, বিএসএফ কর্তৃক হত্যা ০৪ জন, চিকিৎসকের অবহেলায় মৃত্যু ৩ জন, গুপ্ত হত্যা ১২ জন, রহস্যজনক মৃত্যু ৫১ জন, ধর্ষণের পর হত্যা ৩ জন, অপহরণ হত্যা ৪ জন।
বিভিন্ন দুর্ঘটনায় নিহতের মধ্যে পরিবহণ দুর্ঘটনায় মৃত্যু ২৪৫ জন, আত্মহত্যা ২২ জন। জানুয়ারি ২০১৬ সালে কতিপয় নির্যতনের উল্লেখযোগ্য ঘটনাবলীর মধ্যে ধর্ষণ ৩৩ জন, যৌন নির্যাতন ৮ জন, এসিড নিক্ষেপ ২ জন, যৌতুক নির্যাতন ৩ জন।

 

বাংলা ভাষার বিকৃতি উচ্চারণ পরিহার করা উচিত: প্রধানমন্ত্রী
 

মানবাধিকার রিপোর্টঃ
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভাষার বিকৃতি রোধে সকলকে সতর্ক থাকার আহবান জানিয়ে বলেছেন, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটকে বিশ্বমানের করে গড়ে তুলতে সম্ভাব্য সব ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই প্রতিষ্ঠানটি হবে সারাবিশ্বের মাতৃভাষা চর্চার, মাতৃভাষা গবেষণা করার পাদপিঠ। তিনি বলেন, এই প্রতিষ্ঠান যেন কেউ বন্ধ করতে না পারে সে লক্ষ্যে আইন প্রণয়ন করেছি। এ প্রতিষ্ঠানটা যাতে ভালভাবে কার্যক্রম চালাতে সে ব্যবস্থাও আমরা করেছি। প্রয়োজনীয় ফান্ডের ব্যবস্থাও করবো। তিনি অনুষ্ঠানে বিকৃত উচ্চারণে বাংলা শব্দের উচ্চারণকারীদের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, আজকাল একটা সংস্কৃতি দেখা যাচ্ছে।
বাংলা ভাষা ভুলে যাওয়াটাই যেন একটা বিরাট কাজ। বাংলাকে বিকৃত করে ইংরেজী অ্যাকসেন্টে বাংলা বলাটাকেই কেউ কেউ গৌরবের মনে করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভাষার বিকৃতি যেন না হয় সেজন্য সবাইকে সচেতন থাকার অনুরোধ জানাচ্ছি। এ বিষয়ে আরো সচেতনতা সৃষ্টির প্রয়োজন রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২১ ফেব্রয়ারী ২০১৫ বিকেলে ভাষা শহীদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে তিনদিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের দেশের একটি শ্রেণির মানুষের মধ্যে এমন প্রবণতা তৈরি হয়েছে যে তাদের শিশু-সন্তানদের ইংরেজি মাধ্যমে না পড়ালে যেন ইজ্জতই থাকে না! শেখ হাসিনা বলেন, কষ্ট হয় তখনই যখন দেখি মানুষের মধ্যে বাংলা ভাষাকে ভুলে যাওয়ার প্রবণতা। যেন বাংলা ভুলে গেলেই গুণের কাজ! মানুষ আঞ্চলিক শব্দ ব্যবহার করবে, এটি তার নিজস্ব এলাকার ভাষা- কিন্তু বাংলাকে ভুলে যাবে না। এছাড়া জীবন জীবিকার জন্য নতুন নতুন ভাষা শিখতে হবে। ভাষা শেখায় অপরাধ নেই। যে যত ভাষা শিখতে পারবে ততই উন্নতি।
ইংরেজি মাধ্যমে পড়ে তাদের ফলাফল কত ভালো, এই প্রশ্নও রাখেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাকে বিকৃত করে ইংরেজি ধাঁচে বলার প্রবণতাও এখন তৈরি হয়েছে। এসব থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে ভাষা রক্ষার কাজ এবং গবেষণা বাড়াতে হবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের সব ভাষা রক্ষার দায়িত্ব এখন আমাদের ওপর। আমি ধন্যবাদ জানাই এই প্রতিষ্ঠানটি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উঠে এসেছে।
আশা করি এই প্রতিষ্ঠান হবে বিশ্বের মাতৃভাষার গবেষণার স্থান। আমাদের লক্ষ্য আছে গবেষণার জন্য আলাদা বরাদ্দের। ইতোমধ্যে আইন করে দেওয়া হয়েছে, যেন ইনস্টিটিউটের কার্যক্রম বন্ধ না হয়। আগামীতে যা যা লাগবে তাই করবো। আমাদের সরকায় চায় গবেষণা হোক। পাশাপাশি আদিবাসীদের নিজস্ব ভাষার গবেষণাও এখানে করতে হবে। শেখ হাসিনা আরও বলেন, এই দেশ আমাদের দেশ, বাংলা আমাদের মাতৃভাষা। ভাষা ব্যবহার ও চর্চায়, সংবাদমাধ্যম যেন সচেতনতা তৈরি করে আমি সে আহ্বান জানাবো। এছাড়া ধন্যবাদ জানাই যারা মোবাইল ফোনে বাংলায় এসএমএস পদ্ধতি তৈরি করেছেন তাদের। ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ আন্দোলনের শুরুতেই চারবার কারাবরণ করেন বঙ্গবন্ধু। এছাড়া এ আন্দোলনে প্রাণ বিসর্জনকারী রফিক, সালাম, বরকত, জব্বারসহ নাম না জানা ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। কোনো অর্জনই সহজে আসে না। তাদের রক্তেই আমরা পেয়েছি বাংলা। ভাষাকে ভালোবাসি আমরা, মায়ের ভাষায় কথা বলবো। এটি তো আমাদের অধিকার। ইউনেস্কোকে ধন্যবাদ দিবসকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য,যোগ করেন তিনি।

 

উন্নতির চরম শিখরে উঠতে শিক্ষার বিকল্প নেই
ড. মোহাম্মদ হাছান মাহমুদ

মানবাধিকার রিপোর্টঃ
ড. হাছান মাহমুদ এমপি বলেন, একটি জাতিকে উন্নতির চরম শিখরে আরোহণ করতে হলে শিক্ষার কোন বিকল্প নেই। সে শিক্ষা ব্যবস্থাকে বিএনপি জামায়াত মিলে ধ্বংস করার পাঁয়তারা চালাচ্ছে।
নগরীর মুসলমি হলে বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন দক্ষিণ জেলা আয়োজিত সম্মেলন, গুণীজন সম্মাননা ও কৃতী শিক্ষার্থীদের সংর্বধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত বক্তব্যে গত ১৯ ফেব্রয়ারি একথা বলেন।
অজিত কুমার দাশ এতে সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন ওয়াসিকা আয়শা খান এমপি, বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রতিনিধি এম এ সোহেল আহমেদ মৃধা, এডভোকেট আবুল হাশেম। কল্যাণ চক্রবর্তীর সঞ্চালনায় সম্মেলন উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের মহাসচিব ড. সাইফুল ইসলাম দিলদার।
উদ্বোধনী বক্তব্যে ড. সাইফুল ইসলাম দিলদার বলেন, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে নির্যাতিতদের পাশে দাঁড়িয়ে অধিকার প্রতিষ্ঠায় নিজেদের উৎসর্গ করলেই পরিতৃপ্তি মিলবে। তিনি বলেন, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হলে আমাদের এই পুরুষ শাসিত সমাজে নারীদের উন্নয়নে গুরুত্বারোপ করতে হবে। ড. দিলদার বলেন, দেশকে উন্নতির চূড়ান্ত শিখায় নিতে হলে নারীদের পিছিয়ে রেখে উন্নয়ন সম্ভব নয়, এ জন্য নারী শিক্ষার প্রতি আরও জোর দিতে হবে। নারীদের স্বাবলম্বী করতে হবে এবং বাল্য বিবাহ সর্বক্ষেত্রে রোধ করতে হবে। ড. দিলদার বলেন, মানবাদিকার কর্মীদের ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সবার উপরে মানুষ সত্য, এই ব্রত নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। পৃথিবীর সকল মহাপুরুষগণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে গেছে। মানবাধিকার কর্মীদের জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত মানবতার কল্যাণে কাজ করতে হবে, যাতে করে মানুষ তাকে স্মরণ করে।
ওয়াসিকা আয়শা খান এমপি বলে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সমুন্নত রেখে মানবতায় এগিয়ে যেতে পারলেই সত্যিকারের মানবতাবাদী হিসেবে নিজেকেই গড়ে তোলা যাবে।
সুদর্শন চত্রবর্তীর স্বাগত বক্তব্যে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এড. কফিল উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক এড. জাহিদ বীরু, জিন বোধি ভিক্ষু, সাংবাদিক মো. কামাল হোসেন, ওসমান গনি চৌধুরী বাবুল, যীশু কৃষ্ণ রক্ষিত, গোলাম সরওয়ার চেীধুরী, মোস্তাফিজুর রহমান জসিম, রূপক কুমার রক্ষিত, মুনমুন দত্ত মুন্না, মুরশেদুল আলম, মো. মনির হোসেন প্রমুখ।
অনুষ্ঠানের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জোবায়ের। অনুষ্ঠানে দৈনিক প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক কবি বিশ্বজিৎ চৌধুরী, দৈনিক সুপ্রভাত বাংলাদেশের সহ-সম্পাদক কাঞ্চন মহাজন, সাতকানিয়া পৌর মেয়র মোহাম্মদ জোবায়ের, বিজয় বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক সেতু বড়য়া, ইপিবি নিউজ ক্লাবের ডেপুটি এডিটর রাশেদ মাহমুদ, হাসিনা জাফর, বাঁশখালী উপজেলা চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলামসহ অতিথিদের হাতে সম্মননা স্মারক তুলে দেন প্রধান অতিথি।
উল্লেখ্য যে সকাল ১০টায় রক্তদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন অফিসার ডা. মোহাম্মদ আজিজুর রহমান সিদ্দিকী। দক্ষিণ জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শতাধিক মেধাবী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার বিতরণের পর অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

 

মংলায় খুলনা আঞ্চলিক মানবাধিকার সম্মেলন অনুষ্ঠিত
 

 

মানবাধিকার রিপোর্টঃ

যারা মানবাধিকার কর্মী তাদের সৎ ও যোগ্যতার সাথে কাজ করতে হবে। ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করাই হল মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য। আর এই লক্ষ্য নিয়েই বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের মহাসচিব ড. সাইফুল ইসলাম দিলদার বলেন, মানবাধিকার কর্মীদের অবশ্যই সৎ এবং ন্যায়নিষ্ঠ হতে হবে। মানবাধিকার কর্মীগণ মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় এমন ভূমিকা রাখতে হবে, যাতে তাদের সমাজে সুনাগরিক হিসেবে পরিচিত পায়। মানবাধিকার কর্মী বিধায় পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সন্তানদের তালিকায় আনতে হবে।
গত ৭ ফেব্রয়ারি সকাল ১১টায় মোংলা পৌর অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ মাবাধিকার কমিশনের খুলনা বিভাগীয় আঞ্চলিক সম্মেলনে বাগেরহাট-৩ আসনের সংসদ সদস্য তালুকদার আব্দুল খালেক প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেনন। মংলা পোর্ট পৌরসভার মেয়র ও খুলনা আঞ্চলিক সমন্বয়কারী মোঃ জুলফিকার আলীর সভাপতিত্বে সম্মেলন উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ মামনাধিকার কমিশনের প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব মানবতাবাদী ড. সাইফুল ইসলাম দিলদার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কমিশনের খুলনা বিভাগীয় সমন্বয়কারী ফজলুর রহমান শরীফ, খুলনা বিভাগীয় বিশেষ প্রতিনিধি এড. শেখ অলিউল ইসলাম, ঢাকা মিরপুর আঞ্চলিক শাখার সভাপতি সিকান্দার আলী জাহিদ, মংলা উপজেলা শাখার সভাপতি শেখ কামরুজ্জামান জসিম, পৌর শাখার সাধারণ সম্পাদক মোঃ ওয়াহেদুজ্জামান। এ সম্মেলনে স্থানীয় লোকজন ছাড়াও খুলনা ও মংলার মানবাধিকার কমিশনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

 

ভিসা সহজীকরণের আশ্বাস ব্রিটিশ হাইকমিশনারের
 

 


মানবাধিকার রিপোর্ট
বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ব্রিটিশ ভিসা সহজীকরণের লক্ষ্যে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন নবনিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার অ্যালিসন বেক। ব্রিটিশ ভিসা কেন্দ্র ঢাকা থেকে দিল্লিতে স্থানান্তর নিয়ে অসন্তোষের মধ্যেই এ আশ্বাস দিলেন তিনি। গতকাল মঙ্গলবার সকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলীর সঙ্গে তার কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন অ্যালিসন। সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশিদের জন্য ব্রিটিশ ভিসা সহজীকরণে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অনুরোধে হাইকমিশনার এ আশ্বাস দেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী নবনিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনারকে বাংলাদেশে স্বাগত জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে সম্পর্ক দীর্ঘদিনের এবং যুক্তরাজ্য হচ্ছে বাংলাদেশের পরীক্ষিত বন্ধুরাষ্ট্র। সাক্ষাৎকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী দুদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কোন্নয়নে যুক্তরাজ্যে বসবাসরত ব্রিটিশ-বাংলাদেশিদের অবদানের কথা উল্লেখ করেন।
মন্ত্রীর বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করে হাইকমিশনার বেক বলেন, যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশিরা দুদেশের সম্পর্কোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনকালে হাইকমিশনার বেকের সফলতা কামনা করে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সব সহযোগিতার আশ্বাস দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
এদিকে যুক্তরাজ্যে অবস্থিত অবৈধ বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠাতে চায় দেশটি। যেসব বাংলাদেশির ভিসা বা পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, তাদের ফেরত পাঠানোর বিষয়ে আলোচনার জন্য দুদিনের সফরে আগামী ১৪ ফেব্রয়ারি ঢাকায় আসছেন যুক্তরাজ্যের অভিবাসনমন্ত্রী জেমস ব্রোকেন শায়ার। জানা গেছে, অবৈধ বাংলাদেশিদের বিষয় ছাড়াও জেমস উগ্রবাদ ও জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ, বিমানবন্দর নিরাপত্তা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের সঙ্গে আলোচনা করবেন তিনি।
পরে দুপুরে নবনিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রীংলা পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলীর সঙ্গে তার কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে, সীমান্ত চুক্তির বাস্তবায়ন, অভিন্ন নদীগুলোর পানিবন্টন, দুদেশের মানুষের মধ্যে সম্পর্ক বৃদ্ধিতে ভিসা সহজীকরণ, সন্ত্রাসবাদ দমনসহ প্রায় সব বিষয়েই তাদের মধ্যে আলোচনা হয় বলে কূটনৈতিক সূত্র জানায়।
 

আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে

 


মানবাধিকার রিপোর্ট
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সকলেরই সভা-সমাবেশ করার অধিকার রয়েছে। নাগরিকরা কোনো কারণে সংক্ষুব্ধ হলে আছে তার প্রতিবাদ জানাবার অধিকারও। এইগুলি শুধু যে আমাদের সংবিধানস্বীকৃত অধিকার তা নয়, একই সাথে জাতিসংঘের অনুমোদিত সর্বজনীন মানবাধিকারের অবিচ্ছেদ্য অংশও বটে। তবে এটাও দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বর্ণিত আছে যে কোনো অধিকারই শর্তহীন নয়। জনস্বার্থ বিঘিত হতে পারে-এমন কোনো কাজ আমাদের সংবিধানে শুধু নয়, মানবাধিকারের কোনো সনদেই সমর্থিত হয় নেই। পাশাপাশি খুবই স্পষ্টভাবে অধিকার-সম্পর্কিত একটি সীমারেখাও টেনে দেয়া হয়েছে। সেইটি হল, নিজের অধিকার ভোগ করতে গিয়ে কোনোভাবেই অন্যের অধিকার খর্ব করা যাবে না। অথচ দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদেরকে প্রতিনিয়তই নানা অজুহাতে জনসাধারণের অধিকার হরণের মহোৎসব প্রত্যক্ষ করতে হচ্ছে বছরের পর বছর ধরে।
এটা কি ভাবা যায় যে, প্রায় দেড় কোটি জনসংখ্যার এই রাজধানীতে এমনিতেই যেইখানে নাগরিকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকা পড়ে নজিরবিহীন দুর্ভোগ পোহাতে হয়, সেখানে গত ৭ ফেব্রয়ারী কোনো প্রকার পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই মিরপুর রোডের মতো অতি ব্যস্ত একটি সড়ক অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছিল টানা আট ঘণ্টা।

 

৬০ কেজির বাঘাইর ২৫ কেজির কাতল


মানবাধিকার রিপোর্ট
ঐতিহ্যবাহী পোড়াদহের মেলায় এবার সবচেয়ে বড় মাছ উঠেছে ৬০ কেজি ওজনের বাঘাইর। ব্যবসায়ী হজরত মিয়া এর দাম হেঁকেছেন প্রতি কেজি ১৫শ টাকা। সে হিসাবে দাম হয় ৯০ হাজার টাকা। এছাড়াও ২৫ কেজি ওজনের কাতলের দাম হাঁকা হয়েছে ৩০ হাজার টাকা।
দুইশ বছরের ঐতিহ্যবাহী পোড়াদহ মেলার প্রধান আকর্ষণ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। এ মেলায় মেলে বিভিন্ন প্রজাতির বিশাল মাছ। এ মাছ কেনার জন্য হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। এছাড়াও এখানে মেলে রকমারি মিষ্টি, কাঠ এবং স্টিলের তৈরি আসবাব, হাঁড়ি-পাতিল, খেলনা, নাগরদোলা ও ঘুরনিসহ অন্যান্য দোকান। ধনী-গরিব সবাই মেলা থেকে সাধ্য অনুযায়ী মাছ ও মিষ্টি কেনেন। প্রতিবছর মাঘ মাসের শেষ বুধবার একদিনের জন্য মেলা বসে আসছে। তবে এখন তা চলে তিন দিন পর্যন্ত।
হিন্দু-মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে এ মেলা একটি সেতুবন্ধন। মেলার রেওয়াজ অনুযায়ী বাড়ির গৃহিণীরা মেলার আগের দিন ১০ সের ধানের মুড়ি ভাজেন। মাঘ মাসের শেষ বুধবার মেলা থেকে জামাইরা বড় মাছ, বিভিন্ন ধরনের মিষ্টি নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে যান। শ্বশুর-শাশুড়িরাও জামাইকে দেন সেলামি হিসেবে খাট, আলমারিসহ বিভিন্ন গৃহসামগ্রী।
গাবতলীর মহিষাবান ইউনিয়নের গোলাবাড়ি বন্দরের পূর্বধারে গাড়িদহ নদী ঘেঁষে পোড়াদহে বটগাছ তলায় প্রতিবছর মাঘ মাসের শেষ বুধবার মেলা বসে। হিন্দু সম্প্রদায়ের সন্ন্যাসী পূজা উপলক্ষে প্রায় দু শ বছর আগে থেকে এই মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। প্রতিবছরের মতো বৃহস্পতিবার মেলার পাশে পশ্চিম মহিষাবান মধ্যপাড়া গ্রামে অনুষ্ঠিত হবে ২১তম বউমেলা।
জাঁকজমক এ মেলায় এবার কিছুটা ছন্দপতন হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাতে গাবতলী মডেল থানা পুলিশ মেলা ও তার আশপাশ থেকে কমপক্ষে ২০টি জুয়া, বিচিত্রা অনুষ্ঠান, পুতুল নাচের আয়োজন বন্ধ করে দেয়। ফলে এ বছর মেলায় লোক সমাগম কম হয়েছে বলে জানান আয়োজকরা।
এবার সাইফুল ইসলাম ম ল নামের একজন ইজারাদার মেলাটি পরিচালনার জন্য স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ থেকে অনুমতি নিয়েছেন। তবে মেলার আগের রাতে ২০টি যাত্রা, জুয়া ও বিচিত্রার প্যান্ডেল পুলিশ ভেঙে দিয়েছে। এ ব্যাপারে গাবতলী মডেল থানার ওসি শাহিদ মাহমুদ জানান, মেলায় আইনশৃঙ্খলা ও শান্তি রক্ষায় এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
 

সরকারি চাকরির বয়সসীমা বাড়ানোর দাবি ফের সংসদে

মানবাধিকার রিপোর্টঃ
সরকারি চাকরির বয়সসীমা বাড়াতে জাতীয় সংসদে ফের দাবি উঠেছে। স্বতন্ত্র সদস্য হাজী মোহাম্মদ সেলিম গত ৯ ফেব্রয়ারী সন্ধ্যায় অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে এ দাবি তোলেন। এর আগে ১ ফেব্রয়ারি সরকারি চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে বয়সসীমা ৩০ থেকে ৩৫ করার দাবি জানিয়েছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সদস্য অ্যাডভোকেট জিয়াউল হক মৃধা।
এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করে হাজী সেলিম বলেন, জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন প্রধানমন্ত্রীকে ফোন করে ইউনাইটেড নেশনস হাই লেভেল প্যানেল অন ওয়াটার প্যানেলে সদস্য হিসেবে রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীও এই প্রস্তাবে সম্মতি জানিয়েছেন। আনন্দের এই ঢেউয়ের মধ্যেই সরকারি চাকরিতে ঢোকার বয়সসীমা ৩০ থেকে বাড়িয়ে ৩৫ করার দাবি জানাচ্ছি।
এই দাবি যুক্তিসঙ্গত উল্লেখ করে হাজী সেলিম বলেন, এশিয়ার বিভিন্ন দেশে বিশেষ ক্ষেত্রে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৪০ রয়েছে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ৪০ বছর, শ্রীলংকায় ৪৫ বছর, ইন্দোনেশিয়ায় ৪৫ বছর, ইতালিতে ৩৫ বছর, ফ্রান্সে ৪০ বছর, যুক্তরাষ্ট্রে ৫৯ বছর, কানাডা ও সুইডেন ৪৭ বছর, কাতার ও নরওয়ে ৩৫ বছর, এঙ্গোলায় ৪৫ বছর, তাইওয়ানে ৩৫ বছর। আমাদের দেশে ডাক্তারদের আবেদনের বয়স ৩২ বছর। নার্সদের ৩৬ বছর। অথচ সংবিধানে সব নাগরিকের সমান অধিকারের কথা বলা হয়েছে। বিষয়টির গুরুত্ব বুঝে ২০১২ সালের ২ ফেব্রয়ারিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে আবেদন করা হয়েছে।
 

ফরমালিন যুগের অবসান


মানবাধিকার রিপোর্টঃ
ফরমালিন যুগ কি শেষ হতে চলেছে খাদ্য সংরক্ষণে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে ফরমালিনের বিকল্প হিসেবে অধিক নিরাপদ কিটোসানের বাণিজ্যিক ব্যবহার বাড়ানোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। কিটোসান-সংক্রান্ত গবেষণার জন্য আর্থিক সহযোগিতা করার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। অন্যদিকে, ফরমালিন আমদানিতে নিয়ন্ত্রণ বেড়েছে। ল্যাব পরীক্ষায়ও দেখা যাচ্ছে, খাদ্যপণ্যে ফরমালিন তেমন আর ব্যবহৃত হয় না। বিএসটিআই গত এক বছরে বাজার থেকে এক হাজার ৪৯টি নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করে একটিমাত্র পণ্যে ফরমালিনের উপিতি পেয়েছে। তার পরও ক্রেতারা স্বস্তিতে নেই। কেননা দেশে খাদ্যে ফরমালিনের গ্রহনীয় মাত্রা এখনও নির্ধারণ হয়নি। তা ছাড়া বাজার পর্যায়ে ফরমালিন পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে এক বছর ধরে। ফরমালিন শনাক্তকরণ যন্ত্র নিয়ে বিতর্ক উচ্চ আদালত পর্যন্ত গড়ালে জানা যায়, পরীক্ষার যন্ত্রই ঠিক নেই! এরপর সঠিক পরীক্ষার যন্ত্র নির্ধারণ করার নির্দেশ দেন আদালত। গত ২২ জুলাই ফরমালিন শনাক্তকরণ যন্ত্র-সংক্রান্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা পড়ে। কিন্ত আদালত এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাননি। এদিকে পরীক্ষা ছাড়াই খাদ্যপণ্যের কেনাবেচা হচ্ছে। অনিশ্চয়তা আর স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকলেও অনন্যোপায় ক্রেতারা তাই কিনছেন।
কিটোসান ব্যবহারের উদ্যোগ :গত মৌসুমে চাঁপাইনবাবগঞ্জে আম ও টাঙ্গাইলে আনারসে মুকুল আসা থেকে সংগ্রহ করা পর্যন্ত কিটোসান ব্যবহার করে কীটনাশক ছাড়াই ফলমূল উৎপাদন ও সংরক্ষণ করা হয়। এর পর নড়েচড়ে বসেন নীতিনির্ধারকরা। এখন তা মাছ সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হচ্ছে। গত ৩ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সুরাইয়া খানমের সভাপতিত্বে খাদ্যদ্রব্যে ফরমালিন প্রয়োগ রোধে উদ্ভাবনী পদক্ষেপ শীর্ষক এক সভা হয়। এতে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মহাপরিচালক ড. মোবারক আহমেদ খান ফরমালিনের বিকল্প প্রিজারভেটিভ কিটোসান নিয়ে তার গবেষণালব্ধ ফলাফল উপস্থাপন করেন। সভায় কিটোসানের বাণিজ্যিক ব্যবহার বাড়ানোর এবং কিটোসান-সংক্রান্ত গবেষণার জন্য আর্থিক সহযোগিতা করার প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হয়। খাদ্যদ্রব্যে ফরমালিন ও অন্যান্য ক্ষতিকারক পদার্থের প্রয়োগ রোধে নিয়মিত বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত সংস্থাগুলোর উদ্যোগ অব্যাহত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
বৈঠকে উপস্থিত পরমাণু শক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মহাপরিচালক ড. মোবারক আহমেদ খান সমকালকে জানান, বিভিন্ন ধরনের ফলমূল, সবজি ও মাছের সংরক্ষণে কিটোসান ব্যবহার করে সুফল পাওয়া গেছে। এ জন্য কিটোসানের ব্যবহার বাড়াতে গবেষণার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ফল ও মাছচাষিদের কিটোসান সরবরাহ করে গবেষণার আওতায় নিয়ে আসা হচ্ছে।
এফবিসিসিআইয়ের ফরমালিনমুক্ত বাজার এবং সঠিক যন্ত্র সমস্যা :মৎস্য মন্ত্রণালয় নির্ধারিত ডিজিটাল ফরমালডিহাইড মিটার
(জেড-৩০০) দিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে এফবিসিসিআই রাজধানীসহ সারাদেশের ১৯টি বাজার পর্যায়ক্রমে ফরমালিনমুক্ত ঘোষণা করে। ফরমালিন পরীক্ষা কেন্দ্রও স্থাপন করা হয় এসব বাজারে। এ উদ্যোগে প্রায় অর্ধকোটি টাকার আর্থিক সহায়তা দেয় ১০টি ব্যাংক। কিন্তু ফল ব্যবসায়ীদের একটি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত ফরমালিন পরীক্ষার যন্ত্র পরীক্ষার নির্দেশ দেন। পরীক্ষা প্রতিবেদনে উঠে আসে, এ যন্ত্র ত্রুটিপূর্ণ। উচ্চ আদালত এ যন্ত্রের মাধ্যমে পরীক্ষা বন্ধের এবং সঠিকভাবে মাত্রা নির্ণয়ক যন্ত্র চিহ্নিত করার নির্দেশ দেন। এরপর এফবিসিসিআইয়ের আন্তরিকতায় কোনো ত্রুটি না থাকলেও সঠিক যন্ত্রের অনুপস্থিতিতে এক বছর ধরে বাজারগুলোতে ফরমালিন পরীক্ষা বন্ধ আছে।
সরেজমিনে রাজধানীর ফরমালিনমুক্ত বাজার ঘুরে দেখা যায়, ফরমালিন পরীক্ষা না হলেও ব্যবসায়ীরা এখনও ফরমালিনমুক্ত বাজার দাবি করে পণ্য বিক্রি করেন। মালিবাগ বাজারের ব্যবসায়ীরা নিয়মিত পরীক্ষা হচ্ছে বলে দাবি করলেও খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাজারের সব মেশিনই এখন অকেজো হয়ে গেছে। শান্তিনগর বাজারে ফরমালিন শনাক্ত কেন্দ্র দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ। ময়লার স্তূপ জমেছে কেন্দ্রের মধ্যে। তবে প্রচারণা অনুযায়ী, এ বাজারও ফরমালিনমুক্ত। মহাখালী কাঁচাবাজার, কাপ্তানবাজার, নিউমার্কেট, মোহাম্মদপুর টাউন হল, শাহ আলী, বনানী কাঁচাবাজারসহ সব বাজারেই একই অবস্থা।
এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সহসভাপতি ও ফরালিনমুক্ত বাজার কমিটির আহ্বায়ক মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, যে যন্ত্রে পরীক্ষা করা হয়েছিল আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকায় সে যন্ত্রে এখন বাজারগুলোতে ফরমালিন পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে। সরকারের কাছ থেকে সঠিকভাবে পরীক্ষা করার জন্য এখনও কোনো নির্দেশনা আসেনি। এ জন্য পরীক্ষা বন্ধ আছে। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ল্যাব পদ্ধতি (এইচপিএলসি) পরীক্ষা সঠিক হিসেবে প্রতিবেদন দিলেও এ পদ্ধতি বাজার পর্যায়ে পরীক্ষার সুযোগ তৈরি হবে না। এ জন্য সহজে পরীক্ষার যন্ত্রের ব্যবা থাকতে হবে। তবে বিসিএসআইআরের তৈরি করা কিট সঠিক হলে তা ব্যবহার করে মাছ পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, ফরমালিন আমদানি বন্ধ থাকায় এর ব্যবহার কমে এসেছে। তবে অন্যান্য ক্ষতিকারক উপাদানের ব্যবহার হচ্ছে। এগুলো বন্ধে আগামী রমজানের আগে উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ফরমালিন শনাক্তকরণ যন্ত্রের সন্ধান : গত বছরের ১৩ জানুয়ারি উচ্চ আদালত স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, খাদ্য মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিবদের সঠিক ফরমালিন পরীক্ষার যন্ত্র নির্ধারণ করার বিষয়ে নির্দেশনা দেয়। এ নির্দেশনার ৭ দিনের মধ্যে তিন সচিবকে দায়িত্ব দেওয়া হয় বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর), বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই), জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর (ডিএনসিআরপি), জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও ন্যাশনাল ফুড সেফটি ল্যাবরেটরি (এনএফএসএল) ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খাদ্য ও পুষ্টিবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপকসহ সংশ্লিষ্টদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করার। সিদ্ধান্ত হয়, এ কমিটি গঠনের এক মাসের মধ্যে সঠিকভাবে ফরমালিন নির্ণায়ক যন্ত্র শনাক্ত করবেথ যা দিয়ে নিয়মিত ফরমালিনের অপব্যবহারের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা যাবে, কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দুই মাসের মধ্যে তিন সচিব যন্ত্র সংগ্রহ করবেন এবং অর্থ মন্ত্রণালয় মেশিন সংগ্রহে আর্থিক সহযোগিতা করবেন এবং স্বাস্থ্য সচিব কমিটি গঠনসহ সকল কাজের সমন্বয় করবেন। তবে সঠিক যন্ত্র চিহ্নিত করতে আরও সময়ের অনুমতি নেওয়া হয়। পাশাপাশি গত ২০ মে জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরিচালককে সভাপতি ও এনএফএসএল-এর প্রধানকে সদস্য সচিব করে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর ছয় প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি কমিটি করা হয়। কমিটি গত ৮ জুন খাদ্য ও ফলমূলের ফরমালিন শনাক্তকরণের মেশিন হিসেবে জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের ল্যাবরেটরিতে ব্যবহার করা হাইপারফরম্যান্স লিকুইড ক্রমাটোগ্রফি (এইচপিএলসি) মেশিনটিকে উপযুক্ত ও যথাযথ যন্ত্র হিসেবে চিহ্নিত করে প্রতিবেদন জমা দেয়।
এ বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা উপসচিব গৌতম কুমার সমকালকে বলেন, গত ২২ জুলাই কমিটির প্রতিবেদন উচ্চ আদালতে দেওয়া হয়েছে। তবে আদালত থেকে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি। সিদ্ধান্ত পেলেই মন্ত্রণালয় পদক্ষেপ নেবে।
বাজারে তদারকি নেই :সঠিক পরীক্ষার যন্ত্র নির্ধারণ না করায় পরীক্ষা ছাড়াই চলছে খাদ্যপণ্য বেচাকেনা। তবে বিসিএসআইআর ও বিএসটিআই রাসায়নিক পদ্ধতিতে ফরমালিন পরীক্ষা করছে। যদিও তা ল্যাব পর্যায়ে সীমাবদ্ধ। অবশ্য বিসিএসআইআর মাছ ও দুধের ফরমালিন পরীক্ষায় কিট জনসাধারণের জন্যও সরবরাহ করছে। বিএসটিআই গত এক বছর ধরে বাজার থেকে এক হাজার ৪৯টি নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করেছে।
 

গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পন্থা খোঁজার তাগিদ ইইউর


মানবাধিকার রিপোর্টঃ
অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক একটি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে এখনই গ্রহণযোগ্য নির্বাচনী পন্থা (ম্যাকানিজম) খুঁজে বের করার তাগিদ দিয়েছেন ঢাকা সফররত ইউরোপীয় পার্লামেন্ট প্রতিনিধিদল। ৩ দিনের সফরের সমাপনী সংবাদ সম্মেলনে শুক্রবার বিকালে প্রতিনিধি দলের প্রধান ইউরোপীয় পার্লামেন্ট (ইপি)র দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক কমিটির চেয়ার জ্যঁ ল্যাম্বার্ট এ তাগিদ দেন। বাংলাদেশের গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে নিজের উদ্বেগও প্রকাশ করেন তিনি। বলেন, আমি মনে করি একটুকু বলাই আমার জন্য সমীচীন হবে যে, এখানে সংবাদপত্রের কয়েকজন সম্পাদকের বিষয়ে যা ঘটছে তা নিয়ে ইইউ উদ্বিগ্ন। রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে সফরের বিস্তারিত তুলে ধরেন ল্যাম্বর্টি। এ সময় প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্য এবং ঢাকায় নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত পিয়েরে মায়াদুন উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়- সফরকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরিন শারমীন চৌধুরী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী, মানবাধিকার কমিশন চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমানসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধি ও নাগরিক সমাজের সঙ্গে ইপি প্রতিনিধিদলের বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে তারা বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক, মানবাধিকার ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি, পোশাকশিল্পের কর্ম-পরিবেশ, ব্লগার ও মুক্তমনা লেখকদের নিরাপত্তা, ইউরোপের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য, বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়ে আলোচনা করেছেন। সেখানে প্রতিনিধিরা বিভিন্ন বিষয়ে তাদের উদ্বেগের কথা তুলে ধরেছেন জানিয়ে প্রতিনিধিদলের প্রধান বলেন, মুক্তমত প্রকাশের কারণে এখানে অনেকের জীবন হুমকিতে পড়েছে, অনেকে নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে। আমরা তাদের রক্ষার আহ্বান জানিয়েছি। বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সংকুচিত হওয়া নিয়ে গত ২৪শে নভেম্বর ইউরোপীয় পার্লামেন্টে যে প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে তা সরকারি প্রতিনিধিদের সঙ্গে শেয়ার করেছেন বলে জানান, প্রতিনিধিদলের প্রধান। ওই রেজুলেশনে বাংলাদেশে বন্ধ সব মিডিয়া হাউজ খুলে দেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। সেখানে মুক্তমনা লেখক, ব্লগার, ধর্মীয় সংখ্যালঘু এবং বিদেশিদের ওপর আক্রমণের নিন্দা জানানো হয়েছে। নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থার বিষয়ে ইইউর কোনো সুপারিশ আছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে জ্যঁ ল্যাম্বার্ট বলেন, বাংলাদেশ পরিস্থিতির বিষয়ে ইইউ অবহিত রয়েছে। এটি যে জরুরি তা সবাই জানেন। এখানে পার্লামেন্ট আছে, সংবিধান রয়েছে। দেশের রাজনৈতিক দল এবং স্টেক হোল্ডারা আলোচনা করেই একটি গ্রহণযোগ্য ব্যবস্থা খুঁজে নিতে পারেন। ইইউ কিংবা অন্য কেউ তা করে দেবে না জানিয়ে প্রতিনিধিদলের প্রধান বলেন, আমরা কিংবা কেউই এটা বলবে না, তোমরা কী করবে। এটা একান্তই তোমাদের বিষয়। বাংলাদেশকেই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এটি এখনই আলোচনা হওয়া উচিত। দেশের অন্য রাজনীতিক, যাদের আগ্রহ রয়েছে অথবা তাদের চিন্তা আছে তারাও আলোচনায় যুক্ত হতে পারে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা বিষয়ক এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গতিশীল গণমাধ্যম এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা গণতন্ত্রের অংশ। এ নিয়ে ইইউর কিছু উদ্বেগ আছে, যা ঢাকা সফরে তুলে ধরা হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আধঘণ্টার আলোচনা হয়েছে তার। সেখানে বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদ ও চরমপন্থার উত্থান, ব্লগার হত্যা, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা হয়েছে তার। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় নির্বাচনের বিষয়টি আসেনি জানিয়ে তিনি বলেন, অন্যদের সঙ্গে বৈঠকে স্বাধীন এবং শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠনের প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। ব্লগার হত্যার তদন্ত দ্রুত এগিয়ে চলেছে বলেও আমাদের জানানো হয়েছে। জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের মৃত্যুদ স্থগিতে ইইউ আহ্বানের ব্যাখ্যা দিয়ে জ্যঁ ল্যাম্বার্ট বলেন, কোন ব্যক্তি বা দলের জন্য নয়, ইইউ বিশ্বব্যাপী মৃত্যুদে র বিরোধী। অন্য অনেক কেসের ক্ষেত্রে উদ্বেগ না জানানোর ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি। রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে মিয়ানমারের নতুন নেতৃত্বের দিকে তাকিয়ে আছেন বলে জানান তিনি। ২০১৯ সালে নির্বাচন অবাধ এবং নিরপেক্ষ হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করে ইইউ।
মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আমাদের মারাত্মক উদ্বেগ রয়েছে: এর আগে সংবাদ সম্মেলনের সূচনা বক্তৃতায় ইপি প্রতিনিধি দলের প্রধান বলেন, বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আমাদের মারাত্মক উদ্বেগ রয়েছে। এখানে বেশ কজন ব্লগার ও লেখককে হত্যা করা হয়েছে। আমরা প্রতিটি ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্তের অনুরোধ জানিয়েছি। বাংলাদেশি প্রতিটি নাগরিকের জীবন ইইউর কাছে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, উগ্রপন্থা দমনে ইইউর সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সংকল্পকে আমরা স্বাগত জানাই। এক্ষেত্রে ওআইসিতে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা প্রশংসনীয়। ইইউ প্রতিনিধিদলের ঢাকা সফরে সাস্টেইনেবিলিটি কমপ্যাক্ট বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এখনও শ্রম খাতের উন্নয়নে আরও অনেক কিছু করার সুযোগ রয়েছে। রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির পর গৃহীত নানা পদক্ষেপ তৈরি পোশাক খাতে শ্রমিক অধিকার এবং নিরাপত্তায় উন্নতির ক্ষেত্রে অবদান রেখেছে। পরিস্থিতির আরও উন্নতির জন্য এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোনগুলোতে দেশের শ্রম আইন পূর্ণাঙ্গভাবে মেনে চলা জরুরি। তিনি বলেন, অর্থনীতির সকল ক্ষেত্রে ব্যবসা ও মানবাধিকার নিয়ে জাতিসংঘের দিকনির্দেশনামূলক মূলনীতিগুলো পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের কথা বলেছি আমরা। উল্লেখ্য- প্রতিনিধিদলের অন্য ৩ সদস্য ইউরোপীয় পার্লামেন্টের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক ডেলিগেশনের ভাইস চেয়ার রিচার্ড হাওয়াট, ইন্টারনাল মার্কেট অ্যান্ড কনজ্যুমার প্রটেকশন কমিটির সদস্য ইভান স্টিফেন্স এবং ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড কমিটির সদস্য সাজ্জাদ করিমকে নিয়ে জ্যঁ ল্যাম্বার্ট গত বুধবার থেকে বাংলাদেশ সফর করেন।


যশোর আঞ্চলিক মানবাধিকার সম্মেলন-২০১৬
সংগঠনগুলোর বলিষ্ঠ ভূমিকায় জনগণ সোচ্চারঃ ড. আব্দুস সাত্তার


মানবাধিকার রিপোর্টঃ
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. আব্দুস সাত্তার বলেছেন, মানবাধিকার সংগঠনগুলোর বলিষ্ঠ ভূমিকার কারণেই দুর্নীতি বন্ধে মানুষ সোচ্চার হযেছে। রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক আন্দোলন তৈরি হয়েছে। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় এদেশের মানুষ যে নৃশংশতার শিকার হয়েছিল ৪৪ বছর পরম তার বিচার সম্ভব হয়েছে কেবল মানবাধিকার সংগঠনগুলোর নিষ্ঠার কারণে। তাই প্রত্যক্ বা পরোক্ষভাবে তাদের কাজে সহযোগিতা করতে হবে। ২৬ ফেব্রয়ারি ২০১৬ যশোর জিলা স্কুল অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন যশোর আঞ্চলিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, বিশ্বের মানচিত্রে আমরা গর্বিত জাতি। আমরা সক্ষম, ব্যর্থ নই। আমাদের বিপু জনশক্তিকে কাজে লাগাতে হবে। যুবসমাজের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে হবে। অপশক্তি যেন মাথা তুলে দাঁড়াতে না পারে সে ব্যাপারে দেশবাসীকে সচেতন থাকতে হবে। দুর্নীতিকে অভিশাপ আখ্যা দিয়ে তা বন্ধে মানবাধিকার সংগঠনগুলোকে আরও বেশি কাজ করার আহ্বান জানান
সম্মেলন উদ্বোধন করেন কমিশনের মহাসচিব মানবতাবাদী ড. সাইফুল ইসলাম দিলদার। মানবাধিকার কমিশনের মহাসচিব ড. সাইফুল ইসলাম দিলদার বলেন, মানবাধিকার কর্মীদের আরও গতিশীল হতে হবে। তিনি বলেন, মানবাধিকার কর্মীদের মানবতাবাদী হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানুষ এবং মহাপুরুষগণ মানবতাবাদী হিসেবে মানুষের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করেছেন। মানবাধিকার কর্মীদেরকেও মানুষের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করে শ্রেষ্ঠ মানুষ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের যশোর জেলা শাখার সভাপতি ডাঃ শেখ আব্দুল কাদের। স্বাগত বক্তব্য দেন জেলা সাধারণ সম্পাদক লাইজু জামান। আরও উপস্থিত ছিলেন কমিশনের বিশেষ প্রতিনিধি মোঃ হারুন-অর-রশিদ, খুলনা বিভাগীয় বিশেষ প্রতিনিধি এড. শেখ অলিউল ইসলাম, আঞ্চলিক বিশেষ প্রতিনিধি এড. খোদা বকস্, কমিশনের নড়াই জেলা শাখার সভাপতি অদিত্য কুমার বিশ্বাস, মাগুরা জেলা সভাপতি বাবর আহমেদসহ বিভিন্ন জেলা থেকে আগত মানবাধিকার কর্মী ও নেতৃবৃন্দ।
 

ইউনিয়নের অধিকার পাচ্ছে ইপিজেড শ্রমিকেরা
 

মানবাধিকার রিপোর্টঃ
মন্ত্রিসভায় ১৫ ফেব্রয়ারী ২০১৬ বাংলাদেশ ইপিজেড শ্রম আইন ২০১৬ এর খসড়ার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে ট্রেড ইউনিয়নের আদলে কল্যাণ সমিতি করার অধিকার পাচ্ছে রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকাগুলোর শ্রমিকেরা। এর মাধ্যমে শ্রমিকেরা দর-কষাকষির অধিকারও পেতে যাচ্ছে। ১৫ ফেব্রয়ারী ২০১৬ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম। আইন অনুসারে কারখানায় দুর্ঘটনায় মৃত্যু হলে শ্রমিকদের দুই লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিধান রয়েছে। দুর্ঘটনায় অক্ষম বা আহত হলে ২ লাখ ২৫ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিধান রয়েছে। নারীশ্রমিকদের পূর্ণ বেতনে ছয় মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটি দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।
মোহাম্মদ শফিউল আলম জানান, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার আহ্বানে সাড়া দিয়ে এই আইন করা হচ্ছে। এতে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পণ্যের অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা (জিএসপি) পাবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, একটা সুযোগ তো থাকবেই।


 

পশ্চিমবঙ্গের মুসলমানরা খুবই বঞ্চিত : অমর্ত্য


মানবাধিকার রিপোর্টঃ

পশ্চিমবঙ্গে অন্যদের তুলনায় বাঙালি মুসলমানরা যে কত বঞ্চিত, তা বর্তমানে বোঝা সম্ভব হচ্ছে বলে মন্তব্য করছেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন। ভারতের এই রাজ্যে মুসলমানদের অবস্থা নিয়ে গত ১৫ ফেব্রয়ারী ২০১৬ একটি প্রতিবেদন প্রকাশের অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, রাজ্যের দরিদ্র ও বঞ্চিত মানুষদের সিংহভাগই মুসলিম। জীবনের মানের নিরিখে তারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে দরিদ্র এবং বঞ্চিততর।
লিখিত বক্তব্যে অমর্ত্য মত দেন, আর্থিকভাবে বা ধর্মীয় ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে যাঁরা উচ্চ শ্রেণিতে আছেন, তাঁদের বিশেষ সুবিধা দেওয়া হলে ভূমিহীন, শিক্ষাগতভাবে পিছিয়ে পড়া এবং গরিব মুসলমানদের বিশেষ কোনো উপকার হবে না।
অ্যাসোসিয়েশন স্ন্যাপ, গাইডেন্স গিল্ড এবং প্রতীচী ইনস্টিটিউট পশ্চিমবঙ্গে মুসলিমদের জীবনের বাস্তবতা শীর্ষক প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে। অমর্ত্য সেনের আরো বক্তব্য, অতীতের পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমানের বঞ্চনাকে বোঝার ক্ষেত্রে একটি অঞ্চলের ইতিহাস খুব গুরুত্বপূর্ণ। পশ্চিমবঙ্গের বঞ্চিত মুসলিমদের বর্তমান অবস্থা জমি সম্পর্ক, সামাজিক বাধা, ব্যবসার সুযোগ, সরকারি সাহায্যের ব্যাপ্তি ও সীমা এবং অন্যান্য বিষয়ের ওপর নিভর্রশীল। অতীতের আলোয় বর্তমানকে বুঝতে হলে ইতিহাসে ভালো দখল থাকা প্রয়োজন। সূত্র : আনন্দবাজার, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

 

মেয়েদের বিয়ের বয়স সর্বনিম্ন ১৮ থাকছে

 


মানবাধিকার রিপোর্টঃ

মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকী বলেছেন, মেয়েদের বিয়ের বয়স সর্বনিম্ন ১৮ বছরই থাকছে। এটা নিয়ে আর কোনো শঙ্কা বা বিতর্কের কিছু নেই। তবে বাল্যবিবাহসংক্রান্ত আইনটিকে আরো যুগোপযোগী করা জরুরি হয়ে পড়েছে। গতকাল বুধবার বাংলাদেশ চিকিৎসা গবেষণা পরিষদের (বিএমআরসি) নিজস্ব মিলনায়তনে বাংলাদেশে বাল্যবিবাহ শীর্ষক এক সভায় তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিকবিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী। বিএমআরসির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মাহমুদ হাসানের সঞ্চালনায় এ অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. হাবীবে মিল্লাত।
 

ফাঁসির আসামি অন্তঃসত্ত্বা


মানবাধিকার রিপোর্টঃ
ভিয়েতনামের এক নারী নুয়েন থি হুই (৪২)-এর ফাঁসি আসন্ন। কিন্তু বিশ্বের সবচেয়ে করুণ এই শাস্তির হাত থেকে রক্ষা পেতে তিনি চতুরতার আশ্রয় নিয়েছেন। তিনি এখন অন্তঃসত্ত্বা। ফলে তাকে নিয়ে বেকায়দায় পড়েছে জেল কর্তৃপক্ষ। তিনি আরেক বন্দির শুক্রাণু কিনে নিয়েছেন ৫ কোটি ভিয়েতনামি ডং (১৬০০ পাউন্ড) দিয়ে। সেই শুক্রাণু তিনি সিরিঞ্জের মাধ্যমে প্রবেশ করিয়েছেন গর্ভাশয়ে। ফলে তিনি এখন অন্তঃসত্ত্বা। এ ঘটনায় ওই জেলের ৪ প্রহরীকে বরখাস্ত করা হয়েছে। নুয়েন থি যে পুরুষের শুক্রাণু সংগ্রহ করেছেন তার বয়স ২৭ বছর। নাম নুয়েন থুয়ান হাং। তাদের মধ্যে অর্থের বনিবনা হওয়ার পর নুয়েন থুয়ান তার শুক্রাণু একটি সিরিঞ্জে ভরে সরবরাহ করে নুয়ান থির কাছে। এ ঘটনা ঘটেছে ২০১৫ সালের আগস্টে, দুবার। নুয়ান থি সেই শুক্রাণু গর্ভাশয়ে প্রবেশ করিয়ে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। এ ঘটনা ঘটেছে উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশ কুয়াং নিহতে। সেখানে মাদক পাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত নুয়ান থি। জেলে বসে তিনি ফাঁসি ঠেকাতে এমন অভিনব পদক্ষেপ নিয়েছেন। এখন তদন্তকারী ও প্রসিকিউটররা বলছেন, নুয়ান থি আগামী এপ্রিলে সন্তান প্রসব করবেন। ভিয়েতনামের আইনে কোনো অন্তঃসত্ত্বা মা অথবা যে মায়ের ৩ বছর বয়সের নিচে সন্তান আছে তার ফাঁসি কার্যকর করা যায় না। এক্ষেত্রে যদি মৃত্যুদন্ড আরোপ করা হয়ে থাকে তাহলে তা শিথিল করে যাবজ্জীবন কারাদন্ড করা হয়। ল্যাং সন এলাকায় মাদক পাচারের অভিযোগে ২০১২ সালে গ্রেপ্তার করা হয় নুয়ান থিকে। ২০১৪ সালে তাকে অভিযুক্ত করে শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদন্ড দেয়া হয়। এর আগে আরেক ভিয়েতনামি বন্দি নুয়েন থি ওনাহকে শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদন্ড দেয়া হয়েছিল ২০০৭ সালে। কিন্তু তিনি জেলে এক পুরুষের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। তিনি ২০০৭ সালের মার্চে একটি পুত্র সন্তান জন্ম দেন। এর ফলে তিনি মৃত্যুদন্ডের হাত থেকে রেহাই পান। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুই জেল কর্মকর্তাকে জেলে পাঠানো হয়েছে।




Top

 

 

ইরাকে গান শোনার অপরাধে কিশোরের শিরশ্ছেদ

 

মানবাধিকার রিপোর্টঃ

গান শোনা হারাম, এমন ফতোয়াই দেয়া আছে জঙ্গিগোষ্ঠীর আইএসের পক্ষ থেকে। কিন্তু সেই বিধি নিষেধ না মেনে অবসর সময়ে বাবার দোকানে বসে গান শোনছিল ১৫ বছরের এক কিশোর আয়হাম হোসেন। তাও আবার পপ সঙ্গীত। আর সেই খবর চলে যায় আইএস জঙ্গিদের কাছে। পরে আয়হামকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয় জঙ্গিদের আস্তানায়। জনসমক্ষেই ঘার থেকে মু ু আলাদা করে দেয়া হয় ওই নাবালকের। ঘটনাটি ঘটেছে আইএস নিয়ন্ত্রিত ইরাকের শহর মসুলে। আইএসের ওয়েবসাইটে পাওয়া ওই ভিডিও ফুটেজটি শুক্রবার প্রকাশ করেছে ডেইলি মেইল। এর আগে সমকামীদের হত্যা, পতিতাদের ধর্ষণ করে খুনসহ একাধিক নৃশংসতার নজির রেখেছে জঙ্গি সংগঠন আইএসের সদস্যরা। কিন্তু গান শোনার জন্য মানুষকে গলা কেটে হত্যা করা হল এই প্রথম। জানা গেছে, আয়হামের বাবার একটি মুদির দোকান আছে। সেখানে বসেই অবসর সময়ে সিডিতে গান চালিয়েছিল আয়হাম। খবর পেয়েই চলে আসে জঙ্গি সদস্যরা। তাকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হয় জঙ্গিদের আস্তানায়। জনসমক্ষেই তার শিরশ্ছেদ করে দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেয়া হয়।
 

Top

মালয়েশিয়ায় বিদেশী শ্রমিক নেয়া স্থগিত

 


মানবাধিকার রিপোর্টঃ
বাংলাদেশ থেকে ১৫ লাখ শ্রমিক নিতে সমঝোতা স্মারকে সই করার পরদিনই বিদেশী শ্রমিক নেয়া স্থগিত করেছে মালয়েশিয়া সরকার। ১৯ ফেব্রয়ারী সেনাবাহিনীর একটি ক্যাম্পে এক বৈঠকের পর দেশটির উপপ্রধানমন্ত্রী ড. আহমেদ জাহিদ হামিদি বাংলাদেশসহ সব সোর্স কান্ট্রি থেকে (জনশক্তি নেয়ার জন্য মালয়েশিয়া সরকারের তালিকাভুক্ত দেশ) কর্মী নেয়া স্থগিত রাখার ঘোষণা দেন। মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বারনামা শুক্রবার এ তথ্য জানিয়েছে।
এতে করে বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশ থেকে আপাতত কোনো শ্রমিক মালয়েশিয়ায় যেতে পারবে না। দেশটির সেনাপ্রধান কিম মুয়ারা তুয়াংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে এমন ঘোষণা দিলেন উপপ্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে দেশটিতে যেসব অবৈধ শ্রমিক রয়েছে তাদেরও শিগগিরই আটক করে বহিষ্কার করা হবে বলেও জানান তিনি। দেশটির শিল্প কারখানার জন্য ঠিক কী পরিমাণ জনশক্তি দরকার তা নিরূপণের আগে শ্রমিক না নেয়ার এই ঘোষণা দেন দেশটির উপপ্রধানমন্ত্রী আহমেদ জাহিদ হামিদি।
তবে ১৯ ফেব্রয়ারি ২০১৬ মালয়েশিয়ার জাতীয় দৈনিক দ্য স্টার অনলাইনের এক প্রতিবেদনে মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী রিচার্ড রায়ট আনাক জেমের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় ১৫ লাখ শ্রমিক আসবে এ তথ্য সঠিক নয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কাজের জন্য বাংলাদেশের ১৫ লাখ শ্রমিক নিবন্ধন করেছে। শুক্রবার দেশটির প্রশাসনিক রাজধানী পুত্রাজায়ায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় ১৫ লাখ শ্রমিক আসবে এ খবরে দেশে যে উদ্বেগ ও বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে, তা এখন দূর হবে। বাংলাদেশের শ্রমিকরা সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুরসহ বিশ্বের ১৩৯টি দেশেই কর্মসংস্থানের জন্য চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, গত বছরের ডিসেম্বরে মালয়েশিয়ায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ২১ লাখ ৩৫ হাজার ৩৫ জন শ্রমিক নিয়োগ দেয়া হয়। এর মধ্যে বাংলাদেশের শ্রমিক ছিল ২ লাখ ৮২ হাজার ২৮৭ জন। মানবসম্পদমন্ত্রী বলেন, ১৮ ফেব্রয়ারি ২০১৬ বাংলাদেশের সঙ্গে শ্রমিক নিয়োগের যে চুক্তি হয়েছে, ঠিক একইভাবে ইন্দোনেশিয়া, ভারত, থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া, পাকিস্তান, শ্রীলংকা ও ভিয়েতনামের সঙ্গেও চুক্তি হয়েছে।
১৮ ফেব্রয়ারি ২০১৬ রাজধানী ঢাকায় প্রবাসী কল্যাণ ভবনে বাংলাদেশ থেকে তিন বছরে ১৫ লাখ শ্রমিক নিয়োগের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বাংলাদেশের পক্ষে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি এবং মালয়েশিয়ার পক্ষে দেশটির সফররত মানবসম্পদবিষয়কমন্ত্রী রিচার্ড রায়ট আনাক জেম সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন। এই চুক্তির ২৪ ঘণ্টা না পেরোতেই মালয়েশিয়া সরকার সে দেশে সব বিদেশী শ্রমিক নিয়োগ স্থগিত ঘোষণা করে।
২০০৯ সালের আগের বছরগুলোতে বিভিন্ন অব্যবস্থার কারণে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগ বন্ধ হয়ে যায়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত উদ্যোগের ফলে ২০১২ সালে জিটুজি প্রক্রিয়ায় কর্মী প্রেরণের জন্য সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করা হয় এবং ২০১৪ সালে এর আওতায় একটি প্রটোকল স্বাক্ষর হয়। জিটুজি প্রক্রিয়ায় আশানুরূপ কর্মী অভিবাসন অর্জিত না হওয়ায় মালয়েশিয়ার প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করে জিটুজি প্লাস সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। সমঝোতা স্মারকটিতে মালয়েশিয়ার মন্ত্রিসভা গত বছরের ২০ ডিসেম্বর সম্মতি জানায়। বাংলাদেশের মন্ত্রিসভা গত ৮ ফেব্রুয়ারি এটি অনুমোদন করে। এর প্রস্তুতিমূলক কাজ হিসেবে দুই দেশের মধ্যে দুটি জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের সভা ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয় এবং বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও সব পক্ষের মতামত নিয়ে সমঝোতা স্মারকটি চূড়ান্ত করা হয়। বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে এই চুক্তি সই করার আগে শুধু জিটুজি (গভর্নমেন্ট টু গভর্নমেন্ট) জনশক্তি রফতানির ব্যবস্থা বিদ্যমান ছিল। জিটুজিতে অভিবাসন ব্যয় তুলনামূলক কম হলেও জনশক্তি রফতানির গতি ছিল মন্থর। ভালো সুযোগ-সুবিধা থাকায় বরাবরই মালয়েশিয়ায় যেতে আগ্রহী বাংলাদেশী শ্রমিকরা।
চুক্তি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মালয়েশিয়ার প্রতিনিধি দলের সদস্য মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল (পলিসি অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল) মোহাম্মদ শাহার দারুসমান, শ্রম বিভাগের মহাপরিচালক মোহাম্মদ জেফরি বিন জোয়াকিম, শ্রমনীতি বিভাগের আন্ডার সেক্রেটারি বিটি হাসান, মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ কর্মকর্তা রবার্ট দাপন, শ্রমনীতি বিভাগের সহকারী সচিব সতীশ শ্রীনিবাসন এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বৈদেশিক কর্মী ব্যবস্থাপনা বিভাগের আন্ডার সেক্রেটারি মোহাম্মদ জামরি বিন মাত জেইন।
এ চুক্তিতে বাংলাদেশ সোর্স কান্ট্রি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় সেবা, নির্মাণ, কৃষি, প্লান্টেশন ও ম্যানুফ্যাকচারিং সেক্টরে কর্মী নিয়োগের সুযোগ পায়। অতীতে শুধু প্লান্টেশন সেক্টরে কর্মী নিয়োগের সুযোগ ছিল। ওই চুক্তির পর প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী জানান, পাঁচ বছরের জন্য স্বাক্ষরিত এ চুক্তি উভয় দেশের সম্মতিতে পরে আরও বাড়ানো যাবে।
 

বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউগুলোতে চলছে রমরমা বাণিজ্য


মানবাধিকার রিপোর্টঃ
সরকারি নীতিমালা ও কর্তৃপক্ষের পর্যাপ্ত তদারকির না থাকার সুযোগে বেসরকারি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র বা আইসিইউগুলোতে চলছে রমরমা বাণিজ্য।
এতে মানসম্মত চিকিৎসা না পাওয়ার পাশাপাশি প্রায়ই প্রতারিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। আইসিইউ স্থাপনের নীতিমালা না থাকার কথা স্বীকার করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে- যেনতেনভাবে আইসিইউ চালানোর কোনো সুযোগ নেই।
অন্যদিকে, আইসিইউ বিশেষজ্ঞদের অভিমত- নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি প্রশিক্ষিত জনবল বাড়াতে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে সরকারকে।
নিবিড় পরিচর্যার আশায় রাজধানীর এই বেসরকারি হাসপাতালটির মতো অনেক হাসপাতালেই রোগী নিয়ে আসেন ভুক্তভোগীরা।
কিন্তু, নীতিমালার অভাবে গড়ে ওঠা এসব হাসপাতালে অনেক সময়ই মানুষ প্রতারিত হচ্ছেন সেখানে বিছিয়ে রাখা আইসিইউর বেডে।
গত ৯ ফেব্রয়ারি সুমাইয়া সাবা নামের এক মৃত শিশুকে আইসিইউতে রেখে জীবিত দাবি করে অর্থ আদায় করায়, এই হাসপাতালটির বিরুদ্ধে রুল জারি করে উচ্চ আদালত। অভিযোগ ওঠে- নানা অনিয়মের।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সূত্র বলছে- রাজধানীতে হাতেগোনা কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতালে মানসম্মত আইসিইউর ব্যবস্থা থাকলেও, অধিকাংশ হাসপাতালেই নেই পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতি, প্রশিক্ষিত নার্স কিংবা অভিজ্ঞ ডাক্তার। এমনকি নিবিড় পরিচর্যায় যে কজন স্টাফ থাকার কথা; তারও ঘাটতি থাকে অনেক ক্ষেত্রেই।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে- আইসিইউ নীতিমালা না থাকলেও, তদারকির চেষ্টা করছেন তারা। পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠাতে দরকার দীর্ঘ সময়।
তবে, এ ক্ষেত্রে নীতি প্রণয়নের পাশাপাশি দক্ষ জনবল গড়তে দ্রুত সরকারী পদক্ষেপ নেয়ার কোনো বিকল্প নেই বলে জানালেন এই আইসিইউ বিশেষজ্ঞ।
এছাড়াও, স্বাস্থ্যখাতে স্বচ্ছতা ও মানসম্মত চিকিৎসার পরিবেশ নিশ্চিত করতে দেশের হাসপাতালগুলোতে নিয়মিত সরকারী নজরদারি বাড়ানো উচিত বলেও মত সংশ্লিষ্টদের।
 

বাংলাদেশে আর থাকতে চায় না অনেক পরাহিঙ্গা উদ্বাস্তু


মানবাধিকার রিপোর্টঃ
বাংলাদেশে যখন রোহিঙ্গা গণনা শুরু হতে যাচ্ছে তখন মিয়ানমারে নতুন গণতান্ত্রিক সরকার গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। এ বাস্তবতায় বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গারা ভবিষ্যত সুদিনের স্বপ্ন দেখছেন। বিবিসি বাংলা আজ শুক্রবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে তাদের পরিস্থিতি আরো ভালো হবে এমন প্রত্যাশা যেমন আছে তেমনি অনেকেই চান নিজের দেশে ফিরে যেতে।
টেকনাফের লেদা নামে অনিবন্ধিত এক রোহিঙ্গা শিবিরে সরকারি লোকজন দেখে আগ্রহ নিয়ে ছুটে আসে রোহিঙ্গা শিশু। এদের পূর্বপুরুষ সবাই মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে বহু বছর আগে। এ শিবিরে চার হাজার পরিবারে আনুমানিক ৩০ হাজার জনগোষ্ঠীর বসবাস করছে। বাংলাদেশ সরকারের শুমারির উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবেই নিয়েছেন এখানকার রোহিঙ্গারা।
ছয় সন্তান স্ত্রী ফেলে রেখে ২০০৩ সালে বাংলাদেশে আশ্রয় নেন আব্দুল মোতালেব। মিয়ানমারে তিনি সক্রিয় রাজনীতি করতেন। অং সাং সুচির দল এনএলডির কর্মী এবং সংগঠকও হিসেবেও কাজ করতেন মোতালেব। তিনি বলছেন পরিস্থিতির উন্নতি হলে, নাগরিকত্ব পেলে তারা দেশে ফিরতে চায়।
মিয়ানমারে প্রায় দুই হাজার বিঘা জমি, স্ত্রী সন্তান ফেলে ২০০৪ সালে পালিয়ে বাংলাদেশে এসেছেন আব্দুল জব্বার। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি কর্মসূচির অধীনে স্কুলে শিক্ষকতা করতেন তিনি। বলছিলেন, আমরা তো এখন যে সাগরে পরি গেছি। বাংলাদেশে সহযোগিতা করলে যাইত পারি, অ্যাডে রাখিলে থাইকতে পারি। বাংলাদেশের পর নির্ভর।
লেদা ক্যাম্পের সভাপতি দুদু মিয়া ১০ সন্তানের জনক। যার আটজনই বাংলাদেশে জন্ম নিয়েছে। তিনি বলেন, আমরা আশা করি অং সাং সূচির উপর, যদি আমাদেরকে রহম করে তইলে, আমাদের মানিয়া লইলে আমরা চলি যাইবো। যদি মানিয়া না লয় আমরা কোতায় যাইবো?
ক্যাম্পের বাইরেও অনেক রোহিঙ্গা সাধারণ বাংলাদেশিদের সাথে মিশে গেছে। কক্সবাজারে মায়ের সাথে ভাড়া বাসায় থাকেন সখিনা। দেশ ছেড়ে আসার কথা জানতে চাইলে আবেগপ্রবণ হয়ে বলছিলেন, মিয়ানমারেই তারা ফেরত যেতে চান।
আমাদের অনেক জাগা জমিন ছিল, স্বর্ণের দোকান ছিল, আমার আব্বু মরার পর সব নিয়া নিছে ওরা। সখিনা জানান তার মা বলেছে পরিস্থিতি ভালো হলে দেশে ফেরত যাবে।
এদেশে কোনো দাম নাই, কতার লগে বলে বার্মাইয়া। চলে যাও। মারলে কোনো বিচার নাই, কুত্তার মতো মারি ফেলি রাখলেও কোনো বিচার হয় না এখানে।
রোহিঙ্গা শুমারির জন্য প্রতিটি বাড়িকে আলাদা করে চিহ্নিত করা হয়েছে। কক্সবাজারে সবচেয়ে বেশি রোহিঙ্গা থাকলেও তিন পার্বত্য জেলা এবং পটুয়াখালীকে শুমারির আওতায় আনা হয়েছে।
কর্মকর্তারা বলছেন মার্চ মাস থেকে ছয়টি জেলায় রোহিঙ্গা শুমারি শুরু হবে। বাংলাদেশে কোথায় কত সংখ্যক মিয়ানমারের নাগরিক আছে তার সঠিক সংখ্যা নিরূপণ মূল উদ্দেশ্য হলেও এর মধ্য দিয়ে প্রত্যাবাসনের জন্য কূটনীতিক তৎপরতাও চালাতে পারবে সরকার।
কক্সবাজার জেলা পরিসংখ্যান অফিসের উপপরিচালক মোঃ ওয়াহিদুর রহমান বলেন, রোহিঙ্গাদের সম্পর্কে সরকারের কাছে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য নাই। এই মুহূর্তে উখিয়ার কুতুপালং এবং টেকনাফের নয়াপাড়া ক্যাম্পে নিবন্ধিত ৩২ হাজার রোহিঙ্গা আছে। তবে অনিবন্ধিত রোহিঙ্গার সংখ্যা আনুমানিক তিন থেকে পাঁচ লাখ।
তিনি বলেন, আমরা যখন ফাইনাল সেনসাস করবো ওদের ছবিও নিয়ে যাবো ওরা যারা মিয়ানমার থেকে এদেশে চলে এসেছে যদি কোনো জমির দলিল বা ডকুমেন্ট থাকে সেগুলো নিয়ে যাব। সরকার চাচ্ছে ওদের (মিয়ানমার) সাথে যদি কথা বলতে হয় ডকুমেন্ট নিয়ে, ড্যাটা নিয়ে, ইনফরমেশন নিয়ে জোর দিয়ে কথা বলতে পারে।
এদিকে বাংলাদেশ মিয়ানমার সীমান্ত পথে অবৈধভাবে প্রতিদিনই বাংলাদেশে ঢুকছে রোহিঙ্গারা। বিজিবির হিসেবেই গড়ে ১৫-২০ জনকে প্রতিদিন আটক করে ফেরত পাঠানো হয়।
কক্সবাজার বিজিবির সেক্টর কমান্ডার কর্নেল এস এম আনিসুর রহমান জানান, ২০১৫ সালে ছয় হাজার ১৩১ জনকে পুশব্যাক করা হয়েছে। শুমারিকে সামনে রেখে অনেকেই ঢুকে পড়তে পারে বলে সন্দেহ আছে।
তারা এ সুবিধাটা নিতে পারে এবং আসার সংখ্যাটা বেড়ে যেতে পারে, এদিকে আমাদের নজর আছে।
কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের নিয়ে কাজ করে আন্তর্জাতিক অভিবাসী সংস্থা আইওএম বলছে, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন একটি দীর্ঘমেয়াদী জটিল প্রক্রিয়া। সংস্থাটির কর্মকর্তা আসিফ মুনীর বলছেন অতীতে প্রত্যাবাসনের পর তাদের অনেকে আবার বাংলাদেশে ফেরত এসেছে।
রিপ্যাট্রিয়েশনের ব্যাপারটা জটিল। সেখানে যদি তারা যেটাকে তাদের নিজেদের দেশ মনে করে মায়ানমারে যে অধিকার বা যেভাবে তারা থাকতে চান বা জাতিগতভাবে দাঙ্গার সম্মুখীন যেন তারা না হন। এ ধরনের কিছু পরিস্থিতি, মানে তাদের সকল অধিকার নিয়ে থাকার মতো সংবেদনশীল পরিবেশ পরিস্থিতি তৈরি না হয়, তাহলে সেখানে গিয়ে তারা স্বাচ্ছন্দ বোধ করবেন না বরং এই প্রবণতাটি থেকে যাবে।
রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে বাংলাদেশের জন্য একটা বড় সমস্যা হিসেবে দেখা হয়। শুমারির পর এদের পরিচয় এবং প্রত্যাবাসনের ব্যাপারে কী সিদ্ধান্ত হবে সেটি এখনো পরিষ্কার নয়। সূত্র : বিবিসি
 

Top

 

যে খাবার কখনই ফ্রিজে রাখবেন না

মানবাধিকার রিপোর্টঃ
খাবার তাজা রাখতে ফ্রিজের জুড়ি নেই। হালকা ঠান্ডায় ফ্রিজে খাবার তাজা থাকে। তাই সবজি থেকে শুরু করে মাছ মাংস বা রান্না করা খাবার, চটজলদির জীবনে খাবারের জন্য প্রধান ভরসা এখন ফ্রিজ। ফ্রিজে রাখলে দীর্ঘদিন ধরে খাবার ভাল থাকে।
কিন্তু এমন কিছু খাবারও রয়েছে যেগুলো ফ্রিজে রাখলে খারাপ হয়ে যায়। জেনে নিন তেমনই ১০ টি খাবার যেগুলো ফিজে রাখবেন না।
আলুঃ আলুর মধ্যে স্টার্চ থাকে। ফ্রিজে রাখলে স্টার্চ সুগারে পরিণত হয়। এই আলু স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক হয়ে দাড়ায়। যে কোনও অন্ধকার স্থানে আলু রাখবেন।
পেয়াজঃ ফ্রিজের ভিতরের আর্দ্রতা টেনে নেওয়ার ফলে পেয়াজ নরম ও জলসা প্রকৃতির হয়ে যায়। তাই পেয়াজ ব্লেন্ড করে বক্সে রাখতে পারেন
শাকঃ যে কোন শাক অন্যান্য খাবারের সঙ্গে থাকলে নিজের ফ্লেভার হারিয়ে ফেলে। ফ্রিজে শাক রাখলে অনেক তাড়াতাড়ি শুকিয়েও যায়। তবে অল্প সময়ের জন্য পলি ব্যাগে করে ফ্রিজে রাখা যেতে পারে।
মধুঃ মধুর মধ্যে থাকা সুগার ঠান্ডা হাওয়ায় কেলাসিত হয়ে যায়। যা মধুর স্বাদ ও গুনাগুন কমিয়ে দেয়। মধু ফ্রিজের বাইরে রাখাই নিয়ম।
মাখনঃ পাস্তুরাইজড দুধ দিয়ে তৈরি করা হয় এজন্য মাখন সহজে খারাপ হয় না। বিনা দ্বিধায় শীতল স্থানে মাখন রেখে দিতে পারেন যেন গলে না যায়। কারণ ফ্রিজ মাখনের জলীয় অংশ শুষে নেয়।
তেলঃ কখনই কোন ধরনের তেল ফ্রিজে রাখা উচিত নয়। এতে তেলের ঘনত্ব বেড়ে যায়।
পাউরুটিঃ পাউরুটির নিজস্ব আর্দ্রতা রয়েছে। ফ্রিজে রাখলে পাউরুটি আর্দ্রতা হারাতে শুরু করে। শক্ত হয়ে যায়।
চা-কফিঃ কফি বা চায়ের গুড়া ফ্রিজে রাখবেন না। এরা স্বাদ শোষক। ফ্রিজে রাখা সমস্ত জিনিসের ফ্লেভার নিয়ে নেওয়ায় কফি বা চায়ের স্বাদ খারাপ হয়ে যায়।
টমেটোঃ ফ্রিজের ঠান্ডা হাওয়ায় টমেটোর স্বাদ কমিয়ে দেয়। তাই টমোটো ফ্রিজে না রাখাই ভালো। তবে টমেেটা সস রাখতে পারেন।
রসুনঃ ফ্রিজে রাখলে রসুন খুব তাড়াতাড়ি অঙ্কুরিত হয়ে যায়। এমনকি রসুন অপেক্ষাকৃত নরম হয়ে যায়। তবে রসুন বেটে বা ব্লেন্ড করে রাখতে পারেন।

 

পঞ্চগড়ে বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত


মানবাধিকার রিপোর্টঃ
বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন পঞ্চগড় জেলা শাখা আয়োজিত এক মতবিনিময় সভা পঞ্চগড় জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে ২৩ ফেব্রয়ারী ২০১৬ বিকাল ৫.০০ ঘটিকার সময় অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত মত বিনিময় সভায় কমিশনের পঞ্চগড় জেলা শাখার সভাপতি এ্যাডভোকেট ওয়াহিদুজ্জামান সুজার সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখের পঞ্চগড় জেলা পরিষদের প্রশাসক ও কমিশনের পঞ্চগড় শাখার উপদেষ্টা এ্যাডভোকেট মোঃ আবু বক্কর সিদ্দিক, সাধারণ সম্পাদক এটিএম আখতারুজ্জামান বাবু, পঞ্চগড় জেলা মটর মালিক সমিতির সভাপতি ও কমিশনের নির্বাহী সভাপতি ইকবাল কায়সার মিন্টু, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও সহ-সভাপতি মোছাঃ কামরুনাহার, বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী ও সহ-সভাপতি আকতারুন নাহার সাকী, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মনিসা বেগম রিয়া। উক্ত মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার উপদেষ্টা ও ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ সৈয়দ আলী, মানবাধিকার কমিশনের উপদেষ্টা ও ঠাকুরগাঁও চেম্বার অব কমার্স এর পরিচালক মোঃ খলিলুর রহমান, বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার নির্বাহী সভাপতি এবং বিএইচআরসি-র বিশেষ প্রতিনিধি এ্যাডভোকেট মোঃ জাহিদ ইকবাল সহ প্রমুখ। উক্ত মতবিনিময় সভা সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন পঞ্চগড় জেলা শাখার সহ-সভাপতি এবং পঞ্চগড় জেলা নাট্য সমিতির সভাপতি মোঃ মিজানুর রহমান।
সভায় আলোচকগণ অত্র এলাকার মানুষের অধিকার রায় একযোগে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।


Top


 

নারী ও শিশু সংবাদ


 


 

সখীপুরে এক বছরে ৫৮৩ বিবাহবিচ্ছেদ

মানবাধিকার রিপোর্টঃ

টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলায় বিবাহবিচ্ছেদের সংখ্যা বেড়ে গেছে। গত এক বছরে তালাকের মাধ্যমে ৫৮৩টি বিবাহবিচ্ছেদের ঘটনা ঘটেছে। বিচ্ছেদের ঘটনা এত কেন? বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী বাল্যবিবাহ, স্ত্রীর প্রতি স্বামীর উদাসীনতা, পরকীয়া, নারীর প্রতিবাদী রূপ, নারীর শিক্ষা, স্বামীর মাদকাসক্তি, দীর্ঘদিন স্বামী প্রবাসে থাকা, শ্বশুর-শাশুড়ির নির্যাতন, যৌতুকের জন্য ক্রমাগত চাপ, স্বামীর নির্যাতনএসব কারণ খুঁজে পাওয়া যায়।
সখীপুরের আট ইউনিয়ন ও একমাত্র পৌরসভায় ১২টি কাজি অফিস রয়েছে। কাজি অফিসের নথি থেকে জানা যায়, ২০১৫ সালে উপজেলার হাতীবান্ধা ইউনিয়নে ৫৫টি, যাদবপুর ইউনিয়নে ৩৯টি, বহুরিয়া ইউনিয়নে ৩২টি, গজারিয়া ইউনিয়নে ৩৭টি, দাড়িয়াপুর ইউনিয়নে ১৫টি, কালিয়া ইউনিয়নে ১১০টি, বহেড়াতৈল ইউনিয়নে ৩০টি, কাকড়াজান ইউনিয়নে ৬৩টি ও পৌরসভার চারটি কার্যালয়ে ২০২টি বিবাহবিচ্ছেদ (তালাক) নিবন্ধন করা হয়েছে।
২০১৪ সালে সখীপুরে বিবাহ বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটে ৪২৫টি। এদিকে ২০১৪ সালে উপজেলার হাতীবান্ধা ইউনিয়নের নিকাহ কার্যালয়ে ৩৪টি, যাদবপুর ইউনিয়নে ২৬টি, বহুরিয়া ইউনিয়নে ২৭টি, গজারিয়া ইউনিয়নে ২৯টি, দাড়িয়াপুর ইউনিয়নে ১৬টি, কালিয়া ইউনিয়নে ৯৪টি, বহেড়াতৈলে ২৩টি, কাঁকড়াজানে ৫০টি এবং পৌরসভার চারটি কার্যালয়ে ১২৬টি তালাকের ঘটনা ঘটেছিল। ২০১৪ সালের তুলনায় ২০১৫ সালে বিবাহ বিচ্ছেদ বেড়েছে ১৫৮টি।
একজন নারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বললেন, সামান্য কারণে একজন নারী কখনো বিবাহবিচ্ছেদ চান না। শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন যখন সীমা অতিক্রম করে, তখন বাধ্য হয়েই এই কাজ করতে হয়।
কনেপক্ষের তালাককে ডি-তালাক, ছেলেপক্ষের তালাককে বি-তালাক ও ছেলে-মেয়ের সমঝোতার তালাককে সি-তালাক বলা হয় বলে জানালেন কালিয়া ইউনিয়ন নিকাহ ও তালাক রেজিস্ট্রার (কাজি) মাহবুব সাদিক। সখীপুর উপজেলা নিকাহ রেজিস্ট্রার (কাজি) সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও সখীপুর পৌরসভার কাজি শফিউল ইসলাম বললেন, বাল্যবিবাহ, স্বামী বিদেশে থাকা ও পরকীয়াঘটিত নানা জটিলতা নিয়ে প্রথমে দুই পরিবারে ফাটল ধরে পরে তা বিচ্ছেদে রূপ নিচ্ছে। তিনি জানান, সখীপুরের ৯০ শতাংশ তালাক স্ত্রীরা দিয়েছেন।
এক নারী তাঁর বিবাহবিচ্ছেদের পেছনের কারণ জানান এই প্রতিবেদককে। তাঁর স্বামী বিয়ে করে ১৫ দিনের মাথায় বিদেশ চলে যান। বিয়ের সময় শর্ত ছিল স্ত্রীকে পড়াশোনা করতে দেওয়া হবে। কিছুদিন পর স্বামী বিদেশ থেকে বলেন পড়াশোনা করা যাবে না। কেন? স্বামী তখন ফোনে জানিয়েছিলেন তাঁর স্ত্রী নাকি অন্য কারও সঙ্গে প্রেম করছে। পড়াশোনা করলে তাঁকে ফেলে চলে যাবেন। এসব মিথ্যা বলে স্ত্রীকে পড়াশোনা বন্ধ করার জন্য চাপ দেন। তবু স্ত্রী পড়াশোনা চালিয়ে যান। এরপর থেকে স্বামী কোনো খরচ দেন না তাঁকে। কোনো ফোন করেন না। মেয়েটিকে তালাক দেবেন বলে হুমকি দেন। দুই বছর স্বামী তাঁর খোঁজ না নেওয়ায় স্ত্রীই স্বামীকে তালাক দেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা রাফেজা আক্তার বলেন, আগে নারীর ক্ষমতায়ন এখনকার মতো ছিল না। পুরুষদের অত্যাচার সহ্য করে নীরবে সংসার করেছে। এখন মেয়েরা সচেতন, শিক্ষিত ও অর্থনৈতিক স্বাবলম্বী হওয়ায় মর্যাদা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে এখন মেয়েরা আর নির্যাতন-নিপীড়ন সহ্য করতে চায় না।
এখন আগের চেয়ে নারীরা শিক্ষিত ও স্বাবলম্বী হওয়ায় তাঁদের আত্মমর্যাদা বৃদ্ধি পেয়েছে। তাঁরা আর মুখ বুজে থাকেন না। তাই হয়তো বিবাহবিচ্ছেদের সংখ্যাটা বেড়েছে। এমনটা মনে করেন সখীপুর আবাসিক মহিলা অনার্স কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান শহীদুল্লাহ কায়সার।
 

প্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণের দায়ে একজনের যাবজ্জীবন


মানবাধিকার রিপোর্টঃ
রাজধানীর মিরপুর এলাকায় ১৩ বছরের এক প্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণের দায়ে জাহাঙ্গীর আলম মুজাহিদ নামের এক আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদন্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে ওই আসামিকে দুই লাখ টাকা অর্থদন্ড, অনাদায়ে আরও তিন বছরের কারাদে র আদেশ দেওয়া হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ৫-এর বিচারক তানজীনা ইসমাইল এসব আদেশ দেন।
এর মধ্যে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ওই শিশুকে এক লাখ টাকা প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। টাকা আদায় না হলে ওই আসামির সম্পত্তি থেকে টাকা আদায় করে ওই শিশুকে দিতে বলেছেন আদালত।
আসামি জাহাঙ্গীর আলম মুজাহিদ ওই মামলায় গ্রেপ্তার হলেও আদালত থেকে জামিন পেয়ে এখন তিনি পলাতক।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা যায়, আসামি জাহাঙ্গীর আলম মুজাহিদ মিরপুর এলাকার ওই শিশুটির পিতার বাসায় সাবলেট হিসেবে থাকতেন। একদিন বাসায় কেউ না থাকায় সরলতার সুযোগ নিয়ে আসামি ওই শিশুটিকে ধর্ষণ করেন। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা বাদী হয়ে ২০১৪ সালে ২ এপ্রিল মিরপুর থানায় ওই আসামির বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে মিরপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আতাউর রহমান মামলা তদন্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন। এ মামলায় ২০১৪ সালে ২৬ আগস্ট ওই আসামির বিরুদ্ধে বিচার শুরু হয়। এ মামলায় বাদীকে সহায়তা করেন জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি।
ওই সংগঠনটির আইনজীবী ফাহমিদা আক্তার ও রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি আলী আজগর স্বপন বলেন, প্রতিবন্ধী এই শিশু দন্ড পাওয়া আসামির অমানুষিক নির্যাতন ও ধর্ষণের শিকার হয়।


যৌতুক না পেয়ে রূপগঞ্জে স্ত্রীকে সিগারেটের ছ্যাঁকা


মানবাধিকার রিপোর্টঃ
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে দাবিকৃত যৌতুকের দুই লাখ টাকা না দেয়ায় স্ত্রী মুন্নী বেগমকে (২৭) জ্বলন্ত সিগারেটের ছ্যাঁকা দিয়েছে পাষ ঠিপেটা করে নির্যাতন চালিয়েছে। গতকাল সকালে উপজেলার শিমুলিয়া এলাকায় নির্যাতনের এ ঘটনা ঘটে। গৃহবধূ মুন্নী বেগম কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলার বেন্দ্রীবাজার এলাকার মৃত মালেক ড্রাইভারের মেয়ে। নির্যাতনের শিকার মুন্নী বেগম জানান, গত ১৩ বছর পূর্বে শিমুলিয়া এলাকার সৈয়দ তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে সেলিম মিয়ার সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের সময় ঘর নির্মাণের জন্য বাপের বাড়ি থেকে দুই লাখ টাকা যৌতুক দেয়া হয় সেলিম মিয়াকে। বিয়ের পর দুই সন্তান নিয়ে সংসার ভালো ভাবেই চলছিল। গত দুই মাস আগে স্বামী সেলিম মিয়াসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন মালয়েশিয়া যাওয়ার উদ্দেশ্যে ফের দুই লাখ টাকা দাবি করে। দাবিকৃত টাকা দিতে না পারায় সেলিম মিয়া সীমা আক্তার নামে আরেক মহিলাকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। দ্বিতীয় বিয়ের পর থেকেই স্বামীসহ ননদ বিলকিস, তাসলিমা নানাভাবে শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে আসছে। রোববার রাতে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জ্বলন্ত সিগারেটের ছ্যাঁকা দেয়া হয়। এ ছাড়া গতকাল সকালে বটি দিয়ে কুপিয়ে ও লাঠিপেটা করে আহত করা হয়। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। এ ছাড়া বেশ কয়েক দিন আগে গৃহবধূ মুন্নী বেগমকে হত্যার উদ্দেশ্যে পার্শ্ববর্তী শীতলক্ষ্যা নদীতে নিয়ে যায় স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন। পরে তার আত্মচিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে প্রাণে বেঁচে যান তিনি। এ ব্যাপারে রূপগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) এবিএম মেহেদী মাসুদ জানান, এ ধরনের ঘটনার একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
 

বাল্যবিয়ে: নাটোরে তিন অভিভাবকের কারাদন্ড

মানবাধিকার রিপোর্টঃ
নাটোরে বাল্যবিয়ে দেয়ার অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালতে তিন অভিভাবককে কারাদন্ড ও একজনকে অর্থদন্ড দিয়েছে। ১১ ফেব্রয়ারী রাতে সদর উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইউএনও মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান এই আদেশ দেন।
নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান ও এলাকাবাসী জানান, উপজেলার নওপাড়া ও জি বালিকা বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণির ছাত্রী মুনিরা খাতুন এবং একই উপজেলার ইসলাবড়ি গ্রামের বিলকিস খাতুন সুমির বাড়িতে বৃহস্পতিবার রাতে বিয়ের প্রস্তুতি চলছিল। খবর পেয়ে সদর উপজেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান পুলিশ পাঠিয়ে ওই দুই মেয়ের অভিভাবকদের নিজ কার্যালয়ে ডেকে নেন। পরে বাল্যবিয়ে দেবেন না এই মর্মে উভয়ের অভিভাবকদের কাছে মুচলেকা নিয়ে বাল্যবিয়ে দুটি বন্ধ করে দেন। মুনিরা সদর উপজেলার পশ্চিম হাগুড়িয়া গ্রামের মমতাজ উদ্দিনের মেয়ে এবং বিলকিস খাতুন একই উপজেলার ইসলাবাড়ি গ্রামের আবদুর রাজ্জাকের মেয়ে। অপরদিকে সদর উপজেলার নওপাড়া ওসমান গণি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী ও বারুহাট গ্রামের সাজেদুল ইসলামের মেয়ে তানিয়ার গত ৩১ জানুয়ারি বিয়ের দিন ধার্য ছিল। বিষয়টি অবহিত হয়ে ইউএনও মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান তখন বিয়েটি বন্ধ করে দেন। পরে তানিয়ার বাবা সাজেদুল ইসলাম গোপনে মেয়েকে বিয়ে দেন। ১১ ফেব্রয়ারি সন্ধ্যায় তানিয়ার শ্বশুরবাড়ির লোকজন সাজেদুল ইসলামের বাড়িতে বেড়াতে যান। খবর পেয়ে ইউএনও মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান ১১ ফেব্রয়ারি রাতেই পুলিশ নিয়ে তানিয়ার বাড়িতে যান। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তানিয়াসহ তার স্বামী, বাবা ও শ্বশুর শহীদ পালিয়ে যান। পরে তানিয়ার মা তাহমিনা খাতুন, ফুফু বেদেনা খাতুন ও শাশুড়ি মাবিয়াকে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাহমিনা খাতুনকে এক মাস, বেদেনা খাতুনকে ৭ দিন ও শাশুড়ি দুলালী খাতুনকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ড এবং চাচি শাশুড়ি মাবিয়া খাতুনকে ১ হাজার টাকা অর্থদ- দেন।
 

 

Top
 

 

পুলিশ ও কারাগার সংবাদ

 


 

কারাবন্দীদের তথ্য ডাটাবেজে


মানবাধিকার রিপোর্টঃ

যে কোনো অপরাধীর ২০০ ধরনের তথ্য, ১০ আঙুলের বায়োমেট্রিক ছাপ এবং দুই চোখের বায়োমেট্রিক ইমেজ নিয়ে তৈরি করা হয়েছে র‌্যাব-প্রিজন ইনমেট ডাটাবেজ (কারাবন্দীদের তথ্য ভা ার সংরক্ষণ)। গত ৮ ফেব্রয়ারী দুপুরে র‌্যাব সদর দফতরে ডাটাবেজটি উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটি একটি যুগান্তকারী ঘটনা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ার একটি অংশ। যে ডাটাবেজ তৈরি হচ্ছে, তা পর্যায়ক্রমে বিমানবন্দর ইমিগ্রেশন, পাসপোর্ট অধিদফতরের সঙ্গে যুক্ত হবে। তখন অপরাধীদের চিহ্নিত করা খুব সহজ হবে।
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী অথবা অন্য কেউ যাতে ভুয়া পাসপোর্ট তৈরি করতে না পারেন, এ জন্য তাদের পরিচয়পত্রও বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ করে তা ওয়েবসাইটে দেয়া হবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশনস) কর্ণেল জিয়াউল আহসানের তত্ত্বাবধানে র‌্যাব ক্রিমিনাল ডাটাবেজের অনুকরণে এটি তৈরি করা হয়েছে। এটি পরিচালনায় থাকবে র‌্যাব ও কারাগার কর্তৃপক্ষ। র‌্যাব ও কারাগার থেকে দক্ষ অপারেটর তৈরি করা, ৬৮টি কারাগারে ওয়ার্ক স্টেশন পৌঁছানো এবং ৬৮টি কারাগারে ফাইবার অপটিকস্ ল্যান নেটওয়ার্কের ব্যবস্থার চ্যালেঞ্জ নিয়ে র‌্যাব-প্রিজন ইনমেট ডাটাবেজ তৈরি করা হয়েছে। র‌্যাব-প্রিজন ইনমেট এনরোলমেন্ট ওয়ার্কস্টেশন ল্যাপটপ, ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানার, আইরিশ স্ক্যানার, ডিজিটাল এসএলআর ক্যামেরা, সফটওয়্যার ও একজন দক্ষ অপারেটর নিয়ে গঠিত।
র‌্যাব সদর দফতরের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যে কোনো অপরাধী কারাগারে এনরোলমেন্টের সময় ফিঙ্গার প্রিন্ট ম্যাচিংয়ের মাধ্যমে অন্যান্য কারাগারে অথবা একই কারাগারে কতবার তিনি আটক হয়েছে তার বিস্তারিত জানা যাবে। অপরাধের ধরন অনুযায়ী এ ডাটাবেজ থেকে সার্চ করে প্রতি কারাগারে অপরাধীর সংখ্যা সহজে নিরূপণ করা সম্ভব হবে। অপরাধীর কারাগার ট্রান্সফার, জামিন, হাসপাতাল ভিজিট, বিশেষ কোনো তথ্য কারাগার থেকে মোবাইলে মেসেজ আকারে তাৎক্ষণিকভাবে কর্তৃপক্ষকে জানানো যায়। এমনকি অপরাধীর কারাগার ট্রান্সফার বা বিশেষ গমনাগমন কর্তৃপক্ষ চাইলে ডাটাবেজ থেকে মোবাইল মেসেজের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে অপরাধীর নিকট আত্মীয়কে জানানো যাবে।
এই ডাটাবেজ থেকে র‌্যাবের ক্রিমিনাল ডাটাবেজে তথ্য আদান-প্রদান সম্ভব এবং অপরাধীর তথ্য জাতীয় পরিচয়পত্র ডাটাবেজের সঙ্গে ম্যাচিং করানো সম্ভব।
র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের উপ-পরিচালক মেজর রুম্মান মাহমুদ জানান, কোনো অপরাধীকে গ্রেফতারের পর তার পরিচয় শনাক্ত ও অতীত অপরাধ রেকর্ড (পিসিআর) জানতেই অনেক সময় চলে যায়। জিজ্ঞাসাবাদে অপরাধীরা নিজেদের আড়াল করতে মিথ্যা তথ্যও দিয়ে থাকে। মামলার তদন্তের ক্ষেত্রে বিলম্বের এটি অন্যতম একটি বড় কারণ। আবার দ প্রাপ্ত অপরাধীরা কারাগার থেকে ছাড়া পেয়ে ফের অপরাধ করে। বেশিরভাগ সময় তারা স্থান পরিবর্তন করায় তাদের চিহ্নিত করা দুষ্কর হয়ে যায়।
তিনি আরও জানান, সম্পূর্ণ ডিজিটাল ফরম্যাটে প্রস্তুত এ তথ্যভা ার থেকে কম্পিউটারের মাধ্যমে মুহূর্তে একজন অপরাধীর বিস্তারিত তথ্য জানা সম্ভব। অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধে এ তথ্যভান্ডার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এর বাইরে ছবি, অতীত অপরাধ সংঘটনের সংখ্যা, অপরাধের ধরন, দ সংক্রান্ত তথ্যও সন্নিবেশ করা হয়েছে। এসব তথ্যের সঙ্গে অপরাধীর নাম, ঠিকানা, পেশা ইত্যাদি ব্যক্তিগত বিস্তারিত তথ্য রাখা হয়েছে। অনুষ্ঠানে পুলিশের মহাপরিদর্শক, র‌্যাবের মহাপরিচালক, কারা মহাপরিচালক ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
 

চট্টগ্রামে সাত বছরে চার হাজার পুলিশের সাজা


মানবাধিকার রিপোর্টঃ
কিছু অসাধু সদস্য অপরাধে জড়িয়ে পড়ায় চট্টগ্রামে পুলিশ বাহিনীর ইমেজ সংকট সৃষ্টি হয়েছে। নিষিদ্ধ মাদক ইয়াবার ব্যবসা, স্বর্ণের বার ছিনতাই, লোকজনকে জিম্মি করে টাকা আদায়, গভীর রাতে বাড়িতে ঢুকে ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা, পাহাড় কাটার মত কাজে সহযোগিতাসহ গত এক বছরে নানা অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। সিএমপি সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮ জানুয়ারি সিএমপির সদস্যদের শাস্তির একটি প্রতিবেদন পুলিশ কমিশনারের কাছে দাখিল করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, ২০০৯ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত সাত বছরে প্রায় চার হাজার পুলিশ সদস্য বিভাগীয় শাস্তির মুখোমুখি হয়েছেন। এদের মধ্যে ৩ হাজার ৫২৯ সদস্য লঘুদ পেয়েছেন। চাকরিচ্যুত ও ফৌজদারি মামলায় আসামি হওয়ার মত গুরুদে দি ত হয়েছেন ৩০৭ পুলিশ সদস্য। কনস্টেবল থেকে এসআই পর্যন্ত আট পদের পুলিশ সদস্যরা এসব শাস্তির মুখোমুখি হয়েছেন।
জানা গেছে, ২০০৯ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত সাত বছরে ৬২ জন এসআই (নিরস্ত্র), ৬ জন সার্জেন্ট, ৩ জন এসআই (সশস্ত্র), ১৮ জন এএসআই (নিরস্ত্র), ১৩ জন এএসআই (সশস্ত্র), ৪ জন সহকারী ট্রাফিক উপ-পরিদর্শক (এটিএসআই), ৭ জন নায়েক এবং ১৯৪ জন কনস্টেবল গুরু দ পেয়েছেন। এর মধ্যে ২০০৯ সালে ৬৭ জন, ২০১০ সালে ৪৯ জন, ২০১১ সালে ২০ জন, ২০১২ সালে ৪৫ জন, ২০১৩ সালে ৩২ জন, ২০১৪ সালে ৩১ জন পুলিশ সদস্য শাস্তি পেয়েছেন। তবে গত ৫ বছরের মধ্যে গত বছরই সর্বোচ্চ ৬৩ জন পুলিশ সদস্য গুরুতর শাস্তি পেয়েছেন। এছাড়া লঘুদ পেয়েছেন ২০০৯ সালে ৬৫৮ জন, ২০১০ সালে ৪০১ জন, ২০১১ সালে ৬৮৬ জন, ২০১২ সালে ৬১৪ জন, ২০১৩ সালে ৩৪২ জন, ২০১৪ সালে ৩৭০ জন এবং ২০১৫ সালে ৪৫৮ জন পুলিশ সদস্য। গত সাত বছরে তিরস্কৃত হয়েছেন ২ হাজার ৬২ জন, সতর্ক করা হয়েছে ৭৬৫ জনকে, পিডি ও শ্রমসাধ্য দায়িত্ব পেয়েছেন ৭০২ জন।
অভিযুক্ত সদস্যদের বিরুদ্ধে পুলিশ প্রশাসন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিলেও একের পর এক নানা বিতর্কে জড়িয়ে পড়ার কারণে এই বাহিনীর ওপর নগরবাসীর আস্থা এখন নিম্নমুখী। গত এক বছরে পুলিশের বিরুদ্ধে নগরবাসীর সবচেয়ে বড় অভিযোগ, চিহ্নিত অপরাধী ও দাগী অপরাধী ধরার চেয়ে নাশকতার মামলার আসামি ধরতেই বেশি মনোযোগী ছিলেন তারা। আসামি ধরার ক্ষেত্রে তারা রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট হয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। মামলার ভয় দেখিয়ে নিরীহ লোকজনকে হয়রানি করার অভিযোগ আছে। এজাহারে নাম না থাকলেও কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পাওয়া অনেক ব্যক্তিকে নাশকতার মামলার আসামি হিসেবে পুনরায় জেলগেট থেকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। গত এক বছরে ইমেজ সংকট থাকলেও অপরাধে জড়িত পুলিশ সদস্যদের সাজা দেয়ার ক্ষেত্রে কঠোর মনোভাব দেখিয়েছে সিএমপি প্রশাসন। এর মধ্যে ১০০ ভরি স্বর্ণ ছিনতাইয়ের অভিযোগে নগরীর এনায়েত বাজার পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মিজানুর রহমান ও কনস্টেবল খান এ আলমকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। ফৌজদারি মামলায় বর্তমানে তারা কারাগারে আছেন। গত বছরের জানুয়ারিতে আবুল হোসেন নামে ডিবির এক এসআইয়ের বিরুদ্ধে ৬০ ভরি স্বর্ণ ছিনতাইয়ের ঘটনা প্রমাণ হওয়ার পর তাকে চাকরিচ্যুত করে কারাগারে পাঠানো হয়। শাহাদাত হোসেন, জুয়েল সরকার ও শেখ সজীব নামে তিন এসআইকে ইয়াবা পাচারে জড়িত থাকার অভিযোগে সমপ্রতি সাময়িক বরখাস্তের আদেশ দিয়েছেন সিএমপি কমিশনার। কিছু কিছু মামলায় পুলিশের ভূমিকায় আদালতের বিচারকরাও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এর মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে কোকেন উদ্ধার মামলা অন্যতম। মূল আসামিকে অভিযোগপত্র থেকে বাদ দেয়ায় আদালত এই মামলার তদন্ত দায়িত্ব র‌্যাবের কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ দেয়। তবে অনেক সাফল্যও রয়েছে পুলিশের।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. আব্দুল জলিল ম ল বলেন, পুলিশের অপরাধের বিষয়ে জিরো টলারেন্স রয়েছে। পুলিশের যে সকল সদস্য অপরাধ করেছে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তাদের অনেকেই আজ কারাগারে। পুলিশের কোনো সদস্য যখন অপরাধ করে তখন তাদের পুলিশের সদস্য হিসেবে বিবেচনা না করে সাধারণ অপরাধী হিসাবে বিবেচনা করা হয়।
 

স্ত্রী নির্যাতনের মামলায় এসআই হাবিব কারাগারে


মানবাধিকার রিপোর্টঃ
যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সিআইডির পুলিশের উপ-পরিদর্শক হাবিবুর রহমান ভূইয়াকে জেলহাজতে পাঠিয়েছেন আদালত। গতকাল ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক মো. শফিউল আযমের আদালতে এসআই হাবিব আত্মসমর্পণ করে জামিন প্রার্থনা করলে বিচারক তার আবেদন নাকচ করে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বাদিনীর পক্ষের আইনজীবী তাপস চন্দ্র দাস বলেন, গত ১৮ই জানুয়ারি আসামি হাবিবুর রহমান মামলাটিতে আত্মসমর্পণ করলে হাইকোর্ট তাকে ৪ সপ্তাহের জামিন প্রদান করে মেয়াদান্তে ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন।
সোমবার এ মামলায় হাবিব ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করে জামিনের প্রার্থনা করেন।
কিন্তু আসামি হাইকোর্টের আদেশ লঙ্ঘন করে জামিনের মেয়াদের ১ দিন পর আত্মসমর্পণ করায় এবং হাইকোর্টের জামিন আদেশে জামিনের বিষয়ে কোন নির্দেশনা না থাকায় বিচারক তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন।
 

এসআই রতনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা


মানবাধিকার রিপোর্টঃ
রাজধানীর আদাবর থানার সেই এসআই রতন কুমার হালদারের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন ট্রাইব্যুনাল। ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪ এর বিচারক সালেহ উদ্দিন আহম্মেদ মঙ্গলবার সকালে এ পরোয়ানা জারি করেন। আশা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে এসআই রতনের বিরুদ্ধে বিচার বিভাগীয় তদন্ত হয়। শ্লীলতাহানির অভিযোগের সত্যতা পেয?ে বুধবার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪-এ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন ঢাকা মুখ্য মহানগর হাকিম শেখ হাফিজুর রহমান। ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বেসরকারি আশা বিশ্ববিদ্যালয?ের ওই ছাত্রীকে উপ-পরিদর্শক রতন কুমার হালদার শ্লীলতাহানি করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। তদন্তে পাঁচজন সাক্ষীর জবানবন্দি রেকর্ড করা হয?।
৩১ জানুয?ারি মোহাম্মদপুরের শিয?া মসজিদের কাছে এসআই রতন কুমার হালদার বেসরকারি আশা বিশ্ববিদ্যালয?ের ইংরেজি বিভাগের প্রথম বর্ষের এক ছাত্রীকে শ্লীলতাহানি করেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরদিন সকালে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪ এর বিচারক সালেহ উদ্দিন আহমেদের আদালতে মামলা করতে যান ওই শিক্ষার্থী। আদালত তার জবানবন্দি গ্রহণ শেষে বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেন।
 

 

Top



Top
 



 

স্বাস্থ্য সংবাদ


 


যে খাবারে প্রতিরোধ ফুসফুস ক্যান্সার

 

মানবাধিকার হেলথ ডেস্কঃ

কিছু ঘরোয়া খাবার রয়েছে যেগুলো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই খুব দ্রুত রোগনিরাময় করে। ক্যান্সারের মতো বিষয় হলে হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা দেয়াই ভালো। আর যদি প্রতিরোধের বিষয় আসে তবে কিছু ঘরোয়া ব্যবস্থা রয়েছে। এর মধ্যে একটি রসুন। রসুন শরীরের জন্য উপকারী। কেননা এটি ক্যান্সার কোষকে ছড়িয়ে দিতে বাধা দেয়। কীভাবে এটি কাজ করে? এ বিষয়ে জানিয়েছে জীবনযাত্রাবিষয়ক ওয়েবসাইট বোল্ডস্কাই। বিশেষজ্ঞরা বলেন, ফুসফুসের ক্যান্সার প্রতিরোধে আপনাকে তাজা বা সতেজ রসুন খেতে হবে। রসুনের রস ফুসফুসের ক্যান্সার সৃষ্টিকারী কোষকে মেরে ফেলতে সাহায্য করে। তবে এটি শুধু তাদের জন্য বলা হচ্ছে, যারা ধূমপায়ী, যাদের পরিবারে ফুসফুস ক্যান্সারের ইতিহাস আছে।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, যেসব লোক তাজা রসুন সপ্তাহে অন্তত দুদিন খান তাদের ৪৪ ভাগ ফুসফুসের ক্যান্সার হওয়ার আশংকা কমে যায়। আর ধূমপায়ীদের ক্ষেত্রে ৩০ শতাংশ ঝুঁকি কমে যায়।
কখন রসুন খাবেন? খালি পেটে রসুন খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। সকালে বা রাতের খাবারের এক ঘণ্টা পর রসুনের কোয়া খেতে হবে। রসুনের আরও গুণ রয়েছে- যেমন এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, উচ্চরক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে, দেহের ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমায়, রসুন স্মৃতিভ্রম বা ভুলে যাওয়া রোধ করতে সাহায্য করে। তাই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, এসব গুণ পেতে ও ফুসফুসের ক্যান্সার প্রতিরোধে রসুন খেতে পারেন নিয়মিত।
 

ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য অত্যন্ত উপকারী ১০টি ফল


মানবাধিকার হেলথ ডেস্কঃ
ডায়াবেটিস এখন বহুল পরিচিত একটি রোগ। বলতে গেলে রীতিমত ঘরে ঘরে এই রোগ এখন। ডায়াবেটিক রোগীরা তাদের তালিকাভুক্ত খাবার একটা রুটিন মেনে খেয়ে থাকেন। ভাত খেলেও তা পরিমাপ মত খেয়ে থাকেন এছাড়া তারা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে রুটি খেয়ে থাকেন। আর সমস্যায় পড়েন হালকা ধরণের নাস্তা বা ক্ষুধা মেটানো।
জেনে নিন সেই ফলগুলো সম্পর্কে যেগুলো একজন ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য অত্যন্ত উপকারী, সাহায্য করে সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রণেও রাখতে।
১. কিউই :
কিউই একটি মজাদার ফল। গবেষণায় দেখা গেছে যে এই ফলটি দেহের সুগারের স্তরকে কমিয়ে আনতে সহায়তা করে। ফলে এই ফলটি ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য বেশ কার্যকরী।
২. কালো জাম :
এই কালো জাম নিঃসন্দেহে ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য উপকারী একটি ফল। এতে থাকা বিভিন্ন উপাদার সুপারের পরিমাণ বৃদ্ধি থেকে দেহকে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। ফলে ডায়াবেটিক রোগীরা তাদের দেহের অতিরিক্ত সুগারকে নিয়ন্ত্রণে আনতে কোনো চিন্তা ছাড়াই এই ফলটি খেতে পারেন।
৩. কামরাঙ্গা :
কামরাঙ্গা ফলটি স্বাদে টক ও মিষ্টি দুই ধরনেরই হয়ে থাকে। কালো জামের মত এটিও দেহে তৈরি হওয়া অতিরিক্ত সুগারের স্তরকে নিয়ন্ত্রণে আনে। ফলে ডায়াবেটিক রোগীরা তাদের সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখতে এই ফলটি তাদের খাবার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন।
৪. পেয়ারা :
পেয়ারা খেতে অনেকেই পছন্দ করেন। পেয়ারা ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং পাশাপাশি এটি কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সহায়তা করে। পেয়ারাতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ এবং ভিটামিন সি রয়েছে।
এছাড়া প্রচুর পরিমাণে ডায়েটারি ফাইবার রয়েছে। এতে জিআই খুবই কম পরিমাণে আছে। ডায়বেটিক রোগীরা এই পেয়ারা ফলটি নানাভাবে বিভিন্ন সময়ে খেতে পারেন এতে করে তাদের ডায়াবেটিস অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আসবে।
৫. আনারস :
আনারস অ্যান্টি ভাইরাল, অ্যান্টি ইনফ্ল্যামাটরি এবং অ্যান্টি ব্যাকটরিয়াল সমৃদ্ধ একটি ফল। আনারস খেলে দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে। সাধারণত ভাইরাস জ্বরে আনারস অনেক বেশি কাজে দেয়। এছাড়া ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণেও আনারস বেশ কার্যকরী।
৬. পেঁপে :
পেঁপেতে ভিটামিন এবং মিনারেল রয়েছে। এ কারণে পেঁপে ডায়বেটিক রোগীদের জন্য বেশ কার্যকর। ডায়বেটিক রোগীরা চাইলে তাদের খাবার তালিকায় পেঁপে ফলটিকে রাখতে পারেন।
৭. কমলা :
কমলাতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি রয়েছে। এই সাইট্রাস ফলটিও ডায়বেটিস রোগটিকে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম। ভিটামিন সি দেহের সুগারের স্তরকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে।
৮. তরমুজ :
যদিও তরমুজে জিআই লেভেলটা অনেক বেশি পরিমাণে থাকে তবে গ্লাইসেমিকের পরিমাণটি নিয়ন্ত্রণে থাকে। এ কারণে এটি ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য বেশ কার্যকরী।
৯. ডালিম :
ডায়বেটিক রোগীদের রক্তে সুগারের নিয়ন্ত্রণ করতে সহায়তা করে এই ফলটি অর্থাৎ ডালিম। ডালিম এমনিতেই অনেক রোগের কার্যকরী ওষুধ হিসেবে কাজে দেয়। তবে ডায়াবেটিস রোগটি নির্মূলে এটি বেশ সহায়তা করে।
১০. কাঁঠাল :
কাঁঠাল এমন একটি ফল যেটিতে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, থাইমিন, রিবোফ্লেভিন, নিয়াসিন, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, আয়রন, ম্যাঙ্গানিজ এবং ম্যাগনেশিয়াম রয়েছে। এসব কারণে কাঁঠালে অন্যান্য ফলের তুলনায় গুণাগুণও অনেক বেশি। তাই রক্তে সুগারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখে বলে কাঁঠাল ডায়াবেটিস রোগের জন্যও কার্যকর।
ক্যান্সার প্রতিরোধে আলু
মানবাধিকার হেলথ ডেস্কঃ
বেশি মশলাদার খাবার খেলে বাড়তে পারে পাকস্থলি বা গ্যাস্ট্রিক ক্যান্সারের আশংকা। তবে এ নিয়ে চিন্তার কারণ নেই। আলু, ফুলকপি, পেঁয়াজের মতো সাদা রঙের সবজি বিশেষ করে আলু খেলে পাকস্থলির ক্যান্সারের আশংকা একেবারেই কমে যাবে। এমনই দাবি চীনের ঝেজিয়াং বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের। সারা বিশ্বে ৬৩ লাখ মানুষ ভুগছেন গ্যাস্ট্রিক ক্যান্সারে। এই রোগে এরই মধ্যে মৃত্যু হয়েছে অন্তত পক্ষে ৩৩ হাজার মানুষের। ক্রমশ প্রাণঘাতী হয়ে উঠছে রোগটি। ফলে এ রোগ প্রতিহত করতে নতুন পথ বাতলানো দরকার। যেমন ভাবা তেমন কাজ। এগিয়ে আসেন চীনের বিজ্ঞানীরা। চীনের বিজ্ঞানীরা দেখান, যেসব ব্যক্তি নিয়মিত আলু, পেঁয়াজ, ফুলকপির মতো সাদা সবজি খান তাদের পাকস্থলির ক্যান্সারের আশংকা কম থাকে। এসব সবজি ছাড়াও বাঁধাকপি, সেলারি, বিভিন্ন ফল খেলেও কমে ক্যান্সারের আশংকা।
 

চিনিযুক্ত কোমল পানীয় থেকে ওজন বাড়ে


মানবাধিকার হেলথ ডেস্কঃ
ওবেসিটি বা ওজন আধিক্য এখন বিশ্বব্যাপী এক বিরাট সমস্যা। আর এই ওজন বাড়ার ক্ষেত্রে অধিক চিনিযুক্ত কোমল পানীয় ও ড্রিংকস বহুলাংশে দায়ী। আর এ বিষয়টি মাথায় রেখে নিউইয়র্কের মেয়র মাইকেল আর বোমবার্গ নিউইয়র্কে বড় সাইজের সুগারি ড্রিংকস বিপণন নিষিদ্ধ করতে যাচ্ছেন। আগামী বছরের প্রথম দিকে এ ব্যাপারে একটা আইন পাস হবে এমন কথাও বলেছেন মেয়র। তবে প্রতি ৮ আউন্স সার্ভিং এর যে সমস্ত ড্রিংকসে ২৫ কিলো ক্যালরীর কম খাদ্য শক্তি থাকবে সে সমস্ত কোমল পানীয় ও সুগারি ড্রিংকস এ নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে। যেমন জিরো ক্যালরি ভিটামিন ওয়াটার, মিষ্টিবিহীন আইস টি, ডায়েট সোডা, ফলের রস, মিল্কশেসখ, অ্যালকোহলিক বেভারেজ ইত্যাদি। মেয়র মাইকেল অবশ্য নিউইয়র্কের রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করেছেন মেগা সাইজের সুগারি ড্রিংকস পানে নিষেধাজ্ঞা আরোপিত হলে ছোট সাইজের ড্রিংকস-এর ক্ষেত্রে তারা খানিকটা দাম বাড়াতে পারবেন। মেয়রের অভিমত, শুধু নিউইয়র্কে নয়, খোদ যুক্তরাষ্ট্রে এখন ওবেসিটি একটি প্রধান বড় স্বাস্থ্য সমস্যা। আর নিউইয়র্কবাসী মনে করে মেয়রের এ জন্য কিছু একটা করা দরকার। তবে নিউইয়র্ক সিটি বেভারেজ অ্যাসোসিয়েশন নিউইয়র্ক স্বাস্থ্য বিভাগের বড় সাইজের সুগারি ড্রিংকস বিক্রয় বন্ধ করার সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে। মেয়র মাইকেল নিউইয়র্কবাসীর স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে ইতিপূর্বে পার্ক, রেস্তোরাঁয় ধূমপান বন্ধ এবং ট্রান্সফ্যাটযুক্ত খাবার নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করেন। নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, মেয়রের এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে স্বাস্থ্য বোর্ডের অনুমোদনের প্রয়োজন হবে।
এদিকে বাংলাদেশেও ওবেসিটি সমস্যা বাড়ছে। বড় বড় মেগা সাইজের কোমল পানীয় বিক্রয় হচ্ছে। এতে শিশু-কিশোররাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বাংলাদেশেও কোমল পানীয় নিয়ন্ত্রণ করা উচিত এমন অভিমত অনেকের।
লেখক : চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ
 



 


Top

 

 

আইন কনিকা


 

আইনের আলোকে শিশুর বয়সসীমা


শিশু আইন, ১৯৭৪ অনুসারে ১৬ বছরের নিচের বয়সের সব ব্যক্তি শিশুর পর্যায়ভুক্ত (সূত্রঃ শিশু আইন ও অধিকার- আবু বকর সিদ্দিক-প্রকাশ-এপ্রিল ২০০৩, পি-১৪)। দণ্ডবিধি মতে, ৭ বছরের কম যার বয়স সে এক্কেবারেই নিষ্পাপ শিশু। সে কোন অপরাধ করতে পারে না। ৭ থেকে ১২ বছরের মধ্যে যার বয়স, সে যদি অপরাধ করে তবে তাকে তখনই অপরাধী গণ্য করা যায়, যখন দেখা যায়, সে বুদ্ধিতে পরিণত হয়েছে। ১৮৯০ সালের রেলওয়ে আইনে যে কোন বয়সের শিশুকে অপরাধী বলে গণ্য করা যায়। (সূত্রঃ বাংলাদেশের আইনে শিশু প্রসঙ্গে- গাজী শামছুর রহমান, মার্চ-১৯৯৫, পি-১০৭) চুক্তি আইনে বলা হয়েছে যে ১৮ বছরের কম কোন ব্যক্তি চুক্তি করতে পারে না। (সূত্রঃ চুক্তি আইন-এবি সিদ্দিক মে-২০০৩-পি-৭১) ১৮৭৫ সালের সাবালকত্ব আইনে আদালত কর্তৃক অভিভাবক নিযুক্ত হলে বা কোর্ট অব ওয়ার্ডের এখতিয়ারে থাকলে ২১ বছর বয়স অতিক্রান্ত হওয়ার পর সাবালকত্ব অর্জিত হয়েছে মর্মে গণ্য হবে। অন্য সব ক্ষেত্রে ১৮ বছর পূর্ণ হলে সাবালকত্ব লাভ করেছে মর্মে গণ্য হবে। (সূত্র: শিশু আইন ও অধিকার মোঃ আবু বকর সিদ্দিক- এপ্রিল-২০০৩, পি-৪৫) খনি আইনে ১৫ বছর পূর্ণ না হলে মানুষ শিশু থাকে। এই আইনের যার বয়স ১৭ সে তরুণ। শিশুকে খনিতে কাজে নেয়া যায় না। তরুণকে স্বাস্থ্যবান হলে নেয়া যয়। (বাংলাদেশের আইনে শিশু প্রসঙ্গ-গাজী শামছুর রহমান- মার্চ-১৯৯৫-পি-২৮৭) ১৯২৯ সালে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন অনুসারে- শিশু বলতে ওই ব্যক্তিকে বুঝাবে যার বয়স পুরুষ হলে ২১ বছরের কম এবং নারী হলে ১৮ বছরের কম (সূত্রঃ শিশু আইন ও অধিকার মোঃ আবু বকর সিদ্দিক এপ্রিল-২০০৩, পি-৪৬)। ১৯৩৯ সালের মটর গাড়ি আইনে ১৮ বছরের কম বয়সের ব্যক্তিকে কোন প্রকাশ্য স্থানে মোটর চালনা করবে না এবং ২০ বছরের কম বয়সের কোন ব্যক্তি কোন প্রকাশ্য স্থানে পরিবহন পরিচালনা করবেনা। (সূত্র: বাংলাদেশের আইনে শিশু প্রসঙ্গ, গাজী শামছুর রহমান, মার্চ-১৯৯৫, পি-৩৪৫)। শিশু শ্রমিক নিয়োগ আইন, ১৯৩৮ অনুসারে যে সব শিশুর বয়স ১৫ বছর পূর্ণ হয় নাই তাকে নিুবর্ণিত যে কোন পেশায় বা চাকরিতে নিয়োগ করা যাবে না- রেল যোগাযোগে যাত্রী, মালপত্র বা ডাক পরিবহন সম্পর্কিত কাজ এবং মালপত্র উত্তোলন সম্পর্কিত কাজ। আবার ১৫ বছর পূর্ণ হয়নাই তাকে নিুবর্ণিত যে কোন পেশায় বা চাকরিতে নিয়োগ করা যাবে না- রেল যোগাযোগ যাত্রী, মালপত্র বা ডাক পরিবহন সম্পর্কিত কাজ এবং মালপত্র উত্তোলন সম্পর্কিত কাজ। আবার ১৫ বছর পূর্ণ হয়েছে কিন্তু ১৭ বছর পূর্ণ হয় নাই এরূপ শ্রমিক কিছু শর্ত পুরণ না করে কাজে নেয়া যায় না (সূত্রঃ শিশু আইন ও অধিকার- মোঃ আবু বকর সিদ্দিক-এপ্রিল-২০০৩, পি-৪৭)। দোকান ও প্রতিষ্ঠান আইন, ১৯৬৫ অনুসারে যেসব শিশুর বয়স ১২ বছর পূর্ণ হয় নাই তাদের শিশু বলা হয়। (সূত্র: শ্রম ও শিল্প আইন-নির্মলেন্দু ধর, ছাত্র সংস্করণ ২০০৫, পি-৩৬৫)।
১৯৬৫ সালের কারখানা আইনে শিশু বলতে এমন ব্যক্তিকে বুঝাবে যার বয়স ১৬ বছর পূর্ণ হয় নাই। (সূত্র: শ্রম ও শিল্প আইন-নির্মলেন্দু ধর- ছাত্র সংস্করণ ২০০৫, পি-২৬০)।
বাংলাদেশের সংবিধানঃ বাংলাদেশের সংবিধানে ১৫ অনুচ্ছেদে মৌলিক প্রয়োজনের ব্যবস্থার কথা রয়েছে। ১৭ অনুচ্ছেদে অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা ব্যবস্থা প্রবর্তনের বিধান রাখা হয়েছে। ১৮ অনুচ্ছেদে জনগণের পুষ্টির স্তর উন্নয়ন ও জনস্বাস্থ্যের উন্নতি সাধনকে রাষ্ট্র অন্যতম প্রাথমিক কর্তব্য বলে গণ্য করবেন। ২৮ অনুচ্ছেদে কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী-পুরুষভেদে বা জন্মস্থানের কারণে কোন নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্র বৈষম্য প্রদর্শন করবেন না। ২. রাষ্ট্র ও গণজীবনের সর্বস্তরে নারী-পুরুষের সমান অধিকার লাভ করবেন। ৩. কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী, পুরুষভেদে বা জন্মস্থানের কারণে জনসাধারণের কোন বিনোদন বা বিশ্রামের স্থানে প্রবেশের কিংবা কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির বিষয়ে কোন নাগরিককে কোনরূপ অক্ষমতা, বাধ্যবাধকতা, বাধা বা শর্তের অধীন করা যাবে না। ৪. নারী বা শিশুদের অনুকূলে কিংবা নাগরিকদের যে কোন অনগ্রসর অংশের অগ্রগতির জন্য বিশেষ বিধান- প্রনয়ন হতে এই অনুচ্ছেদের কোন কিছুই রাষ্ট্রকে নিবৃত্ত করবে না। ৩৪ অনুচ্ছেদ- অনুযায়ী শিশুদের কোন জবরদস্তিমূলক শ্রমে নিয়োগ করা যাবে না। (উৎস-গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান)।

 

নাবালকের অভিভাবকত্ব ও তত্ত্বাবধান আইন
তানজিম আল ইসলাম


মূলত নাবালক বলতে অপ্রাপ্ত বয়স্ক কোন ব্যক্তিকে বুঝায়, যার আইনগত সক্ষমতা অর্জিত হয়নি। বাংলাদেশে প্রচলিত বিভিন্ন আইনে নাবালকের তত্ত্বাবধান ও অভিভাবকত্বের জন্য পাস করা হয়েছে অভিভাবক ও প্রতিপাল্য আইন ১৮৯০। যা মূলত গার্ডিয়ানশিপ অ্যাক্ট হিসেবেই প্রচলিত। এ আইন অনুসারে আদালত কর্তৃক কেউ কোন অভিভাবক নিযুক্ত হয়ে থাকলে যার অভিভাবক হলেন তার বয়স ২১ বছরের কম হতে হবে। আবার এ আইনের ৪(১) ধারা মতে ১৮৭৫ সালের সাবালকত্ব আইনের মর্মে যে এখনও সাবালকত্ব লাভ করেনি তাকে নাবালক হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। ১৮৭৫ সালের সাবালকত্ব আইনের বিধান অনুসারে ১৮ বছর পূর্ণ হলে নাবালকত্বের অবসান ঘটে। ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ আনুসারে ১৬ বছর কম বয়সের সব ব্যক্তি নাবালক। ১৯২৯ সালের বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনে পুরুষের ক্ষেত্রে ২১ বছরের নিচে এবং স্ত্রীর ক্ষেত্রে ১৮ বছরের নিচের ব্যক্তিকে নাবালক বলা হয়েছে। শিশু আইন ১৯৭৪ অনুযায়ী ১৬ বছরের নিচের বয়সী নাবালক। ১৯২৩ সালের খনি আইনে ১৫ বছরের নিচের ব্যক্তি নাবালক এবং ১৭ বছরের নিচে সব ব্যক্তিকে যুবক বলা হয়েছে। দণ্ডবিধির ৩৬১ ধারা মতে পুরুষের ক্ষেত্রে ১৪ বছর এবং নারীর ক্ষেত্রে ১৬ বছরের কম বয়স্করা নাবালক।
নাবালকের অভিভাবক ও তত্ত্বাবধায়ক
মুসলিম আইন অনুসারে মূলত পিতাই নাবালক সন্তানের অভিভাবক। আদালতের পরামর্শ বা অনুমতি ছাড়া পিতা নাবালকের দায়িত্ব নিতে পারে। নাবালকের সম্পত্তিতে পিতার একচ্ছত্র অধিকার রয়েছে। পিতার অবর্তমানে পিতার আত্মীয় বা যোগ্যতম ব্যক্তিকে আদালত অভিভাবক হিসেবে নিযুক্ত করতে পারেন। মুসলিম আইনে মাকে নাবালকের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। মা তার কন্যাসন্তানের বয়োপ্রাপ্তি না হওয়া পর্যন্ত এবং ছেলের ক্ষেত্রে ৭ বছর পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত মা নাবালকের তত্ত্বাবধায়ন করতে পারেন। স্ত্রী যদি স্বামীর কাছ থেকে পৃথকভাবে বসবাস করে তাহলেও মা তা তত্ত্বাবধায়কত্ব হারাবেন না। এক্ষেত্রে ইমামবন্দি বনাম মুসাদ্দির মামলায় বলা হয়েছে, মুসলিম আইনে সন্তানের শরীরের ব্যাপারে লিঙ্গভেদে কিছু বয়স পর্যন্ত মা তত্ত্বাবধানের অধিকারী। মা স্বাভাবিক অভিভাবক নয়। একমাত্র পিতাই বা যদি তিনি মৃত হন তার নির্বাহক আইনগত বা বৈধ অভিভাবক। সন্তানের জন্য যদি নাবালককে মায়ের তত্ত্বাবধানে রাখা প্রয়োজন হয়, সে ক্ষেত্রে এ বয়সসীমার পরও নাবালকের তত্ত্বাবধানে নাবালকের অমঙ্গল হবে সে ক্ষেত্রে মা এরূপ অধিকার হারাবেন। ২০ ডিএলআর (এসসি) ১ অনুসারে পিতা মাকে দুর্ব্যবহার করে থাকলে বা জোর করে পিতার বাড়ি ত্যাগ করতে বাধ্য করলে মা তত্ত্বাবধান করার ক্ষমতা হারাবেন না। বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটলেও মা তার এ অধিকার হারাবেন না। তবে ২য় স্বামী গ্রহণ করলে এ অধিকার হারাবেন (হেদায়া ১৩৮, বেইলি ৪৩৫)।
সন্তানের ভরণপোষণের দায়িত্ব সম্পূর্ণ বাবার। মায়ের ২য় বিবাহের ক্ষেত্রে অবশ্য মা এর ২য় স্বামী সন্তানের রক্ত সম্পর্কীয় নিষিদ্ধ স্তরের মধ্যে একজন না হলে মা তার তত্ত্বাবধানের ক্ষমতা হারাবেন (২২ ডিএলআর ৬০৮)। আদালত তার নিজ ক্ষমতাবলে সন্তানের মঙ্গল বিবেচনা করে পিতা বা মাতাকে অভিভাবক হিসেবে নিযুক্ত করতে পারেন। মা মারা গেলে বা নাবালকের তত্ত্বাবধানের অধিকার হারালে যে নারীরা এ অধিকার পাবেন তারা হলেন- নানী, দাদী, আপন বোন, বৈপিত্রেয় বোন, বৈমাত্রেয় বোন, আপন বোনের মেয়ে, বৈপিত্রেয় বোনের মেয়ে একই ক্রমানুসারে খালা, ভগিনীর মতো ক্রমানুসারে ফুফু। মা বা নারী আত্মীয়দের অবর্তমানে পুরুষ আত্মীয়রা তত্ত্বাবধানের অভিভাবক হবেন বাবা, দাদা, ভাই, বৈপিত্রেয় ভাই, আপন ভাইয়ের ছেলে, বৈমাত্রেয় ভাইয়ের ছেলে, বাবার আপন ভাই, বাবার বৈমাত্রেয় ভাই, বাবার আপন ভাইয়ের ছেলে ও বাবার বৈমাত্রেয় ভাইয়ের ছেলে। (হেদায়া ১৩৮ বেইলি ৪৩৫, ৪৩৭)
নাবালকের কল্যাণের বিষয়টি হচ্ছে মূলকথা। আদালতের বিবেচনায় নাবালকের কল্যাণ কিভাবে নিহিত আছে, সেটিই বিবেচনা করবেন। কোন পিতা তার নিজের আচরণের কারণে তার সন্তানের তত্ত্বাবধানের অধিকারহীন হতে পারে। কোন পিতা সন্তানের ভরণপোষণ দিতে অপারগ থাকলে সে ক্ষেত্রে পিতাকে মায়ের কাছ থেকে অধিকার সমর্পণ করা ঠিক নয়। আবার মা যদি তার নাবালক সন্তানদের স্বামীর আর্থিক সাহায্য ছাড়াই স্ব-উপার্জিত বা নিজের খরচে লালন-পালন করে থাকে, তবে সে সন্তানকে আদালত পিতার কাছে তত্ত্বাবধানে দিতে অস্বীকার করতে পারে। (১৭ ডিএলআর ১৩৪) যদি কোন নাবালকের কেউ না থাকে আদালত নিজ বিবেচনায় অভিভাবক নিয়োগ করেন। ১৮৯০ এর আইনের ১৯ ধারানুযায়ী নাবালিকা স্ত্রীর হেফাজত বা অভিভাবক তার স্বামী।
নাবালকের সম্পত্তির অভিভাবকত্ব
নাবালক ব্যক্তির শরীর বা সম্পত্তির উভয়ের অভিভাবক নিয়োগের জন্য সব আবেদনই ১৮৯০ সালের অভিভাবকত্ব প্রতিপাল্য আইনের মতে করতে হয়। এরূপ ক্ষেত্রে এই আইনের ১০ ধারা মতে আবেদন করতে হবে। এ আইনের ৮ ধারা মতে, নাবালকের আত্মীয় বা বন্ধু শ্রেণীর যে কোন ব্যক্তি আবেদন দায়ের করতে পারে। এ জন্য প্রয়োজনে কালেক্টরকেও সম্পত্তির অভিভাবক নিয়োগ করা যাবে। তবে ১১ ধারা মতে, এরূপ কোন দরখাস্তের ভিত্তিতে অবশ্য কোন আদেশ প্রদান করবেন না, যদি না সে আবেদনপত্র সম্পর্কে নাবালকের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিগণকে নোটিশ দেয়া হয়। মুসলিম আইন অনুযায়ী নাবালকের সম্পত্তির জন্য ৩ ধরনের অভিভাবকের কথা বলা হয়েছে-
ক. বৈধ বা আইনগত অভিভাবকঃ যেমন ব্যক্তি নাবালকের সম্পত্তির বৈধ অভিভাবক তারা হলেন ক্রমানুসারে পিতা, পিতা কর্তৃক নিয়োগকৃত নির্বাহক, পিতার পিতা, পিতার পিতা কর্তৃক নিয়োগকৃত নির্বাহক। এতে শুধু পিতা ও পিতার পিতা অর্থাৎ দাদাই উইলের মাধ্যমে অভিভাবক নিয়োগ করতে পারেন। মা এক্ষেত্রে পারেন না। আইনগত অভিভাবক নাবালকের খাদ্য, স্ত্রী বা সন্তানের লালন-পালনের জন্য প্রয়োজনে অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি বা বন্ধক দিতে পারে। সাধারণত স্থাবর সম্পত্তি বিক্রির কোন অীধকার আইনগত অভিভাবকের থাকে না। নাবালকের মা, ভাই, চাচা এরা নাবালকের আইনগত অভিভাবক নয়। তবে আদালত এদের নিযুক্ত করতে পারেন।
খ. আদালত কর্তৃক নিযুক্ত অভিভাবকঃ যে ক্ষেত্রে বৈধ বা আইনগত অভিভাবক না থাকে সে ক্ষেত্রে আদালত সম্পত্তির রক্ষণাবেক্ষণের জন্য অভিভাবক নিয়োগ করতে পারেন। এক্ষেত্রে নিযুক্ত অভিভাবককে আইনগত বাধ্যবাধকতা মেনে নিতে হয়। ১৮৯০ সালের গার্ডিয়ানশিপ এন্ড ওয়ার্ডস অ্যাক্টের ১৭ ধারা মতে, আদালত নিযুক্ত অভিভাবকের ক্ষেত্রে বিবেচনায় আনবেন। এক্ষেত্রে নিযুক্ত অভিভাবক নিজের অস্থাবর সম্পত্তির ক্ষেত্রে যেরকম সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। নাবালকের অস্থাবর সম্পত্তির ক্ষেত্রেও সেরকম সাবধানতা অবলম্বন করতে হয়। পিতা মৃত্যুর আগে নিজে অভিভাবক নিয়োগ করে গেলে আদালত কর্তৃক নিয়োগের প্রয়োজন পড়ে না।
গ. কার্যত অভিভাবকঃ মা হলেন নাবালকের স্থাবর সম্পত্তির একজন কার্যত অভিভাবক। ভাই, শ্বশুর বা চাচা হলেন নাবালকের কার্যত অভিভাবক। কোন ব্যক্তি আইনগত অভিভাবক কিংবা আদালত কর্তৃক নিয়োগকৃত অভিভাবক না হলেও স্বেচছায় নাবালকের ব্যক্তি ও সম্পত্তির দায়িত্বভার গ্রহণ করতে পারেন।
নাবালকের সম্পত্তি ক্রয়, বিক্রয় ও হস্তান্তর
মির সরওয়াজ বনাম ফকরুদ্দীন মামলায় বলা হয়েছে- নাবালকের পক্ষে কোন অভিভাবক কোন সম্পত্তি ক্রয়ের চুক্তি করতে পারেন না। যদি করেন তা অবৈধ হবে। মূলত আইনগত অভিভাবকের ক্ষেত্রে পিতা সন্তানের সম্পত্তির বিনা অনুমতিতে বিক্রয় বা হস্তান্তর করতে পারেন। একজন আইনগত অভিভাবক যে কারণবশত বা অবস্থাধীনে নাবালকের সম্পত্তি হস্তান্তর করতে পারেন সেগুলো হলো- ১. দ্বিগুণ মূল্যের ক্ষেত্রে, ২. নাবালকের ভরণপোষণের ক্ষেত্রে, ৩. পূর্ব পুরুষদের দেনা পরিশোধের ক্ষেত্রে, ৪. উইলকৃত সম্পত্তির দায় মেটানোর জন্য ৫. আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি হলে ৬. সম্পত্তি ধ্বংস হতে লাগলে, ৭. অন্যের গ্রামের ক্ষেত দখলকৃত হলে, ৮. জমির কর বা খাজনা পরিশোধ করতে এবং ৯. ভবিষ্যৎ ভরণপোষণের জন্য। আদালত কর্তৃক নিযুক্ত অভিভাবক আলোচ্য কারণ ব্যতীত সম্পত্তির কোন অংশ বন্ধক, বিক্রয়, দান বা অন্যান্য কোন প্রকার হস্তান্তর করতে পারে না। ৫ বছরের অধিক সময়ের জন্য অথবা যে তারিখে নাবালকত্বের অবসান ঘটবে তারপর ১ বছরের অধিক সময়ের জন্য ইজারা বা বন্দোবস্ত দিতে পারেন না। এ বিধান লঙ্ঘন করলে হস্তান্তর বাতিলযোগ্য হবে। আদালতের অনুমতি ছাড়া কোন অভিভাবক বিক্রয় বা হস্তান্তর করলে বাতিলযোগ্য বলে গণ্য হবে এবং নাবালকের উপকার হলেও তা বাতিল করা যাবে।

Top
 

 


 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 
   

                                                     Copy Right : 2001 BHRC  All rights reserved.